সর্বশেষ

সর্বশেষ সংবাদ
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন, নিশ্চিত করল ইরানি সংবাদমাধ্যম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম ও ফারস নিউজ তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আল জাজিরার। খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। এরপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনির মৃত্যুর তথ্য জানান। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনির নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রথমে স্বীকার করা হয়নি। অবশেষে আজ সকালে দেশটি জানিয়েছে, তাদের প্রধান ধর্মীয় নেতা নিহত হয়েছেন। ​​​​​

২ মাস আগে
ইরানে হামলা, এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা পুরো অঞ্চলকে ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।    শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি সব পক্ষের সাম্প্রতিক হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান। এরদোয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি আঞ্চলিক শান্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। তুরস্ক এই হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এরদোয়ান উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সমালোচনা করে একে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা একটি বৃহত্তর সংকট তৈরি করতে পারে। গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে সামরিক সংঘাতের মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের নেতা বলেছেন, আঙ্কারা সহিংসতা বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করবে। তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং এরপর আলোচনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। এরদোয়ান বলেন, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে দ্রুত ও ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে হবে।  এরদোশান সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, যদি শুভবুদ্ধির উদয় না হয় এবং কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া না হয়, তবে পুরো অঞ্চল আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। তুরস্ক ইতিমধ্যেই এই সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড 

২ মাস আগে
ফাঁস হলো আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার বিস্ফোরক তথ্য

ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আকস্মিক আত্মহত্যার ঘটনায় বিনোদন জগতে শোক ও রহস্যের ছায়া নেমে এসেছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুসরাত জাহান ত্রিশার ফাঁস করা দীর্ঘ মেসেঞ্জার চ্যাট এবং সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট থেকে বেরিয়ে এসেছে এক অবহেলিত স্ত্রীর আর্তনাদ। যেখানে সরাসরি অভিযোগ উঠেছে আলভীর সঙ্গে এক সহ-অভিনেত্রীর (তিথি) পরকীয়া এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের চরম অবহেলার। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মানসিক দূরত্ব জনসমক্ষে আসে। গত শুক্রবার রাত ৩টা ১৩ মিনিটে আলভী তাঁর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, “ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলে না”। স্বামীর সেই পোস্টের নিচেই পাল্টা মন্তব্যে ইকরা লেখেন, “অভিনন্দন! ভুল স্বীকার করতে পারলা! আমিন। আমার আমিকে মুক্তি করে দিলাম, আবার কাঁদছো কেন?”। এর কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে ইকরা নিজের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে লেখেন, “কেউ একজন একজনের পুরো জীবন ধ্বংস করে দিয়ে নিজের একটি দিন নষ্ট হওয়ার জন্য কাঁদছে; কান্নার চেয়ে এই পরিহাসের আওয়াজ অনেক বেশি তীক্ষ্ণ”।   নুসরাত জাহান ত্রিশার শেয়ার করা ইকরার ব্যক্তিগত চ্যাটে দেখা যায়, আলভীর সঙ্গে অভিনেত্রী ‘তিথি’র সম্পর্ক নিয়ে ইকরা নিদারুণ যন্ত্রণায় ছিলেন। ইকরা লিখেছিলেন, “যাকে আমি পনেরো বছর ধরে আগলে রেখেছি, তার জীবনে আজ বাইরে থেকে আসা একটি মেয়ে (তিথি) এতটা আপন হয়ে উঠেছে?”। ইকরার অভিযোগ ছিল, আলভী ওই মেয়েটিকে এতটাই প্রশ্রয় দিতেন যে সে অনেক কিছু করার সাহস পেত। এমনকি আলভী যখন শুটিংয়ের জন্য পুবাইলে থাকতেন, তখন ছেলের সঙ্গে অডিও কলে কথা বলার পাশাপাশি ওই মেয়ের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ইকরা আরও জানান, আলভী তাকে আড়াল করে লুকিয়ে লুকিয়ে ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতেন।   ফাঁস হওয়া চ্যাটে ইকরার মাতৃত্বকালীন হাহাকারও ফুটে উঠেছে। তিনি লিখেছিলেন, সন্তানের প্রতি মায়া থাকলে তিথি আলভীর জীবনে এতটা অগ্রাধিকার পেত না। শুধুমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি আলভীর পাশে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর নিজের কোনো সত্যিকারের চাওয়া পূরণ হচ্ছিল না। ইকরা আরও জানিয়েছিলেন, ফেসবুকে আলভীকে নিয়ে গর্ব করে পোস্ট দিলেও দিনশেষে মানুষ যখন তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে হাসাহাসি করত, তখন তাঁর খুব লজ্জা লাগত। এমনকি মেসেঞ্জারে ইকরার নাম ‘জালিমা’ লিখে রাখা হয়েছিল, যা ইকরার মতে ওই মেয়ের আপত্তির কারণেই করা হয়েছিল।   ২০১০ সালে ভালোবেসে পালিয়ে ঘর বাঁধা এই দম্পতির সংসারে ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। চ্যাটে ইকরা লিখেছিলেন, “আমি ওর জীবনে বাধা—এটাও মনে হয়। সবাইকে বলে বিয়ে না করতে, সে সুখী না কারণ ভালোবাসার মানুষকে কোনোদিন পাবে না আমার জন্য”। নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা ইকরা আরও লিখেছিলেন যে, আলভী তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে না—এর কোনো নিশ্চয়তা তিনি পাচ্ছিলেন না। ইকরার বন্ধু ত্রিশার দাবি, ইকরা মোটেও আত্মহত্যার মতো মেয়ে ছিলেন না, বরং ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁকে তিলে তিলে ‘ট্রিগার’ করা হয়েছে এবং এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার সময় জাহের আলভী ‘দেখা হলো নেপালে’ শিরোনামের একটি নাটকের শুটিংয়ের জন্য নেপালে অবস্থান করছিলেন। ইকরার মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর শোবিজ অঙ্গনের তারকারা শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। বর্তমানে পুলিশ বাসার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

২ মাস আগে
গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এনসিপি নেত্রী মিতু, দোয়া চাইলেন তার স্বামী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু ফুসফুসের সংক্রমণসহ কিছু জটিলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতোমধ্যে তার জরুরি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।   শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ডা. মাহমুদা মিতুর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান তার স্বামী। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের সকলের দোয়া ও ভালোবাসার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কিছু জরুরি বিষয় জানাচ্ছি। আমার স্ত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর গত ২৩ তারিখ হঠাৎ গাইনোকোলজিকাল ইমার্জেন্সি দেখা দেওয়ায় জরুরি অপারেশন করতে হয়েছে। অপারেশনের পূর্বে তিনি প্রায় শক অবস্থায় ছিলেন এবং পেটের ভিতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই দৌড়ে এসে রক্ত দিয়ে গেছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সহায়তা, আল্লাহর অশেষ রহমত এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় সেই কঠিন সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অপারেশনের পর কিছু জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে অপারেশনজনিত সমস্যা না থাকলেও পোস্ট-অপারেটিভ ফুসফুসের সংক্রমণসহ আরও কিছু জটিলতার কারণে তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সেপটিসেমিয়ার ফিচারসহ, ডি ডাইমার, লিভার এনজাইম, সি আর পি, WBC সব প্যারামিটার রেইজসড সাথে নিউট্রোফিলিয়া। নতুন করে হাই ডায়বেটিক (অন ইন্সুলিন) অবস্থায় আছে। অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়া তার এখনো স্যাচুরেশন ফল করছে, তবে যেগুলো বেশি ছিল সেগুলো এখন কমে আসছে, আজকে শুধু WBC বেড়েছে। এই সকল প্যারামিটার রেইজ যেহেতু এবং বর্তমানে তার ফুসফুস আক্রান্ত, তাই আপাতত কোনো ভিজিটর অনুমোদন করা হচ্ছে না, বিষয়টি সবাই সহানুভূতির সাথে গ্রহণ করবেন বলে আশা করছি। দুদিন আগে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমত এবং চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা আপাতত সেই কঠিন সময় অতিক্রম করতে পেরেছি, তবে এখনও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন। চিকিৎসকরা ধারণা করছেন আরও ৪/৫ দিন সময় লাগতে পারে। পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু গত কয়েকদিন তার অনলাইনে অনুপস্থিতি দেখে আপনাদের শত শত কল ও বার্তা এবং এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীদের উদ্‌বিগ্ন যোগাযোগের কারণে বিষয়টি জানানোকে দায়িত্ব মনে করেছি। অনেকে হাসপাতালের ঠিকানা জানতে চেয়েছেন। তিনি পাশ করার পর প্রায় ৯ বছর যে গাইনি ক্লিনিকে কাজ করেছেন, সেটিকেই তিনি নিজের দ্বিতীয় ঘর মনে করেন। আমি ঢাকা মেডিকেলে ডিউটিরত থাকার সময়ও তিনি নিজ সিদ্ধান্তে সেখানে ভর্তি হয়েছেন। তার কমফোর্ট জোন বিবেচনায় আমরা তাকে সেখানেই রেখেছি। গত ২২-২৩ তারিখ থেকেই তিনি অনেক বেশি শারীরিক কষ্ট পেয়েছেন। আমি দেশবাসীর কাছে আমার স্ত্রীর জন্য আন্তরিক দোয়া প্রার্থনা করছি। তার কথা বা অবস্থানের কারণে যদি কেউ কোনোভাবে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার বাচ্চারা, আমরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে এই মুহূর্তে কিছুটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। পবিত্র রমযান মাসের বরকতময় সময়ে আপনাদের আন্তরিক দোয়ার উছিলায় মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এই কামনাই করছি। আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, তার নাম মনে পড়লেই নাম ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন আমাদের জন্য অনেক বড় শক্তি। মহান রাব্বুল আলামিন আপনাদের অন্তরে তার জন্য যে ভালোবাসা ও সম্মান সৃষ্টি করেছেন, সেই ভালোবাসা ও দোয়াতেই তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন এবং আপনাদের আশানুরূপ স্থানে আমরা অতি দ্রুতই তার কণ্ঠস্বর শুনতে পাবো ইনশাআল্লাহ।

২ মাস আগে
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন, নিশ্চিত করল ইরানি সংবাদমাধ্যম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম ও ফারস নিউজ তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আল জাজিরার। খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। এরপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনির মৃত্যুর তথ্য জানান। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনির নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রথমে স্বীকার করা হয়নি। অবশেষে আজ সকালে দেশটি জানিয়েছে, তাদের প্রধান ধর্মীয় নেতা নিহত হয়েছেন। ​​​​​

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০১, ২০২৬ 0

ছবি : সংগৃহীত
ইরান-সংকটে মধ্যপ্রাচ্যগামী ঢাকা ফ্লাইট স্থগিত

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।   শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে চলমান পরিস্থিতির কারণে সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স–এর মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামসহ মধ্যপ্রাচ্যের গন্তব্যে তাদের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বিকেল পর্যন্ত সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য রুটে চলাচলরত কোনো উড়োজাহাজ আকাশে ছিল না; সবকটি সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
হামলার শঙ্কায় কুয়েতে সব মসজিদে তারাবির নামাজ বন্ধ করল

ইরানের হামলার শঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব মসজিদে তারাবির নামাজ পড়া বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে কুয়েত। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানে একসঙ্গে বড় ধরনের হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা শুরু করে। এরমধ্যে কুয়েতেও হামলা চালায় ইরান। দেশটির প্রধান বিমানবন্দরে সরাসরি আঘাত হেনেছে ড্রোন। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও আছেন। কুয়েত তারাবির নামাজের পাশাপাশি রাতের নামাজও মসজিদে না পড়ার নির্দেশনা দিয়েছে। অপরদিকে কাতার ইফতার পার্টিসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটি বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি আল উদেইদের অবস্থান। শনিবার এ ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে ইরান। সূত্র: আলজাজিরা

হরমুজ প্রণালি। ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিল ইরান

পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে তেল পরিবহনের অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেভাল মিশন এসপাইডেসের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।   ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়ে দিয়েছে ‘হরমুজ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।’ তেল রপ্তানির জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারীদের জন্য তেল রপ্তানির পথ। এখান দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তেল পাঠায় সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত। সরু এ সামুদ্রিক পথটি ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করেছে। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এখনো বেঁচে আছেন। যতদূর জানি, তিনি নিহত হননি।’ ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর খবর প্রকাশের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এনবিসি নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন। চ্যানেল-১২ দাবি করে, শনিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ ধরনের তথ্য পাচ্ছেন। লাইভ বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, ‘হামলায় দুই কমান্ডার মারা গেছেন। তবে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেঁচে গেছেন। সব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বেঁচে আছেন। সবাই এখনো তাদের অবস্থানে আছেন। আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি এবং সবকিছু ঠিক আছে।’

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি : সংগৃহীত
খামেনির মৃত্যু হলে থমকে যাবে না ইরান, রয়েছে মাস্টারপ্ল্যান

ইরানের ওপর ইসরায়েলি বা যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কিংবা শীর্ষ নেতাদের গুপ্তহত্যার আশঙ্কার মধ্যে এক ‘মাস্টারপ্ল্যান’ হাতে নিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।   নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খামেনির অবর্তমানে বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি কোনো কারণে সর্বোচ্চ নেতা বা দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব নেতৃত্ব দানে অক্ষম হন বা নিহত হন, তবে দেশকে টিকিয়ে রাখা এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান। খামেনি নিজেই এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হামলার হুমকির মুখে এই আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান। মূলত সম্ভাব্য রাজনৈতিক শূন্যতা বা নেতৃত্বহীনতা এড়াতে খামেনির এ আগাম সিদ্ধান্ত ইরানজুড়ে নতুন এক সমীকরণ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এবং হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ার মতো মিত্র নেতাদের ওপর সফল গুপ্তহত্যার ঘটনা ইরানকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খামেনি মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ চেইন অব কমান্ড বা নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এই শূন্যতা পূরণে এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে আলী লারিজানি বা জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্য ও উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে গত রোববার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খামেনির নির্দেশনা অনুযায়ী, তার নিয়োগ দেওয়া সামরিক ও সরকারি পদগুলোর জন্য চার স্তরের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কর্মকর্তা নিহত হলে তার পর ধাপে ধাপে কোন চারজন নিয়োগ পাবেন, তা ঠিক করা হয়েছে। এ ছাড়া, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও নিজেদের অন্তত চারজন উত্তরসূরির নাম ঠিক করে রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লারিজানি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে নেই বললে চলে। কারণ, এই পদের জন্য জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে দেশ পরিচালনার জন্য যারা যোগ্য প্রার্থী, তিনি তাদের অন্যতম। কে এই আলী লারিজানি আলী লারিজানি ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান। গত আগস্টে এই নিরাপত্তাপ্রধানকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি নিয়োগ দেওয়া হয়। এই কাউন্সিল মূলত দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ক্ষমতা রাখে। তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব গুপ্তহত্যার শিকার হলে ইরানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে খামেনি যেসব ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগীকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, আলী লারিজানি তাদের মধ্যে অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার এ প্রেক্ষাপটে খামেনির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও আদতে উত্তেজনা কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার খামেনেয়ি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘ধ্বংস’ করতে পারবেন না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ডিক্রির মাধ্যমে খামেনেয়ি বিশ্বকে দুটি বার্তা দিতে চেয়েছেন। যেমন- নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও ইরানের নীতি বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হবে না এবং শত্রুপক্ষকে জানানো যে, শীর্ষ নেতাদের হত্যা করলেও ইরানের রাষ্ট্রযন্ত্র অচল করা সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত, গত বছর জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিন ধরে চলা সংঘাতের সময় খামেনি তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনজনের নাম ঘোষণা করেছিলেন। এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব ইরানের এই নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের ময়দানের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাকেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। অপরদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য ঠিক কী, তা এখনও স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েনের পাশাপাশি তিনি কূটনৈতিক সমঝোতার কথাও বলছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়লেও সম্ভাব্য সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন পথে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। বার্তাসংস্থা এএফপি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিলেও, দীর্ঘ বা স্বল্পমেয়াদি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী, তা স্পষ্ট করেননি। ইতোমধ্যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ ও বহুসংখ্যক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছেন। ফলে পরিস্থিতি যে কোনও সময় বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি ইরানের ক্ষমতাসীন ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ওপর সীমিত আঘাত হানতে চান? নাকি ইসরায়েলের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করতে চান? এমনকি তেহরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টাও কি তার পরিকল্পনায় আছে? অবশ্য ইরান আগেই সতর্ক করেছে যে হামলা হলে কঠোর প্রতিশোধ নেয়া হবে।

খেলাধুলা

  • অন্যান্য খেলা
  • হকি
  • ফুটবল
  • ক্রিকেট

জনপ্রিয় সংবাদ

মতামত

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শিশু শিক্ষার্থী নিহত বেড়ে ২৪
মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0

ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।  এতে দেশটির মিনাব সিটিতে ২৪ স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজগানে একটি প্রাক-প্রাথমিক মহিলা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রথমে পাঁচ শিশু নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, হামলায় বিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে আর অন্তত ৬০জন আহত হয়েছে।   এদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিচ্ছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রতিশোধমূলক ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটির মিসাইলগুলো আঘাত হেনেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। এতে আরব আমিরাতে একজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।   সূত্র: আলজাজিরা।

খামেনি ও নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলে ৩৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0

ইরান থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে শনিবার সকাল থেকে অন্তত ৩৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে প্রাথমিক সামরিক মূল্যায়নে জানা গেছে। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র আটকে দিলেও কিছু খোলা এলাকায় আঘাত হেনেছে। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু অংশ এবং প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দেশের বিভিন্ন স্থানে পড়েছে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, এ ঘটনায় একজন ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং ও অ্যারো) সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বেসামরিক এলাকায় পড়ায় সামান্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ চলছে বলে জানায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি : সংগৃহীত
তেহরানে নেই খামেনি
মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বর্তমানে তেহরানে নেই। তাকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার রয়টার্সকে এক সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।   ইরানে আজ শনিবার ভোরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলাকে ইসরায়েল ‘আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা’ (প্রি-এম্পটিভ অ্যাটাক) বলেছে। প্রথম দফার হামলাতেই খামেনি টার্গেট করা হয়। জানা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, খামেনি ইতোমধ্যেই তেহরান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা বিস্ফোরণ শুনেছেন এবং আশপাশের এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পায়নি। নিরাপত্তা সূত্র বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। এরপরই সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে দেখা দেয়। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ করা হয়েছে এবং সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন দূতাবাস। ছবি : সংগৃহীত
কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ
মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর কাতার ও বাহরাইনে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য হামলা ও অস্থিরতার শঙ্কায় দেশ দুটিতে অবস্থানরত নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কাতার এবং বাহরাইনের মার্কিন দূতাবাসগুলো তাদের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে।   শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এই দূতাবাস দুটি পৃথক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে। এই দূতাবাসগুলো ঘোষণা করেছে যে, তারা তাদের সব কর্মীর জন্য একটি আশ্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব আমেরিকান নাগরিককেও একই কাজ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এর আগে, আজ ইরানের কয়েকটি স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

ট্রেন্ডিং

হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিনোদন
অন্যান্য
সর্বশেষ
জাতীয়

বিশ্ব
অর্থনীতি
সারাদেশ
টেলিকম ও প্রযুক্তি