লাইফস্টাইল

খেজুর
খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা কেন উপকারী

সারাদিন রোজা রাখার পর সারা বিশ্বের কোটি রোজদার খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙেন। এটি ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর সময় থেকেই খেজুর দিয়ে ইফতারের প্রচলন রয়েছে। মহানবী (সা.) নিজে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করতেন। ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি খেজুরের পুষ্টিগুণও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী।  বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা ভাঙার পর শরীর তাৎক্ষণিকভাবে গ্লুকোজ তৈরির চেষ্টা করে, কারণ শরীরে জ্বালানি হিসেবে এটির প্রয়োজন হয়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকায় অন্যান্য খাবারের তুলনায় রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক দ্রুত বৃদ্ধি করে। খেজুরে শর্করা এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকায় এই ফলটি শরীরকে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সরবরাহ করে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে কিছু না খেয়ে থাকেন তাদের জন্য এটি আদর্শ।  খেজুর ভিটামিন এ, কে, বি৬ এবং আয়রনে সমৃদ্ধ। এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে শরীরকে প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি সরবরাহ করতেও সহায়তা করে এই ফল।  পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুর একটি শুকনো ফল হলেও, এটি মানুষের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। সারা দিন পানি না খাওয়ার ফলে শরীরে যে ঘাটতি থাকে, তা পূরণ করে। প্রাকৃতিকভাবেই এতে ইলেক্ট্রোলাইট পটাসিয়াম থাকে, যা পানির জন্য চুম্বকের মতো কাজ করে, শরীরের কোষগুলোকে পানিতে পরিপূর্ণ করে তোলে। রোজাদারদের অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন। খেজুর ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস, যা শরীরের বর্জ্য পদার্থকে অন্ত্রের মধ্য দিয়ে আরও সহজে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে হজমে সহায়তা করে। 

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে উপকারী যেসব খাবার

আমাদের শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া এবং খাবার হজমে লিভারের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু ভুল জীবনযাপন আর অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেক বেড়ে গেছে। শুরুর দিকে এর কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না বলে একে নিঃশব্দ ঘাতকও বলা হয়। চলুন, জেনে নিই লিভার সুস্থ রাখতে যেসব খাবার উপকারী। ব্ল্যাক কফি চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি লিভারে চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং প্রদাহ কমায়। এটি লিভারের রোগ প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। ব্লুবেরি ব্লুবেরিতে থাকা বিশেষ উপাদান লিভারের কোষের ক্ষতি হওয়া আটকায় এবং ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। আমলকি প্রতিদিন অন্তত দুটি আমলকি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।এর ভিটামিন-সি লিভারকে সচল রাখে এবং ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। অ্যাভোকাডো এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষ মেরামত করে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। হলুদ ও গোলমরিচ হলুদের সঙ্গে সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে তা লিভারের জন্য মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এটি লিভারের ভেতরের প্রদাহ দ্রুত কমায়। সুস্থ থাকার বাড়তি টিপস: ব্যায়াম: নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। ঘুম: পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো জরুরি। চিনি বর্জন: খাবারে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দিন। সমস্যা গুরুতর মনে হলে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সূত্র : এবিপি

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ঈদে নান্দনিক ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এলো ‘ভারগো’ । ছবি : সংগৃহীত
ঈদে নান্দনিক ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এলো ‘ভারগো’

ঈদের আনন্দ, ভালোবাসা ও ঐতিহ্যের গল্পকে আরও রঙিন করে তুলতে দেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘ভারগো’ নিয়ে এসেছে ‘ঈদ কালেকশন ২০২৬’। এবারের আয়োজনে উৎসবের প্রাণের সঙ্গে সমসাময়িক ফ্যাশনের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। আরাম ও স্টাইলের নিখুঁত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে প্রতিটি পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে প্রিমিয়াম মানের ফেব্রিক ও নান্দনিক নকশা। ফ্যাশন কেবল ট্রেন্ড নয়, এটি শেকড়, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্বেরও প্রকাশ। সেই ভাবনা থেকেই মেয়েদের জন্য ভারগো এনেছে জর্জেট ফেব্রিকের ওপর আভিজাত্যপূর্ণ কারচুপি ও এমব্রয়ডারি করা সালোয়ার কামিজ, টু-পিস, কো-অর্ড সেট, কুর্তি, টপস ও টিউনিক। উৎসবের ভিড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার জন্য ডিজিটাল প্রিন্টেড ও ভিসকস ফেব্রিকের কামিজ এবং রিলাক্স প্যান্টেরও দারুণ কালেকশন থাকছে এবার। ছেলেদের ঈদ আয়োজনে প্রাধান্য পেয়েছে কটন ও ব্যাম্বু ফেব্রিকের তৈরি ইউনিক এমব্রয়ডারি করা প্রিমিয়াম ও ক্যাজুয়াল পাঞ্জাবি, কাবলি সেট এবং কটি। পাশাপাশি ভার্সেটাইল স্টাইলিংয়ের জন্য ১০০% সুতির ক্যাজুয়াল, ফরমাল, পোলো ও টি-শার্টের সঙ্গে থাকছে আরামদায়ক ডেনিম, চিনোস ও রিলাক্স প্যান্টের নানা রঙের অপশন। ঈদের আনন্দে শিশুদের জন্য ভারগো সাজিয়েছে স্টাইলিশ ডিজাইনের পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, সালোয়ার কামিজ, টু-পিস, কুর্তি ও ফ্রকের এক সমৃদ্ধ সম্ভার। এই আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হিসেবে এবার অন্যান্য পোশাকের পাশাপাশি ভারগোর স্পেশাল ‘নিউবর্ন’ বা নবজাতক কালেকশনও পাওয়া যাবে। নান্দনিক এসব পোশাক পাওয়া যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার উত্তরা, মোহাম্মদপুর, হাসনাবাদ, বসুন্ধরা সিটির (দুটি শাখা) পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম (হালিশহর ও কোহিনূর মিরিডিয়ান সিটি), ফেনী, বগুড়া, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও নওগাঁসহ ভারগোর সকল স্টোরে। এ ছাড়া ঘরে বসেই অনলাইনে তাদের এই ঈদ কালেকশন কেনার সুযোগ রয়েছে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
রমজানে লেবুর দামে আগুন, সেরা বিকল্প যা হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
রমজানে লেবুর দামে আগুন, সেরা বিকল্প যা হতে পারে

রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত যেন অপরিহার্য। আর সেই শরবতের প্রধান উপাদান লেবু। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই যখন প্রতি পিস লেবুর দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকায় ওঠে, তখন অনেক পরিবারের জন্য এটি বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিদিনের ইফতারে লেবু ব্যবহার তখন প্রায় বিলাসিতা। তবে লেবু না থাকলেই ইফতার অসম্পূর্ণ—এ ধারণা ঠিক নয়। একটু পরিকল্পনা করলেই পুষ্টি ও স্বাদের ঘাটতি ছাড়াই মিলতে পারে সাশ্রয়ী বিকল্প। তেঁতুল তেঁতুল দিয়ে তৈরি শরবত বা চাটনি ইফতারে দারুণ মানিয়ে যায়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও হালকা ল্যাক্সেটিভ উপাদান হজমে সহায়ক। ছোলা বা মুড়ির মিশ্রণেও তেঁতুলের টক-মিষ্টি স্বাদ আনা যায়। টমেটো  টমেটো সালাদ, স্যুপ বা চাটে টক স্বাদ যোগ করতে পারে। এতে ভিটামিন সি ও লাইকোপেন আছে, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। কমলালেবু বা মাল্টা কমলালেবু বা মাল্টা দিয়ে শরবত তৈরি করলে স্বাদে ভিন্নতা আসে। একটি ফল দিয়েই কয়েকজনের জন্য পানীয় বানানো সম্ভব। দই দই হতে পারে সবচেয়ে পুষ্টিকর বিকল্প। প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ দই হজমে আরাম দেয়। টক দইয়ের লাচ্ছি, চাট, বোরহানি বা ঘোল ইফতারে প্রশান্তি আনে। এছাড়া মৌসুমি আনারস, বেল কিংবা কাঁচা আম দিয়েও তৈরি করা যায় সুস্বাদু শরবত। কাঁচা আমে ভিটামিন সি আছে, যা ক্লান্তি কমাতে ও গরমে স্বস্তি দিতে সহায়ক। মনে রাখতে হবে, ভিটামিন সি শুধু লেবুতেই সীমাবদ্ধ নয়; পেয়ারা, কাঁচা আম, কমলালেবু এমনকি কাঁচা মরিচেও এটি পাওয়া যায়। তাই লেবুর দাম বাড়লেও পুষ্টির ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। বরং বৈচিত্র্য আনলে ইফতার হতে পারে আরও স্বাস্থ্যকর ও সৃজনশীল। রমজান সংযমের মাস। তাই বাজারদরের চাপকে পাশ কাটিয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিকল্প বেছে নিলেই ইফতারের স্বাদ ও স্বস্তি দুটোই বজায় রাখা সম্ভব।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করবেন যেভাবে

রমজানের কয়েক দিন যেতেই অনেকের সাধারণ অভিযোগ— সারা দিন ভালো থাকলেও ইফতারের পর শরীর ভীষণ ভারী হয়ে আসে, চোখে ঘুম নামে আর পেটে অস্বস্তি শুরু হয়। অনেকেই একে রোজার ক্লান্তি মনে করেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, এর আসল কারণ আমাদের অন্ত্র বা গাট হেলথের ভারসাম্যহীনতা। আমাদের পরিপাকতন্ত্রে কোটি কোটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যাদের বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োটা। এরা শুধু খাবার হজমই করে না, শরীরের ৭০ শতাংশ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও নিয়ন্ত্রণ করে।এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলেই পেট ফাঁপা, এসিডিটি বা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়। কেন ইফতারের পর শরীর খারাপ লাগে? সারা দিন বিরতির পর ইফতারে যখন আমরা একসাথে অনেক ভাজাপোড়া, মিষ্টি বা ভারী খাবার খাই, তখন পাকস্থলী হঠাৎ চাপে পড়ে যায়। দ্রুত খাবার খাওয়ার ফলে অন্ত্রে খাবার স্বাভাবিকভাবে হজম না হয়ে গ্যাস ও প্রদাহ তৈরি করে। ফলে পেট শক্ত হয়ে যায় এবং শরীর নিস্তেজ লাগে।পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে গেলে শরীর খাবার থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে পেট ভরে খেয়েও আপনি দুর্বল বোধ করেন। রোজা কি শরীরের ক্ষতি করে? না, বরং রোজা অন্ত্রের জন্য একটি ক্লিনিং প্রসেস বা পরিষ্কার অভিযান। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় অন্ত্র বাড়তি ব্যাকটেরিয়া ও জমে থাকা খাদ্যকণা সরিয়ে নিজেকে সতেজ করার সুযোগ পায়।কিন্তু ভুল খাদ্যাভ্যাস এই সুযোগকে নষ্ট করে দেয়। সুস্থ থাকার ৫টি সহজ উপায় ১। ধীরগতিতে শুরু : খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করে কিছুক্ষণ বিরতি দিন। একবারে বেশি খাবেন না। ২।হালকা খাবার : শুরুতে স্যুপ বা ফলজাতীয় হালকা খাবার বেছে নিন। ভাজাপোড়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। ৩। প্রোবায়োটিক যুক্ত করুন : দই বা এ জাতীয় খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। ৪। সাহরিতে সচেতনতা : সাহরিতে আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, লাল চাল) এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ৫। মনোযোগ দিয়ে চিবিয়ে খাওয়া : খাবার ভালো করে চিবিয়ে খেলে হজমের কষ্ট অর্ধেক কমে যায়। রমজান শরীরকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। একটু সচেতন হয়ে অন্ত্রের যত্ন নিলে রোজা হবে ক্লান্তির বদলে প্রাণবন্ত ও স্বস্তিদায়ক।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইফতারে কাঁচা না সেদ্ধ ছোলা কোনটিতে বেশি পুষ্টি জানালেন পুষ্টিবিদ

রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে ছোলার উপস্থিতি প্রায় অবধারিত। সারাদিন রোজা রাখার পর পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেকেই ভরসা রাখেন এই সহজলভ্য ডালজাতীয় খাদ্যের ওপর। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ভিজিয়ে কাঁচা ছোলা খাওয়া ভালো, নাকি সেদ্ধ করে? কোনটিতে পুষ্টিগুণ বেশি? পুষ্টিবিদরা বলছেন, দুইভাবেই ছোলা খাওয়া উপকারী, তবে শরীরের অবস্থা ও হজমক্ষমতার কথা ভেবে পদ্ধতি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্প্রতি ইমিউনস সাইন্সের এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ডালজাতীয় খাদ্য। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এসব উপাদান শরীরের শক্তি জোগায়, পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ছোলার উচ্চ ফাইবার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে এবং হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এ কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা একটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া ছোলা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ছোলা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। চলুন জেনে নেওয়া যাক কাঁচা (ভিজানো) ছোলা কীভাবে খাবেন পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা ছোলা সরাসরি খাওয়া ঠিক নয়। এতে হজমের সমস্যা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ছোলা খাওয়ার আগে তা অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, অথবা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করাও সহজ হয়। ভিজিয়ে রাখা ছোলা নরম হলে চাইলে এর খোসা ছাড়ানো যায়। এরপর এতে লবণ, কাঁচা মরিচ, লেবুর রস বা শসা মিশিয়ে সহজেই একটি পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এভাবে খেলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি। আপনি কী জানেন কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী? ভিজিয়ে রাখা ছোলায় ফাইবার ও প্রোটিনের মাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। তবে সবার ক্ষেত্রে ভিজানো ছোলা সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য পরিমাণ বুঝে খাওয়াই ভালো। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেদ্ধ ছোলা কীভাবে খাবেন- ছোলা খাওয়ার আরেকটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নেওয়া। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করতেও সুবিধা হয়। সেদ্ধ করার সময় অল্প লবণ ও সামান্য হলুদ ব্যবহার করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি হজমেও সহায়ক হয়। সেদ্ধ ছোলা দিয়ে সহজেই পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এতে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, ধনেপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে নিলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টিমানও বৃদ্ধি পায়। এভাবে খেলে এটি ইফতারের টেবিলে স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক একটি পদ হয়ে উঠতে পারে। আপনি কী জানেন সেদ্ধ ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী? সেদ্ধ ছোলা হজমের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। ভিজিয়ে সিদ্ধ করার ফলে ছোলার দানাগুলো নরম হয়ে যায়, যা পেটের জন্য সহজপাচ্য হয়। এতে গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার ঝুঁকিও কম থাকে। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে বা কাঁচা ভিজানো ছোলা খেলে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য সেদ্ধ ছোলা নিরাপদ ও উপযোগী একটি বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা খেলে পুষ্টি পাওয়া যায়, আবার হজমের সমস্যার আশঙ্কাও কম থাকে। সবশেষে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভিজানো ও সেদ্ধ—দুভাবেই ছোলা খাওয়া যায় এবং দুটিই পুষ্টিকর। যারা বেশি শক্তি ও ফাইবার পেতে চান, তাদের জন্য ভিজানো ছোলা ভালো বিকল্প। আর যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা সেদ্ধ ছোলা বেছে নিতে পারেন। তবে যেভাবেই খাওয়া হোক, অতিরিক্ত লবণ বা মশলা এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ছোলা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
পাঙ্গাশ মাছ নিয়ে এত ভয় কেন? জানুন কারণ

মাছ বাজারে গেলেই দেখা যায় বড় বড় পাঙ্গাশ মাছ। চোখে পড়ে বরফের ওপর সাজানো কাটা পাঙ্গাশ মাছও। দাম তুলনামূলক কম, কাঁটা কম, রান্নাও ঝামেলাহীন—এই কারণেই মধ্যবিত্ত বাঙালির রান্নাঘরে পাঙ্গাশ মাছ বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে পরিবারের ছোটদের কাছে এই মাছের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। তবে ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঙ্গাশ নিয়ে নানা ভয় ছড়াচ্ছে—কেউ বলছেন এই মাছ বিষে ভরা, আবার কেউ বলছেন এতে কোনো পুষ্টিগুণই নেই। তবে প্রশ্ন হলো, এই দাবিগুলোর ভিত্তি কতটা সত্য? পাঙ্গাশ কি আদৌ অস্বাস্থ্যকর? পাঙ্গাশ মূলত একটি চাষের মাছ। এটি দ্রুত বড় হয়, উৎপাদন বেশি হয়, সেই কারণেই বাজারে এর দাম তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু দাম কম মানেই যে পুষ্টিগুণ কম, এমনটা নয়। পাঙ্গাশ মাছে ভালো মাত্রায় প্রোটিন থাকে, যা পেশি গঠন, কোষের ক্ষয়পূরণ এবং শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত ডিম বা মাংস খান না, তাদের জন্য পাঙ্গাশ হতে পারে সহজলভ্য প্রোটিনের একটি উৎস।   এ ছাড়া এই মাছে কিছু পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। ইলিশ বা সামুদ্রিক মাছের মতো বেশি না হলেও, এটি হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষে সহায়ক এবং খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাঙ্গাশে আয়রন ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজও রয়েছে, যা রক্ত ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। তাহলে বিতর্কটা কোথায়? সমস্যা মূলত মাছের চাষপদ্ধতি নিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে মাছ দ্রুত বড় করতে অ্যান্টিবায়োটিক ও বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যদি এসব উপাদান নিয়ম মেনে ব্যবহার না করা হয়, তাহলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন এই ধরনের দূষিত মাছ খেলে হজমের সমস্যা, অ্যালার্জি এমনকি শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।   কিভাবে নিরাপদে পাঙ্গাশ খাবেন? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চোখ বুজে কোনো খাবারকে ভালো বা খারাপ বলে দাগিয়ে দেবেন না। পাঙ্গাশ কিনতে হলে— বিশ্বস্ত দোকান থেকে মাছ কিনুন খুব তাজা মাছ বেছে নিন রান্নার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন সিদ্ধ, ঝোল বা হালকা মসলায় রান্না করাই সবচেয়ে নিরাপদ অতিরিক্ত তেলে ভেজে খাওয়া এড়িয়ে চলুন কারা সতর্ক থাকবেন গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রেও মাঝেমধ্যে ভালোভাবে রান্না করা পাঙ্গাশ খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিদিন একই ধরনের মাছ না খেয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খেলে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে। আর পাঙ্গাশ খাওয়ার পর যদি কোনো অস্বস্তি বা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   সব শেষে বলা যায়, পাঙ্গাশ মাছ নিজে থেকে ‘ভয়ের কারণ’ নয়। ভয়ের মূল কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত চাষ ও ভুল রান্নার পদ্ধতি। সচেতনভাবে কেনা, সঠিকভাবে রান্না করা এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে পাঙ্গাশ মাছও হতে পারে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের অংশ। সূত্র : টিভি৯ বাংলা

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আলু খাওয়া কেন ভালো, কেন খারাপ

আলু একটি পুষ্টিকর ও শক্তিদায়ক সবজি, যাতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, শর্করা, ভিটামিন সি, বি-কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস, যা দ্রুত শক্তি জোগায়, হজমে সহায়তা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। খোসাসহ সেদ্ধ কিংবা পোড়া আলু খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। তবে স্টার্চের কারণে ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে পরিমিত খাওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত ভাজা বা প্রক্রিয়াজাত আলু ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সবুজ কিংবা পচা আলু খাওয়া ক্ষতিকর। আলুর প্রধান পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা ১. আলু শক্তির উৎস: উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি থাকায় দ্রুত শক্তি জোগায়। ২. হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি: আলুতে রয়েছে ফাইবার, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং পেটের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ৩. হার্ট ও রক্তচাপ: আলুতে রয়েছে পটাশিয়াম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ৪. ভিটামিন ও খনিজ: আলুতে রয়েছে ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন সি, যা বিপাক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।  আলুর অপকারিতা ১. ওজন বৃদ্ধি: অতিরিক্ত ভাজা (ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস) খেলে ওজন বাড়ে। ২. ডায়াবেটিস: উচ্চ কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ৩. বিষাক্ততা: সবুজ রঙ ধারণ করা বা গ্যাঁজ হওয়া আলুতে 'সোলানাইন' নামক বিষাক্ত পদার্থ থাকে, যা বমি, ডায়রিয়া কিংবা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। ৪. কিডনি সমস্যা: পটাশিয়াম বেশি থাকায় কিডনি রোগীর জন্য অতিরিক্ত আলু ক্ষতিকর হতে পারে।  অতএব আলু সেদ্ধ কিংবা বেক করে খাওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। কিন্তু অতিরিক্ত খেলে আপনার বিপদের ঝুঁকি হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
দাঁতের যত্ন না নিলে যা ঘটতে পারে

মানুষের ধারণা নিয়মিত দাঁত বা মুখ পরিষ্কার করা মানে নিছক দাঁতের সৌন্দর্য। কিন্তু দাঁতের যত্ন না নিলে একজন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মুখের স্বাস্থ্য সরাসরি হার্টের সঙ্গে যুক্ত। হার্ট সুস্থ রাখতে শুধু ব্যায়াম বা ডায়েট নয়, মুখের স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত দাঁত না মাজলে শুধু ক্যাভিটি নয়, ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘যখন মুখে প্ল্যাক বা ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে, তখন তা মাড়িতে সংক্রমণ তৈরি করে। এই ব্যাকটেরিয়া সহজেই রক্তে ঢুকতে পারে। রক্তে প্রবেশের পর ব্যাকটেরিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি করে। দীর্ঘদিন এই প্রদাহ থাকলে ধমনীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দন্ত চিকিৎসকদের মতে, শুধু দাঁত মাজা যথেষ্ট নয়। দাঁতের ফাঁক বা মাড়ির নিচে জমে থাকা খাবার ও ব্যাকটেরিয়া দূর করার জন্য ফ্লস ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। ফ্লস না করলে অনেক জায়গা পরিষ্কার হয় না, যেখানে ব্যাকটেরিয়া জমে থেকে সমস্যা তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মাড়ির দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা রয়েছে, তাদের হার্টের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। কারণ মুখের ব্যাকটেরিয়া ধমনীর ভেতরে চর্বি জমা ও প্রদাহ বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে রক্ত চলাচলে বাধা আসে এবং হার্টের সমস্যা বাড়ে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রতিদিন অন্তত দু’বার বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত মাজতে হবে। নিয়মিত ফ্লস বা ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি খাবার কম খান। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলুন। ছয় মাসে একবার দন্ত চিকিৎসকের কাছে চেকআপ করান।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
এক পায়ে দাঁড়ানোর অভ্যাস : ভারসাম্য, মস্তিষ্ক ও দীর্ঘায়ুর গোপন চাবিকাঠি

এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা শুনতে সহজ হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত এই সহজ অনুশীলন শরীর ও মস্তিষ্ক—দুইয়ের জন্যই দারুণ উপকারী। বয়স বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই পেশিশক্তি কমতে থাকে, যাকে বলা হয় সারকোপেনিয়া। এই পেশি ক্ষয়ের প্রভাব পড়ে ভারসাম্যের ওপর। এক পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তাই শরীরের সামগ্রিক শক্তি ও বার্ধক্যের গতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ধরা হয়। যারা নিয়মিত ভারসাম্যের অনুশীলন করেন, তাদের পা ও নিতম্বের পেশি শক্তিশালী থাকে এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এই ব্যায়াম শুধু পেশির নয়, মস্তিষ্কেরও কাজ। এক পায়ে দাঁড়াতে গেলে চোখ, কানের ভেতরের ভারসাম্য ব্যবস্থা (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) এবং স্নায়ুতন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য মস্তিষ্ককে একসঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। ফলে মনোযোগ, প্রতিক্রিয়ার গতি এবং সমন্বয় ক্ষমতা উন্নত হয়।   কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নির্দিষ্ট সময় এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না, তাদের পরবর্তী বছরগুলোতে শারীরিক দুর্বলতা ও জ্ঞানীয় অবক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। বয়স্কদের আঘাতের বড় কারণ হলো পড়ে যাওয়া, যা বেশির ভাগ সময় ভারসাম্য হারানোর ফল। নিয়মিত ‘সিঙ্গেল লেগ ট্রেনিং’ এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মস্তিষ্কের সেই অংশকে সক্রিয় রাখে, যা শরীরের অবস্থান বোঝা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সঙ্গে জড়িত। ভালো খবর হলো, এই অনুশীলন খুব সহজেই দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত করা যায়। দাঁত ব্রাশ করার সময়, রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে কাজ করার সময় বা টিভি দেখার ফাঁকে—প্রতিদিন কয়েকবার ১০–২০ সেকেন্ড এক পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। পরে পা বদলে একইভাবে অনুশীলন করুন। নিরাপত্তার জন্য শুরুতে দেয়াল বা চেয়ার কাছে রাখা ভালো। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন এই অনুশীলন করা উচিত। নিয়মিত চর্চায় ভারসাম্য, পেশিশক্তি, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা—সবই উন্নত হতে পারে। ছোট একটি অভ্যাসই বয়সের সঙ্গে সুস্থ ও স্বনির্ভর থাকার বড় সহায়ক হতে পারে। সূত্র : বিবিসি

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রথম সারির নায়িকারাও আমার থেকে কম টাকা কামায় : সোফী

বলিউড অভিনেত্রী ও গায়িকা সোফী চৌধুরী। বড় পর্দায় তাকে খুব একটা দেখা যায় না, হাতেগোনা কয়েকটি ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ঝুলিতে নেই কোনো বড় হিট সিনেমা। তবুও তার বিলাসবহুল জীবনযাপন, নামী ব্র্যান্ডের পোশাক আর হাই-প্রোফাইল পার্টিতে নিয়মিত উপস্থিতি প্রায়ই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   সম্প্রতি উদয়পুরে এক রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সোফী, যেখানে পারফর্ম করেছিলেন বিশ্বখ্যাত গায়িকা জেনিফার লোপেজ। সেই অনুষ্ঠানে সোফীর উপস্থিতি দেখে নেটিজেনদের একাংশ তাকে কটাক্ষ করতে শুরু করেন। প্রশ্ন ওঠে তার আয়ের উৎস নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ প্রশ্ন করেন, একটা ছবিতেও তো দেখা যায় না, তাহলে করেনটা কী? আবার কেউ মন্তব্য করেন, ছবি নেই, এদিকে এত টাকা আসে কোথা থেকে? টানা এমন নেতিবাচক মন্তব্য ও কটাক্ষে আর চুপ থাকতে পারেননি সোফী। সটান উত্তর দিয়ে নিজের আয়ের উৎস এবং ক্যারিয়ার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এই তারকা। সোফী বলেন, ১৭ বছর ধরে আমি গানের অনুষ্ঠান করছি। আর দেশের এক নম্বর মহিলা সঞ্চালিকা (হোস্ট) আমি। বিভিন্ন করপোরেট অনুষ্ঠান, বিয়েবাড়ি বা লাইভ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করার জন্য আমাকে ডাকা হয়। বলিউডে টিকে থাকার লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বলিউডে যে পরিমাণ প্রতিযোগিতা তা সবার জানা। একজন নায়িকার জমি শক্ত করতে অনেক সময় লেগে যায়।   তবে সোফীর সবচেয়ে বড় দাবিটি ছিল তার রোজগার নিয়ে। তিনি স্পষ্ট জানান, সিনেমার পর্দায় তাকে কম দেখা গেলেও উপার্জনের দিক থেকে তিনি পিছিয়ে নেই। সোফীর ভাষ্যমতে, বলিউডের অনেক প্রথম সারির নায়িকারাও অত রোজগার করেন না, যত রোজগার আমি করি।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ৩০, ২০২৫ 0
ঐশ্বরিয়া রাই I ছবি : সংগৃহীত
আমার শরীর আমার সম্পদ : ঐশ্বরিয়া রাই

বলিউডের আইকন, সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন আর নীরব থাকলেন না। জনপরিসরে নারীদের ওপর বাড়তে থাকা হয়রানি ও কটাক্ষের বিরুদ্ধে তিনি তুললেন কণ্ঠ। এক গভীর, দৃঢ় বার্তায় তারকাখ্যাত এই অভিনেত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, নারীর পোশাক, সাজসজ্জা কিংবা আচরণ কোনোভাবেই হেনস্তার ন্যায্যতা দিতে পারে না। বরং তিনি নারীদের আহ্বান জানালেন মাথা উঁচু করে চলতে, নিজেদের অধিকার ও মর্যাদার জন্য প্রয়োজনে সংগ্রামে নামতে। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় তার এই শক্তিশালী অবস্থান, নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক প্রসাধনী দ্রব্যের বিজ্ঞাপনী দূত হিসেবে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন ঐশ্বরিয়া। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, রাস্তাঘাটে নারীরা কীভাবে হয়রানি মোকাবিলা করবেন? সঙ্গে সঙ্গেই ঐশ্বরিয়া পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘অপর প্রান্তের মানুষটির চোখের দিকে না তাকালেই পার পেয়ে যাবেন ভাবছেন? তাহলে বলি, একদম নয়। মোকাবিলা করতে হেনস্তাকারীর চোখের দিকে সোজাসুজি তাকাতে শিখুন। মাথা উঁচু করে হাঁটুন।’ নারী হয়রানি মোকাবিলায় ঐশ্বরিয়া আত্মবিশ্বাসের ওপর জোর দিয়ে বলেন, নারীদের ভাবতে শেখা উচিত- ‘আমার শরীর, আমার সম্পদ।’ নিজের মূল্য নিয়ে কখনোই আপস করবেন না বা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগবেন না। আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন এবং প্রয়োজনে নিজের জন্য নিজে উঠে দাঁড়ান ও লড়ুন।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৮, ২০২৫ 0
রুক্মিণী মৈত্র । ছবি: সংগৃহীত
আমি মেয়ে হতে পারি কিন্তু বোকা নই: রুক্মিণী

ওপার বাংলার অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রকে নিয়ে ইদানীং গুঞ্জন ছিল—কলকাতার চেয়ে মুম্বাই তথা আরব সাগরের তীরেই তার আনাগোনা বেশি। প্রিয় তারকাকে শহরে না দেখে ভক্তদের মনেও ছিল প্রশ্ন। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে রুক্মিণী এখন কলকাতাতেই। ব্যস্ত সময় পার করছেন আসন্ন সিনেমা ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’-এর প্রচারণায়।   মুম্বাই কানেকশন ও শৈশবের স্মৃতি মুম্বাই যাতায়াত নিয়ে চলা ফিসফাস প্রসঙ্গে স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন রুক্মিণী। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই মায়ানগরীর সঙ্গে তার গভীর সংযোগ। অভিনেত্রী বলেন, ‘সবাই এখন আমার মুম্বাই যাতায়াত নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু বাবা বলতেন, পরীক্ষায় ভালো ফল করলে মুম্বাই নিয়ে গিয়ে মনের মতো জিনিস কিনে দেবেন। তাই এই শহরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক পুরোনো।’ বাবার স্মৃতি ও মায়ের একাকিত্ব বাবা-মেয়ের সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে নির্মিত ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ সিনেমার প্রচারণায় এসে বারবার স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছেন রুক্মিণী। ২০১৭ সালে বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। সিনেমার গল্প যেন তাকে বারবার সেই স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাবার মৃত্যুর পর মা মধুমিতা মৈত্রই ছিলেন রুক্মিণীর জগৎ। মা তাকে এবং ভাই রাহুলকে বন্ধুর মতো আগলে রেখেছেন। তবে নতুন সিনেমার গল্পটি রুক্মিণীকে মায়ের একাকিত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক সময় ভুলে যাই যে, বাবা-মা হওয়ার আগেও তারা মানুষ। তাদেরও নিজস্ব চাওয়া-পাওয়া থাকে। আমার তো নিজস্ব জগৎ আছে, কাজ আছে, বন্ধুরা আছে; কিন্তু মায়ের হয়তো একা লাগে। সব কথা কি তিনি আমার সঙ্গে ভাগ করতে পারেন? তাদেরও সঙ্গীর প্রয়োজন হতে পারে।’ সোশ্যাল মিডিয়া ও নেতিবাচকতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের উপস্থিতি ও সমালোচনা প্রসঙ্গে বেশ কড়া বার্তা দিয়েছেন রুক্মিণী। কাজের প্রয়োজনে যতটুকু দরকার, ততটুকুই অনলাইনে থাকেন তিনি। সমালোচকদের উদ্দেশে রুক্মিণীর সাফ কথা, ‘হাজারটা ভালো মন্তব্যের ভিড়ে খারাপগুলোকে কেন গুরুত্ব দেব? আমি ইতিবাচক দিকটাই দেখতে চাই। মনে রাখবেন, আমি মেয়ে হতে পারি, কিন্তু বোকা মেয়ে নই।   উল্লেখ্য, বছরের শুরুটা হয়েছিল ‘বিনোদিনী: একটি নটীর উপাখ্যান’ দিয়ে, আর শেষ হচ্ছে ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ দিয়ে। ক্যারিয়ারের এই বাঁক বদল নিয়ে বেশ আশাবাদী এই অভিনেত্রী।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৭, ২০২৫ 0
আশনা হাবিব ভাবনা I ছবি : সংগৃহীত
নদীতে শীতের সকালে ভাবনা

দেশের ছোট-বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। অভিনয় শৈলীর জাদুতে বহু আগেই অগণিত ভক্তের হৃদয় জয় করা এই শিল্পী কেবল পর্দায় নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিটি পোস্টেও যেন ছড়িয়ে দেন তার নিজস্ব আকর্ষণ। নিয়মিতই ভক্তদের সঙ্গে অনুভূতি ভাগ করেন, জীবনযাপনের মুহূর্তগুলো প্রকাশ্যে আনেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে নতুন এক পোস্টেই যেন আবার ঝড় তুললেন এই সুন্দরী।   বুধবার (২৬ নভেম্বর) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ফেসবুকে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। প্রকাশিত সেসব ছবিতে দেখা যায়, শীতের সকালে নদীতে নেমে জলকেলিতে মেতে উঠেছেন তিনি। খোলামেলা চুলে, কালো টি-শার্ট পরিহিত ভাবনা কচুরিপানার ফুল হাতে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন। আর তার মায়াবী চাহনিই নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। এদিকে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শীতের সকালে একটু নদীতে নামলাম। বলেন নদীর নাম কি?’ ভাবনার এই জলকেলির ছবি দেখে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নেটিজেনরা। অনেকে তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ শীতকালে তার জলে নামার দুঃসাহস দেখে অবাক হয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৬, ২০২৫ 0
সাদিয়া আয়মান I ছবি : সংগৃহীত
সমুদ্রপাড়ে ফুরফুরে মেজাজে সাদিয়া আয়মান

ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে বড় পর্দায় নজর কাড়া অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান এখন ফুরফুরে মেজাজে। যান্ত্রিক শহরের কোলাহল ছেড়ে সমুদ্রের বিশাল জলরাশির সামনে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফেসবুকে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে ভক্তদের মাঝে সেই আনন্দের রেশ ছড়িয়ে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।   সাদা রঙের পোশাকে দুহাত দুদিকে ছড়িয়ে দিয়ে সাদিয়া জানান দিচ্ছেন, কতটা আনন্দঘন মুহূর্তে রয়েছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘জাস্ট এ গার্ল অ্যান্ড হার হ্যাপি ওয়েভ এরা’। সাদিয়ার এই স্নিগ্ধ রূপ দেখে কমেন্ট বক্সে ভালোবাসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন ভক্তরা। কেউ তাকে আখ্যা দিয়েছেন ‘জলকন্যা’ বলে, আবার কেউ লিখেছেন ‘খুব সুন্দর লাগছে’। সাদিয়ার হাসিমাখা মুখ দেখে একজন ভক্ত জীবনদর্শন তুলে ধরে লিখেছেন, ‘সুখ হচ্ছে মনের ব্যাপার, মনকে বোঝাতে পারলে আপনি সব অবস্থাতেই সুখী!’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘দারুণ মুহূর্ত’। সম্প্রতি ‘উৎসব’ সিনেমায় দারুণ অভিনয় করে বড় পর্দায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন সাদিয়া আয়মান। ছোট পর্দায় এখন কিছুটা অনিয়মিত হওয়ায় ভক্তদের ধারণা, বড় পর্দাতেই হয়তো স্থায়ী হতে চলেছেন তিনি। এরই মধ্যে অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়েছে নতুন এক প্রাপ্তি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় চিত্রপরিচালক অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী, যিনি ‘পিংক’, ‘কাদাক সিং’ ও ‘লস্ট’-এর মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন— তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সাদিয়ার। ‘উৎসব’ সিনেমায় সাদিয়া আয়মান ও সংশ্লিষ্ট সব কলাকুশলীর কাজের প্রশংসা করেছেন এই গুণী নির্মাতা, যা সাদিয়ার জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৬, ২০২৫ 0
দেবযানী চট্টোপাধ্যায় I ছবি : সংগৃহীত
দেবযানী ধারাবাহিকে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি

২২ বছরের সুদীর্ঘ পথচলায় ছোটপর্দার নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি। টিআরপি-র ওঠানামা, চরিত্রের উত্থান-পতন—সবকিছুর মাঝেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন দেবযানী চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু হঠাৎ যেন বদলে গেল সব। গত আড়াই বছর ধরে তাকে কোনো ধারাবাহিকে দেখা যায় না। বড়পর্দার দিকেও মুখ ফেরালেও কাজের সংখ্যা তুলনামূলক কম। টালিউড ছেড়ে এখন তিনি রয়েছেন মুম্বাইয়ে। ভক্ত মনে প্রশ্ন জেগেছে, হঠাৎ করে কেন এত বড় সিদ্ধান্ত নিলেন এই অভিনেত্রী?   ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিকে কখনো নেতিবাচক আবার কখনো ইতিবাচক চরিত্রে তাকে দেখেছে দর্শক। কিন্তু, গত দুই বছরে নাকি ছোটপর্দায় অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন অভিনেত্রী। এ বিষয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘প্রায় আড়াই বছর হলো ধারাবাহিকে অভিনয় করা ছেড়ে দিয়েছি। সত্যি বলতে একঘেয়েমি এসে গিয়েছিল। তাই মেগাতে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন ধরনের কাজ করতে চাইছি। ছোটপর্দায় নতুন কিছু করার নেই। আমার জন্য নতুন কিছু হবে সেটাও নয়। আর গল্পের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারছিলাম না।‘ তাহলে এখন কী করতে চান দেবযানী? করোনা পরিস্থিতি অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে। ফলে অভিনেত্রী এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ওয়েব সিরিজে অভিনয় করতে খুবই আগ্রহী। সেই কারণেই অনেক দিন ধরে মুম্বাইয়ে থাকছেন তিনি। মাঝেমধ্যে আসছেন কলকাতায়।   দেবযানী জানিয়েছেন, ওখানের কাজকর্মের ধরন অন্যরকম। বিভিন্ন জায়গায় অডিশন দিচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া কলকাতায় তার নিজস্ব একটি বুটিক আছে। তাই ব্যবসার কাজেও মাঝেমধ্যে শহরে ফিরতে হচ্ছে তাকে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৫, ২০২৫ 0
ধর্মেন্দ্র দেওল I ছবি: সংগৃহীত
বলিউডের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ ধর্মেন্দ্র

‘ফুল অউর পাত্থর’ ক্যারিয়ারের প্রথম বড় হিটের নামটিই যেন তার ব্যক্তিত্বের রূপক, পাথরের মতো গঠনে অটল দৃঢ়তা, আর কোমলতায় মোড়া এক অনন্য নায়ক-চরিত্র। বলছি সদ্য প্রয়াত হিম্যান খ্যাত বলিউড অভিনেতা ধর্মেন্দ্র দেওলের কথা।   গত শতকের ছয়ের দশকের মাঝামাঝি রুপালি পর্দায় আবির্ভূত হয়ে ধর্মেন্দ্র হয়ে উঠেছিলেন সেই সময়ের অবিসংবাদিত সুপারস্টার, তখনো বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেনি রাজেশ খান্নার ‘রোমান্টিক রাজত্ব’ কিংবা অমিতাভ বচ্চনের ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ যুগ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিগ বি-র বিস্ময়কর উত্থান যেন ধর্মেন্দ্রর আলোকে আড়াল করল। যেমন ভারতীয় ক্রিকেটে শচীন–সৌরভদের ঝলমলে যুগের আড়ালে নিঃশব্দে ভরসা হয়ে থেকেছেন রাহুল দ্রাবিড়, তেমনি বলিউডের অন্ধকারে আলো জ্বেলেও মিস্টার ডিপেন্ডেবল হয়ে থাকলেন ধর্মেন্দ্র। তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও সময়-অতিক্রমী জনপ্রিয়তা—সব মিলিয়ে ধর্মেন্দ্র শুধু এক নায়ক নন, ভারতীয় সিনেমার এক শক্তিশালী প্রতীক। এখন ভক্ত মনে প্রশ্ন উঠতে পারে কত বড় তারকা ছিলেন ধর্মেন্দ্র? এই হিসাবটা হিসেব করে বের করা কঠিন কিন্তু একটা ধারণা দেওয়া যেতে পারে। অমিতাভ-ধর্মেন্দ্রর জীবনের সবচেয়ে বড় হিট ‘শোলে’। ১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিতে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক কে পেয়েছিলেন? উত্তরটা কিন্তু ধর্মেন্দ্রই। ততদিনে অমিতাভ স্টার হয়ে উঠলেও সুপারস্টার হতে পারেননি। মূলত পরপর সাফল্যের মধ্যে দিয়ে গিয়ে ‘মুকাদ্দার কা সিকান্দার’ (১৯৭৮) ছবির পরই সুপারস্টার হয়ে ওঠেন বিগ বি। অন্যদিকে সঞ্জীবকুমার কিন্তু ততদিনে বিরাট জনপ্রিয়। কিন্তু এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেইড অভিনেতা ছিলেন ধর্মেন্দ্র। তিনি পেয়েছিলেন দেড় লাখ টাকা। অন্যদিকে ‘ঠাকুর সাহাব’ সঞ্জীব কুমার পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। অমিতাভ পান ১ লাখ। হেমার পারিশ্রমিক ছিল ৭৫ হাজার। ৩৫ হাজার টাকা পেয়েছিলেন জয়া বচ্চন। এ ছাড়া একেবারেই নতুন ‘গব্বর’ আমজাদ খান ৫০ হাজার। এদিকে বলিউডের ইতিহাসে সাফল্যের বিচারে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে রাজেশ খান্নার নাম। টানা ১৭টি হিট ছবি দিয়েছিলেন ‘কাকাজি’। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাওয়া এই সাফল্য তাকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতা করে রেখেছিল। অমিতাভের মহাতারকা হয়ে ওঠাও রাজেশের এই সাফল্যকে প্রতিস্থাপিত করতে পারেনি। এই সাফল্যের ভিড়ে ধর্মেন্দ্রকে আলাদা করে সরিয়ে না রেখে উপায় নেই। ১৯৬০ সালে ক্যারিয়ার শুরু। যদিও প্রথম ছবি ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ সাফল্যের মুখ দেখেনি। সাফল্যের জন্য ধর্মেন্দ্রকেও করতে হয় অপেক্ষা। এরপর ১৯৬৬ সালে ‘ফুল অউর পাত্থর’ ধর্মেন্দ্রকে একটা স্থায়ী জায়গা করে দিল। তার আগেই অবশ্য ‘আয়ি মিলন কি বেলা’র মতো ছবি মুক্তি পেয়ে গেছে। এরপর একে একে ‘অনুপমা’, ‘সত্যকাম’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘সীতা অউর গীতা’ ‘সমাধি’, ‘জুগনু’, ‘ইয়াদো কি বারাত’-এর সাফল্য ‘শোলে’-র মহাসাফল্যের আগেই ধর্মেন্দ্রকে সুপারস্টার করে তুলেছে। অবশ্য সেই সময় ধর্মেন্দ্রর শরীরে সামান্য বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করেছে। কেননা তিনি ততদিনে চল্লিশে পা রেখেছেন। কিন্তু ‘ড্রিম গার্ল’, ‘শালিমার’-এর মতো সফল ছবি এরপরও করেছেন ধর্মেন্দ্র। আটের দশক পেরিয়ে এসে ১৯৯০ সালেও ‘নাকাবন্দি’, ‘হামসে না তাকরানা’ কিংবা ১৯৯২ সালে ‘তাহালকা’ বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছে। অর্থাৎ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে সাফল্যে ধরে রেখেছিলেন এই গুণী অভিনেতা। এরপর প্রধান চরিত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন ধর্মেন্দ্র। তিনি মোটামুটি সাতান্নতেই নায়ক হওয়া ছেড়ে দেন। এরপরও অবশ্য ছবি করেছেন। এমনকী, ২০২৩ সালে ‘রকি অউর রানি কি প্রেমকাহিনি’তে অভিনয় করে বেশ সাড়া ফেলেছেন ধর্মেন্দ্র। মৃত্যুর আগে ধর্মেন্দ্র সবশেষ অভিনয় করেন শ্রীরাম রাঘবন এর পরিচালনায় নির্মিত সিনেমা ইক্কিস- এ।   এ চলচ্চিত্রটিতে ধর্মেন্দ্রর পাশাপাশি অভিনয় করেন জয়দীপ আহলাওয়াত, অগস্ত্য নন্দসহ অনেকে। ছবিটি মুক্তি পাবে চলতি বছরের ২৫ ডিসেম্বর।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৫, ২০২৫ 0
বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুর। ছবি : সংগৃহীত
যে কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচেন না রণবীর কাপুর

ভারতের উদয়পুরে অনুষ্ঠিত শিল্পপতি রাজু মন্টেনার কন্যা নেত্রা মন্টেনার জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আসর ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। নাচ, গান ও আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি-ভিডিওতে দেখা গেছে বলিউড তারকাদের উপস্থিতি, যেন বসেছিল তারার মেলা। রণবীর সিং, জাহ্নবী কাপুরসহ অনেকে বিয়ের আসরে নেচে মাতিয়েছেন।   তবে এত বিশাল আয়োজনেও দেখা যায়নি রণবীর কাপুরকে। ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হতেই ভক্তদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—অন্যান্য তারকারা উপস্থিত, রণবীর নেই কেন? এ আলোচনার মধ্যে সামনে এসেছে রণবীর কাপুরের ২০১১ সালের সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, টাকার বিনিময়ে তিনি কখনো বিয়েতে নাচবেন না। তিনি বলেন, ‘টাকার জন্য আমি কোনো বিয়েবাড়িতে নাচব না। এর অন্যতম কারণ আমার পারিবারিক মর্যাদা। আমি চাই না আমার পরিবারের কেউ অর্থের বিনিময়ে এমনটি করুক। এটি আমার ব্যক্তিগত পছন্দ। আমি আমার স্টারডম হারাতে চাই না, আবার কাউকে ভাবতেও দিতে চাই না, আমি ধরাছোঁয়ার বাইরে কোনো তারকা।’ খবর : ইন্ডিয়া টুডে সাক্ষাৎকারে রণবীর আরও বলেন, ‘আমি যে পরিবারে বড় হয়েছি এবং যে মূল্যবোধে বড় হয়েছি, তা আমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যায় না। যারা বিয়েতে পারফর্ম করেন, তাদের প্রতি আমার কোনো বিরূপ মনোভাব নেই।’   এসময় রণবীর কাপুর ব্যাখ্যা করেন, টাকা উপার্জন তার একমাত্র লক্ষ্য নয়। তিনি জানান, কোটি কোটি টাকা আয়ের চাইতে একজন ভালো অভিনেতা হিসেবে পরিচিত হতে চান তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৪, ২০২৫ 0
টেলর সুইফট I ছবি: সংগৃহীত
বিয়ে নিয়ে নিরাপত্তা জটিলতায় টেলর সুইফট

বিয়ে করতে চলেছেন বিশ্বখ্যাত মার্কিন সংগীতশিল্পী টেলর সুইফট। দীর্ঘদিনের প্রেমের পর আমেরিকান ফুটবল তারকা ট্র্যাভিস কেলসির সঙ্গে সম্পর্কের পরিণতি দেখতে চলেছে পুরো বিশ্ব। ভক্তদের উত্তেজনা যেমন আকাশছোঁয়া, তেমনি সুরক্ষাজনিত উদ্বেগও তৈরি করেছে এক নতুন নাটকীয় পরিস্থিতি, যেখানে হাই-প্রোফাইল এই জুটির নিরাপত্তা সকলের নজরদারির কেন্দ্রে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, টেলর সুইফট তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেন; অন্যদিকে, ট্র্যাভিস কেলসিও নিজেকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেন। এরপরও দুজনের সম্পর্ক ও বহু প্রতীক্ষিত বিয়ের মতো বিলাসবহুল অনুষ্ঠান ঘিরেই বাড়ল এবার উদ্বেগ; শঙ্কা। তাই এ নিয়ে কার্যত নড়েচড়ে বসেছে তাদের টিম। মূলত, তাদের নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলো এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আরও জানা যায়, টেলর সুইফটের তারকার মর্যাদা এবং জনজীবনের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাব্য বিপদগুলোর কারণে তার নিরাপত্তা দল বর্তমানে ‘হাই অ্যালার্ট’ অবস্থায় আছে। ‘টেলর এখন প্রেমে মগ্ন এবং জীবনকে খোলাখুলি উপভোগ করছেন, কিন্তু তার নিরাপত্তা দলটি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছে। তিনি যে মূল্যবান গহনা ও পোশাক পরবেন, তা পেশাদার অপরাধীদের আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। তাই ঘটতে পারে যেকোনো বিপদ।’ এদিকে, ‘বিষয়টি এমন নয় যে টেইলর অসতর্ক। সমস্যা হলো, তার জীবনযাত্রা এখন প্রায় সবারই জানা; তার প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখা হয়। তাই শঙ্কার বিষয়টি থেকেই যায়।’ এক দেহরক্ষীর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘টেলর সুইফটের মতো কারও বিয়ের অনুষ্ঠান মানেই চোরদের কাছে স্বপ্নের মতো পরিস্থিতি। এখানে ভিআইপি অতিথিরা থাকবেন, থাকবে দামি উপহার, অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ঘন ঘন পরিবর্তন হবে এবং সবাই কিছুটা উদাসীন থাকবে।’ টেলর সুইফটের বিয়ের দিন এগিয়ে আসার সঙ্গে তার নিরাপত্তা ও জনজীবন আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার বেশ কিছু কারণও রয়েছে।   গত এক বছরে টেলর সুইফট বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে একটি গুরুতর হুমকির কারণে ভিয়েনায় তার ‘এরাস ট্যুর’ কনসার্ট বাতিল করতে হয়েছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৪, ২০২৫ 0
দেব ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু I ছবি: সংগৃহীত
দেবের সঙ্গে রোম্যান্সে নজর কেড়েছেন জ্যোতির্ময়ী

টালিউডের বড়পর্দায় অভিষেক, আর সেই মঞ্চেই ওপার বাংলার সুপারস্টার দেবের বিপরীতে রোম্যান্স—এই অসম্ভব স্বপ্নই এবার সত্যি করেছেন ছোটপর্দার পরিচিত মুখ জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘প্রজাপতি ২’-এ। তাদের জুটির রসায়ন নিয়ে ইতিমধ্যেই তুমুল উত্তেজনা দর্শকমহলে। আর দেবের সঙ্গে প্রথমবার রোম্যান্টিক দৃশ্যে অভিনয়, তা যেন জ্যোতির্ময়ীর কাছে স্বপ্নপূরণের থেকেও বড় কোনও অনুভূতি।   ভারতীয় গণমাধ্যমে এ বিষয়ে জ্যোতির্ময়ী জানান, প্রথম যখন তিনি শোনেন যে তার প্রথম চলচ্চিত্রেই বিপরীতে নায়ক দেব, তখন তিনি কিছুটা অবিশ্বাস ও ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু শুটিং শুরু হওয়ার পর পরিচালক অভিজিৎ সেনের সহায়তায় দৃশ্যগুলো দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্যোতির্ময়ী বলেন, ‘পর্দায় এক মেয়ের বাবা হলেও দেবদার সঙ্গে রোম্যান্স করতে আমার আপত্তি নেই! তবে বাস্তবে নয়, বাস্তবে দেবদাকে আমি প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করি।’ তিনি তার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘দেবকে প্রথম দেখি ‘রঘু ডাকাত’ ছবির শুটিং শেষ করার পর। সে সময় দেবের মুখভর্তি দাড়ি-গোঁফ ছিল এবং ওজনও কিছুটা বেশি ছিল, যা দেখে একটু ভয় লেগেছিল। কিন্তু পরে যখন তিনি ছবির লুকে আসেন, তখন ‘পাগলু’ ছবির সেই দেবদার মতো দেখতে পেয়ে স্বস্তি পাই।‘ ‘প্রজাপতি ২’ ছবিটির দীর্ঘ শুটিং লন্ডনে হয়েছে। এই ছবিতে প্রবীণ অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীও রয়েছেন, যা জ্যোতির্ময়ীর প্রথম ছবির অভিজ্ঞতাকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।   জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘বঁধুয়া’-তে ‘পেখম’ চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছিলেন। সেই জনপ্রিয়তার সূত্র ধরেই তিনি দেবের বিপরীতে বড়পর্দায় সুযোগ পান।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৩, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ধানুশ নিজের চেহারা নিয়ে যা বললেন

বলিউডে ধানুশের মুখে প্রেমের ব্যর্থতার ছাপ। অনেকে হয়তো সেটিকে দেখেন হাস্যকর বা সমালোচনার চোখে, কিন্তু অভিনেতা নিজেই সেটিকে নিয়েছেন গর্বের সঙ্গে। দিল্লিতে প্রচারণার সময় ধানুশ বললেন, “আমার চেহারা নাকি প্রেমে ব্যর্থ মানুষের মতো, আমি এটাকে ভালোই নিয়েছি।   ‘তেরে ইশক মে’ ছবির প্রচারণা চলাকালে ভারতীয় গণমাধ্যমে এ বিষয়ে অভিনেতা জানান, এই মন্তব্য করেছিলেন পরিচালক আনন্দ এল রাই ও সহ–অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। ধানুশ হাসতে হাসতে বলেন, ‘হৃদয়ভাঙা মানুষের মতো মুখ, এটা শুনে আমি বরং খুশিই হয়েছি। ‘চরিত্রে আবেগের জায়গাটা ধরতে এটি নাকি নেচারালি আমাকে সাহায্য করবে।’ ছবিতে তিনি অভিনয় করছেন শঙ্কর নামে এক চরিত্রে। ধানুশের ভাষায়, শঙ্করকে ভালোবাসা সহজ হলেও চরিত্রটির ভেতরে অনেক জটিলতা আছে, যা দর্শক ছবি দেখলেই বুঝতে পারবেন। তবে চরিত্রটি ‘আগ্রাসী’ নয়। এটা শুধু গভীর আবেগ ও চ্যালেঞ্জে ভর্তি একটি ভূমিকা। এ বছর একাধিক ছবি ও নির্মাণে যুক্ত থাকলেও ‘তেরে ইশক মে’ ধানুশের বছরের শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত কাজ, যা ২৮ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে আসছে।   এ সিনেমায় ধানুশের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন, কৃতি শ্যানন, প্রকাশ রাজ, সুশীল দাহিয়াসহ আরও অনেকে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৩, ২০২৫ 0
Popular post
দেশের বাইরে পড়ার জীবনটা যেমন

দেশের বাইরে মানুষকে পড়তে আসা উচিত কি না—এ নিয়ে ধর্মীয়, সামাজিক, ব্যক্তিগত নানা মত আছে। তবে আমার বিশ্বাস, সুযোগ থাকলে জীবনে একবার হলেও দেশের বাইরে পড়াশোনা করা উচিত। বিদেশে পড়লে একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়, সে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। চাইলে বিদেশে চাকরি করতে পারে, আবার চাইলে দেশে ফিরে অবদান রাখতে পারে—সেটলড হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়। কিন্তু যেটাই করুক, সে যে অভিজ্ঞতা বয়ে নিয়ে যায় সেটা অমূল্য হয়ে থাকে। তার দুনিয়াকে দেখার চোখ অন্যদের থেকে আলাদা হবে।    অনেকেই দেশে হোস্টেলে থেকেছেন, বাবা–মা থেকে দূরে থেকেছেন। কিন্তু বিদেশে এসে যে ধাক্কাটা লাগে, সেটা আলাদা। এখানে সবই একা সামলাতে হয়। অসুস্থ হলে মাথায় নিজেই পানি দিতে হয়। হাজারো চ্যালেঞ্জ, হাজারো স্ট্রাগল—সব একা নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াতে হয়।   দেশে একা থাকা আর বিদেশে একা থাকার তফাৎ এখানেই। দেশে জুতা ছিঁড়লে মুচি আছে, বিদ্যুৎ গেলে মেকানিক আছে, গাড়ি নষ্ট হলে সাহায্য মিলবে, রান্নার জন্য বুয়া পাওয়া যাবে। কিন্তু বিদেশে জুতা সেলাই করতে যে টাকা লাগে, তা দিয়ে নতুন দুই জোড়া কিনে ফেলা যায়। শেফ রাখতে চাইলে তার বেতনই আপনার বেতনের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাও দেশি স্বাদের রান্না নাও আসতে পারে।   এখানে এসে আমি নিজের সাইকেলের চাকা নিজেই ঠিক করেছি ইউটিউব দেখে, জুতা নিজে সেলাই করেছি, গাড়ি নষ্ট হলে নিজে শিখে ঠিক করেছি। রান্না শিখেছি—কারণ বছরের পর বছর নিজের হাতের রান্নাই খেতে হয়। এসব তো কেবল কয়েকটা উদাহরণ; সব বলতে গেলে বই হয়ে যাবে।   কঠিন পড়াশোনা আর গবেষণার পাশাপাশি বেঁচে থাকার প্রয়োজনে আরও শত স্কিল শিখতে হয়। চ্যালেঞ্জ যতই থাকুক, মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে শিখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সহজ হয়ে আসে। আর এসব সংগ্রাম—এসবই মানুষকে শক্তিশালী, সক্ষম ও পরিণত করে তোলে। তাই প্রবাসজীবনে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি আছে অসংখ্য সুযোগ ও ইতিবাচক দিক।   দেশে আমার পরিচিত অসংখ্য বন্ধু–পরিচিত ‘বেকার’। রূপক অর্থে বেকার। অর্থাৎ চাকরি থাকলেও তারা কাজকে অর্থবহ মনে করে না, নিজের কর্মজীবন নিয়ে গর্বিত হতে পারে না। বড় চাকরি, ছোট চাকরি, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই বেশিরভাগ মানুষ সন্তুষ্ট না নিজের কাজ নিয়ে, না নিজের জীবনের মান নিয়ে।   কিন্তু বিদেশে এই বিষয়টা তুলনামূলক কম। এখানে নিজের পছন্দের কাজ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ অসীম—যদি আপনি সেই কাজের স্কিল শিখে নিতে পারেন। ক্যারিয়ারের মাঝপথে হঠাৎ মনে হলে যে আপনি অন্য কিছু করতে চান—এখানে সেটা ভাবার সাহস মানুষ দেখাতে পারে। নিজের জীবন নতুনভাবে গড়া এখানে সম্ভব।   এখানে আপনাকে আপনার কাজ দিয়েই বিচার করা হবে। ব্যক্তিজীবন নিয়ে খুব কমই মানুষ মাথা ঘামায়। রেসিজম আছে ঠিকই—কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার, কাউকে ‘কেনা গোলাম’ ভাবার প্রবণতা এখানে বিরল। আপনি নিজের কাজ ঠিকঠাক করলে কারো কাছে তোষামোদ করতে হবে না। নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করতে হবে না। এই পরিবেশ জীবনকে কম টক্সিক করে তোলে।   বাংলাদেশে তো পাসপোর্ট অফিসের পিয়নকেও ‘স্যার’ বলতে হয় ফাইলটা একটু ভেতরে ঢোকানোর জন্য—যা আমরা শ্রদ্ধা থেকে বলি না, বাধ্য হয়ে বলি।   দেশে–বিদেশে কোথাও প্রতিদিন অসাধারণ লাগবে না। কিন্তু প্রতিদিন অন্তত মনে হওয়া উচিত—আপনি কোনো অর্থবহ কাজে যুক্ত আছেন। যদি সেটা না হয়, তাহলে নিজের কাজ, নিজের স্থান, নিজের পরিবেশ—সবই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।   আপনি যদি নিজের কাজ নিয়ে, নিজের জায়গা নিয়ে, নিজের অবদান নিয়ে গর্ব করতে পারেন—তাহলে দেশে পরিবার–পরিজন নিয়ে জীবন কাটানোই শ্রেয়। আর সময়–সুযোগ পেলে একবার বিদেশে অভিজ্ঞতা নেওয়া যেতে পারে—জব করে, মাস্টার্স বা পিএইচডি করে, কিংবা কিছুদিন ভ্রমণ করে। তবে দয়া করে—ব্যাচেলর/অনার্স লেভেলের পড়াশোনায় সন্তানকে বিদেশে পাঠাবেন না। আর ব্যাংক লোন নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করতে যাবেন না—এটা বাড়াবাড়ি।   লেখক : সাকলাইন মোস্তাক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, যুক্তরাষ্ট্র

প্রতারণা মামলায় মিরপুরের বৈষম্য বিরোধী মামলা বানিজ্যের অন্যতম হোতা লুৎফুল বারী মুকুল গ্রেফতার

  অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে মিরপুরের বৈষম্য বিরোধী মামলা বানিজ্যের অন্যতম হোতা লুৎফুল বারী মুকুলকে।     এক সময় মিরপুরের স্থানীয় বি এন পি-র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও পরবর্তীতে নাসিম ও শাহেদা ওবায়েদের নেতৃত্বাধীন গড়বো বাংলাদেশ ও আসল বি এন পি নামের দুটি সংগঠনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে বি এন পির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান তথা বি এন পি'র বিরুদ্ধে বিষোদগার এবং অপপ্রচারে লিপ্ত হন লুতফুল বারী মুকুল।   হঠাৎ করেই বিগত ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর মুকুল নিজেকে বি এন পি'র নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে।   এক যুগ পূর্বের বি এন পির  সাবেক পদবী ব্যবহার করে তার  তত্বাবধানে চাঁদাবাজি এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে অনেক নিরীহ ব্যবসায়ী ও কর্মজীবিদেরকে বৈষম্য  বিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন এবং মামলা তুলে দিবেন এই মর্মে মোটা অংকের টাকা দাবী করে আসছিলেন।   ইতোপূর্বে মুকুলের জালিয়াতি ও প্রতারনার অনেক অজানা তথ্যও উঠে আসে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেষ্টিগেশন (পি বি আই) এর বিষদ এক তদন্ত রিপোর্টে। মুকুলের মামলা বাণিজ্যের শিকার সাভারের মাছুম তার প্রতি এই জুলুমের বিচার দাবী করেন।   অন্যান্য অভিযোগকারীরা জানান মুকুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে  এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা চলমান।   মিরপুরের ভুক্তভোগী একজন প্রৌড়া বিধবা নারী বলেন, মুকুল ও তার মদদ দাতাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের  নিকট ইতোমধ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আরও তথ্য রয়েছে যে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী ও বি এন পি'র হাই কমান্ডের নেতাদের নিকট মুকুল ও তাকে মদদদেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়াধীন।   অদ্য ধামরাই থানা পুলিশ- অর্থ আত্মসাত, চুরি ও প্রতারণার মামলায়  মুকুলকে মিরপুরের পীরেরবাগের বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে।  

পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার ঝামেলায়? গুগল দিচ্ছে সহজ সমাধান

আজকাল অনলাইন জীবনে অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও ইমেইলের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড রাখা একেবারেই ঝামেলার কাজ। সব পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন, আবার ভুলে গেলে “Forgot Password” ঝামেলাও কম নয়! এই সমস্যার সহজ সমাধান নিয়ে এসেছে গুগল — Google Password Manager। একবার সেটআপ করলেই আপনার পাসওয়ার্ড সবসময় থাকবে আপনার সঙ্গে—নিরাপদে সেভ থাকবে এবং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Auto-fill) বসে যাবে লগইনের সময়।   🔒 Google Password Manager কীভাবে কাজ করে? এই ফিচারটি আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখে। এরপর আপনি কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করতে গেলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড পূরণ করে দেয়। ফলে বারবার টাইপ করার ঝামেলা বা ভুলে যাওয়ার ভয় আর থাকে না।   📱 অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চালু করার সহজ উপায় 1. ফোনের Settings খুলুন 2. নিচে স্ক্রল করে Google অপশনে ট্যাপ করুন 3. Manage your Google Account-এ যান 4. উপরের দিকের Security ট্যাব নির্বাচন করুন 5. নিচে গিয়ে Password Manager-এ ট্যাপ করুন 6. Offer to save passwords অপশনটি On করে দিন এখন থেকে আপনি যখন কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করবেন, গুগল নিজেই জিজ্ঞাসা করবে — “পাসওয়ার্ড সেভ করতে চান?”   💻 কম্পিউটারে (Chrome ব্রাউজারে) চালু করার পদ্ধতি 1. Chrome ব্রাউজার খুলুন 2. উপরের ডান পাশে থাকা তিনটি ডট (⋮) এ ক্লিক করুন 3. Settings নির্বাচন করুন 4. বাম পাশে থাকা Autofill and Passwords মেনুতে ক্লিক করুন 5. Google Password Manager খুলুন 6. Offer to save passwords অপশনটি On করে দিন এখন থেকে গুগল আপনার সব পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখবে এবং যেকোনো ডিভাইসে গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অটো-ফিল হয়ে যাবে।   🧭 সংক্ষেপে ফোনে: Settings → Google → Manage Account → Security → Password Manager → On কম্পিউটারে (Chrome): Settings → Autofill & Passwords → Google Password Manager → Offer to save passwords → On --- 🔐 আর পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার ভয় নয়! গুগল রাখবে আপনার সব পাসওয়ার্ড নিরাপদে, সহজে ও ঝামেলামুক্তভাবে। প্রযুক্তি হোক আরও স্মার্ট, জীবন আরও সহজ।

১৮ বছর ‘‌নিখোঁজ’ থাকার পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে দেখেন বাবা-মা নেই, স্ত্রী অন্যের সংসারে

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলের দুর্বিষহ জীবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর। হারিয়েছেন বাকশক্তিও। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন, আবার কখনো অঝোরে কেঁদে ফেলেন। ভাগ্য বদলের আশায় দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন নরসিংদীর চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে গিয়ে প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা ধরে নেন, হয়তো মারাই গেছেন জাহাঙ্গীর। এভাবে কেটে গেছে দীর্ঘ দেড় যুগ। অবশেষে গত ৭ নভেম্বর দেশে ফিরেছেন তিনি। তবে এতোদিনে বাবা-মা আর নেই, স্ত্রীও এখন অন্যের সংসারে।   জানা গেছে, ৬৬ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর আলম চরদিঘলদী ইউনিয়নের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। পেশায় জেলে ছিলেন। বিশাল মেঘনার বুকে মাছ ধরে জীবিকা চলত তার। সংসারে ছিলেন বাবা-মা, স্ত্রী ও চার সন্তান। দালালের খপ্পরে পড়ে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে রেখে অবৈধ পথে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। প্রবাস জীবনের প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জাহাঙ্গীরের। কিন্তু পরে সব বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন খোঁজ না পেয়ে পরিবার ধরে নেয়, তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই। নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার জানান, গত ২১ অক্টোবর মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নরসিংদী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে কল করেন কাউন্সেলর (লেবার) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম। তিনি জানান, এক বাংলাদেশী সেখানে ক্যাম্পে আটক রয়েছেন। তার কাছে পাসপোর্ট কিংবা আইডি কার্ড, কোনো ডকুমেন্টই নেই। অসুস্থতার কারণে কথা বলতে পারেন না। এতে তার নাম-পরিচয় কিছুই জানা যাচ্ছিল না। হাইকমিশন সম্প্রতি ওই ব্যক্তির ছবি দিয়ে পরিচয় জানতে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকে নিজেদের স্বজন দাবি করে যোগাযোগ করলেও কেউই যথাযথ প্রমাণ দেখাতে পারেননি। একই সময় নরসিংদী সদরের এক ব্যক্তি পোস্টের নিচে মন্তব্য করে জানান, লোকটি চরদিঘলদী ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে পারেন। হাইকমিশন বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের সহায়তায় খুঁজে পাওয়া যায় একটি পরিবারকে। কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই ব্যক্তিই ১৮ বছর আগে মালয়েশিয়া গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জাহাঙ্গীর আলম। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত ভালো নয়- বিষয়টি উপলব্ধি করে প্রয়োজনীয় সব নথি সংগ্রহ করে দ্রুততম সময়ে হাইকমিশনে পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আর্থিক অসচ্ছলতার কথা উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলমকে সরকারি ব্যয়ে দেশে পাঠানোর অনুরোধও জানান তিনি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর গত ৭ নভেম্বর দেশে ফেরেন জাহাঙ্গীর আলম। পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু এরপরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। দেশে এসে দেখেন, বাবা-মাকে হারিয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন পরিবারে ঠাঁই নিয়েছেন তার স্ত্রীও। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলের দুর্বিষহ জীবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর। হারিয়েছেন বাকশক্তিও। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন, আবার কখনো অঝোরে কেঁদে ফেলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে ২০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী দেয়া হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জাহাঙ্গীরের বড় ছেলে আমান উল্লাহ বলেন, আমরা বাবাকে পেয়ে আবেগে আপ্লূত। উনি আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন, এটাই বড় পাওয়া। আমাদের পরিবারের সবাই খুশি। চরদিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসা. সেলিনা আক্তার বলেন, আমাদের পরিষদ থেকে কিছু অর্থ দেয়া হয়েছে। তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে জাহাঙ্গীর আলমের মতো যেন কেউ দেশের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে আমরাও সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করব।   নরসিংদী সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জেনে বা না জেনে কেউই যেন জাহাঙ্গীর আলম বা তার পরিবারের মতো ভুল না করেন। দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। একটি ভুল যেন পরিবারের সারাজীবনের কান্না হয়ে না দাঁড়ায়।

কোর্টে হাজিরা দিতে গিয়েই গুলিতে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন

রাজধানীর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৬) নিহত হয়েছেন। আজ আদালতে তিনি একটি মামলার হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রিপা আক্তার।   সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মামুন লক্ষ্মীপুর সদরের মোবারক কলোনির এস এম ইকবাল হোসেনের ছেলে।   নিহত মামুনের স্ত্রী রিপা আক্তার জানান, আমার স্বামী বিএনপি সমর্থিত একজন কর্মী ও পাশাপাশি ব্যবসা করতো। আজ তার কোর্টে হাজিরা ছিল। আমরা জানতে পারি আমার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে হাসপাতালে এসে আমার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।    এদিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ জানান, আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তাদের হাসপাতালের সামনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। শব্দ শুনে হাসপাতালের মেইন গেটের সামনের এসে ওই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি দেখে সেখান থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। তবে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।   এ দিকে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির খালাতো ভাই হাফিজ জানান, আমার ভাই তারিক সাঈদ মামুন একজন সাধারণ মানুষ। কী কারণে তাকে কে হত্যা করা হলো, আমি জামি না। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কারা তাকে হত্যা করেছে, কী কারণে করেছে আমার জানা নেই।   সিসিটিভি ফুটেছে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনে দুইজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে গুলি করে। পরে তারা নির্দ্বিধায় পালিয়ে যায়।   শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি বলেন, তারিক সাঈফ মামুন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী কি না বলতে বলতে পারছি না। তবে তিনি ক্যাপ্টেন ইমন গ্রুপের লোক ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।   ডিসি তালেব বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। আজ সে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিল। সেখান থেকে বের হওয়ার পরেই দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।   জানা যায়, নিহত সাঈফ মামুন শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের দ্বন্দ্ব চলছিল। দীর্ঘ ২৪ বছর জেল খাটার পর ২০২৩ সালে তিনি জেল থেকে বের হন।   এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তেজগাঁও সাত রাস্তায় মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ওই ঘটনায় মামুন আহত হলেও পথচারী ভুবন চন্দ্র শীল নিহত হয়। নিহত মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শহীদ সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

ঈদুল ফিতরে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0