মোস্তফা কামাল আকন্দ
উন্নয়নকর্মী ও নীতি বিশ্লেষক
একুশ মানেই বাঙালির আত্মপরিচয়ের সবচেয়ে গভীর উচ্চারণ। শহীদ মিনার মানেই ভাষার জন্য আত্মদান করা মানুষের স্মৃতি, আর ফুল মানেই বিনম্র শ্রদ্ধা—নীরব, নিরাভরণ, নিঃস্বার্থ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শ্রদ্ধার জায়গাটি কখনো কখনো এমন এক মঞ্চে পরিণত হয়, যেখানে আবেগের চেয়ে আয়োজন বড় হয়ে ওঠে, আর স্মৃতির চেয়ে অবস্থান বেশি দৃশ্যমান হয়। তখন প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই ভাষা শহীদদের স্মরণ করি, নাকি স্মরণের আয়োজনকেই স্মরণ করি?
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবছরের মতো এবারও মানুষের ঢল নেমেছিল। ফুলের সুবাসে, স্লোগানের আওয়াজে আর ক্যামেরার ঝলকে চারপাশ ভরে উঠেছিল। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড় যেন বাঙালির আবেগেরই প্রতিচ্ছবি। কিন্তু সেই আবেগের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল নানা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর সূক্ষ্ম প্রতীকী লড়াই।
শ্রদ্ধা জানানোর এই পবিত্র স্থানটি যেন একদিনের জন্য রাজনৈতিক উপস্থিতি জানানোর ক্ষেত্রেও পরিণত হলো।
প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত—এই ঘটনাটি অনেকের কাছে বিস্ময়ের, কারও কাছে স্বাভাবিক রাজনৈতিক বাস্তবতা। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো তো কোনো দল বা মতের একচেটিয়া বিষয় নয়; এটি জাতির সামষ্টিক চেতনার অংশ। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—এই শ্রদ্ধা কতটা আন্তরিক, আর কতটা রাজনৈতিক অবস্থান জানানোর প্রয়াস?
রাজনীতির বাস্তবতা হলো, প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে থাকে বার্তা। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া তাই শুধু ফুল দেওয়া নয়—এটি একটি অবস্থান, একটি বক্তব্য, একটি প্রতীক। কেউ বলছেন, এ এক ইতিবাচক পরিবর্তন; আবার কেউ মনে করছেন, বিরোধী রাজনীতির অবস্থান থেকে নেওয়া কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু শ্রদ্ধা কি কখনো কৌশল হতে পারে? শ্রদ্ধা যদি কৌশল হয়ে যায়, তবে তার পবিত্রতা কোথায় থাকে?
অন্যদিকে, শহীদ মিনারে এসে বাধার মুখে পড়ে ফুল না দিয়েই ফিরে যাওয়ার ঘটনাও আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আরেকটি বাস্তবতা তুলে ধরে। বিরোধী দলের নেত্রী রুমিন ফারহানার ফিরে যাওয়া শুধু একজন ব্যক্তির ফিরে যাওয়া নয়; এটি আমাদের সহনশীলতার সীমাবদ্ধতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। শহীদ মিনার তো এমন এক জায়গা, যেখানে মতভেদ নয়—মিলনের চেতনা প্রাধান্য পাওয়ার কথা। অথচ সেখানে বাধা সৃষ্টি হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য কতটা সুখকর, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই।
এ যেন এমন এক বাস্তবতা, যেখানে ফুল দেওয়ার অধিকারও কখনো কখনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অথচ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে—ভাষার প্রশ্নে বাঙালি বিভক্ত হয়নি; বরং ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।
আরেকটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে—শহীদ মিনারের বেদীতে জুতা পরে প্রবেশ। এটি নিছক অসাবধানতা, নাকি উদাসীনতা—তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু প্রতীকী অর্থে এটি যেন আমাদের সামষ্টিক সংবেদনশীলতার এক ধরনের অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়। যে বেদীতে দাঁড়িয়ে মানুষ মাথা নত করে, সেখানে আচরণের এই বিচ্যুতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—আমরা কি সত্যিই স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতে শিখেছি?
শ্রদ্ধা কেবল ফুলের পরিমাণে নয়, আচরণের ভেতরেও প্রকাশ পায়। আমাদের পূর্বসূরিরা ভাষার মর্যাদার জন্য জীবন দিয়েছেন; আমরা কি অন্তত সেই স্মৃতির মর্যাদা রক্ষার ন্যূনতম শালীনতা বজায় রাখতে পারি না?
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বাস্তবতার আরেকটি চিত্রও সামনে এসেছে—সাবেক ক্ষমতাসীন দলের ব্যানারে দলের কেউই শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এটি সত্য হোক বা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ—এই বিতর্কই আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকৃতি তুলে ধরে। শ্রদ্ধা জানানোর ক্ষেত্রেও দলীয় প্রতিযোগিতা যেন এতটাই প্রবল যে, কখনো কখনো মূল বিষয়টি আড়াল হয়ে যায়।
এ যেন এমন এক বাস্তবতা, যেখানে ফুলের চেয়ে ব্যানার বড় হয়ে ওঠে, আর শ্রদ্ধার চেয়ে উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
শহীদ মিনার আসলে আমাদের জাতিসত্তার প্রতীক। এটি কোনো দলের নয়, কোনো মতের নয়—এটি বাঙালির। এখানে দাঁড়িয়ে আমরা আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের শিকড়কে স্মরণ করি। কিন্তু যখন এই স্থানটি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতীক হয়ে ওঠে, তখন আমাদের আত্মপরিচয়ের ভেতরেই যেন এক ধরনের দ্বিধা তৈরি হয়।
বাঙালির চেতনা মূলত অন্তর্ভুক্তির চেতনা—যেখানে ভিন্ন মতের সহাবস্থান সম্ভব, যেখানে ভাষা মানুষকে যুক্ত করে, বিভক্ত করে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা প্রায়ই সেই চেতনার চেয়ে রাজনৈতিক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিই।
একুশের চেতনা আমাদের শিখিয়েছে প্রতিবাদ, শিখিয়েছে মর্যাদা, শিখিয়েছে আত্মত্যাগ। কিন্তু একুশ আমাদের এটাও শিখিয়েছে—সম্মান প্রদর্শনের সংস্কৃতি। সেই সম্মান যদি আমরা নিজেদের আচরণে প্রতিফলিত করতে না পারি, তবে ফুলের স্তূপ যত বড়ই হোক, তার অর্থ কতটুকু থাকে?
এই বাস্তবতায় শহীদ মিনার যেন এক আয়নার মতো কাজ করে—যেখানে আমরা নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সামাজিক আচরণ এবং নাগরিক চেতনাকে দেখতে পাই। সেখানে যেমন আছে আন্তরিক শ্রদ্ধা, তেমনি আছে প্রতিযোগিতা; যেমন আছে আবেগ, তেমনি আছে কৌশল; যেমন আছে ঐক্যের প্রতীক, তেমনি আছে বিভাজনের ছায়া।
তবুও আশার জায়গা আছে। কারণ মানুষের ভিড়, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, শিশুদের হাতে ফুল—এসবই প্রমাণ করে যে একুশ এখনো বাঙালির হৃদয়ে জীবন্ত। রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে সাধারণ মানুষের এই শ্রদ্ধাই আমাদের আশাবাদী করে তোলে।
সম্ভবত আমাদের প্রয়োজন নতুন করে ভাবা—শ্রদ্ধা কী, স্মরণ কী, আর চেতনা কী। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আমাদের নাগরিক দায়িত্বের অংশ, আমাদের ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।
যদি আমরা সত্যিই ভাষা শহীদদের স্মরণ করতে চাই, তবে আমাদের আচরণে সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান এবং রাজনৈতিক সৌজন্যের চর্চা করতে হবে। শহীদ মিনার তখনই তার প্রকৃত মর্যাদা পাবে, যখন সেখানে দাঁড়িয়ে সব মতের মানুষ সমানভাবে মাথা নত করতে পারবে।
একুশ আমাদের বিভক্ত হওয়ার শিক্ষা দেয়নি; দিয়েছে এক হওয়ার শিক্ষা। সেই শিক্ষাকে ধারণ করতে পারলেই শহীদ মিনারের ফুল সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে উঠবে—অন্যথায় তা কেবল আয়োজন হয়েই থেকে যাবে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি আমাদেরই—আমরা কি ভাষা শহীদদের স্মরণ করি, নাকি স্মরণের রাজনীতি করি? শহীদ মিনারের নীরবতা হয়তো প্রতিবারই আমাদের সেই প্রশ্নটি করে যায়।
দেশের বাইরে মানুষকে পড়তে আসা উচিত কি না—এ নিয়ে ধর্মীয়, সামাজিক, ব্যক্তিগত নানা মত আছে। তবে আমার বিশ্বাস, সুযোগ থাকলে জীবনে একবার হলেও দেশের বাইরে পড়াশোনা করা উচিত। বিদেশে পড়লে একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়, সে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। চাইলে বিদেশে চাকরি করতে পারে, আবার চাইলে দেশে ফিরে অবদান রাখতে পারে—সেটলড হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়। কিন্তু যেটাই করুক, সে যে অভিজ্ঞতা বয়ে নিয়ে যায় সেটা অমূল্য হয়ে থাকে। তার দুনিয়াকে দেখার চোখ অন্যদের থেকে আলাদা হবে। অনেকেই দেশে হোস্টেলে থেকেছেন, বাবা–মা থেকে দূরে থেকেছেন। কিন্তু বিদেশে এসে যে ধাক্কাটা লাগে, সেটা আলাদা। এখানে সবই একা সামলাতে হয়। অসুস্থ হলে মাথায় নিজেই পানি দিতে হয়। হাজারো চ্যালেঞ্জ, হাজারো স্ট্রাগল—সব একা নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াতে হয়। দেশে একা থাকা আর বিদেশে একা থাকার তফাৎ এখানেই। দেশে জুতা ছিঁড়লে মুচি আছে, বিদ্যুৎ গেলে মেকানিক আছে, গাড়ি নষ্ট হলে সাহায্য মিলবে, রান্নার জন্য বুয়া পাওয়া যাবে। কিন্তু বিদেশে জুতা সেলাই করতে যে টাকা লাগে, তা দিয়ে নতুন দুই জোড়া কিনে ফেলা যায়। শেফ রাখতে চাইলে তার বেতনই আপনার বেতনের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাও দেশি স্বাদের রান্না নাও আসতে পারে। এখানে এসে আমি নিজের সাইকেলের চাকা নিজেই ঠিক করেছি ইউটিউব দেখে, জুতা নিজে সেলাই করেছি, গাড়ি নষ্ট হলে নিজে শিখে ঠিক করেছি। রান্না শিখেছি—কারণ বছরের পর বছর নিজের হাতের রান্নাই খেতে হয়। এসব তো কেবল কয়েকটা উদাহরণ; সব বলতে গেলে বই হয়ে যাবে। কঠিন পড়াশোনা আর গবেষণার পাশাপাশি বেঁচে থাকার প্রয়োজনে আরও শত স্কিল শিখতে হয়। চ্যালেঞ্জ যতই থাকুক, মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে শিখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সহজ হয়ে আসে। আর এসব সংগ্রাম—এসবই মানুষকে শক্তিশালী, সক্ষম ও পরিণত করে তোলে। তাই প্রবাসজীবনে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি আছে অসংখ্য সুযোগ ও ইতিবাচক দিক। দেশে আমার পরিচিত অসংখ্য বন্ধু–পরিচিত ‘বেকার’। রূপক অর্থে বেকার। অর্থাৎ চাকরি থাকলেও তারা কাজকে অর্থবহ মনে করে না, নিজের কর্মজীবন নিয়ে গর্বিত হতে পারে না। বড় চাকরি, ছোট চাকরি, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই বেশিরভাগ মানুষ সন্তুষ্ট না নিজের কাজ নিয়ে, না নিজের জীবনের মান নিয়ে। কিন্তু বিদেশে এই বিষয়টা তুলনামূলক কম। এখানে নিজের পছন্দের কাজ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ অসীম—যদি আপনি সেই কাজের স্কিল শিখে নিতে পারেন। ক্যারিয়ারের মাঝপথে হঠাৎ মনে হলে যে আপনি অন্য কিছু করতে চান—এখানে সেটা ভাবার সাহস মানুষ দেখাতে পারে। নিজের জীবন নতুনভাবে গড়া এখানে সম্ভব। এখানে আপনাকে আপনার কাজ দিয়েই বিচার করা হবে। ব্যক্তিজীবন নিয়ে খুব কমই মানুষ মাথা ঘামায়। রেসিজম আছে ঠিকই—কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার, কাউকে ‘কেনা গোলাম’ ভাবার প্রবণতা এখানে বিরল। আপনি নিজের কাজ ঠিকঠাক করলে কারো কাছে তোষামোদ করতে হবে না। নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করতে হবে না। এই পরিবেশ জীবনকে কম টক্সিক করে তোলে। বাংলাদেশে তো পাসপোর্ট অফিসের পিয়নকেও ‘স্যার’ বলতে হয় ফাইলটা একটু ভেতরে ঢোকানোর জন্য—যা আমরা শ্রদ্ধা থেকে বলি না, বাধ্য হয়ে বলি। দেশে–বিদেশে কোথাও প্রতিদিন অসাধারণ লাগবে না। কিন্তু প্রতিদিন অন্তত মনে হওয়া উচিত—আপনি কোনো অর্থবহ কাজে যুক্ত আছেন। যদি সেটা না হয়, তাহলে নিজের কাজ, নিজের স্থান, নিজের পরিবেশ—সবই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আপনি যদি নিজের কাজ নিয়ে, নিজের জায়গা নিয়ে, নিজের অবদান নিয়ে গর্ব করতে পারেন—তাহলে দেশে পরিবার–পরিজন নিয়ে জীবন কাটানোই শ্রেয়। আর সময়–সুযোগ পেলে একবার বিদেশে অভিজ্ঞতা নেওয়া যেতে পারে—জব করে, মাস্টার্স বা পিএইচডি করে, কিংবা কিছুদিন ভ্রমণ করে। তবে দয়া করে—ব্যাচেলর/অনার্স লেভেলের পড়াশোনায় সন্তানকে বিদেশে পাঠাবেন না। আর ব্যাংক লোন নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করতে যাবেন না—এটা বাড়াবাড়ি। লেখক : সাকলাইন মোস্তাক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, যুক্তরাষ্ট্র
অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে মিরপুরের বৈষম্য বিরোধী মামলা বানিজ্যের অন্যতম হোতা লুৎফুল বারী মুকুলকে। এক সময় মিরপুরের স্থানীয় বি এন পি-র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও পরবর্তীতে নাসিম ও শাহেদা ওবায়েদের নেতৃত্বাধীন গড়বো বাংলাদেশ ও আসল বি এন পি নামের দুটি সংগঠনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে বি এন পির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান তথা বি এন পি'র বিরুদ্ধে বিষোদগার এবং অপপ্রচারে লিপ্ত হন লুতফুল বারী মুকুল। হঠাৎ করেই বিগত ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর মুকুল নিজেকে বি এন পি'র নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে। এক যুগ পূর্বের বি এন পির সাবেক পদবী ব্যবহার করে তার তত্বাবধানে চাঁদাবাজি এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে অনেক নিরীহ ব্যবসায়ী ও কর্মজীবিদেরকে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন এবং মামলা তুলে দিবেন এই মর্মে মোটা অংকের টাকা দাবী করে আসছিলেন। ইতোপূর্বে মুকুলের জালিয়াতি ও প্রতারনার অনেক অজানা তথ্যও উঠে আসে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেষ্টিগেশন (পি বি আই) এর বিষদ এক তদন্ত রিপোর্টে। মুকুলের মামলা বাণিজ্যের শিকার সাভারের মাছুম তার প্রতি এই জুলুমের বিচার দাবী করেন। অন্যান্য অভিযোগকারীরা জানান মুকুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা চলমান। মিরপুরের ভুক্তভোগী একজন প্রৌড়া বিধবা নারী বলেন, মুকুল ও তার মদদ দাতাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও র্যাবের নিকট ইতোমধ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আরও তথ্য রয়েছে যে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী ও বি এন পি'র হাই কমান্ডের নেতাদের নিকট মুকুল ও তাকে মদদদেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়াধীন। অদ্য ধামরাই থানা পুলিশ- অর্থ আত্মসাত, চুরি ও প্রতারণার মামলায় মুকুলকে মিরপুরের পীরেরবাগের বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে।
আজকাল অনলাইন জীবনে অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও ইমেইলের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড রাখা একেবারেই ঝামেলার কাজ। সব পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন, আবার ভুলে গেলে “Forgot Password” ঝামেলাও কম নয়! এই সমস্যার সহজ সমাধান নিয়ে এসেছে গুগল — Google Password Manager। একবার সেটআপ করলেই আপনার পাসওয়ার্ড সবসময় থাকবে আপনার সঙ্গে—নিরাপদে সেভ থাকবে এবং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Auto-fill) বসে যাবে লগইনের সময়। 🔒 Google Password Manager কীভাবে কাজ করে? এই ফিচারটি আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখে। এরপর আপনি কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করতে গেলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড পূরণ করে দেয়। ফলে বারবার টাইপ করার ঝামেলা বা ভুলে যাওয়ার ভয় আর থাকে না। 📱 অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চালু করার সহজ উপায় 1. ফোনের Settings খুলুন 2. নিচে স্ক্রল করে Google অপশনে ট্যাপ করুন 3. Manage your Google Account-এ যান 4. উপরের দিকের Security ট্যাব নির্বাচন করুন 5. নিচে গিয়ে Password Manager-এ ট্যাপ করুন 6. Offer to save passwords অপশনটি On করে দিন এখন থেকে আপনি যখন কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করবেন, গুগল নিজেই জিজ্ঞাসা করবে — “পাসওয়ার্ড সেভ করতে চান?” 💻 কম্পিউটারে (Chrome ব্রাউজারে) চালু করার পদ্ধতি 1. Chrome ব্রাউজার খুলুন 2. উপরের ডান পাশে থাকা তিনটি ডট (⋮) এ ক্লিক করুন 3. Settings নির্বাচন করুন 4. বাম পাশে থাকা Autofill and Passwords মেনুতে ক্লিক করুন 5. Google Password Manager খুলুন 6. Offer to save passwords অপশনটি On করে দিন এখন থেকে গুগল আপনার সব পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখবে এবং যেকোনো ডিভাইসে গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অটো-ফিল হয়ে যাবে। 🧭 সংক্ষেপে ফোনে: Settings → Google → Manage Account → Security → Password Manager → On কম্পিউটারে (Chrome): Settings → Autofill & Passwords → Google Password Manager → Offer to save passwords → On --- 🔐 আর পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার ভয় নয়! গুগল রাখবে আপনার সব পাসওয়ার্ড নিরাপদে, সহজে ও ঝামেলামুক্তভাবে। প্রযুক্তি হোক আরও স্মার্ট, জীবন আরও সহজ।
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলের দুর্বিষহ জীবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর। হারিয়েছেন বাকশক্তিও। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন, আবার কখনো অঝোরে কেঁদে ফেলেন। ভাগ্য বদলের আশায় দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন নরসিংদীর চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে গিয়ে প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা ধরে নেন, হয়তো মারাই গেছেন জাহাঙ্গীর। এভাবে কেটে গেছে দীর্ঘ দেড় যুগ। অবশেষে গত ৭ নভেম্বর দেশে ফিরেছেন তিনি। তবে এতোদিনে বাবা-মা আর নেই, স্ত্রীও এখন অন্যের সংসারে। জানা গেছে, ৬৬ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর আলম চরদিঘলদী ইউনিয়নের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। পেশায় জেলে ছিলেন। বিশাল মেঘনার বুকে মাছ ধরে জীবিকা চলত তার। সংসারে ছিলেন বাবা-মা, স্ত্রী ও চার সন্তান। দালালের খপ্পরে পড়ে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে রেখে অবৈধ পথে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। প্রবাস জীবনের প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জাহাঙ্গীরের। কিন্তু পরে সব বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন খোঁজ না পেয়ে পরিবার ধরে নেয়, তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই। নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার জানান, গত ২১ অক্টোবর মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নরসিংদী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে কল করেন কাউন্সেলর (লেবার) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম। তিনি জানান, এক বাংলাদেশী সেখানে ক্যাম্পে আটক রয়েছেন। তার কাছে পাসপোর্ট কিংবা আইডি কার্ড, কোনো ডকুমেন্টই নেই। অসুস্থতার কারণে কথা বলতে পারেন না। এতে তার নাম-পরিচয় কিছুই জানা যাচ্ছিল না। হাইকমিশন সম্প্রতি ওই ব্যক্তির ছবি দিয়ে পরিচয় জানতে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকে নিজেদের স্বজন দাবি করে যোগাযোগ করলেও কেউই যথাযথ প্রমাণ দেখাতে পারেননি। একই সময় নরসিংদী সদরের এক ব্যক্তি পোস্টের নিচে মন্তব্য করে জানান, লোকটি চরদিঘলদী ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে পারেন। হাইকমিশন বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের সহায়তায় খুঁজে পাওয়া যায় একটি পরিবারকে। কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই ব্যক্তিই ১৮ বছর আগে মালয়েশিয়া গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জাহাঙ্গীর আলম। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত ভালো নয়- বিষয়টি উপলব্ধি করে প্রয়োজনীয় সব নথি সংগ্রহ করে দ্রুততম সময়ে হাইকমিশনে পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আর্থিক অসচ্ছলতার কথা উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলমকে সরকারি ব্যয়ে দেশে পাঠানোর অনুরোধও জানান তিনি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর গত ৭ নভেম্বর দেশে ফেরেন জাহাঙ্গীর আলম। পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু এরপরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। দেশে এসে দেখেন, বাবা-মাকে হারিয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন পরিবারে ঠাঁই নিয়েছেন তার স্ত্রীও। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলের দুর্বিষহ জীবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর। হারিয়েছেন বাকশক্তিও। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন, আবার কখনো অঝোরে কেঁদে ফেলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে ২০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী দেয়া হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জাহাঙ্গীরের বড় ছেলে আমান উল্লাহ বলেন, আমরা বাবাকে পেয়ে আবেগে আপ্লূত। উনি আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন, এটাই বড় পাওয়া। আমাদের পরিবারের সবাই খুশি। চরদিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসা. সেলিনা আক্তার বলেন, আমাদের পরিষদ থেকে কিছু অর্থ দেয়া হয়েছে। তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে জাহাঙ্গীর আলমের মতো যেন কেউ দেশের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে আমরাও সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করব। নরসিংদী সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জেনে বা না জেনে কেউই যেন জাহাঙ্গীর আলম বা তার পরিবারের মতো ভুল না করেন। দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। একটি ভুল যেন পরিবারের সারাজীবনের কান্না হয়ে না দাঁড়ায়।
রাজধানীর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৬) নিহত হয়েছেন। আজ আদালতে তিনি একটি মামলার হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রিপা আক্তার। সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মামুন লক্ষ্মীপুর সদরের মোবারক কলোনির এস এম ইকবাল হোসেনের ছেলে। নিহত মামুনের স্ত্রী রিপা আক্তার জানান, আমার স্বামী বিএনপি সমর্থিত একজন কর্মী ও পাশাপাশি ব্যবসা করতো। আজ তার কোর্টে হাজিরা ছিল। আমরা জানতে পারি আমার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে হাসপাতালে এসে আমার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। এদিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ জানান, আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তাদের হাসপাতালের সামনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। শব্দ শুনে হাসপাতালের মেইন গেটের সামনের এসে ওই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি দেখে সেখান থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। তবে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। এ দিকে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির খালাতো ভাই হাফিজ জানান, আমার ভাই তারিক সাঈদ মামুন একজন সাধারণ মানুষ। কী কারণে তাকে কে হত্যা করা হলো, আমি জামি না। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কারা তাকে হত্যা করেছে, কী কারণে করেছে আমার জানা নেই। সিসিটিভি ফুটেছে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনে দুইজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে গুলি করে। পরে তারা নির্দ্বিধায় পালিয়ে যায়। শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি বলেন, তারিক সাঈফ মামুন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী কি না বলতে বলতে পারছি না। তবে তিনি ক্যাপ্টেন ইমন গ্রুপের লোক ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ডিসি তালেব বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। আজ সে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিল। সেখান থেকে বের হওয়ার পরেই দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। জানা যায়, নিহত সাঈফ মামুন শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের দ্বন্দ্ব চলছিল। দীর্ঘ ২৪ বছর জেল খাটার পর ২০২৩ সালে তিনি জেল থেকে বের হন। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তেজগাঁও সাত রাস্তায় মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ওই ঘটনায় মামুন আহত হলেও পথচারী ভুবন চন্দ্র শীল নিহত হয়। নিহত মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শহীদ সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।