হকি

ছবি: সংগৃহীত
সিডনি টেস্ট শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন উসমান খাজা

চলমান অ্যাশেজ সিরিজের সিডনি টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার উসমান খাজা। দেড় দশকের ক্যারিয়ারের ইতি টানতে অ্যাশেজের মঞ্চকেই বেছে নিলেন তিনি।   শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এসসিজির সংবাদ সম্মেলন কক্ষে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার তার ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানান।   অজিদের হয়ে ৮৭ ম্যাচে ৬ হাজার ২শ' ৬ রান করেন খাজা। ১৬ সেঞ্চুরির বিপরীতে তার অর্ধশতকের সংখ্যা ২৮টি। যে সিডনিতে শুরু হয়েছিল তার ক্যারিয়ার, সেই প্রিয় মাঠেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষবার অস্ট্রেলিয়ার জার্সি পরবেন তিনি।   দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বর্ণবাদের শিকারও হন তিনি। সেই ক্ষোভ মনে পুষেই ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। সমর্থকরা তার বিরুদ্ধে স্বার্থপরতার অভিযোগ করলেও উসমান খাজার দাবি নিজের জন্য দলে থাকছিলেন না এই ব্যাটার।   খাজার এই বিদায় বেলায় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের (সিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টড গ্রিনবার্গ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গ্রিনবার্গ বলেন, গত দেড় দশকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে খাজার অবদান অপরিসীম। তিনি খাজাকে অন্যতম স্টাইলিস্ট ও সহিষ্ণু ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি মাঠের বাইরে উসমান খাজা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তার সামাজিক কাজেরও প্রশংসা করেন।   উল্লেখ্য, ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আগেই অ্যাশেজ সিরিজ জয় নিশ্চিত করে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। খাজার শেষ ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে একটি যুগের অবসান ঘটাবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।  

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মেসির সফর ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা, রাজ্য সরকারের উদ্দেশে কড়া নির্দেশ রাজ্যপালের

সল্টলেক স্টেডিয়ামের আশপাশে লিওনেল মেসির সফর ঘিরে তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রাজভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিকল্পনার সম্পূর্ণ অভাব ও ব্যবস্থাপনার মারাত্মক ব্যর্থতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঘটনায় তিনি মর্মাহত ও বিস্মিত বলে জানিয়েছেন।   রাজ্যপালের পর্যবেক্ষণে, গোটা ঘটনার জন্য মূলত দায়ী অনুষ্ঠান আয়োজক ও বেসরকারি স্পনসররা। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকাকেও তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি। রাজ্যপালের মতে, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা রাজ্য সরকার, সাধারণ মানুষ এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রীকেও ব্যর্থ করেছে। তার মন্তব্য, ক্রীড়াপ্রেমী কলকাতাবাসীর কাছে এই দিনটি একটি ‘অন্ধকার দিন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।   এই প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে একাধিক কড়া নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল। তার নির্দেশের মধ্যে রয়েছে—অনুষ্ঠান আয়োজক ও স্পনসরদের অবিলম্বে গ্রেফতার, টিকিট কেটে প্রতারিত দর্শকদের টাকা ফেরত, স্টেডিয়াম ও অন্যান্য সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির জন্য আয়োজকদের উপর জরিমানা আরোপ। পাশাপাশি গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত এবং দায়িত্বে গাফিলতি করা পুলিশ আধিকারিকদের সাসপেনশনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।   ভবিষ্যতে বড় জমায়েতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি চালুর কথাও বলেছেন রাজ্যপাল। প্রয়োজনে আরএএফ প্রস্তুত রাখা এবং দর্শকদের জন্য বিমা প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই বিমার প্রিমিয়াম আয়োজক ও স্পনসরদেরই বহন করতে হবে।   রাজ্যপালের অভিযোগ, মেসির নাম ব্যবহার করে কিছু বেসরকারি স্পনসর সাধারণ মানুষের আবেগকে পণ্য করে দ্রুত মুনাফা লুটেছে। এই ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলকে সাহায্য করতে পুলিশকেও ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, করদাতাদের টাকায় তৈরি রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, যা বাংলার ফুটবল-সংস্কৃতির সঙ্গে বেমানান।   উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর রাজভবনে বিপুল অভিযোগ আসার পর রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়। টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মেসিকে দেখার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজ্যপাল। তার বক্তব্য, শুধুমাত্র উচ্চমূল্যের টিকিট কেনা অল্প কিছু মানুষই মেসিকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। ভিড় সামলাতে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক তারকার সফরের সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়।

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমিরুলের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে যুব হকি বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জার ট্রফি জয়ে উড়ল বাংলাদেশ

যুব হকিতে নতুন ইতিহাস রচনা করল বাংলাদেশ। ভারতের মাদুরাইয়ে অনুষ্ঠিত যুব হকি বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জার ট্রফির ফাইনালে ইউরোপীয় দল অস্ট্রিয়াকে ৫–২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের মাহাত্ম্য ছিনিয়ে নেয় লাল-সবুজের তরুণরা। ডিফেন্ডার হয়েও দুর্ধর্ষ গোল করায় আবারও ম্যাচের নায়ক আমিরুল ইসলাম—এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে টুর্নামেন্টজুড়ে নিজের আধিপত্য আরও উজ্জ্বল করলেন তিনি।   গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া আট দলের মধ্যে স্থান নির্ধারণী ম্যাচগুলোকে এ বছর ‘চ্যালেঞ্জার ট্রফি’ নাম দেওয়া হলেও, বাংলাদেশের জন্য এই শিরোপার গুরুত্ব ছিল অনন্য। চ্যালেঞ্জার বিভাগে সেরা দল হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকে অস্ট্রিয়া আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। প্রথম কোয়ার্টারের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুরন্ত হিটে বাংলাদেশকে লিড এনে দেন আমিরুল ইসলাম। এর আগে একই কোয়ার্টারে গোললাইন থেকে নিশ্চিত একটি গোলও ঠেকিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আবারও পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল পায় বাংলাদেশ। হুজায়ফার শট পোস্ট খুঁজে নেয় নিখুঁতভাবে। ২–০ ব্যবধানে এগিয়েই বিরতিতে যায় দল। বিরতির পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। তৃতীয় কোয়ার্টারের চতুর্থ মিনিটে রাকিবুল হাসান রকির ফিল্ড গোলে ব্যবধান বাড়ে ৩–০। কোয়ার্টারের শেষে অস্ট্রিয়া একটি গোল করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল লাল-সবুজের কাছেই। চতুর্থ কোয়ার্টারে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আমিরুল। অস্ট্রিয়া আরও একটি গোল করে ব্যবধান কমালেও শেষ দুই মিনিটে ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে ছয় ম্যাচে পাঁচটি হ্যাটট্রিকসহ ১৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন আমিরুল ইসলাম। ডিফেন্ডার হয়েও তার এ ধারাবাহিক গোল—যুব বিশ্বকাপে এক বিরল কীর্তি। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়েও মূল পর্বে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে স্থান নির্ধারণী পর্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ওমানকে ১৩–০, দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫–৩ এবং শেষ পর্যন্ত অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে চ্যালেঞ্জার ট্রফি নিজেদের করে নেয় তরুণরা।   যুব হকি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এই সাফল্য জাতীয় হকির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তরুণদের এই অর্জন ভবিষ্যতে দেশের হকিতে নতুন স্বপ্ন ও আত্মবিশ্বাসের জোগান দেবে এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
ওমানকে উড়িয়ে ১৩ গোলের দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের

জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২১ দলের স্টার ফরোয়ার্ড আমিরুল ইসলাম। গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পর এবার ১৭ থেকে ২৫তম স্থান নির্ধারণী কোয়ার্টার ফাইনালে ওমানের বিপক্ষে একাই পাঁচ গোল করেছেন তিনি। দলও পেয়েছে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয় দুর্দান্ত ১৩–০ গোলের ব্যবধানে।   মাদুরাই ইন্টারন্যাশনাল হকি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের বন্যা বইয়ে দেয় বাংলাদেশ। আমিরুলের পাঁচ গোল ছাড়াও রাকিবুল হাসান করেন হ্যাটট্রিক, আর জোড়া গোল করেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও মোহাম্মদ সাজু। প্রথম কোয়ার্টারেই ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ, তিনটিই পেনাল্টি কর্নার থেকে আমিরুলের স্টিকে। এরপরও থেমে থাকেনি গোলের ধারা। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে রাকিবুলের জোড়া গোল, তৃতীয় কোয়ার্টারে আবদুল্লাহর গোলের পর আবারও ঝলকালেন আমিরুল—নিজের চতুর্থ গোলটি করে ব্যবধান বাড়ান আরও। একই কোয়ার্টারে ওবায়দুল হাসানের আরেকটি গোল বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড় করায় ৮–০ তে। শেষ কোয়ার্টারে সাজু দুটো, আর আমিরুল, রাকিবুল ও আবদুল্লাহ একটি করে গোল করে ম্যাচশেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১৩–০। প্রথমবারের মতো জুনিয়র বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ওমান পুরো ম্যাচে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। তিনটি পেনাল্টি কর্নার পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ তারা।   অন্যদিকে বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট যাত্রা এখন পর্যন্ত লড়াই-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভরা। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ড্র, অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫–৩ ও ফ্রান্সের কাছে ৩–২ ব্যবধানে হারের পর তৃতীয় হয়ে স্থান নির্ধারণী পর্বে ওঠে তারা। ওমানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। সেরা চারের বাধা পেরোতে পারলে ১৭তম স্থানের লড়াইয়ে উঠবে দলটি।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৪, ২০২৫ 0
ম্যাচের দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের হার দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক

বিশ্বমঞ্চে প্রথমবার নাম লিখিয়েও মাথা নত করে মাঠ ছাড়েনি বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-২১ হকি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে লড়াই করে তিন গোল তুলে নেওয়াই প্রমাণ— ডেবিউ ম্যাচেই নিজেদের জানান দিয়ে গেছে লাল-সবুজের তরুণরা। চেন্নাইয়ে শনিবারের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৫-৩ গোলের ব্যবধানে হারলেও পারফরম্যান্সে কমতি ছিল না আমিরুল ইসলামদের।   ম্যাচের প্রথম মিনিটেই উইল অলিভারের গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তবে ধাক্কা সামলে ওঠে দলটি। ১৪ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে স্কোরলাইন সমান করেন ফরোয়ার্ড আমিরুল ইসলাম। কিন্তু দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ফের চাপে পড়ে তরুণরা। টানা তিন গোল হজম করে বিরতিতে যেতে হয় ৪-১ ব্যবধানে পিছিয়ে। বিরতির পর মাঠে নেমে আবারও লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয় বাংলাদেশ দল। ৪২ মিনিটে আমিরুলের আরেক প্রচেষ্টায় ব্যবধান কমে আসে ৪-২। ম্যাচের শেষ ভাগে অস্ট্রেলিয়া পঞ্চম গোলটি করলেও বাংলাদেশ হাল ছাড়েনি। ৫৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন আমিরুল, ফের ব্যবধানও কমান। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ৫-৩ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। তবু অভিষেক ম্যাচেই তিন গোল— এটা তরুণদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন কোচিং স্টাফ।   আগামীকাল (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ দল।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৯, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
আজ থেকে বাংলাদেশি বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু

ক্রীড়াঙ্গনের মাইলফলকের দিন আজ। হকির যে কোনো বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে নামছে বাংলাদেশ। ‘এফ’ গ্রুপে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লাল-সবুজের যুবাদের স্বপ্নের বিশ্বকাপে অভিষেক হবে। অনূর্ধ্ব-২১ আসরেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হচ্ছে।   আগামীকাল দক্ষিণ কোরিয়া ও ২ ডিসেম্বর ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশি যুবারা। শক্তির বিচারে গ্রুপের তিনটি ম্যাচেই হারার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও, বিশ্বকাপে নাম লেখানোয় এটাই দেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। হকির যেকোনো আসরে প্রথমবার অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এ নিয়ে ক্রীড়ামোদীদের তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। দেশের বাইরে বিশ্বকাপ হওয়ায় অনেকে হয়তো জানেন না যে বাংলাদেশ খেলছে। তবু আলোচনা হোক বা না হোক, সত্য হচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ দল বিশ্বকাপে খেলছে এবং এটি গৌরবের। ভারতের চেন্নাই ও মাদুরাইয়ে এবারের যুব বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা শেষ হবে ১০ ডিসেম্বর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ আজ বিকাল ৪টায়। বাংলাদেশের দল ১৮ নভেম্বর ভারতে পৌঁছে। সেখানে অনুশীলন এবং দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে তারা জোর বাড়িয়েছে। প্রথম ম্যাচে চিলিকে ৩-০ এবং পরের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে। যদিও চিলি ও সুইজারল্যান্ড হকিতে খুব শক্তিশালী দল নয়, জয় পাওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে। অধিনায়ক মেহরাব হোসেন বলেন, ইউরোপের দলের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ আমাদের পারফরম্যান্স ও মনোবলে শক্তি যোগাবে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্ব হকির পরাশক্তি, তবে আমরা আমাদের সেরাটা দিতে চেষ্টা করব। তিনটি ম্যাচই কাছাকাছি সময়ে, তাই সতর্ক থাকতে হবে এবং ইনজুরি এড়িয়ে চলতে হবে। সহকারী কোচ মশিউর রহমান বলেন, তিন প্রতিপক্ষই আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। তবে আমরা সেরাটা প্রদর্শন করতে প্রস্তুত। প্রথম বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই। সবাই সুস্থ এবং কোনো সমস্যা নেই। এখন শুধু মাঠে নামার অপেক্ষা।   গত বছর ওমানের মাসকাটে অনুষ্ঠিত জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে পঞ্চম হওয়ার সুবাদে এই সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াও জুনিয়র দলের পাঁচ খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্লে-অফ ম্যাচ খেলেছেন। তাই বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগে দলের প্রস্তুতি এবং অভিজ্ঞতা ইতোমধ্যেই শক্তিশালী হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৯, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন

নভেম্বর মাস বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যস্ততম সময় নিয়ে এসেছে। ফুটবল, ক্রিকেটের পাশাপাশি হকিতেও চলছে গুরুত্বপূর্ণ আসর। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ সিরিজ খেলতে ইতোমধ্যেই ঢাকায় এসে পৌঁছেছে পাকিস্তান দল। এদিকে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য যুব হকি বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২১ দল। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হলো তাদের বিশ্বকাপ জার্সি।   আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর ভারতের চেন্নাই ও মাদুরাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে যুব হকি বিশ্বকাপ। ২৪ দলের এই বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশ খেলবে ‘এফ’ গ্রুপে, যেখানে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফ্রান্স। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুব হকি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ।   আজ শনিবার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় যুব হকি দলের জার্সি উন্মোচন করেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান, জাতীয় হকি দলের হেড কোচ সিগফ্রিড আইকম্যান, অধিনায়ক মেহরাব হাসান সামিন এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।   সভাপতি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের দল ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দেশের পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরবে। শৃঙ্খলাই সাফল্যের চাবিকাঠি, একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দল সর্বদা জয়লাভ করে। মাঠে প্রতিপক্ষ বড় নয়, বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত লড়বে এবং সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করবে— এইটাই আমার প্রত্যাশা।”   সাধারণ সম্পাদক জানান, আগামী ১৮ নভেম্বর দল ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হবে, এবং বিশ্বকাপ শুরুর আগে চিলি ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে দলটি।   হেড কোচ সিগফ্রিড আইকম্যান বলেন, “খেলোয়াড়দের গতি ও বল নিয়ন্ত্রণে আমরা বিশেষভাবে কাজ করেছি। আধুনিক হকিতে গতি ও দলগত সমন্বয়ের উপরই সাফল্য নির্ভর করে। আমরা সেটির প্রতিফলন মাঠে দেখাতে চাই।”   অধিনায়ক মেহরাব হাসান সামিন বলেন, “আমরা এখন ইউরোপীয় ধারা বুঝতে পারছি। আইকম্যান স্যারের অধীনে খেলার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। আমরা কাউকে ভয় পাই না, তবে প্রতিটি দলকে সম্মান করি।”   এর আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে সিনিয়র দলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ সিরিজ। আগামী ১৩, ১৪ ও ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচগুলো। বিজয়ী দল বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে জায়গা পাবে।   উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পাকিস্তান দল শুক্রবার রাতে ঢাকায় পৌঁছালেও তাদের প্রধান কোচ তাহির জামান আসেননি। দলটি আজ সকালে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে।   বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২১ দলে রয়েছেন সিনিয়র দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা— আমিরুল ইসলাম, হুজায়ফা হোসেন, রাকিবুল ইসলাম, সিয়াম হাসান, শহিদুর রহমান সাজু, ওবায়দুর রহমান জয় ও আব্দুল্লাহ।   বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২১ দলের সদস্যরা: মাহমুদ হাসান, আশরাফুল হক, মেহরাব হোসেন সামিন, রামিন হোসেন, এনাম শরীফ, মুন্না ইসলাম, রাহিদ হাসান, আজিজার রহমান, সাব্বির হোসেন কনক, দ্বীন ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, ইসমাইল হোসেন, আমিরুল ইসলাম, হুজায়ফা হোসেন, ওবায়দুল হোসেন জয়, তানভীর রহমান, রাকিবুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ ও শহিদুর রহমান সাজু।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৯, ২০২৫ 0
Popular post
দেশের বাইরে পড়ার জীবনটা যেমন

দেশের বাইরে মানুষকে পড়তে আসা উচিত কি না—এ নিয়ে ধর্মীয়, সামাজিক, ব্যক্তিগত নানা মত আছে। তবে আমার বিশ্বাস, সুযোগ থাকলে জীবনে একবার হলেও দেশের বাইরে পড়াশোনা করা উচিত। বিদেশে পড়লে একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়, সে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। চাইলে বিদেশে চাকরি করতে পারে, আবার চাইলে দেশে ফিরে অবদান রাখতে পারে—সেটলড হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়। কিন্তু যেটাই করুক, সে যে অভিজ্ঞতা বয়ে নিয়ে যায় সেটা অমূল্য হয়ে থাকে। তার দুনিয়াকে দেখার চোখ অন্যদের থেকে আলাদা হবে।    অনেকেই দেশে হোস্টেলে থেকেছেন, বাবা–মা থেকে দূরে থেকেছেন। কিন্তু বিদেশে এসে যে ধাক্কাটা লাগে, সেটা আলাদা। এখানে সবই একা সামলাতে হয়। অসুস্থ হলে মাথায় নিজেই পানি দিতে হয়। হাজারো চ্যালেঞ্জ, হাজারো স্ট্রাগল—সব একা নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াতে হয়।   দেশে একা থাকা আর বিদেশে একা থাকার তফাৎ এখানেই। দেশে জুতা ছিঁড়লে মুচি আছে, বিদ্যুৎ গেলে মেকানিক আছে, গাড়ি নষ্ট হলে সাহায্য মিলবে, রান্নার জন্য বুয়া পাওয়া যাবে। কিন্তু বিদেশে জুতা সেলাই করতে যে টাকা লাগে, তা দিয়ে নতুন দুই জোড়া কিনে ফেলা যায়। শেফ রাখতে চাইলে তার বেতনই আপনার বেতনের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাও দেশি স্বাদের রান্না নাও আসতে পারে।   এখানে এসে আমি নিজের সাইকেলের চাকা নিজেই ঠিক করেছি ইউটিউব দেখে, জুতা নিজে সেলাই করেছি, গাড়ি নষ্ট হলে নিজে শিখে ঠিক করেছি। রান্না শিখেছি—কারণ বছরের পর বছর নিজের হাতের রান্নাই খেতে হয়। এসব তো কেবল কয়েকটা উদাহরণ; সব বলতে গেলে বই হয়ে যাবে।   কঠিন পড়াশোনা আর গবেষণার পাশাপাশি বেঁচে থাকার প্রয়োজনে আরও শত স্কিল শিখতে হয়। চ্যালেঞ্জ যতই থাকুক, মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে শিখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সহজ হয়ে আসে। আর এসব সংগ্রাম—এসবই মানুষকে শক্তিশালী, সক্ষম ও পরিণত করে তোলে। তাই প্রবাসজীবনে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি আছে অসংখ্য সুযোগ ও ইতিবাচক দিক।   দেশে আমার পরিচিত অসংখ্য বন্ধু–পরিচিত ‘বেকার’। রূপক অর্থে বেকার। অর্থাৎ চাকরি থাকলেও তারা কাজকে অর্থবহ মনে করে না, নিজের কর্মজীবন নিয়ে গর্বিত হতে পারে না। বড় চাকরি, ছোট চাকরি, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই বেশিরভাগ মানুষ সন্তুষ্ট না নিজের কাজ নিয়ে, না নিজের জীবনের মান নিয়ে।   কিন্তু বিদেশে এই বিষয়টা তুলনামূলক কম। এখানে নিজের পছন্দের কাজ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ অসীম—যদি আপনি সেই কাজের স্কিল শিখে নিতে পারেন। ক্যারিয়ারের মাঝপথে হঠাৎ মনে হলে যে আপনি অন্য কিছু করতে চান—এখানে সেটা ভাবার সাহস মানুষ দেখাতে পারে। নিজের জীবন নতুনভাবে গড়া এখানে সম্ভব।   এখানে আপনাকে আপনার কাজ দিয়েই বিচার করা হবে। ব্যক্তিজীবন নিয়ে খুব কমই মানুষ মাথা ঘামায়। রেসিজম আছে ঠিকই—কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার, কাউকে ‘কেনা গোলাম’ ভাবার প্রবণতা এখানে বিরল। আপনি নিজের কাজ ঠিকঠাক করলে কারো কাছে তোষামোদ করতে হবে না। নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করতে হবে না। এই পরিবেশ জীবনকে কম টক্সিক করে তোলে।   বাংলাদেশে তো পাসপোর্ট অফিসের পিয়নকেও ‘স্যার’ বলতে হয় ফাইলটা একটু ভেতরে ঢোকানোর জন্য—যা আমরা শ্রদ্ধা থেকে বলি না, বাধ্য হয়ে বলি।   দেশে–বিদেশে কোথাও প্রতিদিন অসাধারণ লাগবে না। কিন্তু প্রতিদিন অন্তত মনে হওয়া উচিত—আপনি কোনো অর্থবহ কাজে যুক্ত আছেন। যদি সেটা না হয়, তাহলে নিজের কাজ, নিজের স্থান, নিজের পরিবেশ—সবই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।   আপনি যদি নিজের কাজ নিয়ে, নিজের জায়গা নিয়ে, নিজের অবদান নিয়ে গর্ব করতে পারেন—তাহলে দেশে পরিবার–পরিজন নিয়ে জীবন কাটানোই শ্রেয়। আর সময়–সুযোগ পেলে একবার বিদেশে অভিজ্ঞতা নেওয়া যেতে পারে—জব করে, মাস্টার্স বা পিএইচডি করে, কিংবা কিছুদিন ভ্রমণ করে। তবে দয়া করে—ব্যাচেলর/অনার্স লেভেলের পড়াশোনায় সন্তানকে বিদেশে পাঠাবেন না। আর ব্যাংক লোন নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করতে যাবেন না—এটা বাড়াবাড়ি।   লেখক : সাকলাইন মোস্তাক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, যুক্তরাষ্ট্র

প্রতারণা মামলায় মিরপুরের বৈষম্য বিরোধী মামলা বানিজ্যের অন্যতম হোতা লুৎফুল বারী মুকুল গ্রেফতার

  অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে মিরপুরের বৈষম্য বিরোধী মামলা বানিজ্যের অন্যতম হোতা লুৎফুল বারী মুকুলকে।     এক সময় মিরপুরের স্থানীয় বি এন পি-র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও পরবর্তীতে নাসিম ও শাহেদা ওবায়েদের নেতৃত্বাধীন গড়বো বাংলাদেশ ও আসল বি এন পি নামের দুটি সংগঠনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে বি এন পির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান তথা বি এন পি'র বিরুদ্ধে বিষোদগার এবং অপপ্রচারে লিপ্ত হন লুতফুল বারী মুকুল।   হঠাৎ করেই বিগত ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর মুকুল নিজেকে বি এন পি'র নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে।   এক যুগ পূর্বের বি এন পির  সাবেক পদবী ব্যবহার করে তার  তত্বাবধানে চাঁদাবাজি এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে অনেক নিরীহ ব্যবসায়ী ও কর্মজীবিদেরকে বৈষম্য  বিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন এবং মামলা তুলে দিবেন এই মর্মে মোটা অংকের টাকা দাবী করে আসছিলেন।   ইতোপূর্বে মুকুলের জালিয়াতি ও প্রতারনার অনেক অজানা তথ্যও উঠে আসে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেষ্টিগেশন (পি বি আই) এর বিষদ এক তদন্ত রিপোর্টে। মুকুলের মামলা বাণিজ্যের শিকার সাভারের মাছুম তার প্রতি এই জুলুমের বিচার দাবী করেন।   অন্যান্য অভিযোগকারীরা জানান মুকুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে  এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা চলমান।   মিরপুরের ভুক্তভোগী একজন প্রৌড়া বিধবা নারী বলেন, মুকুল ও তার মদদ দাতাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের  নিকট ইতোমধ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আরও তথ্য রয়েছে যে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী ও বি এন পি'র হাই কমান্ডের নেতাদের নিকট মুকুল ও তাকে মদদদেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়াধীন।   অদ্য ধামরাই থানা পুলিশ- অর্থ আত্মসাত, চুরি ও প্রতারণার মামলায়  মুকুলকে মিরপুরের পীরেরবাগের বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে।  

পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার ঝামেলায়? গুগল দিচ্ছে সহজ সমাধান

আজকাল অনলাইন জীবনে অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও ইমেইলের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড রাখা একেবারেই ঝামেলার কাজ। সব পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন, আবার ভুলে গেলে “Forgot Password” ঝামেলাও কম নয়! এই সমস্যার সহজ সমাধান নিয়ে এসেছে গুগল — Google Password Manager। একবার সেটআপ করলেই আপনার পাসওয়ার্ড সবসময় থাকবে আপনার সঙ্গে—নিরাপদে সেভ থাকবে এবং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Auto-fill) বসে যাবে লগইনের সময়।   🔒 Google Password Manager কীভাবে কাজ করে? এই ফিচারটি আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখে। এরপর আপনি কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করতে গেলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড পূরণ করে দেয়। ফলে বারবার টাইপ করার ঝামেলা বা ভুলে যাওয়ার ভয় আর থাকে না।   📱 অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চালু করার সহজ উপায় 1. ফোনের Settings খুলুন 2. নিচে স্ক্রল করে Google অপশনে ট্যাপ করুন 3. Manage your Google Account-এ যান 4. উপরের দিকের Security ট্যাব নির্বাচন করুন 5. নিচে গিয়ে Password Manager-এ ট্যাপ করুন 6. Offer to save passwords অপশনটি On করে দিন এখন থেকে আপনি যখন কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করবেন, গুগল নিজেই জিজ্ঞাসা করবে — “পাসওয়ার্ড সেভ করতে চান?”   💻 কম্পিউটারে (Chrome ব্রাউজারে) চালু করার পদ্ধতি 1. Chrome ব্রাউজার খুলুন 2. উপরের ডান পাশে থাকা তিনটি ডট (⋮) এ ক্লিক করুন 3. Settings নির্বাচন করুন 4. বাম পাশে থাকা Autofill and Passwords মেনুতে ক্লিক করুন 5. Google Password Manager খুলুন 6. Offer to save passwords অপশনটি On করে দিন এখন থেকে গুগল আপনার সব পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখবে এবং যেকোনো ডিভাইসে গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অটো-ফিল হয়ে যাবে।   🧭 সংক্ষেপে ফোনে: Settings → Google → Manage Account → Security → Password Manager → On কম্পিউটারে (Chrome): Settings → Autofill & Passwords → Google Password Manager → Offer to save passwords → On --- 🔐 আর পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার ভয় নয়! গুগল রাখবে আপনার সব পাসওয়ার্ড নিরাপদে, সহজে ও ঝামেলামুক্তভাবে। প্রযুক্তি হোক আরও স্মার্ট, জীবন আরও সহজ।

১৮ বছর ‘‌নিখোঁজ’ থাকার পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে দেখেন বাবা-মা নেই, স্ত্রী অন্যের সংসারে

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলের দুর্বিষহ জীবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর। হারিয়েছেন বাকশক্তিও। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন, আবার কখনো অঝোরে কেঁদে ফেলেন। ভাগ্য বদলের আশায় দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন নরসিংদীর চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে গিয়ে প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা ধরে নেন, হয়তো মারাই গেছেন জাহাঙ্গীর। এভাবে কেটে গেছে দীর্ঘ দেড় যুগ। অবশেষে গত ৭ নভেম্বর দেশে ফিরেছেন তিনি। তবে এতোদিনে বাবা-মা আর নেই, স্ত্রীও এখন অন্যের সংসারে।   জানা গেছে, ৬৬ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর আলম চরদিঘলদী ইউনিয়নের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। পেশায় জেলে ছিলেন। বিশাল মেঘনার বুকে মাছ ধরে জীবিকা চলত তার। সংসারে ছিলেন বাবা-মা, স্ত্রী ও চার সন্তান। দালালের খপ্পরে পড়ে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে রেখে অবৈধ পথে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। প্রবাস জীবনের প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জাহাঙ্গীরের। কিন্তু পরে সব বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন খোঁজ না পেয়ে পরিবার ধরে নেয়, তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই। নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার জানান, গত ২১ অক্টোবর মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নরসিংদী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে কল করেন কাউন্সেলর (লেবার) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম। তিনি জানান, এক বাংলাদেশী সেখানে ক্যাম্পে আটক রয়েছেন। তার কাছে পাসপোর্ট কিংবা আইডি কার্ড, কোনো ডকুমেন্টই নেই। অসুস্থতার কারণে কথা বলতে পারেন না। এতে তার নাম-পরিচয় কিছুই জানা যাচ্ছিল না। হাইকমিশন সম্প্রতি ওই ব্যক্তির ছবি দিয়ে পরিচয় জানতে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকে নিজেদের স্বজন দাবি করে যোগাযোগ করলেও কেউই যথাযথ প্রমাণ দেখাতে পারেননি। একই সময় নরসিংদী সদরের এক ব্যক্তি পোস্টের নিচে মন্তব্য করে জানান, লোকটি চরদিঘলদী ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে পারেন। হাইকমিশন বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের সহায়তায় খুঁজে পাওয়া যায় একটি পরিবারকে। কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই ব্যক্তিই ১৮ বছর আগে মালয়েশিয়া গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জাহাঙ্গীর আলম। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত ভালো নয়- বিষয়টি উপলব্ধি করে প্রয়োজনীয় সব নথি সংগ্রহ করে দ্রুততম সময়ে হাইকমিশনে পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আর্থিক অসচ্ছলতার কথা উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলমকে সরকারি ব্যয়ে দেশে পাঠানোর অনুরোধও জানান তিনি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর গত ৭ নভেম্বর দেশে ফেরেন জাহাঙ্গীর আলম। পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু এরপরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। দেশে এসে দেখেন, বাবা-মাকে হারিয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন পরিবারে ঠাঁই নিয়েছেন তার স্ত্রীও। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলের দুর্বিষহ জীবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর। হারিয়েছেন বাকশক্তিও। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন, আবার কখনো অঝোরে কেঁদে ফেলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে ২০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী দেয়া হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জাহাঙ্গীরের বড় ছেলে আমান উল্লাহ বলেন, আমরা বাবাকে পেয়ে আবেগে আপ্লূত। উনি আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন, এটাই বড় পাওয়া। আমাদের পরিবারের সবাই খুশি। চরদিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসা. সেলিনা আক্তার বলেন, আমাদের পরিষদ থেকে কিছু অর্থ দেয়া হয়েছে। তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে জাহাঙ্গীর আলমের মতো যেন কেউ দেশের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে আমরাও সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করব।   নরসিংদী সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জেনে বা না জেনে কেউই যেন জাহাঙ্গীর আলম বা তার পরিবারের মতো ভুল না করেন। দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। একটি ভুল যেন পরিবারের সারাজীবনের কান্না হয়ে না দাঁড়ায়।

কোর্টে হাজিরা দিতে গিয়েই গুলিতে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন

রাজধানীর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৬) নিহত হয়েছেন। আজ আদালতে তিনি একটি মামলার হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রিপা আক্তার।   সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মামুন লক্ষ্মীপুর সদরের মোবারক কলোনির এস এম ইকবাল হোসেনের ছেলে।   নিহত মামুনের স্ত্রী রিপা আক্তার জানান, আমার স্বামী বিএনপি সমর্থিত একজন কর্মী ও পাশাপাশি ব্যবসা করতো। আজ তার কোর্টে হাজিরা ছিল। আমরা জানতে পারি আমার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে হাসপাতালে এসে আমার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।    এদিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ জানান, আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তাদের হাসপাতালের সামনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। শব্দ শুনে হাসপাতালের মেইন গেটের সামনের এসে ওই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি দেখে সেখান থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। তবে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।   এ দিকে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির খালাতো ভাই হাফিজ জানান, আমার ভাই তারিক সাঈদ মামুন একজন সাধারণ মানুষ। কী কারণে তাকে কে হত্যা করা হলো, আমি জামি না। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কারা তাকে হত্যা করেছে, কী কারণে করেছে আমার জানা নেই।   সিসিটিভি ফুটেছে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনে দুইজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে গুলি করে। পরে তারা নির্দ্বিধায় পালিয়ে যায়।   শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি বলেন, তারিক সাঈফ মামুন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী কি না বলতে বলতে পারছি না। তবে তিনি ক্যাপ্টেন ইমন গ্রুপের লোক ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।   ডিসি তালেব বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। আজ সে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিল। সেখান থেকে বের হওয়ার পরেই দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।   জানা যায়, নিহত সাঈফ মামুন শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের দ্বন্দ্ব চলছিল। দীর্ঘ ২৪ বছর জেল খাটার পর ২০২৩ সালে তিনি জেল থেকে বের হন।   এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তেজগাঁও সাত রাস্তায় মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ওই ঘটনায় মামুন আহত হলেও পথচারী ভুবন চন্দ্র শীল নিহত হয়। নিহত মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শহীদ সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

ঈদুল ফিতরে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0