উত্তেজনা আরও বাড়লে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সব ধরনের স্বার্থ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এক সামরিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা আগে ইউএই জানিয়েছিল, তাদের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে তিনটি সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং একটি সাগরে পড়ে যায়। ইরানের এক সামরিক সূত্র দাবি করেছে, ইউএই খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো উত্তেজনা তাদের জন্য বড় হুমকি হতে পারে। অন্যদিকে ইউএই প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানের সমালোচনা করে বলেন, তারা আবারও আগ্রাসনের পথ বেছে নিয়েছে। বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা নৈতিকভাবে দেউলিয়াত্ব প্রমাণ করে। সূত্র : শাফাক নিউজ
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বিজয় বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন। তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৭টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, অর্থাৎ এখনও ১১টি আসন কম রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও গভর্নর টিভিকেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে দলটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারে এবং পরে অন্য দলের সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করবে। দলটির নেতারা আশা করছেন, ডিএমকে জোটের কিছু দল যেমন কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম ও ভিসিকে—তাদের সমর্থন দিতে পারে। পাশাপাশি পিএমকের পাঁচটি আসন থেকেও সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিজেপির মিত্র এআইএডিএমকের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা কম। এই পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুতে ‘হাং পার্লামেন্ট’ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার গঠন নিয়ে এখন জোর আলোচনা ও দরকষাকষি চলছে। উল্লেখ্য, এটি বিজয়ের প্রথম নির্বাচন। তিনি দারুণ সাফল্য পেয়েছেন। তিনি নিজেও দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন এবং চেন্নাই শহরেও তার দল বড় ধরনের অগ্রগতি করেছে। সূত্র : এনডিটিভি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের তেল স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটি এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক ভুল পদক্ষেপ’কে দায়ী করেছে। ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, তেহরান আগে থেকে ওই স্থাপনায় হামলার কোনো পরিকল্পনা করেনি। তার মতে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র অবৈধভাবে নৌপথ চালুর চেষ্টা করতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি এ বিষয়ে দায় স্বীকার করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি অ্যাডমিরাল আলী আকবর আহমাদিয়ান বলেন, দেশের নিরাপত্তা কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, গভীর সমুদ্রে জটিল সামরিক অভিযান পরিস্থিতির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৩টি ক্রুজ মিসাইল ও ৪টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি খুব বেশি হয়নি। সূত্র : শাফাক নিউজ
ভিক্টরি ডে উপলক্ষে আগামী ৮ ও ৯ মে দুই দিনের জন্য অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, এই সময়ে ইউক্রেন কোনো ধরনের হামলা চালালে তার জবাবে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে। এমনকি কিয়েভে অবস্থানরত সাধারণ মানুষ ও বিদেশি দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপদে সরে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে মস্কো। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তারা পায়নি। তিনি বলেন, ইউক্রেন নিজ উদ্যোগে ৫-৬ মে মধ্যরাত থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবে। এদিকে রাশিয়ার দাবি, গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের সুমি, দোনেৎস্ক ও খারকিভ অঞ্চলের ১০টি নতুন এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘপাল্লার হামলা চালাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কানের কাছে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ঘটনাটি উপকূল থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল দূরে ঘটেছে এবং জাহাজগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের। এদিকে একই সময়ে প্রণালিতে একটি দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি তেল স্থাপনায় হামলায় তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউএই কর্তৃপক্ষ। ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে তিনটি ভূপাতিত করেছে, আর একটি সাগরে পড়ে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এতে সহায়তা করেছে। দিনজুড়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুঁশিয়ারি দেয়, তাদের নিয়ম ভঙ্গ করলে যেকোনো জাহাজকে শক্তি প্রয়োগ করে থামানো হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ রক্ষায় তাদের সেনাদের নতুনভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে প্রণালিতে প্রবেশ থেকে বিরত করেছে। একইসঙ্গে ওই এলাকায় মার্কিন জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে আবারও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা হলে ইরানকে “পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা” হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, এই অভিযানের লক্ষ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে বের করে আনা। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক বিমান, উন্নত ড্রোন প্ল্যাটফর্ম এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা অবস্থান নিয়েছে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি-এর রাজনৈতিক শাখার উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করলে “কঠোর জবাব” দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৩ এপ্রিল ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বন্দর ব্যবহারের ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতি বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল সরবরাহ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বাংলাদেশ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শক্ত জায়গা করে নেওয়া এক রাজনৈতিক স্লোগান ‘খেলা হবে’। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এই ‘খেলা হবে’ স্লোগানই হয়ে উঠেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান হাতিয়ার। বিজেপিকে ঠেকাতে ‘খেলা হবে’ গানও বাঁধা হয়েছিল। আর তাতে শেষপর্যন্ত ধরাশায়ী হতে হয় কোমর বেঁধে মাঠে নামা বিজেপিকে। তবে পাঁচ বছর বাদে উল্টে গেছে পাশার দান। যে স্লোগান এবং গান কাঁপন ধরিয়েছিল বিরোধী শিবিরে, সেটিই এখন ব্যাঙ্গ হয়ে তীরবিদ্ধ করছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসকে। ভোটে বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিজেপির নেতা-সমর্থকেরা উল্টো মমতাকে উপহাস করে বলছেন ‘খেলা শেষ’। তৃণমূলের দুর্গ তছনছ শুধু নয়, পাঁচ বছর আগে ‘খেলা হবে’ গানের রচয়িতা দেবাংশু ভট্টাচার্যের পরাজয়ও মোটামুটি নিশ্চিত। চুঁচুড়ায় তার আসনে জয়ের কাছাকাছি রয়েছেন বিজেপির প্রার্থী সুবীর নাগ। ‘খেলা হবে’ স্লোগানের আদি উৎপত্তি বাংলাদেশে। আওয়ামী লীগ নেতা ও নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান প্রথম ২০১৩ সালে এই স্লোগানটি ব্যবহার করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জে এক সমাবেশে বিএনপি ও জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কারে খেলা শেখান? আমরা তো ছোটবেলার খেলোয়াড়। খেলা হবে!’ এরপরেই আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখে ছড়িয়ে পড়ে এই স্লোগান। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মুখে একাধিকবার শোনা গেছে ‘খেলা হবে’। সীমান্ত পেরিয়ে এই স্লোগান পৌঁছে যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির উদ্দেশে বিভিন্ন সময় এই স্লোগান দিয়ে আলোচিত হন। এরপর ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী সংগীত হিসেবে বেছে নেয় ‘বন্ধু এবার খেলা হবে…’। গানটির লেখক দেবাংশু ভট্টাচার্য। তরুণ দেবাংশু এই গান লিখে রীতিমতো তারকা বনে যান। এর আগে ছিলেন তৃণমূলের একজন সাধারণ সমর্থক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করতেন। তবে ‘খেলা হবে’ গানেই খুলে যায় কপাল। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের সমর্থনে তাঁর লেখা এই গান রাজ্য ও রাজ্যনীতিতে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দায়িত্ব পান তৃণমূলের আইটি সেলের। এই তরুণ তুর্কিকে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তমলুক থেকে প্রার্থীও করা হয়। তবে জিততে পারেননি। সবশেষ এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে চূঁচূড়া থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেয় তৃণমূল। এজন্য দলটি চুঁচুড়ার বর্তমান বিধায়ক অসিত মজুমদারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছিল এবার দেখাবেন ‘আসল খেলা’। তবে গেরুয়া ঝড় পশ্চিমবঙ্গে যে তাণ্ডব চালিয়েছে তাতে উড়ে যেতে বসেছেন ‘খেলা হবে’ গানের স্রষ্টাও। শেষ খবর পর্যন্ত তাকে পেছনে ফেলে ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বিজেপির সুবীর নাগ। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি দেবাংশু ভট্টাচার্যের খেলাও এবার শেষের পথে।
কেরালার ভোটযুদ্ধে এবার যেন একতরফা স্রোত—‘হাতের’ পক্ষে। গণনার শুরু থেকেই এগিয়ে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ, আর তাতেই কার্যত ধসে পড়ছে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী)-এর দীর্ঘদিনের বাম দুর্গ। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরালায় দশ বছর পর সিপিএমকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেস। সব ক'টি বুথ ফেরত সমীক্ষায় এই আভাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে ১৪০ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ৭১—সেই লক্ষ্যে দ্রুত ছুটছে ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। গণনায়ও একাধিক আসনে লিড নিয়ে কংগ্রেস জোট স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—কেরালায় পালাবদল এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। সবচেয়ে বড় ধাক্কা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের শিবিরে। টানা দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার পর এবার তার নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট পিছিয়ে পড়েছে স্পষ্ট ব্যবধানে। গণনা শুরুর আগেই সামাজিক মাধ্যমে তার ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয় সরিয়ে নেওয়া—এই প্রতীকী পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছিল জল্পনা। সেই শঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। বাম ঘাঁটিতে ধস, ফিরছে পুরনো পালাবদল কেরালার রাজনীতির চিরাচরিত ছন্দ—একবার বাম, একবার কংগ্রেস। ২০২১ সালে সেই নিয়ম ভেঙে ইতিহাস গড়েছিল বাম শিবির। কিন্তু এবার ভোটারদের রায় স্পষ্ট—ফিরছে পুরনো সমীকরণ বলে জানিয়েছে এশিয়ান নিউজ বাংলার এক প্রতিবেদনে। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ, কেরল কংগ্রেসের একাধিক গোষ্ঠী ও অন্যান্য শরিকদের নিয়ে ইউডিএফ এবার মাঠে নামলেও, ভোটের ময়দানে তাদের সমন্বিত আক্রমণেই কোণঠাসা হয়েছে বামেরা। জাতীয় রাজনীতিতে ‘রেড অ্যালার্ম’ এই ফল শুধু কেরালার সীমায় আটকে নেই—এটি দেশের বাম রাজনীতির অস্তিত্ব সংকেত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার পর কেরালায়ও যদি পতন ঘটে, তাহলে কার্যত ক্ষমতার মানচিত্র থেকে মুছে যাবে বাম শাসন। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় জনতা পার্টি-র বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনীতির ভারসাম্যেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সব মিলিয়ে, কেরালার ভোটে এবার স্পষ্ট ‘মুড সুইং’। ‘হাতের’ ঝড়ে উড়ে যাচ্ছে বামদুর্গ। আর সেই স্রোতেই দশ বছর পর ক্ষমতায় ফেরার দোরগোড়ায় কংগ্রেস।
দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ থালাপতি বিজয় এবার রাজনীতির ময়দানেও দেখালেন চমকপ্রদ সাফল্য। দীর্ঘদিন অভিনয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার পর প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, বিজয়ের প্রতিষ্ঠিত দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) ১০৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এতে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগম (ডিএমকে) ও অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজগম (এআইএডিএমকে)-সহ অন্যান্য দলকে পেছনে ফেলেছে তার দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমবারের নির্বাচনে এমন ফলাফল নিঃসন্দেহে বড় ধরনের চমক। এই সাফল্য ঘিরে বিজয়ের বাড়িতে এখন উৎসবের আমেজ। তার বাবা এসএ চন্দ্রশেখর ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব শিগগিরই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে পারেন তার ছেলে। পরিবারের সদস্যদের মাঝেও বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। এদিকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনায় রয়েছেন এই অভিনেতা-রাজনীতিক। অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন নিজের জন্মদিনের সকালে তিরুপতির মন্দিরে প্রার্থনা শেষে সরাসরি বিজয়ের বাড়িতে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে—যা ভক্তদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে। বিজয়ের এই অগ্রগতিতে অভিনন্দন জানিয়েছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের বহু তারকা। এর মধ্যে রয়েছেন বিজয় দেবরকোন্ডা, হেমা মালিনী, নানি, টাইগার শ্রফ, কাজল আগরওয়াল, নিখিল সিদ্ধার্থ, অল্লু ভর্গেশ, সিবি সত্যরাজ, বরলক্ষ্মী শরৎকুমার এবং ভেঙ্কট প্রভু। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাকে। নিজের প্রতিক্রিয়ায় বিজয় তামিলনাড়ুর জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের দৃঢ় মতামতের প্রতিফলনই এই ফলাফলে উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে, তারকা থেকে জননেতা হয়ে ওঠার এই যাত্রা নতুন এক বার্তা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই অগ্রগতি ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করতে পারেন কি না তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ইরান থেকে ধেয়ে আসা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ মে) বিকেলের দিকে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনগুলো রুখে দিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই হামলার ফলে দেশটির ফুজাইরাহ আমিরাতে একটি তেলের স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফুজাইরাহ মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হানার পর সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আগুন নেভাতে দ্রুত সিভিল ডিফেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের দল মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে কড়া তৎপরতা চালানো হলেও ইরানের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সূত্র: আলজাজিরা।
সোমবার বিকেলে ইরান থেকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে এর মধ্যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে রুখে দেওয়া সম্ভব হলেও একটির আঘাতে ফুজাইরা তেল শিল্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। সোমবার বিকেল ৪টা ৫৯ মিনিটে আমিরাতের বাসিন্দাদের মোবাইলে প্রথম জরুরি সতর্কতা সংকেত পাঠানো হয়। এর কিছু সময় পর পরিস্থিতি নিরাপদ বলে জানানো হলেও সন্ধ্যা ৭টার দিকে আবারও দ্বিতীয় দফায় মিসাইল হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের 'পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ' রয়েছে। তাদের নৌবাহিনী সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দিচ্ছে। তবে ইরানি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন ফ্রিগেটে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, তাদের কোনো যুদ্ধজাহাজ আক্রান্ত হয়নি। হরমুজ প্রণালীর এই অস্থিরতার মাঝেই আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি অ্যাডনক-এর একটি ট্যাংকার ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। দুটি ড্রোন দিয়ে চালানো ওই হামলায় কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও আরব আমিরাত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ অভিযান 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' আজ থেকে শুরু হয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের আকাশপথে কিছুটা বিধিনিষেধ থাকলেও দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় উচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয় হয়েছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের। এরসঙ্গে দলীয় প্রধান ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও নিজ আসনে হারের পথে আছেন তিনি এবারের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ভবানিপুর থেকে। মাত্র একটি আসনে দাঁড়ানো মমতা সেখানে হারতে চলেছেন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, ভবানিপুরেরর ২০ রাউন্ড ভোগ গণনার মধ্যে ১৯ রাউন্ডের গণনা শেষ হয়েছে। আর ১৯তম রাউন্ড শেষে তিনি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে ৩ হাজার ৮০০ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে আছেন। যদি আরেক রাউন্ডের ফলাফলে বড় চমক দেখাতে না পারেন তাহলে তিনি হেরে যাবেন। এর আগে ২০২১ সালে নন্দিগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হেরেছিলেন মমতা। এরপর ভবানিপুরে উপনির্বাচনে জয় পেয়ে বিধানসভার সদস্য ও পরবর্তীতে টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন। তবে তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয় হওয়ায় এবার তার শাসনামলের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে সোমবার ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা হচ্ছে। একটি আসনে ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা হচ্ছে, তার মধ্যে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২০৮টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। অপরদিকে মাত্র ৭৯টি আসনে জিতেছে তৃণমূল। সূত্র: আনন্দবাজার, এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, দুটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার (যুদ্ধজাহাজ) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে।চ্যানেল এক্স-এ দেওয়া সেন্টকমের এক বিবৃতি বলা হয়েছে, এই ডেস্ট্রয়ারগুলোর সহায়তায় দুইটি মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজও সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যদিও এর আগে ইরান দাবি করেছিল যে তারা মার্কিন জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশে বাধা দিতে ইরান সতর্কতামূলক গুলিও চালিয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র একটি মার্কিন জাহাজে আঘাত হেনেছে। যদিও সেন্টকম এই হামলার তথ্য অস্বীকার করেছে।
সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতাল ও চিকিৎসা কর্মীদের ওপর হামলা ক্রমাগত বৃদ্ধির নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের তিনটি শীর্ষ মানবিক ও স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্বের শীর্ষ তিনটি সংস্থা— ডব্লিউএইচও, আইসিআরসি ও এমএসএফ গতকাল রোববার এ নিন্দা জানায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি ও ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস এক যৌথ বিবৃতিতে এই পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, চিকিৎসাকর্মী ও রোগীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ২,২৮৬ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করার ১০ বছর পর তাদের এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তারা আরও জানায়, এক দশক পরও পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সংস্থাগুলো বলছে, ‘চিকিৎসা অবকাঠামো, পরিবহন ও স্বাস্থ্য কর্মীদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা আরও বেড়েছে।’ তারা আরও জানায়, স্বাস্থ্যসেবা যখন নিরাপদ থাকে না, তখন তা যুদ্ধের মানবিক নিয়ম ভেঙে পড়ার স্পষ্ট সংকেত। তারা বিবৃতিতে জানায়, ‘যখন হাসপাতালগুলো আক্রমণের শিকার হয়, তখন আমরা শুধু একটি মানবিক সংকটের মুখোমুখি হই না, বরং মানবতার এক সংকটেরও মুখোমুখি হই। রাষ্ট্র ও সশস্ত্র সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকেই স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষার নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বিশ্ব নেতাদের এই সহিংসতা বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে এবং প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শনের আহ্বান জানাই। তারা আরও বলেছে, ‘স্বাস্থ্যসেবা কখনোই যুদ্ধের শিকার বা বলি হতে পারে না।’
ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলের সামার দ্বীপে সোমবার দুপুর ২টা ৯ মিনিটে ৬ দশমিক ০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এ তথ্য জানায়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৭৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার (৪৫ মাইল) গভীরে। এটি উপকূলীয় শহর সান জুলিয়ান থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ম্যানিলা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। একজন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পটি ছিল প্রবল ও আকস্মিক। তবে এখন পর্যন্ত এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘পুলিশ স্টেশনে আমাদের ছাদের সঙ্গে যুক্ত একটি বিম ভেঙে গেছে। কিছু আসবাবপত্র নড়তে দেখেছি।’ তিনি আরও জানান, আফটারশকের আশঙ্কায় তিনি ও তার সহকর্মীরা এখন বাইরে অবস্থান করছেন। গত অক্টোবর মাসে পূর্ব মিন্ডানাও দ্বীপে ৭ দশমিক ৪ ও ৬ দশমিক ৭ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে অন্তত আট জন প্রাণ হারান। এর আগে কয়েকদিনের ব্যবধানে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে ৭৬ জন নিহত হন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পে মধ্য ফিলিপাইনের সেবু প্রদেশে ৭২ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করলে, তাদের ওপর হামলা চালানো হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরুদ্ধ জলপথ দিয়ে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়া শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পর, ইরানের সামরিক বাহিনী সোমবার এ হুঁশিয়ারি দেয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেন, ‘যে কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী—বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনী যদি হরমুজ প্রণালীর দিকে এগিয়ে আসে বা এতে প্রবেশ করার চেষ্টা করে, তবে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে ও হামলা চালানো হবে।’ তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীর নিরাপত্তা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যে কোনো পরিস্থিতিতে, যে কোনো নিরাপদ যাতায়াত অবশ্যই আমাদের বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে।’
তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় আহত ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে মারা গেছে। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। বেসরকারি এনটিভি টেলিভিশন জানিয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমিনা আগাওগলু মারা গেছেন। ইস্তাম্বুল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল কাহরামানমারাস প্রদেশের একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর গুলি চালায়। এতে ১০ বছর ও ১১ বছর বয়সী নয় জন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হন। হামলাকারী কিশোর ঘটনাস্থলেই মারা যায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই কিশোর স্কুলে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসে। সে ছিল একজন সাবেক পুলিশ পরিদর্শকের ছেলে। ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে পরে গ্রেফতার করা হয়। এর আগের দিন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সানলিউরফা প্রদেশে পৃথক আরেক ঘটনায় এক সাবেক শিক্ষার্থী তার সাবেক হাই স্কুলে গুলি চালায়। এতে ১৬ জন আহত হন। পরে পুলিশ ঘিরে ফেললে সে আত্মহত্যা করে। এ সব ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান উপ-শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছেন এবং সরকার অস্ত্র মালিকানায় বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
২০২৫ সালে জ্বালানি খাত থেকে মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ রেকর্ডের কাছাকাছি পর্যায়ে ছিল। সোমবার আন্তর্জাতিক জ্বালানী সংস্থা (আইইএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নিঃসরণ কমাতে পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়েক বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি এখন শীর্ষ অগ্রাধিকার। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। গ্লোবাল মিথেন ট্র্যাকার ২০২৬ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জ্বালানি খাতে মিথেন নিঃসরণ রেকর্ডের কাছাকাছি থাকায়, পরীক্ষিত ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বছরে ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব।’ এতে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত গ্যাস রপ্তানি সক্ষমতা থাকা কিছু দেশ ও আমদানিকারক দেশগুলো যদি তাদের গ্যাস ব্যবস্থায় সহজলভ্য মিথেন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করে, তবে খুব দ্রুত প্রায় ১৫ বিলিয়ন ঘনমিটার (বিসিএম) গ্যাস বাজারে আনা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদে এ সব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ১০০ বিসিএম গ্যাস সরবরাহ করা যেতে পারে। পাশাপাশি জরুরি নয়Ñ এমন গ্যাস ফ্লেয়ারিং বন্ধ করলে, আরও ১০০ বিসিএম গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। উপগ্রহ তথ্য ও বিভিন্ন পরিমাপ কার্যক্রমের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের নিঃসরণ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় নিয়েও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের এ পরিকল্পনাকে ‘হস্তক্ষেপ’ উল্লেখ করে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, “হরমুজ প্রণালির নতুন সামুদ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হস্তক্ষেপকে চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে বিবেচনা করা হবে।” আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ। বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস ও জ্বালানি পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। ফলে প্রণালি, আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে শতাধিক জাহাজ। গতকাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজে আটকে পড়া এই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নৌবাহিনীর প্রহরার মাধ্যমে প্রণালি থেকে বের হতে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রকল্পের নাম ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ দিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “বিশ্বের অনেক দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজে আটকা পড়েছে। এসব দেশের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয় এবং তারা আমাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যে আমাদের নৌবাহিনী যেন আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রণালি থেকে বের হতে সহযোগিতা করে।” “আমরা তাদের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যেন নিশ্চিন্তে তাদের গন্তব্য রওনা হতে পারে— তা নিশ্চিত করতে এবং সেসব জাহাজের নিরপেক্ষ-নিরপরাধ ক্রুদের মুক্ত করতে হরমুজ প্রণালিতে শিগগিরই প্রজেক্ট ফ্রিডম প্রকল্প শুরু হচ্ছে।” যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল, অর্থাৎ বাংলাদেশ স্থানীয় সময় সোমবার রাত থেকে হরমুজে ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু হচ্ছে বলে ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এই পোস্ট করার কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা দিয়ে এ পোস্ট দেন এব্রাহিম আজিজি। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি অনলাইন
ভোটের ফলাফলের পালে হাওয়া বইছে বিজেপির। সেভাবে কামড় বসাতে পারেনি তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওবার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, নিশ্চিন্তে থাকুন, আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব, কেউ ভয় পাবেন না। খবর দ্য ওয়ালের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই বার্তা দিচ্ছেন, তখন বিজেপি এগিয়ে ১৯৪টি আসনে এগিয়ে। তৃণমূল ৯১টি আসনে এগিয়ে। এই ব্যবধান নিয়ে মমতা জানান, এটা বিজেপির প্ল্যান। প্রথম দু-তিন রাউন্ড ওদেরগুলো আগে দেখাবে, আমাদেরগুলো পরে দেখাবে। অনেক জায়গায় দু-তিন রাউন্ড কাউন্টিং করার পরে ১০০টি জায়গায় কাউন্টিং বন্ধ করে রয়েছে দিয়েছে। কল্যাণীতে ধরা পড়েছে সাতটি মেশিন, যেখানে কোনও মিল নেই। এটা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে জোর করে করানো হচ্ছে। চারিদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের উপরে অত্যাচার করছে। অফিস ভাঙছে, জোর করে দখল করছে। এসআইআর-এর নাম যে আসন জিততে পারে, সেটা দখল করেছে। এখনও আমরা যে আসনে এগিয়ে আছি, সেটা বলছে না। মিথ্যা খবর খাওয়াচ্ছে। কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে মমতা বলেন, আমি সমস্ত পার্টির কর্মী, কাউন্টিং এজেন্টদের বলব, মন খারাপ করার কোনও কারণ নেই। আমি বলেছি, সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন-চার রাউন্ড কাউন্ট হয়েছে। ১৪-১৮ রাউন্ড কাউন্ট হবে। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ। আপনার কেউ ভয় পাবেন না। নিশ্চিতে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়ব।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপির সরকার গঠন করতে পারে। এই বিধানসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, বিজেপির এগিয়ে থাকা আসনসংখ্যা ১৮২। অন্যদিকে, রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের এগিয়ে থাকা আসনসংখ্যা ১০৯। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য কোনো দলের প্রয়োজন ১৪৮ আসনে জয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যে দাবি করেছেন, এই রাজ্যে তার দল বিজেপিই সরকার গঠন করবে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ৭৭টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল পেয়েছিল ২১৪টি আসন। সোমবার সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়েছে। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। তাই আজ ২৯৩ আসনে ভোট গণনা চলছে। কলকাতাসহ ২৩ জেলায় স্থাপিত ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই ভোট গণনা শুরু হয়। প্রথমে গণনা করা হচ্ছে পোস্টাল ব্যালটের ভোট। এরপর গণনা করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নেওয়া ভোট। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, এএনআই, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।