ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগমনী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ছয়টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এয়ারফিল্ড ও ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন (এফআইআর) সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-১২২ (মাস্কাট-চট্টগ্রাম-ঢাকা) ওমানের মাস্কাট থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বাতিল হওয়া বহির্গমণ ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এর ফ্লাইট বিজি-১৪৭ (ঢাকা-চট্টগ্রাম-দুবাই), যার চট্টগ্রাম থেকে সম্ভাব্য ছাড়ার সময় ছিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট। একই সংস্থার ফ্লাইট বিজি-১৫১ (ঢাকা-চট্টগ্রাম-শারজাহ), যার সম্ভাব্য ছাড়ার সময় ছিল সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-৩৩৩ (ঢাকা-চট্টগ্রাম-দোহা), যা সন্ধ্যা ৫টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম ত্যাগ করার কথা ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে।
আগমনী ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বাতিল হয়েছে- এয়ার আরাবিয়ার ফ্লাইট জি৯-৫২০ (শারজাহ-চট্টগ্রাম), ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস-৩৪৪ (দুবাই-চট্টগ্রাম) এবং সালাম এয়ারের ফ্লাইট ওভি-৪০৩ (মাস্কাট-চট্টগ্রাম)। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে এসব ফ্লাইটের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যাত্রা সম্ভব হয়নি।
জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, উল্লেখিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো বজায় রাখার জন্য স্ব স্ব এয়ারলাইন্সসমূহ কাজ করছে।
দেশের বাইরে মানুষকে পড়তে আসা উচিত কি না—এ নিয়ে ধর্মীয়, সামাজিক, ব্যক্তিগত নানা মত আছে। তবে আমার বিশ্বাস, সুযোগ থাকলে জীবনে একবার হলেও দেশের বাইরে পড়াশোনা করা উচিত। বিদেশে পড়লে একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়, সে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। চাইলে বিদেশে চাকরি করতে পারে, আবার চাইলে দেশে ফিরে অবদান রাখতে পারে—সেটলড হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়। কিন্তু যেটাই করুক, সে যে অভিজ্ঞতা বয়ে নিয়ে যায় সেটা অমূল্য হয়ে থাকে। তার দুনিয়াকে দেখার চোখ অন্যদের থেকে আলাদা হবে। অনেকেই দেশে হোস্টেলে থেকেছেন, বাবা–মা থেকে দূরে থেকেছেন। কিন্তু বিদেশে এসে যে ধাক্কাটা লাগে, সেটা আলাদা। এখানে সবই একা সামলাতে হয়। অসুস্থ হলে মাথায় নিজেই পানি দিতে হয়। হাজারো চ্যালেঞ্জ, হাজারো স্ট্রাগল—সব একা নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াতে হয়। দেশে একা থাকা আর বিদেশে একা থাকার তফাৎ এখানেই। দেশে জুতা ছিঁড়লে মুচি আছে, বিদ্যুৎ গেলে মেকানিক আছে, গাড়ি নষ্ট হলে সাহায্য মিলবে, রান্নার জন্য বুয়া পাওয়া যাবে। কিন্তু বিদেশে জুতা সেলাই করতে যে টাকা লাগে, তা দিয়ে নতুন দুই জোড়া কিনে ফেলা যায়। শেফ রাখতে চাইলে তার বেতনই আপনার বেতনের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাও দেশি স্বাদের রান্না নাও আসতে পারে। এখানে এসে আমি নিজের সাইকেলের চাকা নিজেই ঠিক করেছি ইউটিউব দেখে, জুতা নিজে সেলাই করেছি, গাড়ি নষ্ট হলে নিজে শিখে ঠিক করেছি। রান্না শিখেছি—কারণ বছরের পর বছর নিজের হাতের রান্নাই খেতে হয়। এসব তো কেবল কয়েকটা উদাহরণ; সব বলতে গেলে বই হয়ে যাবে। কঠিন পড়াশোনা আর গবেষণার পাশাপাশি বেঁচে থাকার প্রয়োজনে আরও শত স্কিল শিখতে হয়। চ্যালেঞ্জ যতই থাকুক, মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে শিখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সহজ হয়ে আসে। আর এসব সংগ্রাম—এসবই মানুষকে শক্তিশালী, সক্ষম ও পরিণত করে তোলে। তাই প্রবাসজীবনে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি আছে অসংখ্য সুযোগ ও ইতিবাচক দিক। দেশে আমার পরিচিত অসংখ্য বন্ধু–পরিচিত ‘বেকার’। রূপক অর্থে বেকার। অর্থাৎ চাকরি থাকলেও তারা কাজকে অর্থবহ মনে করে না, নিজের কর্মজীবন নিয়ে গর্বিত হতে পারে না। বড় চাকরি, ছোট চাকরি, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই বেশিরভাগ মানুষ সন্তুষ্ট না নিজের কাজ নিয়ে, না নিজের জীবনের মান নিয়ে। কিন্তু বিদেশে এই বিষয়টা তুলনামূলক কম। এখানে নিজের পছন্দের কাজ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ অসীম—যদি আপনি সেই কাজের স্কিল শিখে নিতে পারেন। ক্যারিয়ারের মাঝপথে হঠাৎ মনে হলে যে আপনি অন্য কিছু করতে চান—এখানে সেটা ভাবার সাহস মানুষ দেখাতে পারে। নিজের জীবন নতুনভাবে গড়া এখানে সম্ভব। এখানে আপনাকে আপনার কাজ দিয়েই বিচার করা হবে। ব্যক্তিজীবন নিয়ে খুব কমই মানুষ মাথা ঘামায়। রেসিজম আছে ঠিকই—কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার, কাউকে ‘কেনা গোলাম’ ভাবার প্রবণতা এখানে বিরল। আপনি নিজের কাজ ঠিকঠাক করলে কারো কাছে তোষামোদ করতে হবে না। নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করতে হবে না। এই পরিবেশ জীবনকে কম টক্সিক করে তোলে। বাংলাদেশে তো পাসপোর্ট অফিসের পিয়নকেও ‘স্যার’ বলতে হয় ফাইলটা একটু ভেতরে ঢোকানোর জন্য—যা আমরা শ্রদ্ধা থেকে বলি না, বাধ্য হয়ে বলি। দেশে–বিদেশে কোথাও প্রতিদিন অসাধারণ লাগবে না। কিন্তু প্রতিদিন অন্তত মনে হওয়া উচিত—আপনি কোনো অর্থবহ কাজে যুক্ত আছেন। যদি সেটা না হয়, তাহলে নিজের কাজ, নিজের স্থান, নিজের পরিবেশ—সবই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আপনি যদি নিজের কাজ নিয়ে, নিজের জায়গা নিয়ে, নিজের অবদান নিয়ে গর্ব করতে পারেন—তাহলে দেশে পরিবার–পরিজন নিয়ে জীবন কাটানোই শ্রেয়। আর সময়–সুযোগ পেলে একবার বিদেশে অভিজ্ঞতা নেওয়া যেতে পারে—জব করে, মাস্টার্স বা পিএইচডি করে, কিংবা কিছুদিন ভ্রমণ করে। তবে দয়া করে—ব্যাচেলর/অনার্স লেভেলের পড়াশোনায় সন্তানকে বিদেশে পাঠাবেন না। আর ব্যাংক লোন নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করতে যাবেন না—এটা বাড়াবাড়ি। লেখক : সাকলাইন মোস্তাক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, যুক্তরাষ্ট্র
অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে মিরপুরের বৈষম্য বিরোধী মামলা বানিজ্যের অন্যতম হোতা লুৎফুল বারী মুকুলকে। এক সময় মিরপুরের স্থানীয় বি এন পি-র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও পরবর্তীতে নাসিম ও শাহেদা ওবায়েদের নেতৃত্বাধীন গড়বো বাংলাদেশ ও আসল বি এন পি নামের দুটি সংগঠনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে বি এন পির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান তথা বি এন পি'র বিরুদ্ধে বিষোদগার এবং অপপ্রচারে লিপ্ত হন লুতফুল বারী মুকুল। হঠাৎ করেই বিগত ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর মুকুল নিজেকে বি এন পি'র নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে। এক যুগ পূর্বের বি এন পির সাবেক পদবী ব্যবহার করে তার তত্বাবধানে চাঁদাবাজি এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে অনেক নিরীহ ব্যবসায়ী ও কর্মজীবিদেরকে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন এবং মামলা তুলে দিবেন এই মর্মে মোটা অংকের টাকা দাবী করে আসছিলেন। ইতোপূর্বে মুকুলের জালিয়াতি ও প্রতারনার অনেক অজানা তথ্যও উঠে আসে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেষ্টিগেশন (পি বি আই) এর বিষদ এক তদন্ত রিপোর্টে। মুকুলের মামলা বাণিজ্যের শিকার সাভারের মাছুম তার প্রতি এই জুলুমের বিচার দাবী করেন। অন্যান্য অভিযোগকারীরা জানান মুকুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা চলমান। মিরপুরের ভুক্তভোগী একজন প্রৌড়া বিধবা নারী বলেন, মুকুল ও তার মদদ দাতাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও র্যাবের নিকট ইতোমধ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আরও তথ্য রয়েছে যে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী ও বি এন পি'র হাই কমান্ডের নেতাদের নিকট মুকুল ও তাকে মদদদেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়াধীন। অদ্য ধামরাই থানা পুলিশ- অর্থ আত্মসাত, চুরি ও প্রতারণার মামলায় মুকুলকে মিরপুরের পীরেরবাগের বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে।
আজকাল অনলাইন জীবনে অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও ইমেইলের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড রাখা একেবারেই ঝামেলার কাজ। সব পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন, আবার ভুলে গেলে “Forgot Password” ঝামেলাও কম নয়! এই সমস্যার সহজ সমাধান নিয়ে এসেছে গুগল — Google Password Manager। একবার সেটআপ করলেই আপনার পাসওয়ার্ড সবসময় থাকবে আপনার সঙ্গে—নিরাপদে সেভ থাকবে এবং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Auto-fill) বসে যাবে লগইনের সময়। 🔒 Google Password Manager কীভাবে কাজ করে? এই ফিচারটি আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখে। এরপর আপনি কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করতে গেলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড পূরণ করে দেয়। ফলে বারবার টাইপ করার ঝামেলা বা ভুলে যাওয়ার ভয় আর থাকে না। 📱 অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চালু করার সহজ উপায় 1. ফোনের Settings খুলুন 2. নিচে স্ক্রল করে Google অপশনে ট্যাপ করুন 3. Manage your Google Account-এ যান 4. উপরের দিকের Security ট্যাব নির্বাচন করুন 5. নিচে গিয়ে Password Manager-এ ট্যাপ করুন 6. Offer to save passwords অপশনটি On করে দিন এখন থেকে আপনি যখন কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করবেন, গুগল নিজেই জিজ্ঞাসা করবে — “পাসওয়ার্ড সেভ করতে চান?” 💻 কম্পিউটারে (Chrome ব্রাউজারে) চালু করার পদ্ধতি 1. Chrome ব্রাউজার খুলুন 2. উপরের ডান পাশে থাকা তিনটি ডট (⋮) এ ক্লিক করুন 3. Settings নির্বাচন করুন 4. বাম পাশে থাকা Autofill and Passwords মেনুতে ক্লিক করুন 5. Google Password Manager খুলুন 6. Offer to save passwords অপশনটি On করে দিন এখন থেকে গুগল আপনার সব পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখবে এবং যেকোনো ডিভাইসে গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অটো-ফিল হয়ে যাবে। 🧭 সংক্ষেপে ফোনে: Settings → Google → Manage Account → Security → Password Manager → On কম্পিউটারে (Chrome): Settings → Autofill & Passwords → Google Password Manager → Offer to save passwords → On --- 🔐 আর পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার ভয় নয়! গুগল রাখবে আপনার সব পাসওয়ার্ড নিরাপদে, সহজে ও ঝামেলামুক্তভাবে। প্রযুক্তি হোক আরও স্মার্ট, জীবন আরও সহজ।
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলের দুর্বিষহ জীবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর। হারিয়েছেন বাকশক্তিও। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন, আবার কখনো অঝোরে কেঁদে ফেলেন। ভাগ্য বদলের আশায় দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন নরসিংদীর চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে গিয়ে প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা ধরে নেন, হয়তো মারাই গেছেন জাহাঙ্গীর। এভাবে কেটে গেছে দীর্ঘ দেড় যুগ। অবশেষে গত ৭ নভেম্বর দেশে ফিরেছেন তিনি। তবে এতোদিনে বাবা-মা আর নেই, স্ত্রীও এখন অন্যের সংসারে। জানা গেছে, ৬৬ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর আলম চরদিঘলদী ইউনিয়নের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। পেশায় জেলে ছিলেন। বিশাল মেঘনার বুকে মাছ ধরে জীবিকা চলত তার। সংসারে ছিলেন বাবা-মা, স্ত্রী ও চার সন্তান। দালালের খপ্পরে পড়ে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে রেখে অবৈধ পথে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। প্রবাস জীবনের প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জাহাঙ্গীরের। কিন্তু পরে সব বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন খোঁজ না পেয়ে পরিবার ধরে নেয়, তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই। নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার জানান, গত ২১ অক্টোবর মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নরসিংদী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে কল করেন কাউন্সেলর (লেবার) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম। তিনি জানান, এক বাংলাদেশী সেখানে ক্যাম্পে আটক রয়েছেন। তার কাছে পাসপোর্ট কিংবা আইডি কার্ড, কোনো ডকুমেন্টই নেই। অসুস্থতার কারণে কথা বলতে পারেন না। এতে তার নাম-পরিচয় কিছুই জানা যাচ্ছিল না। হাইকমিশন সম্প্রতি ওই ব্যক্তির ছবি দিয়ে পরিচয় জানতে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকে নিজেদের স্বজন দাবি করে যোগাযোগ করলেও কেউই যথাযথ প্রমাণ দেখাতে পারেননি। একই সময় নরসিংদী সদরের এক ব্যক্তি পোস্টের নিচে মন্তব্য করে জানান, লোকটি চরদিঘলদী ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে পারেন। হাইকমিশন বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের সহায়তায় খুঁজে পাওয়া যায় একটি পরিবারকে। কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই ব্যক্তিই ১৮ বছর আগে মালয়েশিয়া গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জাহাঙ্গীর আলম। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত ভালো নয়- বিষয়টি উপলব্ধি করে প্রয়োজনীয় সব নথি সংগ্রহ করে দ্রুততম সময়ে হাইকমিশনে পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আর্থিক অসচ্ছলতার কথা উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলমকে সরকারি ব্যয়ে দেশে পাঠানোর অনুরোধও জানান তিনি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর গত ৭ নভেম্বর দেশে ফেরেন জাহাঙ্গীর আলম। পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু এরপরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। দেশে এসে দেখেন, বাবা-মাকে হারিয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন পরিবারে ঠাঁই নিয়েছেন তার স্ত্রীও। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলের দুর্বিষহ জীবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর। হারিয়েছেন বাকশক্তিও। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন, আবার কখনো অঝোরে কেঁদে ফেলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে ২০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী দেয়া হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জাহাঙ্গীরের বড় ছেলে আমান উল্লাহ বলেন, আমরা বাবাকে পেয়ে আবেগে আপ্লূত। উনি আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন, এটাই বড় পাওয়া। আমাদের পরিবারের সবাই খুশি। চরদিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসা. সেলিনা আক্তার বলেন, আমাদের পরিষদ থেকে কিছু অর্থ দেয়া হয়েছে। তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে জাহাঙ্গীর আলমের মতো যেন কেউ দেশের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে আমরাও সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করব। নরসিংদী সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জেনে বা না জেনে কেউই যেন জাহাঙ্গীর আলম বা তার পরিবারের মতো ভুল না করেন। দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। একটি ভুল যেন পরিবারের সারাজীবনের কান্না হয়ে না দাঁড়ায়।
রাজধানীর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৬) নিহত হয়েছেন। আজ আদালতে তিনি একটি মামলার হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রিপা আক্তার। সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মামুন লক্ষ্মীপুর সদরের মোবারক কলোনির এস এম ইকবাল হোসেনের ছেলে। নিহত মামুনের স্ত্রী রিপা আক্তার জানান, আমার স্বামী বিএনপি সমর্থিত একজন কর্মী ও পাশাপাশি ব্যবসা করতো। আজ তার কোর্টে হাজিরা ছিল। আমরা জানতে পারি আমার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে হাসপাতালে এসে আমার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। এদিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ জানান, আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তাদের হাসপাতালের সামনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। শব্দ শুনে হাসপাতালের মেইন গেটের সামনের এসে ওই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি দেখে সেখান থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। তবে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। এ দিকে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির খালাতো ভাই হাফিজ জানান, আমার ভাই তারিক সাঈদ মামুন একজন সাধারণ মানুষ। কী কারণে তাকে কে হত্যা করা হলো, আমি জামি না। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কারা তাকে হত্যা করেছে, কী কারণে করেছে আমার জানা নেই। সিসিটিভি ফুটেছে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনে দুইজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে গুলি করে। পরে তারা নির্দ্বিধায় পালিয়ে যায়। শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি বলেন, তারিক সাঈফ মামুন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী কি না বলতে বলতে পারছি না। তবে তিনি ক্যাপ্টেন ইমন গ্রুপের লোক ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ডিসি তালেব বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। আজ সে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিল। সেখান থেকে বের হওয়ার পরেই দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। জানা যায়, নিহত সাঈফ মামুন শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের দ্বন্দ্ব চলছিল। দীর্ঘ ২৪ বছর জেল খাটার পর ২০২৩ সালে তিনি জেল থেকে বের হন। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তেজগাঁও সাত রাস্তায় মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ওই ঘটনায় মামুন আহত হলেও পথচারী ভুবন চন্দ্র শীল নিহত হয়। নিহত মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শহীদ সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর সিটি কর্পোরেশন, ব্যবসায়ী ও হকারদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে পরিকল্পিত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর রোডে নিউমার্কেট এলাকায় ডিএসসিসি’র নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত আধুনিক ফুটওভার ব্রিজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে ডিএসসিসি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছে।’ তিনি রমজান মাসে ক্রেতাদের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয় এবং মার্কেট এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘নিউমার্কেট এলাকা অত্যন্ত জনাকীর্ণ হওয়ায় এই ফুটওভার ব্রিজটি জনসাধারণের যাতায়াতের ভোগান্তি বহুলাংশে লাঘব করবে। তবে জনস্বার্থে নির্মিত এই ব্রিজে কোনো অবস্থাতেই অবৈধ হকার বা দোকান বসতে দেওয়া হবে না।’ তিনি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ কোটি ৭৭ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন এই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড (ডিইডব্লিউ)। ৪২ মিটার দীর্ঘ এবং ২০ ফুট প্রশস্ত এই ব্রিজে বৃদ্ধ ও শিশুদের সুবিধার্থে চলন্ত সিঁড়ি (এস্কালেটর) যুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটির ফুটওভার ব্রিজগুলোর মধ্যে বর্তমানে একমাত্র এই ব্রিজটিতেই এস্কালেটর সুবিধা বিদ্যমান। এছাড়া দুই পাশে সাধারণ সিঁড়ির পাশাপাশি ক্রেতাদের সুবিধার্থে ব্রিজের সাথে সরাসরি নূর ম্যানশন ও নিউ সুপার মার্কেটের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে মোট ৩১টি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। এছাড়া মগবাজার এলাকায় আরও একটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলমান এবং পরিবাগ, সায়েন্সল্যাব ও শাহবাগসহ ৭টি ব্রিজ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আধুনিক ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহারের ফলে নিউমার্কেট এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন হবে বলে আশা প্রকাশ করছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানে মার্কিন-ইসরাইল হামলার প্রেক্ষিতে পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিমান চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে। এরইমধ্যে ঢাকা থেকে অপারেশন চালানো এয়ারলাইন্স ও যাত্রীদের ৪টি নির্দেশনা দিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এয়ারলাইন্সগুলোর উদ্দেশ্যে বলেছে, সাম্প্রতিক নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে ইরানে ইসরায়েলি হামলার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাহরাইন, কুয়েত, দুবাই ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট রুটসমূহে নির্ধারিত কয়েকটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব অথবা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সব সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করেছে। ১. ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব-সংক্রান্ত তথ্য যাত্রীদের এসএমএস, ই-মেইল ও কল সেন্টারের মাধ্যমে অগ্রিমভাবে অবহিত করতে হবে। ২. সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের স্টাফদের বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান ও দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. পুনর্নির্ধারিত ফ্লাইট সংক্রান্ত স্পষ্ট ও সমন্বিত তথ্য প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি পরিহার করা যায়। এর বাইরে যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, আলোচিত রুটসমূহে ভ্রমণের পরিকল্পনায় থাকা যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্স অফিস বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করে ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানান, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত যাত্রী নিরাপত্তা ও অপারেশনাল স্বাভাবিকতা নিশ্চিতকল্পে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।
ঈদযাত্রা স্বস্তির ও নিরাপদ হবে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে ঈদযাত্রা স্বস্তির ও নিরাপদ হবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএর নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শনে এসে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। নদীপথে দূষণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইন প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, লাইটার জাহাজে গমসহ প্রয়োজনীয় পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খালাস না করে মজুত রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে কিছু প্রমাণ মিলেছে এবং ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। এ সময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, নৌপরিবহন সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।