অর্থনীতি

ছবি : সংগৃহীত
ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানো হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।  আজ শনিবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত (রেশিও) অনেক কম, যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোতে তা তুলনামূলক বেশি। দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম হওয়ায় রাজস্ব আদায়ের বড় অংশই সরকারের নিয়মিত ব্যয় মেটাতে চলে যায়, ফলে উন্নয়ন খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অর্থমন্ত্রী ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর কথা বলেছেন, ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানোর নয়। মতবিনিময় সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অংশ নেন। সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজানে বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। রমজানের শুরুতে দু-একদিন লেবুসহ কয়েকটি পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তবে এখন তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি আরও জানান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ- পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে মুক্তবাণিজ্য (ফ্রি ট্রেড) চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।  তিনি বলেন, আসন্ন ঈদের আগেই শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে।  মতবিনিময় সভা শেষে বাণিজ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং পানিসম্পদ মন্ত্রীগণ নদীভাঙনকবলিত সুরমা ও চেঙ্গেরখাল নদী এলাকা পরিদর্শন করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে : এ এইচ এম আহসান

 বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান বলেছেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের কার্যকর উদ্যোগের ফলে এ বছর রমজানে বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে লক্ষণীয় স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। আজ শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। এ এইচ এম আহসান বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় যোগান ও চাহিদার সঠিক সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।  তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবহার ও বণ্টন বিষয়ে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় কমে যায়, যা পণ্যের দামে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।’ বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং নবনির্বাচিত সরকার সকল স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও বাজার ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু থাকার কোনো বিকল্প নেই, যা গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে যা আরও সহজতর হবে। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলে, রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন সম্ভব হবে, যা আইন ও নীতি বহির্ভূত কার্যক্রম হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এ বিষয়ে দ্রুততার সাথে কিছু সংস্কার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে, যার মাধ্যমে দৃশ্যমান পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে এবং জনগণের মাঝে আশার সঞ্চার হবে বলে তিনি অভিমত দেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি অধিশাখা) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, সার্বিক উন্নয়নের জন্য উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইপিও নীতি ২০২৫-২৮ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ব্যবসা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমকে আরও সহজ করবে। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, গত কয়েক বছরে বেসরকারি খাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এর কারণ হিসেবে তিনি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, আইন-শৃঙ্খলার অপ্রত্যাশিত অবনতি, চাঁদাবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নব-নির্বাচিত সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজীকরণে উদ্যোগী হবে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও অনুমেয় পরিবেশ নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি খাত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নীতিনির্ধারক ও অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয় বা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, দেশে উৎপাদিত আলুতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে এর মান নষ্ট হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ বিদেশে আলু রপ্তানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  তিনি কৃষক, উদ্যোক্তা ও সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ যানজট হ্রাসে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে দোকান বসানো থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান এবং বিশেষ করে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ হতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন। মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ী হাজি আবুল হাশেম বলেন, যানজট ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ব্যবসায়ীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকারকে এসব সমস্যা সমাধানে শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। তিনি সহনীয় ভ্যাট ও করনীতির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন, যাতে ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কার্যক্রম চালাতে পারেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মো. গোলাম মওলা, বাংলাদেশ ক্রোকারিজ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনে সভাপতি হাজি মো. মনির হোসেন, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মোহাম্মদ আলী ভূট্টো, ঢাকা চেম্বারের সাবেক ঊর্ধ্বত সহ-সভাপতি এম এস সেকিল চৌধুরী এবং নাহার কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম খান বক্তব্য রাখেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি : সংগৃহীত
ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। ঈদের আগে যেন কোনো শ্রমিক বকেয়া না থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় কম। ফলে রাজস্ব দিয়ে মূলত পরিচালন ব্যয়ই মেটানো সম্ভব হয়, উন্নয়ন ব্যয়ে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। এ কারণেই ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও ফ্রি ট্রেড চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। রমজানের বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। দু-একটি পণ্যের দাম সাময়িক বাড়লেও এখন তা স্বাভাবিক হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রীরা সুরমা ও চেঙ্গার নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পোশাক শিল্পখাত থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বিজিএমই’র সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোশাক শিল্পখাত থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সম্মানে আজ এক সংবর্ধনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবের গলফ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র অফিস বেয়ারারগণ, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যগণ, সাধারণ সদস্যবৃন্দ, দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সংসদ সদস্যদের উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পোশাক শিল্প পরিবারের সদস্যদের এই বিজয় সমগ্র খাতের বিজয়।  তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংসদ সদস্যরা যখন মহান সংসদে নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলবেন, তখন এর সাথে সাথে তারা শিল্প নিয়েও কথা বলবেন। পোশাকখাতের উদ্যোক্তাদের নিরন্তর সংগ্রামের কথা তুলে ধরবেন। নবনির্বাচিত সাংসদগণ জাতীয় সংসদে পোশাক শিল্পের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।  তিনি আরো আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সাংসদগণ রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, এবং ব্যবসা সহজীকরণ ও ব্যবসার পরিচালনা ব্যয় কমানো এবং সর্বোপরি অর্থনীতির স্বার্থে ন্যায়সঙ্গত সমাধান দেবেন। অনুষ্ঠানে সাংসদদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান, এমপি। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় পোশাক শিল্পের বিকাশ শুরু হয়। পোশাক শিল্প যেন আরো এগিয়ে যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি যেন আরো শক্তিশালী হয়। সেজন্য পোশাকখাত থেকে নির্বাচিত সাংসদগণ সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ’র ১ম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নবনির্বাচিত এমপিদের অভিজ্ঞতা জাতীয় সংসদে শিল্প ও বাণিজ্যবান্ধব নীতি প্রণয়নে সহায়ক হবে। উল্লেখ্য, পোশাক শিল্প পরিবার থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ১৬ জন সংসদ সদস্য হলেন— আহম্মদ সোহেল মনজুর (পিরোজপুর- ২), মো. লুৎফর রহমান (টাঙ্গাইল-৪),  মোহাম্মদ জাকির হোসেন (ময়মনসিংহ-৫), মো, শরীফুল আলম (কিশোরগঞ্জ-৬), আফরোজা খানম (মানিকগঞ্জ-৩), মো. আব্দুল্লাহ (মুন্সীগঞ্জ-১), শামা ওবায়েদ ইসলাম (ফরিদপুর-২), খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর (সিলেট-১), এস. এম. ফয়সল (হবিগঞ্জ-৪), মো. খালেদ হোসেন মাহবুব (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩), জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা-৮), মো. আবুল কালাম (কুমিল্লা - ৯), মো. আবদুল হান্নান (চাঁদপুর-৪), জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২), মো. শাহাদাত হোসেন (লক্ষ্মীপুর-১), এবং এরশাদ উল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮)।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবি পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবি পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও বর্তমানে বাজারে জিনিসপত্রের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজারে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দোকান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, ভৈরব বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম এখন স্বাভাবিক রয়েছে। পুরো রমজানজুড়ে বাজার নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। অসাধু ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াতে পারবে না।  তিনি আরও বলেন, কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এ সময় ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ, ভৈরব পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাসিমা বেগম এবং ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
কর্মকর্তাদের বৈঠকে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগে সহযোগিতা করা হবে

সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। আর এজন্য রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান যোগদানের পর এমন তথ্য জানিয়েছেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদান করেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান ডেপুটি গভর্নর ও প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। সাংবাদিকরা তার বক্তব্য চাইলে গভর্নর বলেন, ‘আগে কাজ, পরে কথা।’ এরপর তিনি ওপরে গিয়ে প্রথমে ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে তিনি সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে যান। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র জানান, অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী করতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সুদহার কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পূর্ববর্তী গভর্নরের খাতের কিনারা থেকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি সেই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে কাজ করবেন বলে জানান। বিশেষ করে গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে নীতি সহায়তা, প্রয়োজনীয় প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং খাতে সমন্বয় জোরদার করার কথা বলেন। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আরিফ হোসেন খান বলেন, সভায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর। একই সঙ্গে বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এমন উচ্চ সুদের হারের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। মুখপাত্র বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিয়ম-ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন করা হবে বলে গভর্নর জানান। কাজের গতি বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো কথা বলেন তিনি।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ল

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। দুর্বল মার্কিন ডলার ও নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ঘিরে উদ্বেগ বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় ০৬টা ৩৯ পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৯৫ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার স্বর্ণ তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২১৩ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।   ওসিবিসির কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওয়ং বলেন, নতুন শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ এবং দুর্বল ডলারের কারণে বাজারে দামের পুনর্মূল্যায়ন চলছে। তিনি জানান, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ডলারের ওঠানামা, শুল্ক সংক্রান্ত চমক এবং ফেডের নীতিগত অনিশ্চয়তা এসব কারণে আপাতত দুইমুখী প্রবণতা থাকতে পারে।   চিপ নির্মাতা কোম্পানি এনভিডিয়ার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ালেও, আমদানি পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্কের বিস্তারিত ঘোষণার অপেক্ষায় বাজার সতর্ক রয়েছে। দুর্বল ডলার অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-নির্ধারিত স্বর্ণকে তুলনামূলক সস্তা করে তোলে।   মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, নতুন আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্কের পরিবর্তে কিছু দেশের ক্ষেত্রে হার ১৫ শতাংশ বা তার বেশি হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।   রয়টার্স জানিয়েছে, বাজারের ধারণা, চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভ তিন দফায় ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদহার কমাতে পারে। এদিন প্রকাশিত হতে যাওয়া সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদনসংক্রান্ত তথ্য থেকে বিনিয়োগকারীরা ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিপথ সম্পর্কে আরও ইঙ্গিত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।   এদিকে জেনেভায় বৃহস্পতিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিরসন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এড়াতে এ বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।   অন্যদিকে ডয়েচে ব্যাংক জানিয়েছে, সোনার তুলনায় রুপা ও অন্যান্য ‘হোয়াইট মেটালের’ দরবৃদ্ধি আবারও গতি পেয়েছে। ব্যাংকটি বছরের শেষে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। যা গোল্ড-সিলভার অনুপাত ৬০-এর ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।   স্পট সিলভারের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৯ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি আগের সেশনে তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। প্লাটিনাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩০৫ দশমিক ২০ ডলার হয়েছে। আর প্যালাডিয়াম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৯৩ দশমিক ৮৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে। আগের সেশনে এ দুটি ধাতুও তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ব্যাংকের নবাগত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
ব্যাংকিং খাত নিয়ে পরিকল্পনা ও প্রধান লক্ষ্য জানালেন নতুন গভর্নর

ব্যাংকিং খাতে ‘আস্থা বাড়ানোকে’ প্রধান কাজ ধরে নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরু দায়িত্ব শুরু করতে চান নবাগত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে সুদের হার কমিয়ে আনার চেষ্টাও তার অগ্রাধিকারে থাকবে বলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন দায়িত্ব পাওয়া এই উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মোস্তাকুরকে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নতুন গভর্নরের দায়িত্ব দিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গভর্নর হওয়া আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। গভর্নর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, অর্থনীতির অবস্থা, ব্যাংকিং খাতের অবস্থা। তাই এই সময়টায় এই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করাতে ‘একটা চ্যালেঞ্জ আছে’। তিনি আরও বলেন, ইনশাল্লাহ, আগে ব্যাংকে বসি। সবার সাথে আলোচনা করি। আশা করি সবার সহযোগিতা নিয়ে প্রধান কাজটা হবে, আগে ‘ট্রাস্ট বিল্ডিং’ ব্যাংকিং খাতে। শৃঙ্খলা আরও ফিরিয়ে নিয়ে আসা। নিশ্চয়ই আগের গভর্নর (আহসান এইচ মনসুর) অনেকখানি নিয়ে আসছে, আরও নিয়ে আসা। তার ভাষ্য, আরেকটা হচ্ছে আমাদের যেটা প্রধান থাকবে যে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য করে আমাদের অর্থনীতিকে যতটুকু রান করা যায়। যে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে আসছে, তাই না? তো, এর জন্য চেষ্টা করা, সুদের হারকে কমিয়ে নিয়ে আসা। এই কাজগুলো করা। নতুন গভর্নর হিসেবে তার করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাকুর রহমান বলেন, আমাদের আগে কাজ করতে হবে। মানে আমরা কথা বলে ফেললাম, কাজ করতে পারলাম না–এ রকম যাতে না হয়। আগে কাজ করি, সবার সহযোগিতা চাই। বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম কোনো পোশাক খাতের ব্যবসায়ী গভর্নর মোস্তাকুর রহমান একসময় পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউস এবং আবাসন ব্যবসায়ও যুক্ত ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ ও আমলার বাইরে এই প্রথম একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নরের দায়িত্ব দেওয়া হলো, যা এ খাত-সংশ্লিষ্ট অনেককে বিস্মিত করেছে। চার বছর মেয়াদে তাকে গভর্নরের দায়িত্ব দিয়ে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৪ অগাস্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তার নেতৃত্বে শুরু হয় ব্যাংক খাতের সংস্কারের কাজ। দেড় বছরের মাথায় তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বুধবার আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সেখানে তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার গার্মেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে ১৯৯১ সালে ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) থেকে তিনি এফসিএমএ করেন মোস্তাকুর। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি করপোরেট ফিন্যান্স, রপ্তানি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকায় তার জন্ম; বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে। তার বড় ভাই মো. মোস্তাফিজুর রহমান মামুন ছিলেন থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি। সূত্র : বিডি নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
২০২৫ সালে এইচএসবিসির নিট আয় কমেছে ১.৮ বিলিয়ন ডলার

কাঠামো সহজ করা ও ব্যয় কমাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় ২০২৫ সালে এইচএসবিসির নিট আয় কমেছে। ব্যাংকটির নিট আয় ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে বর্তমানে ২১.১ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। হংকং থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছর শেয়ারহোল্ডারদের অনুকূলে মুনাফা ছিল ২১.১ বিলিয়ন ডলার। যদিও আগের বছর তা ছিল ২২.৯ বিলিয়ন। হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া নথিতে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়া কর-পূর্ব মুনাফা ২.৪ বিলিয়ন ডলার কমে ২৯.৯ বিলিয়নে নেমে এসেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো এখনো বিকাশমান: বাণিজ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো এখনো বিকাশমান বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।  এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর জবাবে তিনি নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। এই শুল্ক এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে তা নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়টি আসলে এখনো বিকাশমান। যেটাকে আমরা ইংলিশে বলি ইভলভিং সিনারিও। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত আগের ধার্যকৃত ট্যারিফ মেইনটেবল না ঘোষণা করেছে। এরপর তারা সব দেশের জন্য প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুধু ঘোষণা শুনছি, কিন্তু সরকারি পর্যায়ে লিখিত কিছু পাইনি। আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের আইন অনুযায়ী ১২২ আইনি ব্যাখায় যা আছে, সেটা ১৫০ দিনের মধ্যে তাদের ইউএস কংগ্রেসে অনুমোদিত হতে হবে। আর বাদ বাঁকি যা, টিভিতে আমরা দেখছি। সরকারি কোন কাগজপত্র আসেনি। ফলে সিনারিওটা আবারো আমি বলবো ইভলভিং। মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সেটির ব্যাপারেও এখনো বলার মতো কোন অবস্থা তৈরী হয়নি। আমরা দেখছি, এর পক্ষে-বিপক্ষে কি আছে। একটি চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দিকই থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি। এরপর করণীয় ঠিক করবো। ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়গুলো গোপন ও সেটা তড়িঘড়ি করে করেছে কিনা’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট ছিল, সেটা চুক্তির আলোচনার সময়। তবে এ চুক্তিটা একটি সেনসিটিভ ইস্যু ছিল। যাদের সঙ্গে চুক্তি, দেশটাও আমাদের জন্য অনেক সেনসেটিভ। বিভিন্ন কারণেই এই বিকাশমান পরিস্থিতিতে কোন অনাকাঙ্খিত মন্তব্য করা ঠিক হবেনা।’   এদিকে শুল্ক ও চুক্তি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডেকেছি, চুক্তিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন সেক্টরের কি সমস্যা, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য আমদানি তদারকি করে, সেসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বাজারে। তবে কিছু পণ্য একসঙ্গে অনেকে কেনার কারণে দাম বেড়ে গেছে, সেগুলো সবজি জাতীয়। তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে অনেকে একসঙ্গে একমাসের বাজার করেন। বিক্রেতারাও পরিস্থিতির ও শূণ্যতার সুযোগ নেয়। ৪০ থেকে ৫০ টাকার লেবু ১২০ টাকা হয়ে গেছে। এরপর কিন্তু ঠিকই আবারও আগের দামে ফিরে এসেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানো হবে : চীনা রাষ্ট্রদূত

বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আজ দুপুরে সচিবালয়ে তার অফিসকক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাক্ষাতকালে এ কথা জানান।  চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আরো বেশি হারে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই।’  তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার ও অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। মন্ত্রী অদূর ভবিষ্যতে এ বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়াতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছে। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। তাই তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান।  এ সময় মন্ত্রী জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল এ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম এন্ড সাইবার ফ্রড’ জোটে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ করেন এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানান।  মন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে ‘প্লান অব এ্যাকশন অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেইনিং কো-অপারেশন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় এটি পুনরায় রিভিউ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। মন্ত্রী এ সময় তার সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। বৈঠকে দু'দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি মন্ত্রীকে চীন সরকারের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।  বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে চীনের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বৈঠক করেছেন। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার ও অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগকারী দেশ। ভবিষ্যতে এদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়াতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বলেন, আমাদের ৬টি সার কারখানা রয়েছে। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বিঘ্নিত হয়। এলএনজি আমদানি করে সার কারখানা চালু করতে পারে এমন বিনিয়োগকারী খোঁজ করছি আমরা। উৎপাদিত সার সরকার কিনে নেবে। একই সাথে বাংলাদেশের বন্ধ পাট কলগুলোতেও চীনের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহবান জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, ই লার্নিং সেন্টার স্থাপন ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি উন্নয়নে চীন বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে। এর মাধ্যমে দুদেশের রিলেশনশিপ আরো শক্তিশালী ভিত্তি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। চীনের রাষ্ট্রদূত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ ম্যান্ডেট নিয়ে বিজয়ী হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়িয়ে জব ক্রিয়েশনে চীন ভূমিকা রাখতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের আমলে প্রথম বিনিয়োগ আনবে চীন। আগামী ৫ বছর বিএনপি সরকারের হাত ধরেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলেও প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।  এসময় রাষ্ট্রদূত বাণিজ্যমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রপ্তানি মো. আবদুর রহিম খান এবং অতিরিক্ত সচিব এফটিএ আয়েশা আক্তার এসময় উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছেন। আজ সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠককালে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক যাতে ভবিষ্যতে আরো দৃঢ় হয় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে। আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমরা ব্যবসা ও বিনিয়োগকে সহজীকরণ করতে চাই। বিগত ৩ বছর অর্থনীতি স্থবির ছিল, বিনিয়োগ তেমন আসেনি। আমাদের দেশে প্রতিবছর ২০ লাখ লোক কর্মে প্রবেশ করে, এই দেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে চাই। আগামী সময়ে সেটি আপনারা দেখতে পাবেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক আরো বেগবান করতে চায়। নন ট্যারিফ বাধাগুলো অপসারণে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। একই সাথে তিনি বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ইউরোপীয় দেশসমূহের অংশীদারিত্ব বজায় থাকবে। এ সময় তিনি দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা বাণিজ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো, আবদুর রহিম খান ও আয়েশা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিসটিয়াগা, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান ব্রিক্স মুলার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ফ্রেডরিক ইনজা, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক, ইতালির রাষ্ট্রদূত এন্তোনিও আলসান্দ্রে, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেড এডভাইজর আবু সাঈদ বেলাল উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হলেন মো. মোস্তাকুর রহমান। আজ বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে ৪ (চার) বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। মো. মোস্তাকুর রহমান গভর্নর পদে নিয়োজিত থাকাকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত মোতাবেক বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক হতে গ্রহণ করবেন। এ নিয়োগের অন্যান্য বিষয় চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।   মোস্তাকুর রহমান একজন হিসাববিদ। একই সঙ্গে একটি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকসংক্রান্ত বিজিএএমইএর স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। এদিকে উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদারের সই করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।  প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগকৃত ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এতদ্বারা বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পোশাক শিল্পের সংকট নিরসনে নীতিগত সহায়তার আশ্বাস গভর্নরের

তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর। আজ রাজধানীর বাংলাদেশ ব্যাংক সদর দপ্তরে বিজিএমইএ’র একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন। বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এবং সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি এই বৈঠকে অংশ নেয়। বিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে তৈরি পোশাক শিল্পের তারল্য সংকট নিরসন এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস সময় মতো পরিশোধ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিজিএমইএ নেতাদের উত্থাপিত উদ্বেগের জবাবে ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেন, কারখানাগুলো যাতে উৎসবের আগে শ্রমিকদের প্রতি তাদের আর্থিক দায়বদ্ধতা পূরণ করতে পারে, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সংকট লাঘবে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড় দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অগ্রাধিকার দেবে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের ক্ষেত্রে। বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদা ও দরপতন, উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পোশাক শিল্প বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা আরো বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ভাষা দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটির কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে উৎপাদন কার্যদিবস মাত্র ১৯ দিনে নেমে এসেছে। এতে করে নিয়মিত শিপমেন্ট বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কারখানাগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে পড়তে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস সময় মতো পরিশোধ করা উদ্যোক্তাদের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল গভর্নরের কাছে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে— ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুমানিক ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড়, দুই মাসের সমপরিমাণ বেতন সহায়তা ঋণ প্রদান (যা ১২ মাসে পরিশোধযোগ্য এবং তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ), প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট স্কিমের তহবিল ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা এবং এর মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি, পাশাপাশি প্যাকিং ক্রেডিটের সুদের হার ৭ শতাংশে নির্ধারণ। শিল্প নেতারা জোর দিয়ে বলেন, শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তা এই সংকট সময়ে শিল্প, শ্রমিক এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন বিজিএমইএ নেতারা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নিলামের মাধ্যমে ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ ডলার কেনা হয়েছে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাড়িঁয়েছে ১ হাজার ৫৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ক্রয় করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৮ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সুত্র জানায়, টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতকে পুনরুদ্ধার করার চলমান কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ডলার ক্রয় করেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ডিএসইতে সূচকের পতন, লেনদেন ৮২৪ কোটি টাকা

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৭টি কোম্পানির ২৮ কোটি ৫৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬৫টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২৪ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার ৮৪১ টাকা। দিন শেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১০ দশমিক ৭২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৪২ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। তবে ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৬ দশমিক ০৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪৩ দশমিক ৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০১ দশমিক ২০ পয়েন্টে নেমে আসে। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১১৯টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২২১টির কমেছে এবং ৫৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি ছিল সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইবিএল, খান ব্রাদার্স পিপি, যমুনা ব্যাংক, রবি আজিয়াটা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, স্কয়ার ফার্মা, সায়হাম কটন ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ইনটেক লিমিটেড, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, ইবিএল প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সমতা লেদার, জিকিউ বলপেন, ডিবিএইচ প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বিডি কম, এফবিএফ ইনকাম ফান্ড ও এক্সিম প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড। অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো এলআর গ্লোবাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১, মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, জিবিবি পাওয়ার, সাইফ পাওয়ার, কে অ্যান্ড কিউ, তিতাস গ্যাস, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, জাহিন স্পিনিং, মুন্নু ফেব্রিকস ও পিএইচপি মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসী আয় ২ হাজার ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ২৩.৬ শতাংশ

 চলতি বছরের ১ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। গত বছরের একই সময়ে (১-২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) এ পরিমাণ ছিল ২,০৭৬ মিলিয়ন ডলার। আর ২৩ ফেব্রুয়ারি একদিনেই দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই ২০২৫ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত) মোট প্রবাসী আয় এসেছে ২১ হাজার ৯৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই ২০২৪ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত) এর পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৩৮ মিলিয়ন ডলার। তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৯ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রণোদনা ও বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
এলপি গ্যাসের দাম কমলো

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)–এর দাম কমানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১,৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নতুন এ দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংস্থাটি জানায়, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১,৩৫৬ টাকা থেকে ১৫ টাকা কমিয়ে ১,৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি ৫০ টাকা বাড়িয়ে দাম ১,৩৫৬ টাকা করা হয়েছিল। ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম সহনীয় রাখতে এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা কমাতে স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ের ২ শতাংশ আগাম কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় এবার এলপিজির দাম কমানো হলো। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ২৮ পয়সা কমিয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৬১ টাকা ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি অটোগ্যাসের দাম ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন অসহনীয় চাঁদাবাজি ব্যবসা-বাণিজ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে যে হারে চাঁদা দিতে হতো, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ব্যবসায়ীদের একই হারে চাঁদা দিতে হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দিতে হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেনি, এমনকি সরকারি দপ্তরে এক দিনের জন্যও দুর্নীতি কমেনি। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব। গতকাল সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআইয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথাগুলো বলেন তিনি। ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের নিকট প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি সালিম সোলায়মান প্রমুখ। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, নতুন সরকার এমন একসময় ক্ষমতায় এসেছে, যখন অর্থনীতি অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন, বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি তলানি ঠেকেছে। এসব সমস্যার মূলে রয়েছে ব্যাংকিং খাতের সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং অস্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও তার সামান্যতম বাস্তবায়ন হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আরো ঘনীভূত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি এবং তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প-কারখানার উৎপাদন প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। এখন কারখানায় চাঁদা দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে এবং আওয়ামী দুঃশাসন পার হলেও তা বন্ধ হয়নি। স্থানীয় শিল্প-কারখানাগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবার আগে উন্নতি করতে হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন, পুলিশ, রাজস্ব কর্মকর্তাসহ অনেকেই চাঁদাবাজি করেন। কারা চাঁদাবাজি করছে, সেটা সরকারকে বের করতে হবে। চাঁদাবাজরা এসে বলে, তারা সরকারি দলের লোক। যখনই যে সরকার আসে, তখনই বলে আমরা সরকারি দলের লোক; আমাদের চাঁদা দিতে হবে। আমাদের এই অনুষ্ঠান আছে, পাড়ার এই চাঁদা দিতে হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যাব। তিনি আরো বলেন, কারখানায় ঢুকতেও চাঁদা দিতে হয়। অফিস ও রাস্তায় চাঁদা দিতে হয়। জনগণ ও ব্যবসায়ী মহল চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে আমরা নতুন সরকারের কাছ থেকে কড়া বার্তা প্রত্যাশা করছি। এলডিসি উত্তরণ পেছানোর চেষ্টা করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে তাসকীন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাত থেকে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও একটি অপ্রকাশিত চুক্তির (এনডিএ) নামে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ববিরোধী একটি চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি তৈরি পোশাক পণ্যের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ মওকুফে সম্মত হলেও এটা এমন নয় যে সম্পূর্ণ শুল্ক মওকুফ করে দিয়েছে। ফলে রপ্তানি বাণিজ্যে প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি এমনভাবে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, যা উভয় দেশের জন্য সমানভাবে লাভজনক হয়। ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অপরিবর্তিত নীতি সুদহারের (পলিসি রেট) কারণে ব্যবসায়ীদের ১৬-১৭ শতাংশ হারে ব্যাংকঋণ নিতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে খেলাপি ঋণের উচ্চহার এবং ঋণ শ্রেণীকরণের সীমা ৯ মাস থেকে ৩ মাসে নামিয়ে আনার কারণে আর্থিক খাতে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা তৈরি করেছে। তা ছাড়া শিল্প-কারখানায় চাহিদামাফিক গ্যাস সরবরাহ না থাকার পাশাপাশি গ্যাসের দাম বাড়ানোয় উৎপাদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের পুনরুজ্জীবনে ৪টি পরামর্শ দেওয়া হয়। এগুলো হলো— আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা। সরকারি খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা। যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি নন, তাদের প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দিয়ে ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং ঋণের সুদের হারকে যুক্তিসংগত ও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৮৬ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) পদ্ধতি অনুসারে, বাংলাদেশের নিট রিজার্ভ বর্তমানে ৩০.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

দেশের বাইরে পড়ার জীবনটা যেমন

দেশের বাইরে মানুষকে পড়তে আসা উচিত কি না—এ নিয়ে ধর্মীয়, সামাজিক, ব্যক্তিগত নানা মত আছে। তবে আমার বিশ্বাস, সুযোগ থাকলে জীবনে একবার হলেও দেশের বাইরে পড়াশোনা করা উচিত। বিদেশে পড়লে একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়, সে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। চাইলে বিদেশে চাকরি করতে পারে, আবার চাইলে দেশে ফিরে অবদান রাখতে পারে—সেটলড হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়। কিন্তু যেটাই করুক, সে যে অভিজ্ঞতা বয়ে নিয়ে যায় সেটা অমূল্য হয়ে থাকে। তার দুনিয়াকে দেখার চোখ অন্যদের থেকে আলাদা হবে।    অনেকেই দেশে হোস্টেলে থেকেছেন, বাবা–মা থেকে দূরে থেকেছেন। কিন্তু বিদেশে এসে যে ধাক্কাটা লাগে, সেটা আলাদা। এখানে সবই একা সামলাতে হয়। অসুস্থ হলে মাথায় নিজেই পানি দিতে হয়। হাজারো চ্যালেঞ্জ, হাজারো স্ট্রাগল—সব একা নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াতে হয়।   দেশে একা থাকা আর বিদেশে একা থাকার তফাৎ এখানেই। দেশে জুতা ছিঁড়লে মুচি আছে, বিদ্যুৎ গেলে মেকানিক আছে, গাড়ি নষ্ট হলে সাহায্য মিলবে, রান্নার জন্য বুয়া পাওয়া যাবে। কিন্তু বিদেশে জুতা সেলাই করতে যে টাকা লাগে, তা দিয়ে নতুন দুই জোড়া কিনে ফেলা যায়। শেফ রাখতে চাইলে তার বেতনই আপনার বেতনের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাও দেশি স্বাদের রান্না নাও আসতে পারে।   এখানে এসে আমি নিজের সাইকেলের চাকা নিজেই ঠিক করেছি ইউটিউব দেখে, জুতা নিজে সেলাই করেছি, গাড়ি নষ্ট হলে নিজে শিখে ঠিক করেছি। রান্না শিখেছি—কারণ বছরের পর বছর নিজের হাতের রান্নাই খেতে হয়। এসব তো কেবল কয়েকটা উদাহরণ; সব বলতে গেলে বই হয়ে যাবে।   কঠিন পড়াশোনা আর গবেষণার পাশাপাশি বেঁচে থাকার প্রয়োজনে আরও শত স্কিল শিখতে হয়। চ্যালেঞ্জ যতই থাকুক, মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে শিখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সহজ হয়ে আসে। আর এসব সংগ্রাম—এসবই মানুষকে শক্তিশালী, সক্ষম ও পরিণত করে তোলে। তাই প্রবাসজীবনে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি আছে অসংখ্য সুযোগ ও ইতিবাচক দিক।   দেশে আমার পরিচিত অসংখ্য বন্ধু–পরিচিত ‘বেকার’। রূপক অর্থে বেকার। অর্থাৎ চাকরি থাকলেও তারা কাজকে অর্থবহ মনে করে না, নিজের কর্মজীবন নিয়ে গর্বিত হতে পারে না। বড় চাকরি, ছোট চাকরি, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই বেশিরভাগ মানুষ সন্তুষ্ট না নিজের কাজ নিয়ে, না নিজের জীবনের মান নিয়ে।   কিন্তু বিদেশে এই বিষয়টা তুলনামূলক কম। এখানে নিজের পছন্দের কাজ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ অসীম—যদি আপনি সেই কাজের স্কিল শিখে নিতে পারেন। ক্যারিয়ারের মাঝপথে হঠাৎ মনে হলে যে আপনি অন্য কিছু করতে চান—এখানে সেটা ভাবার সাহস মানুষ দেখাতে পারে। নিজের জীবন নতুনভাবে গড়া এখানে সম্ভব।   এখানে আপনাকে আপনার কাজ দিয়েই বিচার করা হবে। ব্যক্তিজীবন নিয়ে খুব কমই মানুষ মাথা ঘামায়। রেসিজম আছে ঠিকই—কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার, কাউকে ‘কেনা গোলাম’ ভাবার প্রবণতা এখানে বিরল। আপনি নিজের কাজ ঠিকঠাক করলে কারো কাছে তোষামোদ করতে হবে না। নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করতে হবে না। এই পরিবেশ জীবনকে কম টক্সিক করে তোলে।   বাংলাদেশে তো পাসপোর্ট অফিসের পিয়নকেও ‘স্যার’ বলতে হয় ফাইলটা একটু ভেতরে ঢোকানোর জন্য—যা আমরা শ্রদ্ধা থেকে বলি না, বাধ্য হয়ে বলি।   দেশে–বিদেশে কোথাও প্রতিদিন অসাধারণ লাগবে না। কিন্তু প্রতিদিন অন্তত মনে হওয়া উচিত—আপনি কোনো অর্থবহ কাজে যুক্ত আছেন। যদি সেটা না হয়, তাহলে নিজের কাজ, নিজের স্থান, নিজের পরিবেশ—সবই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।   আপনি যদি নিজের কাজ নিয়ে, নিজের জায়গা নিয়ে, নিজের অবদান নিয়ে গর্ব করতে পারেন—তাহলে দেশে পরিবার–পরিজন নিয়ে জীবন কাটানোই শ্রেয়। আর সময়–সুযোগ পেলে একবার বিদেশে অভিজ্ঞতা নেওয়া যেতে পারে—জব করে, মাস্টার্স বা পিএইচডি করে, কিংবা কিছুদিন ভ্রমণ করে। তবে দয়া করে—ব্যাচেলর/অনার্স লেভেলের পড়াশোনায় সন্তানকে বিদেশে পাঠাবেন না। আর ব্যাংক লোন নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করতে যাবেন না—এটা বাড়াবাড়ি।   লেখক : সাকলাইন মোস্তাক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, যুক্তরাষ্ট্র

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

ঈদুল ফিতরে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0