স্বাস্থ্য

রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহ’ বলে খাবার গ্রহণ করো | ছবি : সংগৃহীত
কখন সেহরি খাওয়া ভালো? যা বলা হয়েছে হাদিসে

সেহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম : ১০৯৫)   অন্য হাসিছে এসেছে, ‘তোমরা সেহরি পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি করো। কারণ যারা সেহরি খায় আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফিরিশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৩/১২, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৯০১০, সহিহ ইবনে হিব্বান : ৩৪৭৬) কোন সময়ে সেহরি খাওয়া ভালো? হাদিসে বলা হয়েছে, সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরুহ যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সকল নবীকে সময় হওয়ার পরপরই ইফতার তাড়াতাড়ি করতে এবং সেহরি শেষ সময়ে খেতে আদেশ করা হয়েছে।’ (আলমুজামুল আওসাত-তবারানী : ১৮৮৪, মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৩/৩৬৮) আমর ইবনে মায়মুন আলআওদি (রাহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দ্রুত ইফতার করতেন আর শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক : ৭৫৯১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৯০২৫) সেহরি খাওয়ার দোয়া সেহরির শুরুতে পড়ার মতো কোনো দোয়া কোরআন-হাদিসে বর্ণিত হয়নি। সেজন্য সেহরি খেতে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া পড়ার দরকার নেই। অবশ্য যেকোনো খাবারের শুরুতে পড়ার জন্য রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত একটি দোয়া রয়েছে, সেহরির শুরুতে তা পাঠ করা যেতে পারে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া বারাকাতিল্লাহ’ বলে খাবার গ্রহণ করো।’ {মুসতাদরাকে হাকেম : ৫/১৪৬, হাকেম ও হাফেজ জাহাবি (রাহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।} অবশ্য ‘আলা’ শব্দ যুক্ত করে ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ এভাবেও পড়া যায়। দোয়াটি ইবনুল জাযারি (রাহ.) তার আলহিসনুল হাসিন গ্রন্থে (পৃ. ২৫৫) উল্লেখ করেছেন। তিনি আলমুসতাদরাক-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।  

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বীজযুক্ত ফল শিশুকে খাওয়ানোর আগে যা জানতেই হবে

শিশুদের খাওয়ার প্রতি এমনিতেই অনীহা লক্ষ্য করা যায়। তার ওপর যদি হয় ফল তাহলে আর কোনো কথা নেই। তবে বাড়ন্ত শিশুদের পুষ্টির জন্য প্রয়োজন ফল। শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে নতুন স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হয়। ফলমূল থেকে সে পায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান। সাধারণত ছয় মাস বয়সের পর থেকেই অল্প পরিমাণে সম্পূরক খাবার শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সব খাবার শিশুর জন্য সমান নিরাপদ নয়। বিশেষ করে বীজযুক্ত ফল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সব ফল যে শিশুর জন্য নয় তা অনেকেই জানেন না। বিশেষ করে বীজযুক্ত ফল দেওয়ার আগে মানতে হবে প্রয়োজনীয় সতর্কতা। চলুন কেন সতর্কতা প্রয়োজন জেনে নেওয়া যাক— ফলের বীজ ছোট হলেও ঝুঁকি বড় হতে পারে—বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে। বরই, লিচু বা জামের মতো বড় বীজযুক্ত ফল তো আছেই, আপেল, আঙুর, কমলা কিংবা ডালিমের মতো তুলনামূলক ছোট বীজযুক্ত ফল খাওয়ার সময়ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। অসাবধানতায় বীজ শ্বাসনালিতে আটকে যেতে পারে। এমনকি কিছু কলাতেও সূক্ষ্ম বীজ থাকে, যা শিশুর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সতর্ক না থাকলে কী ঘটতে পারে— খাবার গিলতে মুখ ও গলার একাধিক পেশি সমন্বিতভাবে কাজ করে। তখনই আমরা বুঝে খেতে পারি— কোন অংশটি মুখে যাবে, আর কোনটি ফেলে দিতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের এই নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে সুসংগঠিত হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি বিকশিত হয় না। ফলে শক্ত বা ছোট কোনো বস্তু তাদের গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে বীজের মতো শক্ত উপাদান শ্বাসনালিতে আটকে গেলে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে। ফল খাওয়ার সময় এমন দুর্ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। কারণ ফল সাধারণত পিচ্ছিল ধরনের। তাই অসাবধানতায় বীজ সহজেই গলার দিকে সরে যেতে পারে। এমনকি শক্ত ফলের ছোট টুকরোও শিশুর গলায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যে বয়সে যেভাবে ফলমূল দেবেন শিশুকে ফল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। ছয় মাস বয়স পার হলে সম্পূরক খাবারের অংশ হিসেবে ফল দেওয়া শুরু করা যায়। তবে শুরুতে শুধু ফলের নরম অংশ দিতে হবে। বীজ ও খোসা সম্পূর্ণ ফেলে দিয়ে নরম অংশ ভালোভাবে কচলে বা মিহি করে খাওয়াতে হবে। আপেলের মতো শক্ত ফল আগে সেদ্ধ করে নরম করে নিয়ে তারপর মিহি করে দেওয়া উচিত। শিশু যখন ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেতে শিখবে, তখন নরম ফল ছোট ছোট টুকরো করে দেওয়া যেতে পারে। এ সময়ও বীজ ও খোসা এড়িয়ে চলতে হবে। দুই বছর বয়স পূর্ণ হলে টুকরো না করেও ফল হাতে দেওয়া যায়, তবে তখনও অবশ্যই সব ধরনের বীজ ফেলে দিতে হবে। সাধারণত পাঁচ বছর বয়স পূর্ণ হলে সুস্থ শিশুকে বীজসহ কিছু ফল খেতে দেওয়া যেতে পারে। তবু লিচু, জাম বা বরইয়ের মতো বড় বীজযুক্ত ফল পুরোটা একসঙ্গে মুখে দিতে না দেওয়াই ভালো। বরং বীজ বাইরে রেখে চারপাশের অংশ খাওয়ার অভ্যাস শেখানো নিরাপদ। এখন জেনে নেই জীবন বাঁচানোর কৌশল শিশু যখন খাবার খায়, তখন তার পাশে অন্তত একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের উপস্থিতি থাকা জরুরি। শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং সেই মুহূর্তে কীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়— এসব বিষয়ে আগে থেকেই ধারণা রাখা প্রয়োজন। জীবনরক্ষাকারী সিপিআর প্রশিক্ষণ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সঠিক পদক্ষেপই একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শিশুর গলায় খাবার আটকে যাওয়াকে বলা হয় ‘চোকিং’ | ছবি : সংগৃহীত
শিশুর গলায় খাবার আটকে গেলে কী করবেন? সঠিক পদ্ধতি জানুন

এক মুহূর্ত আগেও শিশুটি হাসছিল, খেলছিল। হঠাৎ খাওয়ার সময় মুখ লাল হয়ে গেল, শব্দ বন্ধ, মনে হচ্ছে গলায় কিছু আটকে গেছে! মুহূর্তেই ঘরের ভেতর শুরু হয় আতঙ্ক। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি অনেক পরিবারই হন। আর এই কয়েক সেকেন্ডের ভুল সিদ্ধান্ত কখনও কখনও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপদ এড়ানো সম্ভব।   চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শিশুর গলায় খাবার আটকে যাওয়াকে বলা হয় ‘চোকিং’। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ, এ সময় দাঁত পুরোপুরি ওঠে না, গিলতে শেখার প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয় না। ভারতীয় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠনগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, শক্ত, গোল কিংবা পিচ্ছিল খাবার (যেমন আঙুর, বাদাম, শক্ত বিস্কুট) এই বয়সে খুব সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে। কীভাবে বুঝবেন? প্রথমেই লক্ষ্য করুন, শিশু কাশতে পারছে কি না। যদি কাশে, কাঁদতে পারে বা শব্দ বের হয়; তবে বুঝতে হবে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে শিশুর মুখে আঙুল ঢোকাবেন না। এতে খাবার আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। বরং তাকে কাশতে দিন। অনেক সময় কাশিই সমস্যার সমাধান করে দেয়। কিন্তু যদি শিশুর মুখ নীলচে হয়ে যায়, কোনো শব্দ না বের হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়; তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে শিশুকে উপুড় করে আপনার কাঁধ বা উরুর ওপর রাখুন, মাথা শরীরের চেয়ে একটু নিচের দিকে থাকবে। এরপর পিঠের মাঝামাঝি অংশে হাতের তালু দিয়ে পাঁচবার দৃঢ়ভাবে চাপড় দিন। কাজ না করলে শিশুকে চিত করে বুকে দুই আঙুল দিয়ে পাঁচবার চাপ দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণে এই পদ্ধতি শেখানো হয়। এক বছরের বেশি বয়স হলে এ ক্ষেত্রে ‘হাইমলিক পদ্ধতি’ প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে এটি সঠিকভাবে না শিখে প্রয়োগ করা উচিত নয়। ভুলভাবে করলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের আশঙ্কা থাকে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞই অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেন। যেসব ভুল করবেন না সবচেয়ে বড় ভুল হলো, চোখে না দেখে আঙুল বা চামচ দিয়ে খাবার বের করতে চেষ্টা করা। এতে খাবার আরও ভেতরে সরে গিয়ে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে কখনও একা ছেড়ে দেবেন না। খাওয়ানোর সময় শিশুকে বসিয়ে রাখুন। দৌড়াতে দৌড়াতে বা খেলতে খেলতে খাবার দেবেন না। খাবার সব সময় ছোট ছোট টুকরো করে দিন, যাতে গিলতে সুবিধা হয়। শিশুর নিরাপত্তা সচেতনতার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই আতঙ্ক নয়, আগে জানুন তারপরই পদক্ষেপ নিন। সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপই হতে পারে একটি প্রাণ বাঁচানোর চাবিকাঠি। সূত্র : টিভি নাইন বাংলা

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
জিলাপি। ছবি: সংগৃহীত
জিলাপি বেশি খেলে শরীরে কী ঘটে?

রমজানে ইফতারের টেবিলে গরম গরম জিলাপি দেখলে অনেকেরই মন লোভে ভরে ওঠে। সোনালি রঙের জিলাপি, চিনির সিরায় ভেজানো—এক কামড় দিলেই মুখে ছড়িয়ে পড়ে মিষ্টতার স্বাদ। সারাদিন রোজা রাখার পর এই আকর্ষণ সামলানো সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই দু-এক টুকরায় থামতে পারেন না; কখনো কখনো পুরো প্লেট ভর্তি জিলাপি খেয়ে ফেলাও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু খালি পেটে অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভাজাপোড়া খাবার শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। জিলাপির মতো উচ্চ চিনি ও তেলযুক্ত খাবার বেশি খেলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা রোজার পরবর্তী দিনগুলোকে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। রক্তের শর্করার হঠাৎ ওঠানামা জিলাপিতে থাকে পরিশোধিত ময়দা এবং প্রচুর পরিমাণ চিনি। খালি পেটে এগুলো খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বেড়ে যায়। এর ফলে শরীরে হঠাৎ ইনসুলিন নিঃসরণ বেড়ে যায় এবং কিছু সময় পর রক্তে শর্করা দ্রুত কমে যায়। এই ওঠানামার কারণে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, হাত-পা কাঁপা কিংবা অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য এই অবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। রক্তে শর্করার অস্থিরতা রোজার বাকি সময় ক্লান্তি ও অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা জিলাপি ডুবো তেলে ভাজা এবং চিনির সিরায় ভেজানো একটি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার। একটি মাঝারি আকারের জিলাপিতে সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ ক্যালরি পর্যন্ত থাকতে পারে। ফলে লোভে পড়ে চার-পাঁচটি জিলাপি খেলে সহজেই ৮০০ থেকে ১০০০ ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করে। রোজার দিনে সারাদিন কম ক্যালরি গ্রহণের পর ইফতারে হঠাৎ এত ক্যালরি শরীরে ঢুকলে তা অতিরিক্ত চর্বি হিসেবে জমতে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে স্থূলতা, পেটের মেদ বৃদ্ধি, ফ্যাটি লিভার বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। রমজানে অনেকে ওজন কমানোর আশা করেন, কিন্তু অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খাওয়ার কারণে অনেক সময় উল্টো ওজন বেড়ে যায়। হজমের সমস্যা ও অ্যাসিডিটি সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ বেশি তেল ও চিনি জাতীয় খাবার খেলে পেটে গ্যাস, অম্বল, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। জিলাপির মতো খাবারে থাকা পরিশোধিত চিনি ও ট্রান্স ফ্যাট হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে। এর ফলে রোজার পরবর্তী দিনগুলোতে পেটের অস্বস্তি, বুকজ্বালা বা বদহজমের কারণে রোজা রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে। হৃদস্বাস্থ্যের ঝুঁকি অতিরিক্ত চিনি ও ট্রান্স ফ্যাট দীর্ঘমেয়াদে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। বিভিন্ন পুষ্টি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। রমজানজুড়ে যদি প্রতিদিনই বেশি পরিমাণ জিলাপি বা অন্যান্য মিষ্টি খাওয়া হয়, তাহলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) বেড়ে যেতে পারে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সমাধানও আছে ইফতারে জিলাপি পুরোপুরি বাদ দিতে না চাইলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। একটি ছোট টুকরা জিলাপি খেলেই মিষ্টির স্বাদ নেওয়া যায়। ইফতার শুরু করা যেতে পারে ফল, খেজুর বা পানি দিয়ে। এতে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কিছুটা কম হয়। বাড়িতে কম তেলে তৈরি জিলাপি বা স্বাস্থ্যকর বিকল্প মিষ্টি বেছে নেওয়াও ভালো অভ্যাস হতে পারে। বাদাম, খেজুর বা ফল দিয়ে তৈরি মিষ্টি খেলে মিষ্টির চাহিদা পূরণ হয় এবং ক্যালরিও নিয়ন্ত্রণে থাকে—এমন পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। জিলাপি আনন্দ ও উৎসবের খাবার, প্রতিদিনের নয়। রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে মিষ্টি ও ভাজাপোড়ার প্রতি সংযম দেখানোই সবচেয়ে বড় কৌশল। পরিমিত খাওয়ার অভ্যাসই আপনাকে সুস্থ রেখে রোজার মাসটিকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
সন্তান নেওয়ার আগে যেসব পরীক্ষা নারী-পুরুষের জরুরি

নতুন অতিথিকে ঘিরে স্বপ্ন বোনা শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। কারও ঘরে ছোট্ট পায়ের শব্দ শোনার অপেক্ষা, কারও মনে নাম ঠিক করার ব্যস্ততা; সন্তান পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলোর একটি। তবে চিকিৎসকদের ভাষায়, এই আনন্দযাত্রা কেবল মানসিক প্রস্তুতির বিষয় নয়, সমান গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রস্তুতিও। আমাদের দেশে এখনো অনেক দম্পতি গর্ভধারণের পর প্রথমবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার আগেই কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নিলে ভবিষ্যতের নানা ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। এতে শরীরে লুকিয়ে থাকা হরমোনজনিত সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা সংক্রমণ আগে থেকেই ধরা পড়ে। প্রয়োজনে চিকিৎসা শুরু করা গেলে গর্ভধারণ হয় নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সন্তান নেওয়ার আগে নারী ও পুরুষ দুজনেরই কোন কোন পরীক্ষা করা জরুরি। নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সন্তান নেওয়ার আগে নারী-পুরুষের যেসব পরীক্ষা জরুরি ১. হরমোন টেস্ট থাইরয়েড, প্রোল্যাক্টিনসহ অন্যান্য প্রজনন হরমোনের মাত্রা জানা খুবই প্রয়োজন। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ওভুলেশন ও ঋতুচক্রে প্রভাব পড়ে। এতে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আগে থেকেই পরীক্ষা করালে সমস্যার সমাধান সহজ হয়। ২. ওভারিয়ান রিজার্ভ টেস্ট অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন (এএমএইচ) পরীক্ষার মাধ্যমে ডিম্বাণুর পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যারা কিছুটা দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই পরীক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ৩. পেলভিক আল্ট্রাসাউন্ড জরায়ু ও ডিম্বাশয়ে ফাইব্রয়েড, সিস্ট বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) আছে কি না, তা বোঝার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। সমস্যা আগে ধরা পড়লে চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ ও কার্যকর হয়। ৪. সংক্রমণ সংক্রান্ত রক্ত পরীক্ষা হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইচআইভি এবং রুবেলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে কি না, তা জানা জরুরি। কিছু সংক্রমণ গর্ভাবস্থায় মা ও অনাগত শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই আগেভাগে পরীক্ষা করে নেওয়া নিরাপদ সিদ্ধান্ত। ৫. ব্লাড সুগার ও হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা ডায়াবেটিস, রক্তাল্পতা বা পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। সুস্থ গর্ভধারণ ও শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষদের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় কেবল নারীর স্বাস্থ্য নয়, পুরুষের স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ—এ বিষয়টি এখন বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলছেন চিকিৎসকেরা। ১. বীর্য পরীক্ষা (সিমেন অ্যানালিসিস) শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি ও গঠন স্বাভাবিক কি না, তা জানার জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। স্বাভাবিক গর্ভধারণে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২. হরমোন টেস্ট টেস্টোস্টেরনসহ অন্যান্য হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার। হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে শুক্রাণু উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। ৩. ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ লাইফস্টাইলজনিত রোগ— যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপ প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাও অবহেলা করা উচিত নয়। ৪. যৌন সংক্রমণ পরীক্ষা সেক্সচুয়ালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এতে ভবিষ্যতে দম্পতির মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে। সচেতন প্রস্তুতিই নিরাপদ আগামীর চাবিকাঠি সন্তান পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে আনন্দের, তবে দায়িত্বও কম নয়। আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করিয়ে নিলে বাড়ে আত্মবিশ্বাস, কমে অযথা উদ্বেগ। সবচেয়ে বড় কথা, সম্ভাব্য জটিলতা অনেকটাই এড়ানো যায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ একটাই, ‘সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে একবার প্রি-কনসেপশন চেকআপ করান।’ কারণ, অসুখ বা ঝুঁকি সময়মতো ধরা পড়লে সমাধানও হয় সহজ, আর নতুন জীবনের শুরুটা হয় আরও নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
রমজান মাসে হয়, এমন কিছু কমন শারীরিক সমস্যা ও প্রতিকার জেনে নিন

রমজান মাসে খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের পরিবর্তনের কারণে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। একটু সতর্ক থাকলে তা এড়ানো সম্ভব। গলা-বুক জ্বলা ও অ্যাসিডিটি পেটে গ্যাস, গলা-বুক জ্বলা, ঢেকুর ওঠা ও পেট ফাঁপা রমজানে প্রায় হয়ে থাকে। সারা দিন খালি পেটে থেকে হঠাৎ অনেক ভারী খাবার খাওয়ায় এমনটা হয়। এ সমস্যা কাটাতে ইফতারে অতিরিক্ত ভাজা–পোড়া, তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। একসঙ্গে অনেক বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প করে ভাগ করে খেতে হবে। ইফতারে একসঙ্গে অনেক পানি পান না করে কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে পানি পান করবেন। সাহ্‌রি খেয়ে শুয়ে পড়লে গলা জ্বলার সমস্যা হয়। তাই সাহ্‌রি খেয়ে ফজরের নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে বসে বিশ্রাম নিয়ে তারপর ঘুমাতে পারেন। কোষ্ঠকাঠিন্য রমজানে কোষ্ঠকাঠিন্য আরেকটি পরিচিত সমস্যা। শাকসবজি কম খাওয়ায় এটি হয়। তাই ইফতারে সব ভাজা খাবার না রেখে সবজি সেদ্ধ বা গ্রিল সবজি, প্রচুর ফল রাখুন। সালাদ ও টক দই খেতে পারেন। ফলের রস বা জুসের চেয়ে গোটা ফলে আঁশ বেশি থাকে। সাহ্‌রিতে অনেকে শুধু মাছ–মাংস খেয়ে থাকেন, এটাও ভালো নয়। আঁশযুক্ত সবজি অবশ্যই রাখবেন। আর প্রচুর পানি পান করবেন। বদহজম বদহজম, ডায়রিয়া, আমাশয়জাতীয় সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয়। এর মূল কারণ অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ। বাইরের খোলা খাবার বা কেনা ইফতারি যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাবেন। ইফতারি স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন উপায়ে প্রস্তুত করতে হবে। যদি বাইরে ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে রাখুন। পাতলা পায়খানা বা বমি হলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি থাকে। তাই ইফতারের পর স্যালাইন খেতে হতে পারে। প্রস্রাবের সমস্যা কারও কারও পানিশূন্যতার কারণে প্রস্রাবে জ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে। এ জন্য ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত ধাপে ধাপে দুই-আড়াই লিটার পানি পান করুন। ডিহাইড্রেশন দূর করতে কোমল পানীয় বা অন্যান্য তরলের চেয়ে পানি সবচেয়ে কার্যকর। চাইলে ডাবের পানি, বাড়িতে তৈরি ফলের রস খেতে পারেন। আরেকটি সমস্যা রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ বেশি হওয়া। তাই একসঙ্গে বেশি পানি পান করবেন না। ক্লান্তি ও অবসাদ রমজানে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া এই ক্লান্তি অবসাদের মূল কারণ। তাই ইফতার ও তারাবিহর পর একটু আগে ঘুমাতে যাওয়া উচিত, যাতে ঘুমের ঘাটতি না হয়। আবার সাহ্‌রিতে ওঠার পর সকালে খানিকটা ঘুমিয়ে নেওয়া যায়। ঘুমের ছন্দ এলোমেলো হয়ে যাওয়ার কারণে প্রথম দিকে একটু সমস্যা হয়, কিন্তু পরে ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়। পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে ক্লান্তি হবে না। আর দরকার যথেষ্ট পানি পান করা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায় কেন, চিকিৎসা কী

বয়সের কারণে অনেকেরই প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে থাকে। কারও কারও হাঁচি-কাশি দিলে বা পেটে চাপ পড়লে কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব বেরিয়ে আসে। নারী-পুরুষ যে কারোরই এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। এটি অত্যন্ত বিব্রতকর একটি সমস্যা। বৃদ্ধ বয়সে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া নারীদের সন্তান প্রসবের পর এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়। কারণ কী মূত্রনালি সংকুচিত হওয়ার শুরুতে বা যখন সংকুচিত হওয়া উচিত, তখন না হয়ে অত্যধিক প্রস্রাবে পরিপূর্ণ হয়ে গেলে প্রবল চাপে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মূত্র বেরিয়ে আসে। মূত্রাশয় ও মূত্রনালি ঘিরে থাকা পেশিগুলো ঠিকমতো কাজ না করলেও এই সমস্যা হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়, অত্যধিক ওজন বৃদ্ধি বা অন্য কোনো কারণে পেটের নিচের পেশিগুলো শিথিল হয়ে যেতে পারে। পুরুষের বেলায় প্রোস্টেট গ্রন্থির সার্জারির পরও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের আবার প্রস্রাব করার পর মূত্রনালি সম্পূর্ণ খালি হয় না, একটু একটু করে ঝরতে থাকে বা প্রস্রাব করে আসার পরই আবার বাথরুমে ছুটতে হয়। মূত্রনালির পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে বা অন্য কোনো বাধার কারণে এমন হতে পারে। মূত্রতন্ত্রের কোনো সংক্রমণ, মূত্রনালির ক্যানসার, প্রোস্টেটের সমস্যা, পারকিনসন ডিজিজ, স্ট্রোক ইত্যাদি কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ট্রেসের কারণেও এ সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা কী যে কারণে সমস্যাটি দেখা দিয়েছে, সেই কারণের চিকিৎসা করতে হবে। তবে বয়স হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মূত্রথলি ও মূত্রনালির পেশির শক্তি ফিরে আসে না। সে ক্ষেত্রে জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন ও ফিজিওথেরাপি হতে পারে সমাধান। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম, অভ্যাসের পরিবর্তন ও কিছু ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশনের মাধ্যমে এ থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। ব্যায়াম ১: চেয়ারে বসে মেরুদণ্ড সোজা রেখে একটু সামনের দিকে ঝুঁকুন। এবার প্রস্রাব ধরে রাখার জন্য দরকারি মাংসপেশিগুলো সংকুচিত করুন। এই অবস্থায় ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড থেকে সংকুচিত মাংসপেশি ছেড়ে দিন। পুরো প্রক্রিয়াটি ১০ থেকে ১৫ বার এবং দিনে ৪ বার করুন। এই ব্যায়ামকে বলে পেলভিক ফ্লোর মাসল এক্সারসাইজ; যা মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে। রোজ ১০ থেকে ১৫ বার করুন। ব্যায়াম ২: সোজা চিত হয়ে শুয়ে দুই হাঁটু ভাঁজ করে নিন। এবার ধীরে ধীরে কোমর ওপরের দিকে ওঠান। ৫ সেকেন্ড এভাবে ধরে রাখুন এবং ছাড়ুন। এই ব্যায়ামও দিনে ৪ বেলা এবং প্রতিবার ১০ বার করে। ব্যায়াম ৩: কেগেল এক্সারসাইজ করার জন্য মাটিতে চিত হয়ে সোজাভাবে শুয়ে পড়ুন। দুটো পা ফাঁক করে রাখুন, হাত দুটি শরীরের দুই পাশে সোজা করে রাখুন। এবার শরীরের নিম্নভাগ (বুকের নিচ থেকে নিতম্ব পর্যন্ত) ওপরের দিকে উঠিয়ে দিন। এভাবে ১৫ পর্যন্ত গুনুন। এ অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। হয়ে গেলে ধীরে ধীরে শরীর নিচের দিকে নামিয়ে দিন। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ বার করুন। কিছু অভ্যাস প্রস্রাবের বেগ শুরু হওয়ার ১০ মিনিট পর প্রস্রাব করার অভ্যাস করা। এই ব্যায়াম প্রস্রাব ধরে রাখতে শেখায়। এটাকে বলে ব্লাডার ট্রেনিং। এ ছাড়া টেনশনমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত চা, কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকলে উপকার পাবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সেহরিতে যে খাবারগুলো না খাওয়াই ভালো

রোজায় সুস্থ থাকতে সেহরির খাবার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক খাদ্য নির্বাচন করতে না পারলে তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস না হলে সারাদিন ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও হজমের সমস্যায় ভুগতে হতে পারে। তাই সেহরিতে কী খাবেন আর কী খাবেন না—সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক- প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার প্রসেসড বা প্যাকেটজাত খাবারে সাধারণত অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। এসব খাবার দ্রুত ক্ষুধা বাড়ায় এবং হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে রোজার সময় দুর্বলতা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার সেহরিতে খেলে বদহজম, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তির আশঙ্কা থাকে। এসব খাবার শরীর ভারী করে তোলে এবং সারাদিন অস্বস্তি বাড়াতে পারে। চা-কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় সেহরিতে চা বা কফি পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। ক্যাফেইন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে রোজার সময় তৃষ্ণা বেশি লাগে। তাই সেহরিতে এসব পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো। অতিরিক্ত মিষ্টি ও ডেজার্ট চিনি-সমৃদ্ধ মিষ্টি বা ডেজার্ট রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার দ্রুত কমিয়ে দেয়। এতে কিছু সময় পরেই দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। তাই সেহরিতে মিষ্টিজাতীয় খাবার না রাখাই উত্তম। অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ অনেকে মনে করেন, বেশি খেলে সারাদিন শক্তি পাওয়া যাবে। কিন্তু অতিরিক্ত খাবার হজমের সমস্যা ও পেটের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণই শ্রেয়।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঘুমের মধ্যে ফুসফুসে ঢুকছে বিষ

প্রতি বছর সর্বোচ্চ বায়ুদূষণ ঘটে জানুয়ারি মাসে। এবার ফেব্রুয়ারিজুড়েও ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে রাজধানী ঢাকা। বাতাস সবচেয়ে বিষাক্ত হয়ে উঠছে মধ্যরাত থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত। ফলে ঘুমের মধ্যে ফুসফুসে ঢুকছে বিষ। এতে নগরবাসীর বড় অংশই প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠছে কাশতে কাশতে। দূষিত বায়ুর কারণে বাড়ছে অ্যালার্জিজনিত হাঁচি, কাশি, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট। বায়ুদূষণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারীকে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে সব বয়স ও শ্রেণির মানুষই দূষিত বায়ুতে নাকাল। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউ এয়ারের তথ্য বলছে, গত জানুয়ারি মাসে বায়ুমান সূচকে ঢাকার গড় স্কোর ছিল ২৩৫, যা খুবই অস্বাস্থ্যকর। প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ক্ষতিকর অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম ২.৫) ছিল ১৬০.৩ মাইক্রোগ্রাম, যা সহনশীল মাত্রার চেয়ে ৩২ গুণ বেশি। ফেব্রুয়ারির ২১ দিনের মধ্যে ছয় দিন বাতাস ছিল অস্বাস্থ্যকর, ১৫ দিন অতিমাত্রায় অস্বাস্থ্যকর।   আইকিউ এয়ারের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাতাস সবচেয়ে বেশি দূষিত থাকছে মধ্যরাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত। ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার বাতাস ছিল অতিমাত্রায় অস্বাস্থ্যকর। দুপুর ১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ছিল অস্বাস্থ্যকর। রাত ১১টা থেকে গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত বাতাস আবার অতিমাত্রায় অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। এরপর আবার দূষণ কিছুটা কমছে। তবে গত ছয় মাসে এক দিনও নির্মল বায়ুতে শ্বাস নিতে পারেনি ঢাকাবাসী।   বায়ুমান গবেষকরা বলছেন, রাতে ঢাকার বাইরে থেকে প্রচুর পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করে। এগুলোর বেশির ভাগের ফিটনেস নেই। কালো ধোঁয়া নির্গত করে। আইনে নিষিদ্ধ হলেও উন্মুক্ত ট্রাকে নির্মাণসামগ্রী পরিবহন করা হয়। এতে বাতাসে ধুলাবালি বাড়ে। এ ছাড়া সূর্য ডোবার পর বাতাস ঠান্ডা হতে থাকায় জলীয়বাষ্পের সঙ্গে সারা দিনে ওড়া ধুলাবালি নিচের দিকে নেমে আসে। এজন্য মধ্যরাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত বায়ুমান বেশি খারাপ থাকে। জানালা খুলে ঘুমালে সারা রাত এসব ধুলাবালি নিশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করে। অনেক সময় বুকে কফ জমে যায়। অ্যালার্জিজনিত হাঁচি, কাশি বাড়ে।   বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, বায়ুদূষণে ২০১৯ সালে দেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট দেশজ উৎপাদনের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে। বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়। অসুস্থতার কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।   এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই সফলতা দেখাতে পারেনি। দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের জনগণ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
গরুর দুধ মানুষের শরীরের জন্য কতটা উপকারী?

গরুর দুধ বহু শতাব্দী ধরে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে থাকি, দুধ পান করলে হাড় মজবুত হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে। বাস্তবিক অর্থেও দুধে এমন বহু পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শরীরের সঠিক বিকাশ ও কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সবার জন্য দুধ সমানভাবে উপযোগী নয়; কারও কারও ক্ষেত্রে এটি শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই দুধের সুফল ও সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা দুই দিকই জানা প্রয়োজন।   পুষ্টিমান ও দেহগঠন গরুর দুধ উচ্চমানের প্রোটিনের একটি ভালো উৎস, যা পেশি তৈরি ও কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে। শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। দুধে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় ও দাঁত শক্ত রাখে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড়ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকা ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, ফসফরাস ও পটাশিয়াম স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় রাখা, রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করা এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।   হজমজনিত সমস্যা ও ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা অনেক মানুষের ক্ষেত্রে দুধ সহজে হজম হয় না। এর প্রধান কারণ দুধে থাকা প্রাকৃতিক চিনি ‘ল্যাকটোজ’। যাদের শরীরে ‘ল্যাকটেজ’ এনজাইমের ঘাটতি রয়েছে, তারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সে ভুগতে পারেন। ফলে দুধ পান করার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় ল্যাকটোজমুক্ত দুধ বা বিকল্প হিসেবে দই ও পনিরের মতো গাঁজনজাত দুগ্ধজাত খাবার বেছে নেওয়া ভালো, কারণ এগুলো তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য।   হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও ওজন ব্যবস্থাপনা একসময় ধারণা ছিল, পূর্ণচর্বিযুক্ত দুধ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে দুধ অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। যাদের কোলেস্টেরল বেশি বা ওজনাধিক্যের সমস্যা আছে, তাদের জন্য স্কিমড বা লো-ফ্যাট দুধ ভালো বিকল্প হতে পারে।   ওজন নিয়ন্ত্রণেও দুধ সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম স্বাদযুক্ত ফ্লেভার্ড মিল্ক এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়।   বয়সভিত্তিক গ্রহণযোগ্যতা এক বছর বয়সের পর থেকে ধীরে ধীরে শিশুর খাদ্যতালিকায় গরুর দুধ যুক্ত করা যেতে পারে। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য মায়ের দুধই সবচেয়ে উপযুক্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন এক থেকে দুই গ্লাস দুধ যথেষ্ট, যদি কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা না থাকে।   ত্বক ও চুলের যত্নে ভূমিকা ত্বক ও চুলের সুস্থতায় দুধের উপকারিতা নিয়ে নানা মত রয়েছে। দুধে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ ত্বককে পুষ্টি জোগায়। যদিও সরাসরি দুধ পান করলেই ত্বক উজ্জ্বল হয়—এমন নির্দিষ্ট প্রমাণ সীমিত, তবুও সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক।   সব মিলিয়ে, গরুর দুধকে একপাক্ষিকভাবে ভালো বা খারাপ বলা যায় না। ব্যক্তিভেদে দুধের সহনশীলতা ও প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা অ্যালার্জি নেই, তাদের জন্য পরিমিত দুধ পুষ্টিকর খাদ্য হতে পারে। তবে কোনো সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভুল পজিশনে ঘুমাচ্ছেন না তো? জেনে নিন পিঠের ব্যথা এড়ানোর সঠিক উপায়

সুস্থ শরীরের জন্য সুষম খাদ্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও আরামদায়ক ঘুম অত্যন্ত জরুরি।    পর্যাপ্ত ঘুম কেবল মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং এটি আবেগীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং শরীরের হারানো শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।  চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ভালো ঘুম হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।     তবে শোয়ার ভুল অভ্যাসের কারণে অনেক সময় শরীরে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যার মধ্যে পিঠে বা কোমরে ব্যথা অন্যতম।   বিশেষজ্ঞদের মতে, উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর অনাবশ্যক চাপ সৃষ্টি করে, যা পেশিতে খিঁচুনি বা ব্যথার কারণ হতে পারে।  পিঠের ব্যথা প্রতিরোধে চিকিৎসকরা সাধারণত চিৎ হয়ে বা কাত হয়ে শোয়ার পরামর্শ দেন।  চিৎ হয়ে শুলে শরীরের ওজন সমানভাবে বিন্যস্ত থাকে, ফলে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমে।   এক্ষেত্রে হাঁটুর নিচে একটি পাতলা বালিশ রাখলে কোমরের স্বাভাবিক বক্রতা বজায় থাকে।  অন্যদিকে, যারা কাত হয়ে শুতে পছন্দ করেন, তারা দুই হাঁটুর মাঝখানে একটি বালিশ ব্যবহার করলে কোমর ও হিপের হাড়ের ওপর চাপ কম পড়ে এবং মেরুদণ্ড সঠিক অবস্থানে থাকে।   সঠিক পজিশনের পাশাপাশি সঠিক তোশক ও বালিশ নির্বাচনও ঘুমের মানের ওপর প্রভাব ফেলে।  মেরুদণ্ডের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় খুব নরম বা খুব শক্ত তোশকের বদলে মাঝারি শক্ত তোশক ব্যবহার করা শ্রেয়।  একইসাথে বালিশের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত যা ঘাড়কে অস্বাভাবিক অবস্থানে ঠেলে দেবে না।  যারা চিৎ হয়ে শোন তাদের জন্য পাতলা বালিশ এবং যারা কাত হয়ে শোন তাদের জন্য তুলনামূলক মোটা বালিশ আরামদায়ক হতে পারে।   ঘুমের গুণগত মান বাড়াতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা এবং শোয়ার ঘরটি অন্ধকার ও শীতল রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো পরিহার করা এবং হালকা স্ট্রেচিং বা বই পড়ার মতো অভ্যাসগুলো গভীর ঘুমে সহায়তা করে। দিনের বেলা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং রাতে হালকা খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে পিঠের ব্যথা মুক্ত এক প্রশান্তিদায়ক ঘুম নিশ্চিত করা সম্ভব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
স্বাদে পরিচিত রুই মাছ পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ | ছবি : সংগৃহীত
রুই মাছ খেলে কি সত্যিই হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে? যা বলছে বিজ্ঞান

বাংলাদেশের রান্নাঘরে রুই মাছের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। শহর থেকে গ্রাম, প্রায় সব ঘরেই সপ্তাহে অন্তত একদিন রুই মাছ রান্না হয়। স্বাদে পরিচিত এই মাছ পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ, এমনটাই বলছেন পুষ্টিবিদ ও গবেষকেরা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও পুষ্টিবিষয়ক নিবন্ধে উঠে এসেছে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে, এমনকি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে। বিষয়টি নিয়ে কী বলছে বিজ্ঞান, চলুন বিস্তারিত জানা যাক। পুষ্টিগুণে ভরপুর রুই মাছ রুই মাছ শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও বেশ সমৃদ্ধ। এই মাছের ক্যালোরি তুলনামূলক কম হওয়ায় যাদের অতিরিক্ত ওজন বা মেদ রয়েছে, তারা খাদ্যতালিকায় এটি রাখতে পারেন। পুষ্টিবিদদের মতে, রুই মাছে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ও, ই,ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং আয়রনসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। এ ছাড়া রুই মাছে কোলিন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পাওয়া যায়, যা স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা, শরীরের ফ্যাটের বিপাকক্রিয়া এবং পুষ্টি পরিবহণে সহায়তা করে। উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সহায়ক আমেরিকার স্কুল অব নিউট্রিশনের জার্নাল-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রুই মাছ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এমনকি যাদের ইতোমধ্যে উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এটি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কি সত্যিই কমে? বিশেষজ্ঞদের মতে, রুই মাছের তেলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই উপাদান রক্তের অণুচক্রিকাকে সহজে জমাট বাঁধতে দেয় না, ফলে রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমে। এ ছাড়া ওমেগা-৩ রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল এলডিএল ও ভিএলডিএল কমাতে সাহায্য করে এবং উপকারী কোলেস্টেরল এইচডিএলের পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক। এর ফলে হৃদ্‌যন্ত্রে চর্বি জমার আশঙ্কা কমে। বিশেষজ্ঞরা তাই মনে করেন, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। কতটা রুই মাছ খাওয়া উচিত? পুষ্টিবিদরা সব ক্ষেত্রেই পরিমিত খাবারের ওপর জোর দেন। তাদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক একটি বড় টুকরা রুই মাছই যথেষ্ট। এর বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। শেষকথা খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতনতা দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে। নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল, মাছ ও সুষম খাবারের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে রুই মাছ রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও তা উপকারী হতে পারে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দূষণ ও জলবায়ু ঝুঁকিতে ক্যানসার রোগী বেড়েছে

ইরাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণের চাপ ও সবুজ এলাকার ঘাটতি এ রোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, কুর্দিস্তান অঞ্চলে ১০ হাজার ৫০০, ধি কার প্রদেশে ১০ হাজার এবং আনবারে প্রায় ৬ হাজার ক্যানসার রোগী শনাক্ত হয়েছে।  ২০২৪ সালে দেশজুড়ে মোট ৪৬ হাজার ৩২০টি ক্যানসারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে নিনেভেহ প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ২৩৪টি রোগী পাওয়া গেছে। ক্যানসারে মৃত্যুর দিক থেকে রাজধানী বাগদাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০২৪ সালে সেখানে ক্যানসারে মারা গেছেন ৩ হাজার ৭৬৩ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ, যানজট ও সবুজ জায়গার অভাব এ পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্র ও প্রোস্টেট ক্যানসার বেশি দেখা যাচ্ছে। নারীদের মধ্যে স্তন ও থাইরয়েড ক্যানসার সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত পরিবেশ সংস্কার, সবুজ এলাকা বৃদ্ধি এবং ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তথ্যসূত্র : ইরাকি নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যেসব স্বাস্থ্যকর নাস্তা খেতে পারেন

সাধারণত নাস্তা বলতে আমরা ঝাল, ভাজাপোড়া কিংবা অতিরিক্ত লবণ ও চিনি দেওয়া খাবারকেই বুঝে থাকি। কিন্তু এসব মুখরোচক খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। তাই বলে নাস্তা বাদ দেওয়া সমাধান নয়। বরং অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে বেছে নিতে হবে পুষ্টিকর ও উপকারী বিকল্প। চলুন জেনে নেওয়া যাক নাস্তায় কোন খাবারের জায়গায় কোন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যেতে পারে— বিস্কুটের বদলে বাদাম ও বীজ চায়ের সঙ্গে বিস্কুটের পরিবর্তে কাঠবাদাম, আখরোট, কুমড়ার বীজ বা সূর্যমুখী বীজ খাওয়া যেতে পারে। এগুলোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ, যা দীর্ঘসময় শক্তি জোগায় এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। চিপসের পরিবর্তে ভাজা ছোলা অতিরিক্ত লবণ ও অস্বাস্থ্যকর তেলে ভাজা চিপসের বদলে ভাজা ছোলা হতে পারে ভালো বিকল্প। এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই পেট ভরিয়ে রাখে। চিনিযুক্ত দইয়ের বদলে টক দই ফ্লেভারযুক্ত দইয়ে অতিরিক্ত চিনি থাকে। তার পরিবর্তে টক দইয়ের সঙ্গে পেঁপে বা বিভিন্ন বেরি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এতে প্রাকৃতিক মিষ্টতা পাওয়া যায় এবং প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। চকোলেটের বদলে ফল ও পিনাট বাটার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে প্রসেসড চকোলেট বা ক্যান্ডির বদলে আপেল বা কলার সঙ্গে সামান্য পিনাট বাটার খেতে পারেন। এতে প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সুন্দর সমন্বয় পাওয়া যায়, যা হঠাৎ শক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়। ইনস্ট্যান্ট নুডলসের পরিবর্তে সেদ্ধ ডিম বা পনির ইনস্ট্যান্ট নুডলস দ্রুত প্রস্তুত হলেও এতে পুষ্টিগুণ খুবই কম। এর পরিবর্তে সেদ্ধ ডিম বা পনির খাওয়া ভালো, যা প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং দীর্ঘসময় মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬ 0
মাথাব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা | ছবি : সংগৃহীত
প্রতিদিন মাথাব্যথা করে, এটা কি ব্রেন টিউমার লক্ষণ?

মাথাব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। কাজের চাপ, ঘুম কম হওয়া, মানসিক দুশ্চিন্তা, চোখের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিক—বিভিন্ন কারণেই মাথাব্যথা হতে পারে। তাই প্রতিদিন মাথাব্যথা মানেই গুরুতর কিছু, এমনটা নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা চলতে থাকলে বা ব্যথার ধরন অস্বাভাবিক হলে তা বড় কোনো রোগের লক্ষণও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্কে টিউমার থাকলেও মাথাব্যথা হতে পারে, যদিও সব মাথাব্যথা ব্রেন টিউমারের কারণে হয় না। এ বিষয়ে কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান, চলুন জেনে নেওয়া যাক। মাথাব্যথা কি ব্রেন টিউমারের লক্ষণ? আমেরিকান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকা মাথাব্যথা মস্তিষ্কের টিউমারের একটি সাধারণ লক্ষণ হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, বেশিভাগ মাথাব্যথার কারণই অন্য কিছু, যা সাধারণত গুরুতর নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং মস্তিষ্কের কোন অংশে চাপ পড়ছে—এসবের ওপর নির্ভর করে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। টিউমার বড় হয়ে মস্তিষ্কের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। ব্রেন টিউমারের মাথাব্যথা কেমন হতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, মস্তিষ্কের টিউমারের কারণে হওয়া মাথাব্যথা অনেক সময় মাইগ্রেন বা টেনশনের মাথাব্যথা থেকে আলাদা হয়ে থাকে। কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো ১. এমন মাথাব্যথা, যা রাতে ঘুম ভেঙে দেয় ২. শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথার ধরন বদলে যায় ৩. সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে কাজ না করা ৪. কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে স্থায়ী মাথাব্যথা ৫. ঘন ঘন মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, সকালের মাথাব্যথার পেছনে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো অন্য কারণও থাকতে পারে। কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি? চিকিৎসকদের মতে, নতুন ধরনের বা অস্বাভাবিক মাথাব্যথা হলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে যদি ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং সাধারণ চিকিৎসায় কমে না, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত— ১. শরীরে আগে থেকেই ক্যান্সার ধরা পড়েছে এবং নতুন করে মাথাব্যথা শুরু হয়েছে ২. মাথাব্যথা ক্রমাগত বাড়ছে এবং দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করছে ৩. মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো ৪. মাথার পেছনে চাপ অনুভব হওয়া ৫. বমি বমি ভাব বা বমির সঙ্গে মাথাব্যথা ৬. খিঁচুনি হওয়া বা কথা বলতে অসুবিধা ৭. ঝাপসা বা দ্বিগুণ দেখা, এমনকি দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া ৮. ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, অকারণে বিভ্রান্ত হওয়া বা মানসিকভাবে গুটিয়ে যাওয়া ৯. শরীরের একপাশ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়া বা অনুভূতি কমে যাওয়া সব মাথাব্যথাই কি ভয়ঙ্কর? বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিভাগ মাথাব্যথা গুরুতর নয় এবং সাধারণ কারণেই হয়ে থাকে। তবে যে কোনো মাথাব্যথা যদি ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং সাধারণ ব্যবস্থায় কমে না, তাহলে তা পরীক্ষা করানো জরুরি। যদি মাথাব্যথার সঙ্গে অস্বাভাবিক উপসর্গ যোগ হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। সূত্র : যশোদা হাসপাতাল

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সকালে ডিম সেদ্ধ না ভাজা, কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

ডিম একটি পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় খাবার, বিশেষ করে সকালের নাশতায়। ডিমে রয়েছে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৫ গ্রাম স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং মোট ৭২ ক্যালরি। ভিটামিন ডি, বি১২, রিবোফ্লাবিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ডিম শক্তি জোগায় এবং চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।   আমরা সবাই কম বেশি ডিম খেয়ে থাকি। কেউ ডিম সেদ্ধ কেউবা আবার ডিম ভাজি পছন্দ করেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, স্বাস্থ্যের জন্য ডিম সেদ্ধ নাকি ভাজি করে খাওয়া উচিত? টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদরা এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। পুষ্টি পেতে কীভাবে ডিম খাবেন সকালে অনেকেই সেদ্ধ ডিম খেয়ে থাকেন। পুষ্টিবিদরা এটিকে স্বাস্থ্যকর বলছেন। পুষ্টিবিদদের মতে, সেদ্ধ ডিমে অতিরিক্ত চর্বি বা উপাদান যোগ না হওয়ায় এর প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে। এতে ক্যালরি কম, তবু প্রয়োজনীয় পুষ্টি বজায় থাকে। সেদ্ধ ডিম শরীরে শক্তি জোগায় এবং এর কোলিন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া এটি কোলেস্টেরল কমাতেও সহায়ক। অন্যদিকে, ডিম ভাজার সময় স্বাদ বাড়াতে পেঁয়াজ, মরিচ, ধনেপাতা, টমেটো, মাখনের মতো উপকরণ যোগ করা হয়। এই উপকরণগুলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের জন্য। ভাজা ডিমে ফসফরাস বেশি থাকে, যা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। তবে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ সেদ্ধ ও ভাজা ডিমে প্রায় একই রকম। ডিম প্রায়ই সয়াবিন তেলে ভাজা হয়। যাতে থাকা ট্রান্সফ্যাট হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং হৃদ্‌রোগ ঝুঁকি বাড়ায়। তবে শাকসবজি ও পনির মিশিয়ে ভাজলে ডিমের পুষ্টিগুণ বাড়ে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের (ভিটামিন ও খনিজ) দিক থেকে সেদ্ধ ও ভাজা ডিমের পুষ্টিমান প্রায় একই।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সকালে ভাত খাওয়া উচিত কি না, যা বলছেন পুষ্টিবিদ

মাছে বাঙালি প্রবাদটা শুধু বাঙালির জন্যই। বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে নানান পদ থাকলেও ভাত তার মধ্যে অনন্য। কেউ দিনের শুরুতে ভাত খেয়ে প্রশান্তি পান, আবার কেউ দিন শেষে ক্ষুধা মেটাতে ভাত খান। অনেকের ধারণা, সকালে পেটভরে খেলে সারাদিন শক্তি পাওয়া যায়। তবে, স্বাস্থ্য সচেতন বাঙালির কাছে একটি প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যায়। সকালে ভাত খাওয়া কী আদৌ স্বাস্থ্যকর, নাকি ক্ষতিকর? এই প্রশ্ন ঘিরে ভিন্নমত আছে পুষ্টিবিদদের মধ্যেই। বিশেষ করে ভাতভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত মানুষরা সকালে ভাত খাওয়াকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নেন। তবে এটি শরীরের জন্য কতটা উপকারী, তা নির্ভর করে বয়স, কাজের ধরন ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর। এদিকে, ডায়েটিশিয়ান নেহা পাঠানিয়া জানান, সকালে ভাত খাওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ নয়, তবে পরিমাণ ও সঙ্গে থাকা খাবার গুরুত্বপূর্ণ। বেশি ভাত রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়াতে পারে। আবার সঠিক প্রোটিন ও সবজি যুক্ত হলে এটি শক্তির ভালো উৎসও হতে পারে। তাই অভ্যাস নয়, প্রয়োজন বুঝেই সবার খাদ্য তালিকা ঠিক করা উচিত। সম্প্রতি হেলথ শটের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য। অনেক মানুষের সকালের খাবারে ভাত একটি স্বাভাবিক অংশ। বাংলাদেশ ও ভারতের পাশাপাশি জাপানেও সকালের পাতে ভাত দেখা যায় নিয়মিত। পুষ্টিবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভাত হজমে সহজ এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে শরীর শক্তি পায় ধীরে ধীরে। প্রতিদিন ভাত খাওয়াকে অস্বাস্থ্যকর ভাবার কারণ নেই। ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। সঙ্গে যদি বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি যোগ করা যায়, তাহলে ভাত আরও সুষম ও উপকারী খাবারে পরিণত হয়। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কী পুষ্টিগুণ বিদ্যমান চাল সাদা হোক কিংবা লাল— ভাতের পুষ্টিমান নিয়ে সন্দেহের সুযোগ কম। প্রতিটি ধরনের ভাতে থাকে শরীরের জন্য দরকারি নানা উপাদান। এতে পাওয়া যায় ফলেটসহ গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ এবং পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদনে সহায়ক উপাদান। এসব কারণে ভাতকে একটি পরিপূর্ণ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার হিসেবে ধরা হয়। তবে ভাত খাওয়ার উপকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে কখন এবং কতটা পরিমাণে তা খাওয়া হচ্ছে তার ওপর। সঠিক সময় ও সুষম খাদ্যতালিকার সঙ্গে ভাত গ্রহণ করলে শরীর তার সর্বোচ্চ উপকার পেতে পারে। পুষ্টিবিদদের মত অনুযায়ী, দিনের শুরুতে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করলে শরীর সহজেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি পায়। সকালবেলা শরীর তুলনামূলক বেশি সচল থাকে, ফলে তখন শক্তির চাহিদাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়। ওজন কমাতে আগ্রহী বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চাইলে সকালে সীমিত পরিমাণ ভাত রাখতে পারেন, এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ ওঠানামার আশঙ্কা কম থাকে। বিপরীতে, রাতের বেলায় ভাত খাওয়া কমানোই শ্রেয়। কারণ ঘুমের আগে ভারী খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে এবং শরীরকে আরাম করতে বাধা দেয়। এখন চলুন ভাত দিয়ে তৈরি কয়েকটি নাস্তার নাম জেনে নেওয়া যাক ১ . রসুন-ডিম মেশানো ভাত অল্প সময়েই রান্না করা যায়, আবার ক্ষুধাও মেটায় ভালোভাবে। রসুনে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে। ডিম সরবরাহ করে মানসম্মত প্রোটিন ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ফ্যাট। ক্যালরি তুলনামূলক কম হলেও পুষ্টির ঘাটতি থাকে না। ২. জাফরান পোলাও বাসমতী চালের সঙ্গে জাফরান, দুধ ও বাদাম মিশিয়ে তৈরি এই খাবারটি স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিতেও সমৃদ্ধ। এতে থাকা ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ৩. চালের পায়েস যারা মিষ্টি খাবার পছন্দ করেন, তাদের জন্য সকালের নাস্তায় পায়েস হতে পারে ভিন্নধর্মী একটি নির্বাচন। চাল থেকে পাওয়া স্টার্চ অন্ত্রের কার্যকারিতা ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি প্রদাহ কমাতে সহায়ক এবং গরমের দিনে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। দিনের শুরুতে ভাত খাওয়াকে অস্বাস্থ্যকর বলে উড়িয়ে দেওয়ার কারণ নেই। বরং পরিমিত মাত্রায় এবং সঠিক খাদ্যসংযোজনে ভাত সকালের খাবারকে করতে পারে আরও কার্যকর। শাকসবজি, ডিম কিংবা অন্য কোনো প্রোটিনের সঙ্গে ভাত রাখলে খাবারটি হয়ে ওঠে ভারসাম্যপূর্ণ। এতে শরীর সহজেই প্রয়োজনীয় শক্তি পায় এবং কর্মক্ষমতাও থাকে স্থিতিশীল।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
মানসিক অবসাদের লক্ষণগুলো কী, কখন সতর্ক হওয়া জরুরি

ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ কোনো সাধারণ মনখারাপ নয়, এটি একটি বাস্তব মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুখ। যেমন শরীর অসুস্থ হতে পারে, তেমনই মনও অসুস্থ হতে পারে—আর সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া খুবই প্রয়োজন। আমাদের সমাজে এখনো মানসিক অবসাদকে অনেক সময় হালকাভাবে দেখা হয়। ‘সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে’ ভেবে অবহেলা করা হয়। কিন্তু শুরুতেই লক্ষণগুলো বুঝে ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল হয়ে উঠতে পারে। মানসিক অবসাদের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন, দীর্ঘদিনের চাপ, সম্পর্কের সমস্যা, ব্যর্থতা, একাকিত্ব বা হরমোনজনিত পরিবর্তনও এর জন্য দায়ী হতে পারে। অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন আচরণেই এর ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকে।   সব সময় মন খারাপ লাগা ডিপ্রেশনের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা। আগে যেসব কাজ বা বিষয় ভালো লাগতো, সেগুলোতেও আর আগ্রহ থাকে না। সারাক্ষণ এক ধরনের শূন্যতা বা দুঃখবোধ কাজ করে। অল্পতেই রাগ বা বিরক্তি মানসিক অবসাদে ভুগলে মানুষ অনেক সময় অকারণে রেগে যান। সামান্য বিষয়েও মেজাজ হারিয়ে ফেলা, চিৎকার করা বা অস্বাভাবিক বিরক্তি প্রকাশ করা এর লক্ষণ হতে পারে। অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া খুব ছোট ঘটনায় অতিরিক্ত কষ্ট পাওয়া, হতাশ হয়ে পড়া বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাও ডিপ্রেশনের ইঙ্গিত হতে পারে। নিজেকে খুব অসহায় বা অমূল্য মনে হওয়াও এর অংশ।   সব সময় ক্লান্ত লাগা কোনো কাজ না করেও সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা, শরীর ভারী মনে হওয়া বা কাজ করার শক্তি না পাওয়া মানসিক অবসাদের বড় লক্ষণ। এটি শুধু শারীরিক ক্লান্তি নয়, মানসিক অবসাদ থেকেও এমন হতে পারে। কাজে অনীহা ও আগ্রহ হারানো দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা, অফিস বা ঘরের দায়িত্ব—কিছুই করতে ইচ্ছে না করা, বারবার কাজ ফেলে রাখা বা সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন হঠাৎ করে খাওয়ার ইচ্ছে একেবারে কমে যাওয়া বা উল্টোভাবে অস্বাভাবিক বেশি খাওয়া—দুই-ই মানসিক অবসাদের সঙ্গে জড়িত হতে পারে। কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন যদি এই লক্ষণগুলো দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে এবং আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে দেরি না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।   মানসিক অবসাদ লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়। সঠিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং প্রয়োজন হলে ওষুধের মাধ্যমে ডিপ্রেশন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সূত্র : এবিপি লাইভ

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬ 0
একদিনে কতটা আলু খেতে পারবেন, জেনে নিন | ছবি : সংগৃহীত
এক দিনে কতটা আলু খাওয়া নিরাপদ? পুষ্টিবিদের পরামর্শ

ভাত আর আলু—এই দুই ছাড়া বাঙালির রান্নাঘর যেন অসম্পূর্ণ। সকালে আলুভাজা, দুপুরে ঝোল বা তরকারি, সন্ধ্যায় সিঙ্গারা কিংবা চপ—দিনের কোনো না কোনো বেলায় আলু থাকেই। সহজলভ্য, সস্তা আর রান্নায় বহুমুখী হওয়ার কারণে আলু বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আধুনিক জীবনে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার কথা মাথায় রাখলে প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে, রোজ আলু খাওয়া কি আদৌ শরীরের জন্য ভালো? আর হলে দিনে ঠিক কতটা আলু খেলে ঝুঁকি থাকে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পুষ্টিবিদদের মতামত তুলে ধরা হলো। পুষ্টিবিদরা বলছেন, আলু পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক পরিমাণে এবং সঠিকভাবে রান্না করে খেলে আলু শরীরের জন্য উপকারীই হতে পারে। দিনে কতটা আলু খাওয়া নিরাপদ? পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সাধারণত দিনে মাঝারি আকারের এক থেকে দুইটি আলু খেতে পারেন। ওজনের হিসাবে তা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আলু যেন ভাজা বা অতিরিক্ত তেল-মশলায় রান্না করা না হয়। আলু কেন উপকারী? আলুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। তাই যারা পরিশ্রমী কাজ করেন বা শারীরিক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য আলু ভালো শক্তির উৎস হতে পারে। পাশাপাশি আলুতে থাকা খাদ্য আঁশ হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে আলু খেলে অনেক ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। আলুর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো এতে থাকা পটাশিয়াম। এই খনিজ উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এছাড়াও আলুতে রয়েছে ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি৬, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। যাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি সব উপকারিতার মাঝেও আলু খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মানা ভীষণ জরুরি। আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আলু খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলে প্রতিদিন আলু না খাওয়াই ভালো। খেলে অল্প পরিমাণে এবং অন্যান্য শাকসবজির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া উচিত। একইভাবে যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদেরও আলু নিয়ে সাবধান থাকা দরকার। সেদ্ধ বা অল্প তেলে রান্না করা আলু পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। তবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস কিংবা বেশি তেলে ভাজা আলু নিয়মিত খেলে ওজন কমার বদলে আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের শেষ কথা সব মিলিয়ে পুষ্টিবিদদের মত, আলু খারাপ নয়। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন তা অতিরিক্ত পরিমাণে বা ভুল পদ্ধতিতে রান্না করে খাওয়া হয়। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পরিমিত ও ভারসাম্য রেখে আলু রাখলে তা শরীরের ক্ষতি না করে বরং উপকারই করে। সূত্র : টিভি নাইন বাংলা

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
দৈনন্দিনের ৭ অভ্যাস বারোটা বাজাচ্ছে ঘুমের, কেন সতর্ক হবেন

শুধু আরামের জন্য নয়, ভালো ঘুম শরীর ও মনের সুস্থতার ভিত্তি। অথচ আমরা অনেকেই না বুঝেই এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলি, যা ধীরে ধীরে ঘুমের মান নষ্ট করে দেয়। দৈনন্দিন জীবনের এসব ভুল একদিনে সমস্যা তৈরি না করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনিদ্রা, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিদিনের কোন অভ্যাস আপনার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছে, তা জানুন আজকের প্রতিবেদনে। নির্দিষ্ট সময়ে না ঘুমানো কখনো রাত ১০টায়, কখনো রাত ১টায়—এই অনিয়ম শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা সার্কাডিয়ান রিদমকে বিগড়ে দেয়। ফলে শরীর বুঝে উঠতে পারে না, কখন বিশ্রাম নেওয়ার সময়। এর ফল হয় দেরিতে ঘুম আসা, ঘুম ভালো না হওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়। ফলে সকালে উঠে ক্লান্ত লাগে, সারা দিন ঝিমুনি হয়। কাজেও অমনোযোগী হয়ে পড়েন।   ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। এই হরমোনই আমাদের ঘুম পেতে সাহায্য করে। ঘুমের আগে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। ঘুমের মান খারাপ হয়। বিছানায় কাজ করা বিছানায় শুয়ে কাজ করা, ফোন ঘাঁটা বা সিরিজ দেখার অভ্যাস থাকলে মস্তিষ্ক বিছানাকে আর ঘুমের সংকেত হিসেবে নেয় না। ধীরে ধীরে বিছানায় শুলেই ঘুম আসার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়। রাতে ভারী খাবার খাওয়া রাতে দেরি করে খাওয়া, তেল-মসলাদার বা ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে বুক জ্বালা, অস্বস্তি ও বার বার ঘুম ভাঙার প্রবণতা বাড়ে। ভালো ঘুমের জন্য রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা। তা সেরে ফেলতে হবে ঘুমের অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে।   অতিরিক্ত চা-কফি বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ করলে তার প্রভাব রাত পর্যন্ত থাকে। অনেকেই ভাবেন এক কাপ কফিতে কিছু হবে না, কিন্তু নিয়মিত এই অভ্যাস ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয়। ছুটির দিনে দেরি করে ওঠা ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে নেওয়াকে অনেকেই ঘুম পুষিয়ে নেওয়া ভাবেন। আসলে এতে সপ্তাহের বাকি দিনের ঘুমের ছন্দ আরো এলোমেলো হয়ে যায়, যাকে বলা হয় সোশ্যাল জেট ল্যাগ। তাই ছুটি পেলেই বেলা অবধি ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন। মানসিক চাপ চিন্তা, দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস নিয়ে সরাসরি বিছানায় গেলে মন শান্ত হয় না। মন শান্ত না হলে সেই ভাবনা অবচেতন মনে চলতে থাকে, যা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যায় অনেক সময়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ধ্যান, হালকা বই পড়ার মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।   সঠিক ঘুমের জন্য দরকার নিয়মিত রুটিন, সচেতন অভ্যাস এবং নিজের শরীরের সংকেত বোঝা। ছোট ছোট এই ভুলগুলো ঠিক করতে পারলেই ধীরে ধীরে আপনার ঘুমের মান উন্নত হবে, যা আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর। সূত্র : এই সময়

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
লবণ মেশানো হালকা গরম পানির স্বাস্থ্য উপকারিতা কী কী?

হালকা গরম পানিতে এক চিমটে লবণ মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এটি শরীরের সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে শরীর সহজে ডিহাইড্রেটেড হয় না। যারা নিয়মিত জিম করেন বা প্রচুর ঘামেন, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। লবণ মেশানো পানি শরীরের ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং পেশী ও স্নায়ু সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে খাওয়ার ফলে বদহজম, অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের সমস্যা কমে। এটি স্ট্রেস কমানো, শরীরের ডিটক্সিফিকেশন এবং পেশীতে টানের সমস্যা দূর করতেও সহায়ক। সংক্ষেপে, দিনে মাঝে মাঝে এক চিমটে লবণ মেশানো গরম পানি খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে সুস্থ, শক্তিশালী ও সজীব রাখে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
Popular post
দেশের বাইরে পড়ার জীবনটা যেমন

দেশের বাইরে মানুষকে পড়তে আসা উচিত কি না—এ নিয়ে ধর্মীয়, সামাজিক, ব্যক্তিগত নানা মত আছে। তবে আমার বিশ্বাস, সুযোগ থাকলে জীবনে একবার হলেও দেশের বাইরে পড়াশোনা করা উচিত। বিদেশে পড়লে একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়, সে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। চাইলে বিদেশে চাকরি করতে পারে, আবার চাইলে দেশে ফিরে অবদান রাখতে পারে—সেটলড হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়। কিন্তু যেটাই করুক, সে যে অভিজ্ঞতা বয়ে নিয়ে যায় সেটা অমূল্য হয়ে থাকে। তার দুনিয়াকে দেখার চোখ অন্যদের থেকে আলাদা হবে।    অনেকেই দেশে হোস্টেলে থেকেছেন, বাবা–মা থেকে দূরে থেকেছেন। কিন্তু বিদেশে এসে যে ধাক্কাটা লাগে, সেটা আলাদা। এখানে সবই একা সামলাতে হয়। অসুস্থ হলে মাথায় নিজেই পানি দিতে হয়। হাজারো চ্যালেঞ্জ, হাজারো স্ট্রাগল—সব একা নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াতে হয়।   দেশে একা থাকা আর বিদেশে একা থাকার তফাৎ এখানেই। দেশে জুতা ছিঁড়লে মুচি আছে, বিদ্যুৎ গেলে মেকানিক আছে, গাড়ি নষ্ট হলে সাহায্য মিলবে, রান্নার জন্য বুয়া পাওয়া যাবে। কিন্তু বিদেশে জুতা সেলাই করতে যে টাকা লাগে, তা দিয়ে নতুন দুই জোড়া কিনে ফেলা যায়। শেফ রাখতে চাইলে তার বেতনই আপনার বেতনের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাও দেশি স্বাদের রান্না নাও আসতে পারে।   এখানে এসে আমি নিজের সাইকেলের চাকা নিজেই ঠিক করেছি ইউটিউব দেখে, জুতা নিজে সেলাই করেছি, গাড়ি নষ্ট হলে নিজে শিখে ঠিক করেছি। রান্না শিখেছি—কারণ বছরের পর বছর নিজের হাতের রান্নাই খেতে হয়। এসব তো কেবল কয়েকটা উদাহরণ; সব বলতে গেলে বই হয়ে যাবে।   কঠিন পড়াশোনা আর গবেষণার পাশাপাশি বেঁচে থাকার প্রয়োজনে আরও শত স্কিল শিখতে হয়। চ্যালেঞ্জ যতই থাকুক, মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে শিখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সহজ হয়ে আসে। আর এসব সংগ্রাম—এসবই মানুষকে শক্তিশালী, সক্ষম ও পরিণত করে তোলে। তাই প্রবাসজীবনে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি আছে অসংখ্য সুযোগ ও ইতিবাচক দিক।   দেশে আমার পরিচিত অসংখ্য বন্ধু–পরিচিত ‘বেকার’। রূপক অর্থে বেকার। অর্থাৎ চাকরি থাকলেও তারা কাজকে অর্থবহ মনে করে না, নিজের কর্মজীবন নিয়ে গর্বিত হতে পারে না। বড় চাকরি, ছোট চাকরি, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই বেশিরভাগ মানুষ সন্তুষ্ট না নিজের কাজ নিয়ে, না নিজের জীবনের মান নিয়ে।   কিন্তু বিদেশে এই বিষয়টা তুলনামূলক কম। এখানে নিজের পছন্দের কাজ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ অসীম—যদি আপনি সেই কাজের স্কিল শিখে নিতে পারেন। ক্যারিয়ারের মাঝপথে হঠাৎ মনে হলে যে আপনি অন্য কিছু করতে চান—এখানে সেটা ভাবার সাহস মানুষ দেখাতে পারে। নিজের জীবন নতুনভাবে গড়া এখানে সম্ভব।   এখানে আপনাকে আপনার কাজ দিয়েই বিচার করা হবে। ব্যক্তিজীবন নিয়ে খুব কমই মানুষ মাথা ঘামায়। রেসিজম আছে ঠিকই—কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার, কাউকে ‘কেনা গোলাম’ ভাবার প্রবণতা এখানে বিরল। আপনি নিজের কাজ ঠিকঠাক করলে কারো কাছে তোষামোদ করতে হবে না। নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করতে হবে না। এই পরিবেশ জীবনকে কম টক্সিক করে তোলে।   বাংলাদেশে তো পাসপোর্ট অফিসের পিয়নকেও ‘স্যার’ বলতে হয় ফাইলটা একটু ভেতরে ঢোকানোর জন্য—যা আমরা শ্রদ্ধা থেকে বলি না, বাধ্য হয়ে বলি।   দেশে–বিদেশে কোথাও প্রতিদিন অসাধারণ লাগবে না। কিন্তু প্রতিদিন অন্তত মনে হওয়া উচিত—আপনি কোনো অর্থবহ কাজে যুক্ত আছেন। যদি সেটা না হয়, তাহলে নিজের কাজ, নিজের স্থান, নিজের পরিবেশ—সবই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।   আপনি যদি নিজের কাজ নিয়ে, নিজের জায়গা নিয়ে, নিজের অবদান নিয়ে গর্ব করতে পারেন—তাহলে দেশে পরিবার–পরিজন নিয়ে জীবন কাটানোই শ্রেয়। আর সময়–সুযোগ পেলে একবার বিদেশে অভিজ্ঞতা নেওয়া যেতে পারে—জব করে, মাস্টার্স বা পিএইচডি করে, কিংবা কিছুদিন ভ্রমণ করে। তবে দয়া করে—ব্যাচেলর/অনার্স লেভেলের পড়াশোনায় সন্তানকে বিদেশে পাঠাবেন না। আর ব্যাংক লোন নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করতে যাবেন না—এটা বাড়াবাড়ি।   লেখক : সাকলাইন মোস্তাক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, যুক্তরাষ্ট্র

প্রতারণা মামলায় মিরপুরের বৈষম্য বিরোধী মামলা বানিজ্যের অন্যতম হোতা লুৎফুল বারী মুকুল গ্রেফতার

  অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে মিরপুরের বৈষম্য বিরোধী মামলা বানিজ্যের অন্যতম হোতা লুৎফুল বারী মুকুলকে।     এক সময় মিরপুরের স্থানীয় বি এন পি-র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও পরবর্তীতে নাসিম ও শাহেদা ওবায়েদের নেতৃত্বাধীন গড়বো বাংলাদেশ ও আসল বি এন পি নামের দুটি সংগঠনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে বি এন পির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান তথা বি এন পি'র বিরুদ্ধে বিষোদগার এবং অপপ্রচারে লিপ্ত হন লুতফুল বারী মুকুল।   হঠাৎ করেই বিগত ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর মুকুল নিজেকে বি এন পি'র নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে।   এক যুগ পূর্বের বি এন পির  সাবেক পদবী ব্যবহার করে তার  তত্বাবধানে চাঁদাবাজি এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে অনেক নিরীহ ব্যবসায়ী ও কর্মজীবিদেরকে বৈষম্য  বিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন এবং মামলা তুলে দিবেন এই মর্মে মোটা অংকের টাকা দাবী করে আসছিলেন।   ইতোপূর্বে মুকুলের জালিয়াতি ও প্রতারনার অনেক অজানা তথ্যও উঠে আসে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেষ্টিগেশন (পি বি আই) এর বিষদ এক তদন্ত রিপোর্টে। মুকুলের মামলা বাণিজ্যের শিকার সাভারের মাছুম তার প্রতি এই জুলুমের বিচার দাবী করেন।   অন্যান্য অভিযোগকারীরা জানান মুকুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে  এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা চলমান।   মিরপুরের ভুক্তভোগী একজন প্রৌড়া বিধবা নারী বলেন, মুকুল ও তার মদদ দাতাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের  নিকট ইতোমধ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আরও তথ্য রয়েছে যে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী ও বি এন পি'র হাই কমান্ডের নেতাদের নিকট মুকুল ও তাকে মদদদেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়াধীন।   অদ্য ধামরাই থানা পুলিশ- অর্থ আত্মসাত, চুরি ও প্রতারণার মামলায়  মুকুলকে মিরপুরের পীরেরবাগের বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে।  

পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার ঝামেলায়? গুগল দিচ্ছে সহজ সমাধান

আজকাল অনলাইন জীবনে অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও ইমেইলের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড রাখা একেবারেই ঝামেলার কাজ। সব পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন, আবার ভুলে গেলে “Forgot Password” ঝামেলাও কম নয়! এই সমস্যার সহজ সমাধান নিয়ে এসেছে গুগল — Google Password Manager। একবার সেটআপ করলেই আপনার পাসওয়ার্ড সবসময় থাকবে আপনার সঙ্গে—নিরাপদে সেভ থাকবে এবং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Auto-fill) বসে যাবে লগইনের সময়।   🔒 Google Password Manager কীভাবে কাজ করে? এই ফিচারটি আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখে। এরপর আপনি কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করতে গেলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড পূরণ করে দেয়। ফলে বারবার টাইপ করার ঝামেলা বা ভুলে যাওয়ার ভয় আর থাকে না।   📱 অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চালু করার সহজ উপায় 1. ফোনের Settings খুলুন 2. নিচে স্ক্রল করে Google অপশনে ট্যাপ করুন 3. Manage your Google Account-এ যান 4. উপরের দিকের Security ট্যাব নির্বাচন করুন 5. নিচে গিয়ে Password Manager-এ ট্যাপ করুন 6. Offer to save passwords অপশনটি On করে দিন এখন থেকে আপনি যখন কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করবেন, গুগল নিজেই জিজ্ঞাসা করবে — “পাসওয়ার্ড সেভ করতে চান?”   💻 কম্পিউটারে (Chrome ব্রাউজারে) চালু করার পদ্ধতি 1. Chrome ব্রাউজার খুলুন 2. উপরের ডান পাশে থাকা তিনটি ডট (⋮) এ ক্লিক করুন 3. Settings নির্বাচন করুন 4. বাম পাশে থাকা Autofill and Passwords মেনুতে ক্লিক করুন 5. Google Password Manager খুলুন 6. Offer to save passwords অপশনটি On করে দিন এখন থেকে গুগল আপনার সব পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখবে এবং যেকোনো ডিভাইসে গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অটো-ফিল হয়ে যাবে।   🧭 সংক্ষেপে ফোনে: Settings → Google → Manage Account → Security → Password Manager → On কম্পিউটারে (Chrome): Settings → Autofill & Passwords → Google Password Manager → Offer to save passwords → On --- 🔐 আর পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার ভয় নয়! গুগল রাখবে আপনার সব পাসওয়ার্ড নিরাপদে, সহজে ও ঝামেলামুক্তভাবে। প্রযুক্তি হোক আরও স্মার্ট, জীবন আরও সহজ।

১৮ বছর ‘‌নিখোঁজ’ থাকার পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে দেখেন বাবা-মা নেই, স্ত্রী অন্যের সংসারে

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলের দুর্বিষহ জীবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর। হারিয়েছেন বাকশক্তিও। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন, আবার কখনো অঝোরে কেঁদে ফেলেন। ভাগ্য বদলের আশায় দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন নরসিংদীর চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে গিয়ে প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা ধরে নেন, হয়তো মারাই গেছেন জাহাঙ্গীর। এভাবে কেটে গেছে দীর্ঘ দেড় যুগ। অবশেষে গত ৭ নভেম্বর দেশে ফিরেছেন তিনি। তবে এতোদিনে বাবা-মা আর নেই, স্ত্রীও এখন অন্যের সংসারে।   জানা গেছে, ৬৬ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর আলম চরদিঘলদী ইউনিয়নের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। পেশায় জেলে ছিলেন। বিশাল মেঘনার বুকে মাছ ধরে জীবিকা চলত তার। সংসারে ছিলেন বাবা-মা, স্ত্রী ও চার সন্তান। দালালের খপ্পরে পড়ে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে রেখে অবৈধ পথে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। প্রবাস জীবনের প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জাহাঙ্গীরের। কিন্তু পরে সব বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন খোঁজ না পেয়ে পরিবার ধরে নেয়, তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই। নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার জানান, গত ২১ অক্টোবর মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নরসিংদী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে কল করেন কাউন্সেলর (লেবার) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম। তিনি জানান, এক বাংলাদেশী সেখানে ক্যাম্পে আটক রয়েছেন। তার কাছে পাসপোর্ট কিংবা আইডি কার্ড, কোনো ডকুমেন্টই নেই। অসুস্থতার কারণে কথা বলতে পারেন না। এতে তার নাম-পরিচয় কিছুই জানা যাচ্ছিল না। হাইকমিশন সম্প্রতি ওই ব্যক্তির ছবি দিয়ে পরিচয় জানতে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকে নিজেদের স্বজন দাবি করে যোগাযোগ করলেও কেউই যথাযথ প্রমাণ দেখাতে পারেননি। একই সময় নরসিংদী সদরের এক ব্যক্তি পোস্টের নিচে মন্তব্য করে জানান, লোকটি চরদিঘলদী ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে পারেন। হাইকমিশন বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের সহায়তায় খুঁজে পাওয়া যায় একটি পরিবারকে। কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই ব্যক্তিই ১৮ বছর আগে মালয়েশিয়া গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জাহাঙ্গীর আলম। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত ভালো নয়- বিষয়টি উপলব্ধি করে প্রয়োজনীয় সব নথি সংগ্রহ করে দ্রুততম সময়ে হাইকমিশনে পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আর্থিক অসচ্ছলতার কথা উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলমকে সরকারি ব্যয়ে দেশে পাঠানোর অনুরোধও জানান তিনি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর গত ৭ নভেম্বর দেশে ফেরেন জাহাঙ্গীর আলম। পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু এরপরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। দেশে এসে দেখেন, বাবা-মাকে হারিয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন পরিবারে ঠাঁই নিয়েছেন তার স্ত্রীও। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলের দুর্বিষহ জীবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর। হারিয়েছেন বাকশক্তিও। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন, আবার কখনো অঝোরে কেঁদে ফেলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে ২০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী দেয়া হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জাহাঙ্গীরের বড় ছেলে আমান উল্লাহ বলেন, আমরা বাবাকে পেয়ে আবেগে আপ্লূত। উনি আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন, এটাই বড় পাওয়া। আমাদের পরিবারের সবাই খুশি। চরদিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসা. সেলিনা আক্তার বলেন, আমাদের পরিষদ থেকে কিছু অর্থ দেয়া হয়েছে। তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে জাহাঙ্গীর আলমের মতো যেন কেউ দেশের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে আমরাও সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করব।   নরসিংদী সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জেনে বা না জেনে কেউই যেন জাহাঙ্গীর আলম বা তার পরিবারের মতো ভুল না করেন। দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। একটি ভুল যেন পরিবারের সারাজীবনের কান্না হয়ে না দাঁড়ায়।

কোর্টে হাজিরা দিতে গিয়েই গুলিতে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন

রাজধানীর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৬) নিহত হয়েছেন। আজ আদালতে তিনি একটি মামলার হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রিপা আক্তার।   সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মামুন লক্ষ্মীপুর সদরের মোবারক কলোনির এস এম ইকবাল হোসেনের ছেলে।   নিহত মামুনের স্ত্রী রিপা আক্তার জানান, আমার স্বামী বিএনপি সমর্থিত একজন কর্মী ও পাশাপাশি ব্যবসা করতো। আজ তার কোর্টে হাজিরা ছিল। আমরা জানতে পারি আমার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে হাসপাতালে এসে আমার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।    এদিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ জানান, আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তাদের হাসপাতালের সামনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। শব্দ শুনে হাসপাতালের মেইন গেটের সামনের এসে ওই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি দেখে সেখান থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। তবে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।   এ দিকে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির খালাতো ভাই হাফিজ জানান, আমার ভাই তারিক সাঈদ মামুন একজন সাধারণ মানুষ। কী কারণে তাকে কে হত্যা করা হলো, আমি জামি না। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কারা তাকে হত্যা করেছে, কী কারণে করেছে আমার জানা নেই।   সিসিটিভি ফুটেছে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনে দুইজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে গুলি করে। পরে তারা নির্দ্বিধায় পালিয়ে যায়।   শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি বলেন, তারিক সাঈফ মামুন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী কি না বলতে বলতে পারছি না। তবে তিনি ক্যাপ্টেন ইমন গ্রুপের লোক ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।   ডিসি তালেব বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। আজ সে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিল। সেখান থেকে বের হওয়ার পরেই দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।   জানা যায়, নিহত সাঈফ মামুন শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের দ্বন্দ্ব চলছিল। দীর্ঘ ২৪ বছর জেল খাটার পর ২০২৩ সালে তিনি জেল থেকে বের হন।   এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তেজগাঁও সাত রাস্তায় মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ওই ঘটনায় মামুন আহত হলেও পথচারী ভুবন চন্দ্র শীল নিহত হয়। নিহত মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শহীদ সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

ঈদুল ফিতরে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0