জাতীয়

ছবি: সংগৃহীত
চীন সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ প্রচারণা

কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার (সিপিসি) পলিটিক্যাল ব্যুরোর পররাষ্ট্রবিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আমন্ত্রণে চীন সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করবেন তিনি। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে চীনের উদ্দেশে তার রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম চীন সফর। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন। তারা কুনমিং হয়ে বেইজিং পৌঁছাবেন।   কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বৈশ্বিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট, উন্নয়ন প্রকল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পানি ব্যবস্থাপনা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সহায়তা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া চীনের উন্নয়ন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তারা।   চীন সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বেইজিং ত্যাগ করবেন। সেখানে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণা চালাবেন এবং আগামী ১৩ মে জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত সংলাপে অংশ নেবেন।   জানা গেছে, ৮০তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক প্রার্থীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক ইন্টারেক্টিভ সংলাপের আয়োজন করেছেন। এতে বাংলাদেশের প্রার্থীর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থীও অংশ নেবেন। সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে।   কূটনৈতিক সূত্রে আরও জানা গেছে, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির নির্বাচন আগামী ২ জুন অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক আবর্তন অনুযায়ী এবার এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় বর্তমানে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সংরক্ষিত নারী আসনে নুসরাতকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করল ইসি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত–জোট সমর্থিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে।   সোমবার (৪ মে) সই করা ওই গেজেট আজ প্রকাশ করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষণার পর ইসি তাঁর নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি অনুমোদন দেয়।   এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় নুসরাত তাবাসসুমকে। তবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় শুরুতে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় তাঁর মনোনয়ন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে আদালতের নির্দেশে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয় এবং যাচাই–বাছাই শেষে তা বৈধ ঘোষণা করা হয়।   জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। এর মধ্যে সর্বশেষ ৪৯ জন সদস্য ইতোমধ্যে শপথ নেন। জামায়াত–জোটের জন্য বরাদ্দ ১৩টি আসনের মধ্যে আগেই ১২ জন শপথ নেন। বাকি একটি আসনে নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হলো।   নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর এখন তাঁর শপথ গ্রহণের আয়োজন করবে সংসদ সচিবালয়।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ০৫, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার আন্তরিক : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা এবং পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের টেকসই পরিবর্তন চান। তিনি একটি ‘রেইনবো নেশন’ অর্থাৎ অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈচিত্র্যময় এবং ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে বা বৈষম্যের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। সোমবার (৪ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিশন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত ‘হিন্দু-কুশ হিমালয় অঞ্চলে সমন্বিত জলবায়ু অভিযোজন সমাধান’ প্রকল্পের দিনব্যাপী সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন এমপি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন আরো বলেন, প্রকৃতির পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলাচ্ছে ও খরা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এই সংকটময় প্রেক্ষাপটে কৃষি জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেওয়া একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তিনি উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। প্রধানমন্ত্রী চান পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে সেখানকার সকল নাগরিকের জন্য আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে। দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত বৈষম্য দূর করে একটি সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে তোলাই সরকারের অগ্রাধিকার ভাবনা। জনকল্যাণে, বিশেষ করে পাহাড়ের মানুষের কল্যাণে দেশি-বিদেশি সংস্থার গৃহীত যেকোনো ইতিবাচক প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, ইসিমোডের হাই-কাস প্রকল্পের সিনিয়র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জেসিকা এমিলি ফুলউড থমাস, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব, প্রকল্পের ফোকাল মো. ইমরানুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য ফাদাং তাং রান্ডাল, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মে মে ন্যু মারমা এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশনের প্রধান (যোগাযোগ ও অ্যাডভোকেসি) আরিফুর রহমান প্রমুখ। সেমিনারে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক বোর্ড, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান মে ০৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
৩৩ বছরেও এমপিওভুক্তি হয়নি, মানবেতর জীবনে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষক

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বেতন-ভাতা ও এমপিও সুবিধা ছাড়াই দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন দেশের বেসরকারি কলেজের অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক। তাদের এই বঞ্চনার অবসান দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করেছেন শিক্ষকরা।   সোমবার (৪ মে) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ’ ও ‘বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন’। সমাবেশে বক্তারা জানান, ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেসরকারি কলেজগুলোতে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়। তখন থেকেই অনেক শিক্ষক সামান্য বা কোনো বেতন ছাড়াই পাঠদান করে আসছেন।   তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় এমপিওভুক্তির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে অনীহা দেখাচ্ছে বলেও দাবি করেন শিক্ষক নেতারা।   বক্তারা আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২১২টি অনার্স কলেজ ও ৪৬টি মাস্টার্স কলেজকে প্রাথমিকভাবে এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে প্রায় ৩,৫০০ শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিল এবং এ জন্য বছরে প্রায় ১২৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু সেই তালিকা অনুযায়ী কার্যক্রম এগোয়নি।   সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া বলেন, এমপিও নীতিমালা-২০২১ এ অনার্স-মাস্টার্স স্তর অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এই বঞ্চনা আরও বেড়েছে। সহ-সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, আগের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হলে হাজারো শিক্ষকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।   ফেডারেশনের সভাপতি নেকবোর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের এই অবহেলা আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। দ্রুত দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।   সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আক্তারুজ্জামান মে ০৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাওরে ধান কাটতে গিয়ে প্রাণ গেল কৃষকের

মৌলভীবাজারের রাজনগরে হাওরে ধান কাটার সময় পানিতে ডুবে রঞ্জন বাউরি (নাম) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের কাউয়াদিঘী হাওরের উত্তর বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত রঞ্জন বাউরি কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর চা বাগান এলাকার বাসিন্দা। তিনি সেখান থেকেই শ্রমিক হিসেবে ধান কাটতে রাজনগরের হাওরে এসেছিলেন।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধান কাটার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রঞ্জন। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পানিতে পড়ে যান। সঙ্গে থাকা অন্য শ্রমিকরা দ্রুত বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ভুইয়া জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০তম এমপি হচ্ছেন নুসরাত তাবাসসুম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার। আজ সোমবার সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং অফিসার ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘নুসরাত তাবাসসুমকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা কমিশনের কাছে নথি পাঠিয়েছিলাম। তাকে নির্বাচিত ঘোষণার গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে।’ এদিকে জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী ও এনসিপির নেত্রী মনিরা শারমিন সরকারি ব্যাংক থেকে অবসরের তিন বছর অতিবাহিত না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল হয়ে যেতে পারে, ২১ এপ্রিল (মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন) নানা মহলে এমন আলোচনার সূচনা হলে ওই দিন নির্ধারিত সময় বিকাল ৪টার ১৯ মিনিট পর জামায়াত জোট থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্রও দাখিল করা হয়। তবে সময়ের পরে দাখিল করায় তা গ্রহণ করা বিরত থাকেন রিটার্নিং অফিসার। এরপর ২৩ এপ্রিল বাছাইয়ে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়ে যায়। এদিকে হাইকোর্টে রিট করেন নুসরাত। শুনানি শেষে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনায় দেন। সে অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসার ২ মে বাছাই করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। রবিবার সে অনুযায়ী, বৈধ প্রার্থী হিসেবে নুসরাতের তালিকাও প্রকাশ করেন রিটার্নিং অফিসার। অন্যদিকে মনিরাও রিট করেন হাইকোর্টে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যার অনুপাতে নির্বাচন কমিশন বিএনপি জোটকে ৩৬টি, স্বতন্ত্র জোটকে একটি এবং জামায়াত জোটকে ১৩টি আসন বণ্টন করে দেয়। কিন্তু নুসরাত-মনিরার আসনটি ছাড়া বাকি ৪৯টিতে ৪৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ইতোমধ্যে তারা শপথ নিয়েছেন। এখন নুসরাতই হচ্ছেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ নম্বর সংসদ সদস্য।

মারিয়া রহমান মে ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ফ্লাইট মিস করলে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ফেরতের নির্দেশ

দুর্ঘটনা, অসুস্থতাসহ যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটে না যেতে পারলে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের বিমান ভাড়ার টাকা ফেরত প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. তফিকুল ইসলাম এক পত্রের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার এ নির্দেশনা দেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদিয়া এয়ারলাইনস ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাঠানো ধর্ম মন্ত্রণালয়ে চিঠিতে হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন-২০২৬- এর ১৫ অনুচ্ছেদের ১৭ ও ১৮ নম্বর ক্রমিকের অনুশাসন প্রতিপালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সূত্রোক্ত পত্রের মাধ্যমে অনুরোধ করা হয়। হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন-২০২৬-এর ১৫ অনুচ্ছেদের ১৮ নম্বর ক্রমিক মোতাবেক দুর্ঘটনা বা গুরুতর অসুস্থতা কিংবা ভিসা জটিলতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটে কোনো হজযাত্রীর গমন সম্ভব না হলে এয়ারলাইনসসমূহ হজযাত্রীকে প্রতিস্থাপন সুবিধা প্রদান করবে। এ ক্ষেত্রে উল্লিখিত কারণে উক্ত হজযাত্রীর সঙ্গে সহগামী হিসেবে নিবন্ধিত পরিবারের কোনো সদস্য হজে গমন করতে না পারলে সহগামী হজযাত্রীকেও প্রতিস্থাপন সুবিধা প্রদান করা প্রয়োজন। পত্রে আরো বলা হয়, দুর্ঘটনা বা গুরুতর অসুস্থতা বা ভিসা জটিলতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটে কোনো হজযাত্রীর গমন সম্ভব না হলে, উক্ত হজযাত্রীর সঙ্গে সহগামী হিসেবে নিবন্ধিত পরিবারের কোনো সদস্য হজে গমন করতে না পারলে সহগামী হজযাত্রীর বিমান টিকেট প্রতিস্থাপন ও বিমান ভাড়ার অর্থ ফেরত প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। প্রসঙ্গত, প্রতিস্থাপনের ফলে এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত কোটার কোনো হ্রাস বা বৃদ্ধি হবে না। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য সৌদি আরবে যাচ্ছেন। গত ১৮ এপ্রিল হজ ফ্লাইট চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। শারীরিক অসুস্থতা, নির্ধারিত সময়ে হজ ফ্লাইট ধরতে না পারাসহ বিভিন্ন কারণে এবারও কিছু সংখ্যক যাত্রী নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করেছেন। এ জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে অনেক ধর্মপ্রাণ হজযাত্রী আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন।

মারিয়া রহমান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দুর্ঘটনার খবরে ছুটে গিয়ে সন্তানের মরদেহ দেখে মায়ের মূর্ছা

নাটোরের লালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এক তরুণের মরদেহ দেখতে গিয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনার শিকার হন তার মা। কয়েক মিনিট আগেই যেই ছেলের মোটরসাইকেলে চড়ে এসেছিলেন, কিছুক্ষণ পরই সেই ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান তিনি।   সোমবার (৪ মে) দুপুরে ঈশ্বরদী-লালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের লালপুর ফিলিং স্টেশনের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুল ইসলাম নিহন (২৪) লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নাগশোষা গ্রামের বাসিন্দা।   পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে আশরাফুল তার মা রুনিফা বেগমকে মোটরসাইকেলে করে ত্রিমোহনী এলাকায় নামিয়ে দেন। এরপর কাছেই একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। এ সময় ছেলের অপেক্ষায় থাকা রুনিফা বেগমও ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে যান। তবে তিনি জানতেন না, নিহত ব্যক্তি তারই ছেলে। সামনে গিয়ে সন্তানের মরদেহ দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।   খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকচালক কামরুল ইসলাম ও তার সহকারী শাহাদত হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।   লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রেমের বিয়ের দুই সপ্তাহ পরই ঝুলন্ত মরদেহ, মৃত্যুর আগে ফেসবুকে বিস্ফোরক অভিযোগ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় প্রেমের বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় রুবায়েত হাসান রাকিব (২৩) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ মে) সকালে পৌর শহরের পোস্ট অফিস রোড এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   রাকিব ওই এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। জানা গেছে, মৃত্যুর আগে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ পোস্টে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দেন এবং সেখানে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন।   পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, রবিবার রাতে খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান রাকিব। পরদিন ভোরে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেলে তার ভাই দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।   পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল ময়মনসিংহ কোর্টে নুসরাত জাহান রীথির সঙ্গে প্রেমের বিয়ে করেন রাকিব। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক চাপে ছিলেন তিনি বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।   মৃত্যুর আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে রাকিব দাবি করেন, স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের সম্পর্ক মেনে নিচ্ছিলেন না এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য কয়েকজনকে সরাসরি দায়ী করেন এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি এটিকে আত্মহত্যা নয়, বরং ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলেও উল্লেখ করেন।   এ ঘটনায় ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে উল্লেখিত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
এসএসসি খাতা নিতে অনীহা: ২৩৫ পরীক্ষক অনুপস্থিত, কড়া হুঁশিয়ারি বোর্ডের

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের উত্তরপত্র মূল্যায়ন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে পরীক্ষকদের অনুপস্থিতিতে। নির্ধারিত দিনে খাতা সংগ্রহের জন্য ডাকা হলেও ২৩৫ জন পরীক্ষক বোর্ডে উপস্থিত হননি।   পরীক্ষকদের আগেই খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবুও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক সেই আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।   সোমবার (৪ মে) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুপস্থিত পরীক্ষকদের আগামী মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা ১১টার মধ্যে সশরীরে বোর্ডে এসে উত্তরপত্র গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা সংগ্রহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
জাপানের টোকিওতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লড়াই অব্যাহত থাকবে : জামায়াত আমির

৪৭, ’৭১, ’২৪ প্রতিটি অধ্যায়ে বাংলাদেশের সন্তানেরা রক্ত দিয়েছেন উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সেই আত্মত্যাগের প্রতি আমাদের দায় একটাই—একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা।  তিনি বলেন, ‘একটি দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসনভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’ আজ সোমবার বিকেলে টোকিওর কামিনাকাযাতোস্থ তাকিনোগাওয়া হলে ইসলামিক মিশন জাপানের আয়োজনে  সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময়  জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে বিরোধী দলীয় নেতাকে বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাবের আহমদ। শহীদদের স্মরণ করে তিনি জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের সবার অবদান সমানভাবে স্মরণ রাখতে হবে এবং জুলাই বিপ্লবের সময়ে হাসিনাসহ সকল অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’ প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে দুইটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে নিজেদের উন্নত করে দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা এবং দ্বিতীয়ত, রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশে ফিরে কিংবা প্রবাসে থেকেই বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ৬৫% ভোটার জামায়াতকে ভোট প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের আস্থা আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সংসদে ও রাজপথে আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবো।’ একইসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, জোট থেকে যে ৭৭ জন ব্যক্তিকে আপনারা নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন, আমরা সেই ৭৭ জন হলাম জনগণের দারোয়ান—আমরা দেশের আর দুর্নীতি হতে দেব না।

মারিয়া রহমান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঢাবিতে হামের অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনে ডাকসুর আপত্তি

হাম-আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে একটি অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠ বরাদ্দে প্রশাসনের ইতিবাচক অবস্থান থাকলেও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) আপত্তিতে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় এক সপ্তাহ বিলম্বে বিকল্প স্থানে স্থাপন করা হয়েছে হামের অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে শিবির নিয়ন্ত্রণাধীন ডাকসুর নেতাদের আপত্তির কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাঠে স্থাপন করা যায়নি হামের অস্থায়ী এই চিকিৎসাকেন্দ্র। অবশেষে ঢাকা মেডিক্যালের অডিটোরিয়ামের চত্বরে ২০ শয্যা বিশিষ্ট এই অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে জায়গা না হওয়া হামে আক্রান্ত শিশুদের সেখানে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সেসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারকে জানালেও যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। মার্চে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে, বিশেষ করে রাজশাহীতে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয় এবং দেশের হাসপাতালগুলোতে হামের চিকিৎসা ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করা হয়। এই পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে প্রায় ৩১১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থার পরিকল্পনা নিয়েছে, যার অংশ হিসেবে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জানা যায়, হামের হামের চিকিৎসার জন্য অনেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় করছেন, এমনকি ঢাকার বাইর থেকেও রোগীরা আসছেন। এতে চাপ বাড়ছে হাসপাতালটিতে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে শয্যা সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দেন। পরিস্থিতি খুব দ্রত সামাল দিতে এবং চিকিৎসাসেবার প্রতিও বিশেষ গুরুত্বারোপ করার নির্দেশনা দেন। হামের পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রোববার (৩ মে) ডাকসুর সঙ্গে বসেন। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে ডেকে সার্বিক পরিস্থিতি শুনে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে ঢাকা মেডিক্যালের আশপাশের বড় জায়গা নিয়ে একটি অস্থায়ী চিকিসাকেন্দ্র বা ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের নির্দেশনা দেন। এই অবস্থায় রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিকল্প হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাঠে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে চিঠি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে ডাকসুর মতামত নিতে উপাচার্য দায়িত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে। তিনি ডাকসুর প্রতিনিধি ও শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে বৈঠকে উপস্থিত ডাকসুর নেতারা মাঠ বরাদ্দের বিষয়ে আপত্তি জানান। ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে কোনো বাধা প্রদান করিনি। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আসলে কত দিনের জন্য মাঠটি চাইছে সেটা তো জানায়নি। অনির্দিষ্টকালের জন্য তো মাঠ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়।’ ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমরা মাঠ আপাতত বরাদ্দ দিতে চাইছি না। এখন তো খেলাধুলার মৌসুম। এই মুহূর্তে মাঠ বরাদ্দ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলেছি।’ উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ‘আমরা ডাকসুর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা এই মুহূর্তে মাঠ বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হামের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠকে বিবেচনা করেছিলাম। কিন্তু সেখানে আপত্তি থাকায় অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অডিটোরিয়াম চত্বরে স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

মারিয়া রহমান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি—সংগৃহীত
আমলাদের শাসক নয়, সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে : স্পিকার

  বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে রাষ্ট্রের ব্যুরোক্রেসিকে সঠিক ভূমিকা পালন করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে আমলাদের শাসক নয়, বরং সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। সোমবার (০৪ মে) জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত 'জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৬' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার বলেন, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসকগণ রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৬ বছরের আওয়ামী সরকারের স্বৈরাচারী শাসনামলে নির্বাচন ব্যবস্থা ছিল নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ত্রুটিপূর্ণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ দেশের সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে জেলাপ্রশাসকগণ সুদৃঢ় ভূমিকা রাখতে পারে। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত গণতন্ত্রকামী। সাধারণ মানুষের অনেক রক্তক্ষয়ী ত্যাগ তিতিক্ষার পর দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অনন্য। একাত্তরের বাংলাদেশ বাঙ্গালি জাতির অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের পরিচয় বহন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া স্বাগত বক্তব্য দেন। জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন রাঙ্গামাটি জেলার জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী, বগুড়ার জেলাপ্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এবং রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার এ, এন, এম বজলুর রশীদ। এসময় ধন্যবাদসূচক বক্তব্য জ্ঞাপন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সংসদ গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র। গণতান্ত্রিক বিতর্ক সংসদকে দুর্বল করে না, বরং শক্তিশালী করে। সংসদ থেকে প্রণীত আইন নির্বাহী বিভাগ বাস্তবায়ন করে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, জেলা প্রশাসকগণ সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে। কেন্দ্রীয় নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনে জেলাপ্রশাসকদের ভূমিকা অর্থবহ। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনারসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইনে পশুর হাটে কঠোর নিষেধাজ্ঞা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইনে কোনো ধরনের পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা এড়াতে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যত্রতত্র পশুর হাট বসানোর কারণে যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ে। বিশেষ করে মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে হাট বসানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।   তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পশুর হাট বসানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এদিকে সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন মহল। তারা মনে করেন, এতে যেমন জনদুর্ভোগ কমবে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর মনিটরিং জরুরি, যাতে কোনোভাবেই সড়ক বা রেললাইনে অবৈধভাবে পশুর হাট বসতে না পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের খাকি রঙের প্যান্টের সাথে আগের শার্টই বহাল থাকছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশের আবেদন ও সার্বিক গ্রহণযোগ্যতার কথা বিবেচনায় তাদের পোশাকে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের ইউনিফর্ম হিসেবে আগের নীল রঙের শার্ট বহাল থাকছে। তবে প্যান্ট হবে খাকি রঙের। তিনি বলেন, কাপড় উৎপাদন ও প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হলেও দ্রুতই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে। আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এই সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন ।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও আইনানুগ অবস্থানে রয়েছে।  তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের ওপর জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেট রয়েছে।  পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও অবসর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়মিত রুটিন কার্যক্রম। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা এবং অবসরগ্রহণ সবই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হচ্ছে।  তিনি জানান, এসব প্রশাসনিক কাজে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।  অবসরের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে এবং বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অবিচার না হয় । কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া অপরাধীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আদালত থেকে জামিন পাওয়া আইনি বিষয়। তবে এসব চিহ্নিত অপরাধীরা যাতে সমাজে পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।  তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে এই অভিযানে কাজ করছে।  তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার মূল হোতা এবং সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানে জড়িত বড় সিন্ডিকেটগুলোকে ধরা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মাদকের এই অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি পেতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, মাদক চোরাচালান রোধ এবং ক্যাম্পের ভেতরে-বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।  সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশনকে ইতিহাসের অন্যতম সফল ও কার্যকর অধিবেশন হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময় পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে গঠনমূলক বিতর্ক ও রেকর্ড সংখ্যক আইন প্রণয়ন হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৪, ২০২৬ 0
এ এস এম শাহরিয়ার কবির। সংগৃহীত ছবি
এনসিপিকে বিদায় জানানোর সময় হয়েছে: শাহরিয়ার কবির

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এএসএম শাহরিয়ার কবির। সেখানে তিনি লেখেন, এনসিপিকে বিদায় জানানোর সময় এসে গেছে।  রোববার (৩ মে) গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ইংরেজিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লেখেন,‘এনসিপিকে বিদায় বলার সময় এসে গেছে। শুভকামনা রইল।’ শাহরিয়ার কবিরের এই পোস্ট নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে। ওই পোস্টটিতে ১০ ঘণ্টায় ৬০ হাজারের মতো লাইক পড়েছে। কমেন্ট পড়েছে সাড়ে ছয় হাজার।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৪, ২০২৬ 0
আবারও বিচারিক ক্ষমতা চাইলেন ডিসিরা, প্রধানমন্ত্রীর ‘না’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব ওঠে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। গতকাল রোববার সম্মেলনের প্রথম দিনে তাদের পক্ষ থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৯০ ধারার অধীনে বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ধারার অধীনে একজন ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিয়ে পরবর্তী কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ডিসিদের বলেছেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।  গতকাল রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও সংক্ষিপ্ত বিচারসহ ফৌজদারি কার্যবিধির অন্তত সাতটি ধারার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য একাধিকবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ডিসিরা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেই প্রস্তাবে সায় দেননি।  গতকাল ডিসি সম্মেলনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বাড়াতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)(এ)(বি)(সি) (ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা) ধারায় ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজন। সম্মেলনে মুক্ত আলোচনায় একাধিক বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি বলেন, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর ডিসির বিচারিক ক্ষমতা কমলেও শান্তি-শৃঙ্খলা ও অপরাধ দমনে এখনও অনেক করণীয় আছে। অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার নির্দেশ আছে। জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দায়ী। গুলিবর্ষণের তাৎক্ষণিক রিপোর্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত সরকারকে অবহিত করে থাকেন। গুলিবর্ষণ-পরবর্তী প্রশাসনিক তদন্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরিচালনার নির্দেশ রয়েছে। এ জন্য ১৯০ ধারার ক্ষমতার প্রয়োজন রয়েছে। সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেলা পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক নিয়মিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানানো হয়। ডিসিরা জানান, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর এই বৈঠক নিয়মিত হচ্ছে না। এখন রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে এ বৈঠক করা হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের জানিয়েছেন।  সাবেক জেলা জজ ড. শাহজাহান সাজু সমকালকে বলেন, ডিসি-এসপিদের সমন্বয়ে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক প্রতি মাসে হওয়া উচিত। এতে বিচারপ্রার্থী জনগণ যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলো উঠে আসবে। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। জেলায় কর্মরত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মহানগর দায়রা জজ ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে নিয়মিত পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সও হওয়া প্রয়োজন।  জানতে চাইলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, জেলা পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক মামলা-মোকদ্দমার বিষয় নিয়ে করা হয়। এখানে রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। এ বৈঠকে বাইরের লোক যুক্ত না করা ভালো।  ইটভাটার জন্য মাটি কাটা বন্ধের নির্দেশ পরিবেশ রক্ষায় সরকার নতুন করে কোনো সনাতন বা মাটির ইটভাটার অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিমেন্টের ব্লক বা কংক্রিট ব্লকের ইটভাটাকে উৎসাহিত এবং পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া চলছে। গতকাল ডিসিদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা শুধু সিমেন্ট দিয়ে ইট বানাবে, তাদের ইটভাটার জন্য অনুমোদন দেবেন। ইটভাটার জন্য মাটি কাটা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। সম্মেলনে সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম এলএ পেমেন্ট (ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন) বা ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণের পেমেন্টকে পুরোপুরি অনলাইনে করার জন্য প্রস্তাব দেন। কারণ, সরকার যখন কোনো উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে, তখন জমির মালিক সে অর্থ সহজে পান না। তিনি আরও বলেছেন, সিলেটের চা শ্রমিকদের জন্য পৃথক হাসপাতাল করা যেতে পারে। এতে চা শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হবে। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব পাঠাতে বলেছেন।  সমন্বিত নীতিমালার আওতায় আসছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর জন্য সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমন্বয় করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে এবং তাদের (ডিসি) কাছ থেকে ইতিবাচক প্রস্তাব পাওয়া গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের কেউ বাদ পড়বেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগটা তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে। অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তবুও আমরা কাউকে বাদ দিচ্ছি না। সবাই যোগদানের সুযোগ পাবেন।  গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।  দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর খবরের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ শিশু হামের টিকার আওতায় এসেছে। এখন এ ক্ষেত্রে কোনো ‘ঘাটতি’ বা ‘দুর্বলতা’ নেই। পর্যাপ্ত টিকা মজুত থাকার দাবি করে তিনি বলেন, হামের টিকা দেওয়া চলছে। টিকা না পাওয়ার সংখ্যা কমে আসছে। পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং মৃত্যুহারও কমে আসছে। তবে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে একটু সময় লাগে। শিগগির সবাইকে টিকার আওতায় আনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এখনও চলছে অভিযান। আর দুই-চার দিনের মধ্যে ১০০ শতাংশ লক্ষ্য কাভার করে ফেলব হামের টিকার ব্যাপারে। আমাদের কোনো রকম স্টক ঘাটতি নেই। কোনো রকম দুর্বলতা নেই।  গতকালও হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।  শিগগির স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগে শিগগিরই স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন করা হবে। গতকাল ডিসি সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা শেষে সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘পার্মানেন্ট প্রসিকিউশন সার্ভিস আমাদের বিবেচনাধীন রয়েছে। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। বর্তমান ব্যবস্থায় পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ হয় অনেকটা রাজনৈতিক বিবেচনায়। এ জন্য কোনো পরীক্ষা নেই; তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদও নেই।’ স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন করা হলে বিচারিক আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটরদের নিয়োগ হবে স্থায়ী। যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। নির্ধারিত বেতন-ভাতাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের মতো অন্য সুবিধা পাবেন তারা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৬ সালে ডিসি সম্মেলনে আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনার পর তখনকার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্বাধীন ‘প্রসিকিউশন সার্ভিস’ গঠন বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামে গোপন বৈঠক থেকে গ্রেফতার ছাত্রলীগ-যুবলীগের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে গোপন বৈঠকের সময় গ্রেফতার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার হালিশহর থানায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নোমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এরআগে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকার ‘তায়েফ’ নামের একটি রেস্টুরেন্টে গোপন বৈঠককালে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে গোপনে নাশকতার পরিকল্পনা করে আসছিল। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত হয়ে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর চেষ্টায় ছিল তাদের। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাতে নগরের নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকায় তায়েফ নামের একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলায় গ্রেফতার ১৪ জন ছাড়াও ৯০ থেকে ৯৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন- মো. শহিদুল ইসলাম (৩৭), মো. নয়ন (১৯), মেহেদী হাসান সোহান (২১), মো. ইব্রাহীম (২৪), সাজ্জাদ হোসেন রাকিব (২৪), মো. ইসমাইল (২৬), রবিউল ইসলাম রাজু (২০), মো. সাকিল খান (২০), মো. রাজিব (২৯), মো. আশরাফুল (১৯), জাহেদ হোসেন (৩৪), মো. আরিফ (২৫), মো. রাফি (২০) ও ইমাম হোসেন (৩০)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদের প্রধান সংগঠক। বৈঠকে দেশের বাইরে অবস্থানরত দলীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব ফোনে শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ, চট্টগ্রাম উত্তর ও ফেনী জেলা শিরোনামের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ পাওয়া যায়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছিলেন। গ্রেফতার অন্য আসামিরাও এসব গ্রুপের সক্রিয় সদস্য এবং তারা তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. সুলতান আহসান উদ্দিন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজ তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘বসবাউবি-প্রাস’-এর নিবন্ধন প্রাপ্তি ও বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে

বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রীদের সংগঠন বসবাউবি-প্রাস-এর নিবন্ধন প্রাপ্তির আনন্দ উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও বিশেষ সাধারণ সভা   ০১ মে, শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ফোর সিজন রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে।   সম্প্রতি সংগঠনটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন লাভ করেছে। সংগঠনের নিবন্ধন নম্বর ঢ-০১০১৩৯। উল্লেখ্য, বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ইতোমধ্যে ১০৩ বছরের গৌরবময় পথচলা অতিক্রম করেছে এবং বসবাউবি-প্রাস বিদ্যালয়ের প্রথম নিবন্ধিত প্রাক্তন ছাত্রী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের আনন্দ সকল প্রাক্তন ছাত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এ বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকাল ৯:৩০টায় রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর শুভ উদ্বোধন, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, সংগঠনের পটভূমি ও লক্ষ্য উপস্থাপন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত মেজর প্রফেসর ডা. লায়লা আঞমান বানুর স্মৃতিচারণ, প্রাক্তন শিক্ষিকাবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ প্রাক্তন ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান, কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি এবং বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হয়।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ডা. কোহিনূর বেগম। সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন সেক্রেটারি প্রফেসর সায়মা ডেইজি। বিশেষ বক্তব্য প্রদান করেন কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর রওশান জাহান এবং ডা. সুফিয়া বেগম, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) ও পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।   অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশে অবস্থানরত স্বনামধন্য, কৃতী ও প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সদস্যভুক্তি কার্যক্রম, পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রাক্তন ছাত্রীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা হয়।   দুপুরে কেক কেটে সংগঠনের শুভ সূচনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রফেসর ডা. সামসুন নাহার রেনুর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।   বসবাউবি-প্রাস-এর নেতৃবৃন্দ বলেন, এই আয়োজন প্রাক্তন ছাত্রীদের পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করা, বিদ্যালয়ের গৌরবময় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে ঢাকায় আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ঢাকায় আসছেন মার্কিন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ফর সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।   সোমবার ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত চলা এই সফরে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্য নিয়েই এই সফর বলে জানানো হয়েছে। এ চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশ সহজতর হবে, বিনিয়োগের বাধা কমবে এবং নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দূতাবাস আরও জানায়, এই সফর দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সাংবাদিকতার আড়ালে অপরাধ করলে কোনো ছাড় নেই: তথ্যমন্ত্রী

  তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতার আড়ালে কোনো ধরনের অপরাধ করলে তার থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, অতীতে যেমন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাহসী সাংবাদিকতা হয়েছে, তেমনি ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান তৈরির মতো সাংবাদিকতার উদাহরণও ছিল—যা এখন নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে।   সোমবার (৪ মে) দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।   কারাগারে থাকা সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম চলবে। তিনি উল্লেখ করেন, কারাবন্দি কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী আমলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর দমন-পীড়নে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল নিয়েও কিছু অভিযোগ বিদ্যমান।   তবে তিনি স্বীকার করেন, অনেক সাংবাদিক স্বাধীনভাবে ও পেশাগত নীতিমালা মেনে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। মূল্যবোধের সংকট এবং ক্ষমতাসীনদের অপশাসনের কারণে দেশ অতীতে যে অধঃপতনের দিকে গিয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান সরকার শিক্ষা নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে বলে জানান তিনি।   তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে সাংবাদিকতাকে যেভাবে কখনও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে গভীর গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।   তিনি আশ্বস্ত করেন, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সাংবাদিকদের জন্য ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। “আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে কোনো ধরনের ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।   পরে মন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ০৪, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের দুই মাস : লাভ হলো কার?

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0