জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। এরপরই ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের নিপীড়ন নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। ক্রিকেটের পরপরই শ্যুটিংয়েও নিপীড়নের অভিযোগ সামনে আসে। সাবেক জাতীয় শ্যুটার ও কোচ শারমিন আক্তার রত্না আজ (শুক্রবার) ফেডারেশনের বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। এ সময় তার সঙ্গে গুলশান থানায় গিয়েছেন বর্তমান শ্যুটার কামরুন নাহার কলি এবং এমা।
ক্রীড়াঙ্গনে নারী নিপীড়নের অনেক অভিযোগ থাকলেও আইনের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনা সেভাবে দেখা যায় না। ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর সাবেক জাতীয় শ্যুটার ও কোচ শারমিন আক্তার রত্না মামলার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণ ডায়েরি করার পর এবার মামলার আবেদন করেছি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা গৃহীত হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমরা চিঠি দিয়েছি। তারা তদন্ত করছে, পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইনি সহায়তাও চেয়েছি। যেন রাষ্ট্রীয় আইনেও এর বিচার হয়।’
শ্যুটার এমা ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদের ওপর যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন গণমাধ্যমে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নজরে আসায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। ২০ নভেম্বর কমিটি গঠনের পর ইতোমধ্যে অবশ্য এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়েছে।
জিএম হায়দার সাজ্জাদের ওপর শ্যুটারদের নিপীড়নের অভিযোগ অনেক। শুধু নারী নয়, পুরুষ শ্যুটাররাও এই বিষয়ে অভিযোগ তোলেন। বিতর্কিত এই কর্মকর্তা ফেডারেশনে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন বিগত সময়ে। এবার সার্চ কমিটি তার নাম শ্যুটিং ফেডারেশনের প্রস্তাবিত তালিকায় রাখেনি। এরপরও পরবর্তী সময়ে দেখা যায় তিনি যুগ্ম সম্পাদক। শ্যুটারদের সাজ্জাদের ব্যাপারে অনেক গুরুতর অভিযোগ থাকলেও তিনি বরাবরই এটি প্রত্যাখ্যান ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার উদঘাটন কামনা করে।
দেশের বাইরে মানুষকে পড়তে আসা উচিত কি না—এ নিয়ে ধর্মীয়, সামাজিক, ব্যক্তিগত নানা মত আছে। তবে আমার বিশ্বাস, সুযোগ থাকলে জীবনে একবার হলেও দেশের বাইরে পড়াশোনা করা উচিত। বিদেশে পড়লে একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়, সে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। চাইলে বিদেশে চাকরি করতে পারে, আবার চাইলে দেশে ফিরে অবদান রাখতে পারে—সেটলড হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়। কিন্তু যেটাই করুক, সে যে অভিজ্ঞতা বয়ে নিয়ে যায় সেটা অমূল্য হয়ে থাকে। তার দুনিয়াকে দেখার চোখ অন্যদের থেকে আলাদা হবে। অনেকেই দেশে হোস্টেলে থেকেছেন, বাবা–মা থেকে দূরে থেকেছেন। কিন্তু বিদেশে এসে যে ধাক্কাটা লাগে, সেটা আলাদা। এখানে সবই একা সামলাতে হয়। অসুস্থ হলে মাথায় নিজেই পানি দিতে হয়। হাজারো চ্যালেঞ্জ, হাজারো স্ট্রাগল—সব একা নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াতে হয়। দেশে একা থাকা আর বিদেশে একা থাকার তফাৎ এখানেই। দেশে জুতা ছিঁড়লে মুচি আছে, বিদ্যুৎ গেলে মেকানিক আছে, গাড়ি নষ্ট হলে সাহায্য মিলবে, রান্নার জন্য বুয়া পাওয়া যাবে। কিন্তু বিদেশে জুতা সেলাই করতে যে টাকা লাগে, তা দিয়ে নতুন দুই জোড়া কিনে ফেলা যায়। শেফ রাখতে চাইলে তার বেতনই আপনার বেতনের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাও দেশি স্বাদের রান্না নাও আসতে পারে। এখানে এসে আমি নিজের সাইকেলের চাকা নিজেই ঠিক করেছি ইউটিউব দেখে, জুতা নিজে সেলাই করেছি, গাড়ি নষ্ট হলে নিজে শিখে ঠিক করেছি। রান্না শিখেছি—কারণ বছরের পর বছর নিজের হাতের রান্নাই খেতে হয়। এসব তো কেবল কয়েকটা উদাহরণ; সব বলতে গেলে বই হয়ে যাবে। কঠিন পড়াশোনা আর গবেষণার পাশাপাশি বেঁচে থাকার প্রয়োজনে আরও শত স্কিল শিখতে হয়। চ্যালেঞ্জ যতই থাকুক, মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে শিখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সহজ হয়ে আসে। আর এসব সংগ্রাম—এসবই মানুষকে শক্তিশালী, সক্ষম ও পরিণত করে তোলে। তাই প্রবাসজীবনে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি আছে অসংখ্য সুযোগ ও ইতিবাচক দিক। দেশে আমার পরিচিত অসংখ্য বন্ধু–পরিচিত ‘বেকার’। রূপক অর্থে বেকার। অর্থাৎ চাকরি থাকলেও তারা কাজকে অর্থবহ মনে করে না, নিজের কর্মজীবন নিয়ে গর্বিত হতে পারে না। বড় চাকরি, ছোট চাকরি, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই বেশিরভাগ মানুষ সন্তুষ্ট না নিজের কাজ নিয়ে, না নিজের জীবনের মান নিয়ে। কিন্তু বিদেশে এই বিষয়টা তুলনামূলক কম। এখানে নিজের পছন্দের কাজ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ অসীম—যদি আপনি সেই কাজের স্কিল শিখে নিতে পারেন। ক্যারিয়ারের মাঝপথে হঠাৎ মনে হলে যে আপনি অন্য কিছু করতে চান—এখানে সেটা ভাবার সাহস মানুষ দেখাতে পারে। নিজের জীবন নতুনভাবে গড়া এখানে সম্ভব। এখানে আপনাকে আপনার কাজ দিয়েই বিচার করা হবে। ব্যক্তিজীবন নিয়ে খুব কমই মানুষ মাথা ঘামায়। রেসিজম আছে ঠিকই—কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার, কাউকে ‘কেনা গোলাম’ ভাবার প্রবণতা এখানে বিরল। আপনি নিজের কাজ ঠিকঠাক করলে কারো কাছে তোষামোদ করতে হবে না। নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করতে হবে না। এই পরিবেশ জীবনকে কম টক্সিক করে তোলে। বাংলাদেশে তো পাসপোর্ট অফিসের পিয়নকেও ‘স্যার’ বলতে হয় ফাইলটা একটু ভেতরে ঢোকানোর জন্য—যা আমরা শ্রদ্ধা থেকে বলি না, বাধ্য হয়ে বলি। দেশে–বিদেশে কোথাও প্রতিদিন অসাধারণ লাগবে না। কিন্তু প্রতিদিন অন্তত মনে হওয়া উচিত—আপনি কোনো অর্থবহ কাজে যুক্ত আছেন। যদি সেটা না হয়, তাহলে নিজের কাজ, নিজের স্থান, নিজের পরিবেশ—সবই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আপনি যদি নিজের কাজ নিয়ে, নিজের জায়গা নিয়ে, নিজের অবদান নিয়ে গর্ব করতে পারেন—তাহলে দেশে পরিবার–পরিজন নিয়ে জীবন কাটানোই শ্রেয়। আর সময়–সুযোগ পেলে একবার বিদেশে অভিজ্ঞতা নেওয়া যেতে পারে—জব করে, মাস্টার্স বা পিএইচডি করে, কিংবা কিছুদিন ভ্রমণ করে। তবে দয়া করে—ব্যাচেলর/অনার্স লেভেলের পড়াশোনায় সন্তানকে বিদেশে পাঠাবেন না। আর ব্যাংক লোন নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করতে যাবেন না—এটা বাড়াবাড়ি। লেখক : সাকলাইন মোস্তাক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, যুক্তরাষ্ট্র
অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে মিরপুরের বৈষম্য বিরোধী মামলা বানিজ্যের অন্যতম হোতা লুৎফুল বারী মুকুলকে। এক সময় মিরপুরের স্থানীয় বি এন পি-র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও পরবর্তীতে নাসিম ও শাহেদা ওবায়েদের নেতৃত্বাধীন গড়বো বাংলাদেশ ও আসল বি এন পি নামের দুটি সংগঠনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে বি এন পির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান তথা বি এন পি'র বিরুদ্ধে বিষোদগার এবং অপপ্রচারে লিপ্ত হন লুতফুল বারী মুকুল। হঠাৎ করেই বিগত ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর মুকুল নিজেকে বি এন পি'র নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে। এক যুগ পূর্বের বি এন পির সাবেক পদবী ব্যবহার করে তার তত্বাবধানে চাঁদাবাজি এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে অনেক নিরীহ ব্যবসায়ী ও কর্মজীবিদেরকে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন এবং মামলা তুলে দিবেন এই মর্মে মোটা অংকের টাকা দাবী করে আসছিলেন। ইতোপূর্বে মুকুলের জালিয়াতি ও প্রতারনার অনেক অজানা তথ্যও উঠে আসে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেষ্টিগেশন (পি বি আই) এর বিষদ এক তদন্ত রিপোর্টে। মুকুলের মামলা বাণিজ্যের শিকার সাভারের মাছুম তার প্রতি এই জুলুমের বিচার দাবী করেন। অন্যান্য অভিযোগকারীরা জানান মুকুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা চলমান। মিরপুরের ভুক্তভোগী একজন প্রৌড়া বিধবা নারী বলেন, মুকুল ও তার মদদ দাতাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও র্যাবের নিকট ইতোমধ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আরও তথ্য রয়েছে যে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী ও বি এন পি'র হাই কমান্ডের নেতাদের নিকট মুকুল ও তাকে মদদদেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়াধীন। অদ্য ধামরাই থানা পুলিশ- অর্থ আত্মসাত, চুরি ও প্রতারণার মামলায় মুকুলকে মিরপুরের পীরেরবাগের বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে।
আজকাল অনলাইন জীবনে অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও ইমেইলের জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড রাখা একেবারেই ঝামেলার কাজ। সব পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন, আবার ভুলে গেলে “Forgot Password” ঝামেলাও কম নয়! এই সমস্যার সহজ সমাধান নিয়ে এসেছে গুগল — Google Password Manager। একবার সেটআপ করলেই আপনার পাসওয়ার্ড সবসময় থাকবে আপনার সঙ্গে—নিরাপদে সেভ থাকবে এবং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Auto-fill) বসে যাবে লগইনের সময়। 🔒 Google Password Manager কীভাবে কাজ করে? এই ফিচারটি আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখে। এরপর আপনি কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করতে গেলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড পূরণ করে দেয়। ফলে বারবার টাইপ করার ঝামেলা বা ভুলে যাওয়ার ভয় আর থাকে না। 📱 অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চালু করার সহজ উপায় 1. ফোনের Settings খুলুন 2. নিচে স্ক্রল করে Google অপশনে ট্যাপ করুন 3. Manage your Google Account-এ যান 4. উপরের দিকের Security ট্যাব নির্বাচন করুন 5. নিচে গিয়ে Password Manager-এ ট্যাপ করুন 6. Offer to save passwords অপশনটি On করে দিন এখন থেকে আপনি যখন কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগইন করবেন, গুগল নিজেই জিজ্ঞাসা করবে — “পাসওয়ার্ড সেভ করতে চান?” 💻 কম্পিউটারে (Chrome ব্রাউজারে) চালু করার পদ্ধতি 1. Chrome ব্রাউজার খুলুন 2. উপরের ডান পাশে থাকা তিনটি ডট (⋮) এ ক্লিক করুন 3. Settings নির্বাচন করুন 4. বাম পাশে থাকা Autofill and Passwords মেনুতে ক্লিক করুন 5. Google Password Manager খুলুন 6. Offer to save passwords অপশনটি On করে দিন এখন থেকে গুগল আপনার সব পাসওয়ার্ড সেভ করে রাখবে এবং যেকোনো ডিভাইসে গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অটো-ফিল হয়ে যাবে। 🧭 সংক্ষেপে ফোনে: Settings → Google → Manage Account → Security → Password Manager → On কম্পিউটারে (Chrome): Settings → Autofill & Passwords → Google Password Manager → Offer to save passwords → On --- 🔐 আর পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়ার ভয় নয়! গুগল রাখবে আপনার সব পাসওয়ার্ড নিরাপদে, সহজে ও ঝামেলামুক্তভাবে। প্রযুক্তি হোক আরও স্মার্ট, জীবন আরও সহজ।
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলের দুর্বিষহ জীবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর। হারিয়েছেন বাকশক্তিও। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন, আবার কখনো অঝোরে কেঁদে ফেলেন। ভাগ্য বদলের আশায় দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন নরসিংদীর চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে গিয়ে প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা ধরে নেন, হয়তো মারাই গেছেন জাহাঙ্গীর। এভাবে কেটে গেছে দীর্ঘ দেড় যুগ। অবশেষে গত ৭ নভেম্বর দেশে ফিরেছেন তিনি। তবে এতোদিনে বাবা-মা আর নেই, স্ত্রীও এখন অন্যের সংসারে। জানা গেছে, ৬৬ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর আলম চরদিঘলদী ইউনিয়নের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। পেশায় জেলে ছিলেন। বিশাল মেঘনার বুকে মাছ ধরে জীবিকা চলত তার। সংসারে ছিলেন বাবা-মা, স্ত্রী ও চার সন্তান। দালালের খপ্পরে পড়ে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে রেখে অবৈধ পথে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। প্রবাস জীবনের প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জাহাঙ্গীরের। কিন্তু পরে সব বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন খোঁজ না পেয়ে পরিবার ধরে নেয়, তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই। নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার জানান, গত ২১ অক্টোবর মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নরসিংদী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে কল করেন কাউন্সেলর (লেবার) সৈয়দ শরীফুল ইসলাম। তিনি জানান, এক বাংলাদেশী সেখানে ক্যাম্পে আটক রয়েছেন। তার কাছে পাসপোর্ট কিংবা আইডি কার্ড, কোনো ডকুমেন্টই নেই। অসুস্থতার কারণে কথা বলতে পারেন না। এতে তার নাম-পরিচয় কিছুই জানা যাচ্ছিল না। হাইকমিশন সম্প্রতি ওই ব্যক্তির ছবি দিয়ে পরিচয় জানতে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকে নিজেদের স্বজন দাবি করে যোগাযোগ করলেও কেউই যথাযথ প্রমাণ দেখাতে পারেননি। একই সময় নরসিংদী সদরের এক ব্যক্তি পোস্টের নিচে মন্তব্য করে জানান, লোকটি চরদিঘলদী ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে পারেন। হাইকমিশন বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনদের সহায়তায় খুঁজে পাওয়া যায় একটি পরিবারকে। কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই ব্যক্তিই ১৮ বছর আগে মালয়েশিয়া গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জাহাঙ্গীর আলম। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত ভালো নয়- বিষয়টি উপলব্ধি করে প্রয়োজনীয় সব নথি সংগ্রহ করে দ্রুততম সময়ে হাইকমিশনে পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আর্থিক অসচ্ছলতার কথা উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলমকে সরকারি ব্যয়ে দেশে পাঠানোর অনুরোধও জানান তিনি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর গত ৭ নভেম্বর দেশে ফেরেন জাহাঙ্গীর আলম। পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু এরপরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। দেশে এসে দেখেন, বাবা-মাকে হারিয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন পরিবারে ঠাঁই নিয়েছেন তার স্ত্রীও। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হয়ে বছরের পর বছর জেলের দুর্বিষহ জীবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীর। হারিয়েছেন বাকশক্তিও। শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন, আবার কখনো অঝোরে কেঁদে ফেলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে ২০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী দেয়া হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে তার জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জাহাঙ্গীরের বড় ছেলে আমান উল্লাহ বলেন, আমরা বাবাকে পেয়ে আবেগে আপ্লূত। উনি আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন, এটাই বড় পাওয়া। আমাদের পরিবারের সবাই খুশি। চরদিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসা. সেলিনা আক্তার বলেন, আমাদের পরিষদ থেকে কিছু অর্থ দেয়া হয়েছে। তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে জাহাঙ্গীর আলমের মতো যেন কেউ দেশের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে আমরাও সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করব। নরসিংদী সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জেনে বা না জেনে কেউই যেন জাহাঙ্গীর আলম বা তার পরিবারের মতো ভুল না করেন। দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। একটি ভুল যেন পরিবারের সারাজীবনের কান্না হয়ে না দাঁড়ায়।
রাজধানীর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৬) নিহত হয়েছেন। আজ আদালতে তিনি একটি মামলার হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রিপা আক্তার। সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মামুন লক্ষ্মীপুর সদরের মোবারক কলোনির এস এম ইকবাল হোসেনের ছেলে। নিহত মামুনের স্ত্রী রিপা আক্তার জানান, আমার স্বামী বিএনপি সমর্থিত একজন কর্মী ও পাশাপাশি ব্যবসা করতো। আজ তার কোর্টে হাজিরা ছিল। আমরা জানতে পারি আমার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে হাসপাতালে এসে আমার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। এদিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ জানান, আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তাদের হাসপাতালের সামনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। শব্দ শুনে হাসপাতালের মেইন গেটের সামনের এসে ওই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি দেখে সেখান থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। তবে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। এ দিকে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির খালাতো ভাই হাফিজ জানান, আমার ভাই তারিক সাঈদ মামুন একজন সাধারণ মানুষ। কী কারণে তাকে কে হত্যা করা হলো, আমি জামি না। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কারা তাকে হত্যা করেছে, কী কারণে করেছে আমার জানা নেই। সিসিটিভি ফুটেছে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনে দুইজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে গুলি করে। পরে তারা নির্দ্বিধায় পালিয়ে যায়। শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি বলেন, তারিক সাঈফ মামুন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী কি না বলতে বলতে পারছি না। তবে তিনি ক্যাপ্টেন ইমন গ্রুপের লোক ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ডিসি তালেব বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। আজ সে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিল। সেখান থেকে বের হওয়ার পরেই দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। জানা যায়, নিহত সাঈফ মামুন শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে তার সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্যাপ্টেন ইমনের দ্বন্দ্ব চলছিল। দীর্ঘ ২৪ বছর জেল খাটার পর ২০২৩ সালে তিনি জেল থেকে বের হন। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তেজগাঁও সাত রাস্তায় মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ওই ঘটনায় মামুন আহত হলেও পথচারী ভুবন চন্দ্র শীল নিহত হয়। নিহত মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শহীদ সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কম নাটক করেনি এবার পাকিস্তান।ক্রিকেটপ্রেমীদের অবশ্য সব নাটকের দৃশ্যই এখন মুখস্ত। আজ ফাইনালেও নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়েছে টুর্নামেন্টের সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে শ্রীলঙ্কাকে ৫ রানে হারিয়েও সেমিফাইনালে যেতে পারল না পাকিস্তান। অন্তত ৬৫ রানে জয়ের সমীকরণ ছিল পাকিস্তানের সামনে। ফলে নিউজিল্যান্ড নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনাল। পাকিস্তানের তোলা ২১২ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা থেমেছে ২০৭ রান করে। পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় শ্রীলঙ্কা। এদিন ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন সাহিবজাদা ফারহান এবং ফখর জামান। শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট চালিয়েছেন দুই ব্যাটার। শ্রীলঙ্কান বোলারদের তুলোধুনো করে রান তুলেছেন দুজন। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। দ্রুত গতিতে রান তুলেছেন দলের বোর্ডে। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৪ রান তোলে পাকিস্তান। পাওয়ারপ্লে শেষেও চলেছে দুই ওপেনারের উইলোবাজি। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে রান তুলেছেন ফারহান এবং ফখর। লঙ্কান বোলারদের কচুকাটা করে রান বের করেছেন দুই ওপেনার। ক্রমশ বড় হয়েছে ওপেনিং জুটি। পার করে ফেলে ১০০ রানও। দুজনেই ফিফটি ছুঁয়েছেন। ফিফটির পর ছুটেছেন সেঞ্চুরির দিকে। দুজনের জুটি বড় হতে হতে হয়েছে ১৭৮ রানের অনবদ্য এক জুটি। মাত্র ৯৫ বলে ওপেনিং জুটিতে ১৭৮ রান তুলেছেন ফারহান এবং ফখর। ৪২ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান ফখর। তিনি সেঞ্চুরি মিস করলেও ফারহান করেননি। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন সাহিবজাদা ফারহান, যা এবারের বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ৬০ বলে ১০০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে দলের ২০৩ রানের মাথাতে আউট হন ফারহান। দুই ওপেনার ফারহান এবং ফখরের পর পাকিস্তানের ইনিংস যেন হয়ে যায় তাসের ঘর। আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। রানের গতিও কিছুটা কমে যায়। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২১২ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন দিলশান মাদুশাঙ্কা। ২ উইকেট তোলেন দাসুন শানাকা। ১ উইকেট শিকার করেছেন দুশমন্থ চামিরা। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই পাথুম নিসাঙ্কার উইকেট হারিয়ে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা। ৭ বলে ৩ রান করা নিসাঙ্কা দলের ৮ রানের মাথাতে থেমেছেন। এরপর পরিস্থিতি সামালা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কামিল মিশারা এবং চারিথ আসালাঙ্কা। দুজনে ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ১৫ বলে ২৬ রান করে দলের ৩৩ রানের মাথাতে বিদায় নেন মিশারা। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। চারে নেমে ক্রিজে আসেন পাভান রাথনায়েকে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন তিনি। আসালাঙ্কা ১৮ বলে ২৫ রান করে দলের ৭৫ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন। কামিন্দু মেন্ডিসও সুবিধা করতে পারেননি। দলের ৯৪ রানের মাথাতে ৬ বলে ৩ রান করে বিদায় নেন তিনি। এরপর ৩ বলে ৫ রান করে আউট হয়েছেন জানিথ লিয়ানাগে। লিয়ানাগের বিদায়ের পর রাথনায়েকের সাথে যোগ দিয়েছেন দাসুন শানাকা। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন দুজন। শানাকা-রাথনায়েকের জুটিতে গতি পায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। পাকিস্তানের বোলারদের কচুকাটা করে রান বের করেছেন দুজন। রাথনায়েকে ফিফটি হাঁকিয়ে থেমেছেন। ৩৭ বলে ৫৮ রান করে দলের ১৬২ রানের মাথাতে বিদায় নেন তিনি। শেষ দিকে লড়াই চালিয়ে গেছেন শানাকা। হাঁকিয়েছেন একের পর এক বাউন্ডারি। দারুণ সব ছক্কা। চলে যান ফিফটির কাছাকাছি। শেষ দিকে প্রায় একাই লড়েছেন শানাকা। একদম শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ২৮ রান। বোলিংয়ে শাহীন শাহ আফ্রিদি। প্রথম বলে চার, পরের ৩ বলে ৩ ছক্কায় সমীকরণ চলে আসে ২ বলে ৬ রানে। শানাকা শেষ ২ বল থেকে রান নিতে পারলেন না। ৫ রানে জয় পায় পাকিস্তান। ৩১ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে টিকে ছিলেন দাসুন শানাকা। পাকিস্তানের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন আবরার আহমেদ। ১টি করে উইকেট তুলেছেন মোহাম্মদ নওয়াজ, নাসিম শাহ এবং শাহীন শাহ আফ্রিদি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। কিন্তু চলমান বিশ্বকাপে সময়টা ভালো যাচ্ছে না টিম ইন্ডিয়ার। সেমিফাইনালে যেতে হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সুপার এইটের ম্যাচে জিততেই হবে সূর্যকুমার যাদবদের। এর মধ্যেই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, বিশ্বকাপ জিততে না পারলে ভারতের প্রধান কোচের চাকরি হারাতে পারেন গৌতম গম্ভীর। আর এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক ইংলিশ পেসার স্টিভ হার্মিসন। রাহুল দ্রাবিড়ের উত্তরসূরী হিসেবে ভারতের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর৷ তার অধীনেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল ভারত। ওয়ানডে ও টেস্ট সাফল্য ব্যর্থতার মিশ্রণ থাকলেও গম্ভীরের অধীনে টি-টোয়েন্টিতে অপ্রতিরোধ্য ভারত। এখন পর্যন্ত তার সময়ে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজও হারেনি টিম ইন্ডিয়া। তবে বিশ্বকাপ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে বেশ কঠিন অবস্থায় রয়েছে ভারত। গ্রুপপর্বে ভালো করলেও সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে কাজ কঠিন করে ফেলেছে ভারত। শেষ আটের শেষ ম্যাচে ক্যারিবীয়দের হারাতেই হবে সূর্যকুমার যাদবদের। অন্যথায় বিদায় নিতে হবে বিশ্বকাপ থেকে। কোচিংয়ের প্রশংসা করলেও ভারত বিদায় নিলে গম্ভীরের চাকরি নিয়ে শঙ্কা দেখে হার্মিসন টকস্পোর্ট ক্রিকেটের ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, ‘গম্ভীরকে পছন্দ করা কঠিন…সে খুবই রূঢ় স্বভাবের, আর ড্রেসিংরুমে সে কেমন আমি নিশ্চিত নই। ভারতীয় কোচ হিসেবে খুব কম অহংবোধ থাকলে, সফল হওয়ার সুযোগ থাকে। এই বিশ্বকাপ জিততে না পারলে সে দায়িত্ব হারাবে। তবে কোচিংয়ে সে যেভাবে এগিয়েছে, আমি তার প্রশংসা করি। খেলোয়াড় হিসেবে সে ছিল খিটখিটে মেজাজের ও একগুঁয়ে স্বভাবের।’ কোচিং প্যানেলে নেদারল্যান্ডসের রায়ান টেন ডেসকাট, দক্ষিণ আফ্রিকার মরনে মরকেলদের রেখেছেন গম্ভীর। তার এমন সাহসী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন হার্মিসন। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় গ্রেটদের নিজেদের সঙ্গে কোচিংয়ে সে(গম্ভীর) রাখেনি। বরং, মরনে মর্কেল ও রায়ান টেন ডেসকাটকে নিয়েছে, যারা তার চোখে তার কোচিংয়ের ধরনে দল পরিচালনার জন্য সেরা কোচ। সে যাদের পাশে চায়, তাদের প্রতি অনুগত, আর তার এই গুণের প্রশংসা করি।’ হার্মিসন এসময় আরও বলেন, ‘ভালো কোচের লক্ষণ হলো, ভুল করলে স্বীকার করা এবং সেটা শুধরানোর চেষ্টা করা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলা যে, এভাবে কাজ হবে না, আমার ধরন পরিবর্তন করা দরকার। আমার মনে হয় না, গম্ভীর এই জায়গায় শক্তিশালী।’
সুপার এইটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতে অক্সিজেন পেয়েছে ভারত। সেই জয়ের ফলে ভারতের সমীকরণটা যেন পানির মতোই সহজ হয়ে গেছে। এবার সুপার-আটের নিজেদের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে টিম ইন্ডিয়া। আগামী ১লা মার্চ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচটি কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল। যে দল জিতবে, সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। এই ম্যাচে নেট রান রেটের কোনও ভূমিকা নেই। বড় বা ছোট ব্যবধান নয়—এখানে একমাত্র লক্ষ্য জয়। ইডেনে শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড দুর্দান্ত। তারা এই মাঠে এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে হারেনি। এখানে খেলা তিন ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। এমন কী ২০১৬ সালে এই মাঠেই বিশ্বকাপের ফাইনাল জিতেছিল তারা। কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে একাধিক আক্রমণাত্মক ব্যাটার রয়েছেন, যারা ইডেনের ছোট বাউন্ডারির সুবিধা নিতে পারে। এবারের টুর্নামেন্টে সর্বাধিক ১৭টি ছক্কা মেরেছেন শিমরন হেটমায়ার। অন্যদিকে শেরফান রাদারফোর্ড মেরেছেন ১২টি ছক্কা। তাদের সঙ্গে দলে আরও কয়েক জন বিধ্বংসী ব্যাটার রয়েছেন, যারা যে কোনও দলের বিপক্ষে বিপদ তৈরি করতে পারেন। স্পিনের বিপক্ষে ভারতের সমস্যা এবারের বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটাররা স্পিনের বিপক্ষে কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। ধীরগতির বোলিংয়ের বিরুদ্ধে রান করতে পারছেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ভালো মানের স্পিনার আছেন। গুদাকেশ মোতি এবং আকিল হোসেন ভারতকে চাপে ফেলতে পারেন। মোতি এখনও পর্যন্ত ১০ উইকেট নিয়েছেন, আর হোসেন নিয়েছেন ৬ উইকেট। প্রথমবার কলকাতায় বিশ্বকাপের ম্যাচে মুখোমুখি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই প্রথম কলকাতায় মুখোমুখি হবে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও ইডেন গার্ডেন্সে বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ক্যারিবিয়ানদের। তবে সামগ্রিক ভাবে এই মাঠে ভারতের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খুব ভালো। বিশ্বকাপ বাদ দিলে, এই মাঠে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে খেলা চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে ভারত। সব মিলিয়ে ১লা মার্চের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উত্তেজনাপূর্ণ হতে চলেছে।