জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ বাড়তে পারে উল্লেখ করে বাংলাদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জনসমাগম ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) জারি করা এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে শুরু হওয়া বিক্ষোভও হঠাৎ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। এ কারণে বড় ধরনের জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের আশপাশের পরিস্থিতির প্রতি সচেতন থাকা, স্থানীয় গণমাধ্যম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং যে কোনো ধরনের ভিড় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস বা যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পেতে স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে (এসটিইপি) নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাতিল হওয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ৩১টি বিদ্যুৎ প্রকল্প আবারও পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এসব প্রকল্পের লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) পুনর্বহাল করা হবে কি না, তা যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর কারণ ও প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাত আগে থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মোট ৩৭টি এলওআই বাতিল করা হয়েছিল, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সরকার এখন এসব প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে কার্যকর প্রকল্পগুলো পুনরায় চালুর কথা ভাবছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি, যদিও সরকার দ্রুত এগিয়ে যেতে চায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব প্রকল্পের এলওআই বাতিল করা হয়। তখন বলা হয়েছিল, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট, যার অধিকাংশই সৌরবিদ্যুৎ। এছাড়া প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বায়ু এবং ২৫ মেগাওয়াট বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত হলে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নতুন গতি আসতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হতে পারে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সংঘাত আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ১২ এপ্রিল প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ইমন হোসেন ওরফে ‘অ্যালেক্স ইমন’কে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিপক্ষের ধাওয়ায় পড়ে গেলে তাকে ঘিরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ ১৮টি মামলা ছিল। তিনি মোহাম্মদপুরের ‘অ্যালেক্স গ্রুপের’ প্রধান এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইমনের এই পরিণতির সঙ্গে ব্রাজিলের আলোচিত সিনেমা সিটি অব গড-এর মিল খুঁজছেন অনেকে। সিনেমাটিতে যেমন অপরাধজগতের এক প্রভাবশালী চরিত্র বিচারহীনতার মধ্যেই প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হয়, মোহাম্মদপুরেও তেমনভাবে অপরাধীরা আইনের শাস্তির আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মোহাম্মদপুরে খুন, দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও আধিপত্যের লড়াই নতুন নয়। চার দশকের বেশি সময় ধরে এলাকাটিতে ছোট-বড় অপরাধী চক্র সক্রিয়। সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরন বদলেছে, তৈরি হয়েছে নতুন নতুন গ্যাং। ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য বলছে, মোহাম্মদপুরে বর্তমানে অর্ধশতাধিক অপরাধী দল সক্রিয়। এর মধ্যে অন্তত ১৭টি বড় গ্যাং। প্রতিটি দলে ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য রয়েছে। পাটালি গ্রুপ, লেভেল হাই গ্রুপ, ডাইল্লা গ্রুপ, অ্যালেক্স গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, লও ঠেলা গ্রুপ, কবজি কাটা আনোয়ার গ্রুপসহ বিভিন্ন নামে এসব দল পরিচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগে এসব গোষ্ঠী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ডিএমপির হিসাবে, ওই সময়ের পর প্রায় ২০ মাসে মোহাম্মদপুরে অপরাধী দলগুলোর দ্বন্দ্বে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। ইমনের পর ১৫ এপ্রিল রাতে খুন হন আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল। মোহাম্মদপুরের ইতিহাসও জটিল সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত। ষাটের দশকে ‘মোহাম্মদপুর মডেল টাউন’ প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকাটির বিকাশ শুরু হয়। দেশভাগের পর ভারত থেকে আসা বিহারিদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে এ এলাকায় বসতি গড়ে ওঠে। পরে শহর বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে জলাভূমি, নিম্নভূমি ও প্রান্তিক মানুষের বসত এলাকা ঘিরে গড়ে ওঠে নতুন সামাজিক কাঠামো। আশি ও নব্বইয়ের দশক থেকে মোহাম্মদপুরে অপরাধী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হতে থাকে। সে সময় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটে। শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে জোসেফ, ইমন, টিটন, পিচ্চি হেলালসহ একাধিক নাম আলোচনায় আসে। ২০০৯ সালের পর রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার আরও বাড়ে। মাদক, ছিনতাই, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ভাড়াটে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তরুণদের বিভিন্ন গ্রুপ। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব গোষ্ঠী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের পর মোহাম্মদপুরে সক্রিয় বড় অপরাধী দলগুলোর কয়েকটির পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ের অভিযোগ রয়েছে। আবার পিচ্চি হেলাল, ইমন ও নবী হোসেনের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুসারীরাও আলাদা বাহিনী পরিচালনা করছে। মোহাম্মদপুরের ভৌগোলিক অবস্থানও অপরাধীদের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। ঘনবসতি, জেনেভা ক্যাম্প, নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস, আবাসন ব্যবসার প্রসার এবং বুড়িগঙ্গা পার হয়ে দ্রুত পালানোর সুযোগ—সব মিলিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, মোহাম্মদপুরে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ বাস করেন, যা ঢাকার গড় জনঘনত্বের দ্বিগুণেরও বেশি। পুলিশের মতে, অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে জেনেভা ক্যাম্প, মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মোহাম্মদপুর থেকে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনকে এবং র্যাব ১ হাজার ২০০ জনকে। তবুও খুনোখুনি ও গ্যাং সংঘাত থামছে না। অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত, আগাম নজরদারিভিত্তিক পুলিশিং এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। অপরাধ করে কেউ পার পেয়ে গেলে নতুন অপরাধী দল তৈরি হওয়া বন্ধ হবে না। মোহাম্মদপুরের দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা বলছেন, তারা অপরাধী গোষ্ঠীর দাপট থেকে মুক্তি চান। তাদের আক্ষেপ—অপরাধের কারণে পুরো এলাকার মানুষ এখন ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের শিকার। অথচ তারা চান নিরাপদ, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ মোহাম্মদপুর।
চট্টগ্রামে এক নারী পোশাকশ্রমিককে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২ মে) দিবাগত রাতে ২ নম্বর মাইলের মাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত উজ্জ্বল চন্দ্র মিত্রকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, গত ১ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত পপি তালুকদার (২২) চট্টগ্রাম ইপিজেডের ইয়ং ওয়ান গার্মেন্টসে কাজ করতেন। তার স্বামী উজ্জ্বল চন্দ্র মিত্র আগে চাকরি করলেও বর্তমানে বেকার ছিলেন। তিনি মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নেশার টাকা নিয়ে প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন তিনি। এজাহারে বলা হয়, গত ১ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় নেশার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল চন্দ্র মিত্র স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় এক চিকিৎসককে বাসায় আনা হলে তিনি পরীক্ষা করে বলেন, পপির হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে। এরপরও হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে অভিযুক্ত স্বামী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্বামীর বোন ও আত্মীয়রা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পপিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শনিবার বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত পপি তালুকদারের বাবা। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত স্বামীকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।