হেসেখেলেই জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। গ্লেন ফিলিপস ও রাচিন রবীন্দ্রের ব্যাটে চড়ে কানাডাকে রীতিমতো উড়িয়েই দিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপের ৩১তম ম্যাচে কিউইরা আজ জয় পেয়েছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে। তাও আবার ৪.৫ ওভার হাতে রেখেই।
চেন্নাইয়ে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে কানাডা উদ্বোধনী জুটিতেই জড়ো করে ১১৬ রান। আর এতে মূল অবদান যুবরাজ সামরার। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন অধিনায়ক দিলপ্রিত বাজওয়া। এক প্রান্ত আগলে রাখেন দিলপ্রিত অন্য প্রান্তে চড়াও হন যুবরাজ।
১৪তম ওভারের শেষ বলে নিউজিল্যান্ডের প্রথম উইকেটের দেখা পায়, ৩৯ বলে ৩৬ রান করে দিলপ্রিত বিদায় নিলে। তখনও সামরাকে ফেরানো যায়নি বলে কিউইদের তেমন উচ্ছ্বাসও দেখা যায়নি। ইনিংসের একদম শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বোলার-ফিল্ডারদের ভুগিয়ে গেছেন সামরা। দলীয় ইনিংসের ৪ বল বাকি থাকতে বিদায় নেওয়ার আগে ৬৫ বলে ১৬৯.২৩ স্ট্রাইক রেটে ১১০ রান করেন সামরা। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৬টি ছক্কা। নিউজিল্যান্ড কাঙ্ক্ষিত উইকেটটির দেখা পায় জ্যাকব ডাফির কল্যাণে।
তারপরও সাহসী ব্যাটিং অব্যাহত রাখে কানাডা। সামরার বিদায়ে ক্রিজে নেমেই ছক্কা হাঁকান ডিলন হেয়লিগার। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান দাঁড়ায় কানাডার সংগ্রহ।
কানাডার লড়াকু পারফরম্যান্স অবশ্য মলিন হয়ে যায় গ্লেন ফিলিপস ও রাচিন রবীন্দ্রর সামনে। দলীয় ৩০ রানে টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেনকে হারানোর পর কিউইদের হয়ে হাল ধরেন রবীন্দ্র ও ফিলিপস। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই নিউজিল্যান্ড পা ফেলে জয়ের বন্দরে।
ফিলিপস মাত্র ৩৬ বলে ৭৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। রাচিন ৩৯ বলে করেন ৫৯ রান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দেশের বাইরে মানুষকে পড়তে আসা উচিত কি না—এ নিয়ে ধর্মীয়, সামাজিক, ব্যক্তিগত নানা মত আছে। তবে আমার বিশ্বাস, সুযোগ থাকলে জীবনে একবার হলেও দেশের বাইরে পড়াশোনা করা উচিত। বিদেশে পড়লে একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়, সে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে। চাইলে বিদেশে চাকরি করতে পারে, আবার চাইলে দেশে ফিরে অবদান রাখতে পারে—সেটলড হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়। কিন্তু যেটাই করুক, সে যে অভিজ্ঞতা বয়ে নিয়ে যায় সেটা অমূল্য হয়ে থাকে। তার দুনিয়াকে দেখার চোখ অন্যদের থেকে আলাদা হবে। অনেকেই দেশে হোস্টেলে থেকেছেন, বাবা–মা থেকে দূরে থেকেছেন। কিন্তু বিদেশে এসে যে ধাক্কাটা লাগে, সেটা আলাদা। এখানে সবই একা সামলাতে হয়। অসুস্থ হলে মাথায় নিজেই পানি দিতে হয়। হাজারো চ্যালেঞ্জ, হাজারো স্ট্রাগল—সব একা নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াতে হয়। দেশে একা থাকা আর বিদেশে একা থাকার তফাৎ এখানেই। দেশে জুতা ছিঁড়লে মুচি আছে, বিদ্যুৎ গেলে মেকানিক আছে, গাড়ি নষ্ট হলে সাহায্য মিলবে, রান্নার জন্য বুয়া পাওয়া যাবে। কিন্তু বিদেশে জুতা সেলাই করতে যে টাকা লাগে, তা দিয়ে নতুন দুই জোড়া কিনে ফেলা যায়। শেফ রাখতে চাইলে তার বেতনই আপনার বেতনের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাও দেশি স্বাদের রান্না নাও আসতে পারে। এখানে এসে আমি নিজের সাইকেলের চাকা নিজেই ঠিক করেছি ইউটিউব দেখে, জুতা নিজে সেলাই করেছি, গাড়ি নষ্ট হলে নিজে শিখে ঠিক করেছি। রান্না শিখেছি—কারণ বছরের পর বছর নিজের হাতের রান্নাই খেতে হয়। এসব তো কেবল কয়েকটা উদাহরণ; সব বলতে গেলে বই হয়ে যাবে। কঠিন পড়াশোনা আর গবেষণার পাশাপাশি বেঁচে থাকার প্রয়োজনে আরও শত স্কিল শিখতে হয়। চ্যালেঞ্জ যতই থাকুক, মানুষ প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে শিখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সহজ হয়ে আসে। আর এসব সংগ্রাম—এসবই মানুষকে শক্তিশালী, সক্ষম ও পরিণত করে তোলে। তাই প্রবাসজীবনে সমস্যা যেমন আছে, তেমনি আছে অসংখ্য সুযোগ ও ইতিবাচক দিক। দেশে আমার পরিচিত অসংখ্য বন্ধু–পরিচিত ‘বেকার’। রূপক অর্থে বেকার। অর্থাৎ চাকরি থাকলেও তারা কাজকে অর্থবহ মনে করে না, নিজের কর্মজীবন নিয়ে গর্বিত হতে পারে না। বড় চাকরি, ছোট চাকরি, ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই বেশিরভাগ মানুষ সন্তুষ্ট না নিজের কাজ নিয়ে, না নিজের জীবনের মান নিয়ে। কিন্তু বিদেশে এই বিষয়টা তুলনামূলক কম। এখানে নিজের পছন্দের কাজ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ অসীম—যদি আপনি সেই কাজের স্কিল শিখে নিতে পারেন। ক্যারিয়ারের মাঝপথে হঠাৎ মনে হলে যে আপনি অন্য কিছু করতে চান—এখানে সেটা ভাবার সাহস মানুষ দেখাতে পারে। নিজের জীবন নতুনভাবে গড়া এখানে সম্ভব। এখানে আপনাকে আপনার কাজ দিয়েই বিচার করা হবে। ব্যক্তিজীবন নিয়ে খুব কমই মানুষ মাথা ঘামায়। রেসিজম আছে ঠিকই—কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার, কাউকে ‘কেনা গোলাম’ ভাবার প্রবণতা এখানে বিরল। আপনি নিজের কাজ ঠিকঠাক করলে কারো কাছে তোষামোদ করতে হবে না। নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করতে হবে না। এই পরিবেশ জীবনকে কম টক্সিক করে তোলে। বাংলাদেশে তো পাসপোর্ট অফিসের পিয়নকেও ‘স্যার’ বলতে হয় ফাইলটা একটু ভেতরে ঢোকানোর জন্য—যা আমরা শ্রদ্ধা থেকে বলি না, বাধ্য হয়ে বলি। দেশে–বিদেশে কোথাও প্রতিদিন অসাধারণ লাগবে না। কিন্তু প্রতিদিন অন্তত মনে হওয়া উচিত—আপনি কোনো অর্থবহ কাজে যুক্ত আছেন। যদি সেটা না হয়, তাহলে নিজের কাজ, নিজের স্থান, নিজের পরিবেশ—সবই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আপনি যদি নিজের কাজ নিয়ে, নিজের জায়গা নিয়ে, নিজের অবদান নিয়ে গর্ব করতে পারেন—তাহলে দেশে পরিবার–পরিজন নিয়ে জীবন কাটানোই শ্রেয়। আর সময়–সুযোগ পেলে একবার বিদেশে অভিজ্ঞতা নেওয়া যেতে পারে—জব করে, মাস্টার্স বা পিএইচডি করে, কিংবা কিছুদিন ভ্রমণ করে। তবে দয়া করে—ব্যাচেলর/অনার্স লেভেলের পড়াশোনায় সন্তানকে বিদেশে পাঠাবেন না। আর ব্যাংক লোন নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করতে যাবেন না—এটা বাড়াবাড়ি। লেখক : সাকলাইন মোস্তাক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, যুক্তরাষ্ট্র
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কম নাটক করেনি এবার পাকিস্তান।ক্রিকেটপ্রেমীদের অবশ্য সব নাটকের দৃশ্যই এখন মুখস্ত। আজ ফাইনালেও নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়েছে টুর্নামেন্টের সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে শ্রীলঙ্কাকে ৫ রানে হারিয়েও সেমিফাইনালে যেতে পারল না পাকিস্তান। অন্তত ৬৫ রানে জয়ের সমীকরণ ছিল পাকিস্তানের সামনে। ফলে নিউজিল্যান্ড নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনাল। পাকিস্তানের তোলা ২১২ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা থেমেছে ২০৭ রান করে। পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় শ্রীলঙ্কা। এদিন ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন সাহিবজাদা ফারহান এবং ফখর জামান। শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট চালিয়েছেন দুই ব্যাটার। শ্রীলঙ্কান বোলারদের তুলোধুনো করে রান তুলেছেন দুজন। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। দ্রুত গতিতে রান তুলেছেন দলের বোর্ডে। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৪ রান তোলে পাকিস্তান। পাওয়ারপ্লে শেষেও চলেছে দুই ওপেনারের উইলোবাজি। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে রান তুলেছেন ফারহান এবং ফখর। লঙ্কান বোলারদের কচুকাটা করে রান বের করেছেন দুই ওপেনার। ক্রমশ বড় হয়েছে ওপেনিং জুটি। পার করে ফেলে ১০০ রানও। দুজনেই ফিফটি ছুঁয়েছেন। ফিফটির পর ছুটেছেন সেঞ্চুরির দিকে। দুজনের জুটি বড় হতে হতে হয়েছে ১৭৮ রানের অনবদ্য এক জুটি। মাত্র ৯৫ বলে ওপেনিং জুটিতে ১৭৮ রান তুলেছেন ফারহান এবং ফখর। ৪২ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান ফখর। তিনি সেঞ্চুরি মিস করলেও ফারহান করেননি। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন সাহিবজাদা ফারহান, যা এবারের বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ৬০ বলে ১০০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে দলের ২০৩ রানের মাথাতে আউট হন ফারহান। দুই ওপেনার ফারহান এবং ফখরের পর পাকিস্তানের ইনিংস যেন হয়ে যায় তাসের ঘর। আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। রানের গতিও কিছুটা কমে যায়। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২১২ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন দিলশান মাদুশাঙ্কা। ২ উইকেট তোলেন দাসুন শানাকা। ১ উইকেট শিকার করেছেন দুশমন্থ চামিরা। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই পাথুম নিসাঙ্কার উইকেট হারিয়ে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা। ৭ বলে ৩ রান করা নিসাঙ্কা দলের ৮ রানের মাথাতে থেমেছেন। এরপর পরিস্থিতি সামালা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কামিল মিশারা এবং চারিথ আসালাঙ্কা। দুজনে ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ১৫ বলে ২৬ রান করে দলের ৩৩ রানের মাথাতে বিদায় নেন মিশারা। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। চারে নেমে ক্রিজে আসেন পাভান রাথনায়েকে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন তিনি। আসালাঙ্কা ১৮ বলে ২৫ রান করে দলের ৭৫ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন। কামিন্দু মেন্ডিসও সুবিধা করতে পারেননি। দলের ৯৪ রানের মাথাতে ৬ বলে ৩ রান করে বিদায় নেন তিনি। এরপর ৩ বলে ৫ রান করে আউট হয়েছেন জানিথ লিয়ানাগে। লিয়ানাগের বিদায়ের পর রাথনায়েকের সাথে যোগ দিয়েছেন দাসুন শানাকা। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন দুজন। শানাকা-রাথনায়েকের জুটিতে গতি পায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। পাকিস্তানের বোলারদের কচুকাটা করে রান বের করেছেন দুজন। রাথনায়েকে ফিফটি হাঁকিয়ে থেমেছেন। ৩৭ বলে ৫৮ রান করে দলের ১৬২ রানের মাথাতে বিদায় নেন তিনি। শেষ দিকে লড়াই চালিয়ে গেছেন শানাকা। হাঁকিয়েছেন একের পর এক বাউন্ডারি। দারুণ সব ছক্কা। চলে যান ফিফটির কাছাকাছি। শেষ দিকে প্রায় একাই লড়েছেন শানাকা। একদম শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ২৮ রান। বোলিংয়ে শাহীন শাহ আফ্রিদি। প্রথম বলে চার, পরের ৩ বলে ৩ ছক্কায় সমীকরণ চলে আসে ২ বলে ৬ রানে। শানাকা শেষ ২ বল থেকে রান নিতে পারলেন না। ৫ রানে জয় পায় পাকিস্তান। ৩১ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে টিকে ছিলেন দাসুন শানাকা। পাকিস্তানের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন আবরার আহমেদ। ১টি করে উইকেট তুলেছেন মোহাম্মদ নওয়াজ, নাসিম শাহ এবং শাহীন শাহ আফ্রিদি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। কিন্তু চলমান বিশ্বকাপে সময়টা ভালো যাচ্ছে না টিম ইন্ডিয়ার। সেমিফাইনালে যেতে হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সুপার এইটের ম্যাচে জিততেই হবে সূর্যকুমার যাদবদের। এর মধ্যেই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, বিশ্বকাপ জিততে না পারলে ভারতের প্রধান কোচের চাকরি হারাতে পারেন গৌতম গম্ভীর। আর এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক ইংলিশ পেসার স্টিভ হার্মিসন। রাহুল দ্রাবিড়ের উত্তরসূরী হিসেবে ভারতের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর৷ তার অধীনেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল ভারত। ওয়ানডে ও টেস্ট সাফল্য ব্যর্থতার মিশ্রণ থাকলেও গম্ভীরের অধীনে টি-টোয়েন্টিতে অপ্রতিরোধ্য ভারত। এখন পর্যন্ত তার সময়ে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজও হারেনি টিম ইন্ডিয়া। তবে বিশ্বকাপ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে বেশ কঠিন অবস্থায় রয়েছে ভারত। গ্রুপপর্বে ভালো করলেও সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে কাজ কঠিন করে ফেলেছে ভারত। শেষ আটের শেষ ম্যাচে ক্যারিবীয়দের হারাতেই হবে সূর্যকুমার যাদবদের। অন্যথায় বিদায় নিতে হবে বিশ্বকাপ থেকে। কোচিংয়ের প্রশংসা করলেও ভারত বিদায় নিলে গম্ভীরের চাকরি নিয়ে শঙ্কা দেখে হার্মিসন টকস্পোর্ট ক্রিকেটের ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, ‘গম্ভীরকে পছন্দ করা কঠিন…সে খুবই রূঢ় স্বভাবের, আর ড্রেসিংরুমে সে কেমন আমি নিশ্চিত নই। ভারতীয় কোচ হিসেবে খুব কম অহংবোধ থাকলে, সফল হওয়ার সুযোগ থাকে। এই বিশ্বকাপ জিততে না পারলে সে দায়িত্ব হারাবে। তবে কোচিংয়ে সে যেভাবে এগিয়েছে, আমি তার প্রশংসা করি। খেলোয়াড় হিসেবে সে ছিল খিটখিটে মেজাজের ও একগুঁয়ে স্বভাবের।’ কোচিং প্যানেলে নেদারল্যান্ডসের রায়ান টেন ডেসকাট, দক্ষিণ আফ্রিকার মরনে মরকেলদের রেখেছেন গম্ভীর। তার এমন সাহসী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন হার্মিসন। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় গ্রেটদের নিজেদের সঙ্গে কোচিংয়ে সে(গম্ভীর) রাখেনি। বরং, মরনে মর্কেল ও রায়ান টেন ডেসকাটকে নিয়েছে, যারা তার চোখে তার কোচিংয়ের ধরনে দল পরিচালনার জন্য সেরা কোচ। সে যাদের পাশে চায়, তাদের প্রতি অনুগত, আর তার এই গুণের প্রশংসা করি।’ হার্মিসন এসময় আরও বলেন, ‘ভালো কোচের লক্ষণ হলো, ভুল করলে স্বীকার করা এবং সেটা শুধরানোর চেষ্টা করা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বলা যে, এভাবে কাজ হবে না, আমার ধরন পরিবর্তন করা দরকার। আমার মনে হয় না, গম্ভীর এই জায়গায় শক্তিশালী।’
সুপার এইটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতে অক্সিজেন পেয়েছে ভারত। সেই জয়ের ফলে ভারতের সমীকরণটা যেন পানির মতোই সহজ হয়ে গেছে। এবার সুপার-আটের নিজেদের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে টিম ইন্ডিয়া। আগামী ১লা মার্চ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচটি কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল। যে দল জিতবে, সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। এই ম্যাচে নেট রান রেটের কোনও ভূমিকা নেই। বড় বা ছোট ব্যবধান নয়—এখানে একমাত্র লক্ষ্য জয়। ইডেনে শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড দুর্দান্ত। তারা এই মাঠে এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে হারেনি। এখানে খেলা তিন ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। এমন কী ২০১৬ সালে এই মাঠেই বিশ্বকাপের ফাইনাল জিতেছিল তারা। কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে একাধিক আক্রমণাত্মক ব্যাটার রয়েছেন, যারা ইডেনের ছোট বাউন্ডারির সুবিধা নিতে পারে। এবারের টুর্নামেন্টে সর্বাধিক ১৭টি ছক্কা মেরেছেন শিমরন হেটমায়ার। অন্যদিকে শেরফান রাদারফোর্ড মেরেছেন ১২টি ছক্কা। তাদের সঙ্গে দলে আরও কয়েক জন বিধ্বংসী ব্যাটার রয়েছেন, যারা যে কোনও দলের বিপক্ষে বিপদ তৈরি করতে পারেন। স্পিনের বিপক্ষে ভারতের সমস্যা এবারের বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটাররা স্পিনের বিপক্ষে কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। ধীরগতির বোলিংয়ের বিরুদ্ধে রান করতে পারছেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ভালো মানের স্পিনার আছেন। গুদাকেশ মোতি এবং আকিল হোসেন ভারতকে চাপে ফেলতে পারেন। মোতি এখনও পর্যন্ত ১০ উইকেট নিয়েছেন, আর হোসেন নিয়েছেন ৬ উইকেট। প্রথমবার কলকাতায় বিশ্বকাপের ম্যাচে মুখোমুখি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই প্রথম কলকাতায় মুখোমুখি হবে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও ইডেন গার্ডেন্সে বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে ক্যারিবিয়ানদের। তবে সামগ্রিক ভাবে এই মাঠে ভারতের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খুব ভালো। বিশ্বকাপ বাদ দিলে, এই মাঠে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে খেলা চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে ভারত। সব মিলিয়ে ১লা মার্চের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উত্তেজনাপূর্ণ হতে চলেছে।