নভেম্বর থেকে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক সমুদ্র দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের আগমন পুনরায় শুরু হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় দ্বীপে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সেন্ট মার্টিনে যাতায়াতের জন্য সমুদ্রপথে নৌযান পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে। সংশ্লিষ্ট নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই নৌযান প্রস্তুত করার কাজ শেষ করেছে। পর্যটকরা চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি নৌযানের মাধ্যমে দ্বীপে পৌঁছাতে পারবেন।
দ্বীপের হোটেল, রিসোর্ট ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সাজ-সজ্জা ও পরিষেবা আপডেট করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিশেষ নজর রাখছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটক আগমন বৃদ্ধি পাবে এবং দ্বীপের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় আয়েশা খাতুন (২৪) নামে এক তরুণীকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ, যাকে প্রায় ৭ বছর আগে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছিল তার পরিবার। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (৪ মে) রাতে ভোলাহাট উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক। উদ্ধার হওয়া আয়েশা ভোলাহাট উপজেলার খালে আলমপুর গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ মে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আয়েশা নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে তার মা আদুরী বেগম আদালতে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তবে তদন্ত শেষে সেই অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় পুলিশ ও সিআইডি মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে একই ঘটনায় নতুন করে চারজনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করা হয়, যা বর্তমানে ভোলাহাট থানায় তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ জানায়, বিভিন্ন সূত্রে আয়েশার জীবিত থাকার তথ্য পাওয়ার পর তার অবস্থান শনাক্তে অভিযান চালানো হয়। রোববার বিকেলে তিনি রাজশাহী থেকে ভোলাহাটগামী একটি বাসে ওঠেন। আগে থেকেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ভোলাহাট বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয় এবং বাস পৌঁছানোর পর তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওসি আব্দুল বারিক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। কখনো তিনি কুষ্টিয়ায় ছিলেন, আবার কখনো ঢাকার মিরপুরে থাকার কথা বলেছেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় এবং পরে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। তবে পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার পরও তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে, যা ঘটনায় নতুন রহস্য তৈরি করেছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মামলার এক আসামি নাজমা বেগম দাবি করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এখন যাকে মৃত বলে দাবি করা হয়েছিল, তাকে জীবিত পাওয়ায় পুরো মামলার ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নতুন করে গভীর তদন্তের দাবি উঠেছে।
প্রথমবারের মতো সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে সংস্থাটির নিজস্ব কোনো সংরক্ষণাগার না থাকা, এলপিজি পরিচালনায় সীমিত অভিজ্ঞতা এবং বেসরকারি খাতনির্ভর বাজার কাঠামো—সব মিলিয়ে এ উদ্যোগ ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। বিপিসি মূলত জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহে অভ্যস্ত। এলপিজি পরিচালনা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় ভিন্ন ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে রয়েছে পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএল, যারা দীর্ঘদিন ধরে এলএনজি আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিপিসির বর্তমানে নিজস্ব কোনো এলপিজি সংরক্ষণ সুবিধা নেই। ফলে আমদানিকৃত পণ্য সংরক্ষণের জন্য তাদের বেসরকারি অপারেটরদের ওপর নির্ভর করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বেসরকারি জেটি ব্যবহার করে প্রায় ৫০ হাজার টনের জাহাজ খালাস করা যাবে। সংরক্ষণ সুবিধার জন্য প্রতি মেট্রিক টনে মাসে প্রায় ২০ ডলার পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করতে হতে পারে বিপিসিকে। দীর্ঘ সময় পণ্য অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে থাকলে ভাড়া ও ক্ষতিপূরণ বাবদ বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে বেসরকারি খাত। তাদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)-এর সঙ্গে বিপিসির দরকষাকষি চলছে। ব্যবসায়ীরা চান সরকার নিজ উদ্যোগে বড় চালান আমদানি করুক এবং তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ৪০০ থেকে ৫০০ টনের ছোট লটে কিনবে। তবে বিপিসির আশঙ্কা, নিজস্ব স্টোরেজ না থাকায় বড় চালান এনে দ্রুত বিক্রি সম্ভব না হলে ভাড়া ও ডেমারেজের চাপ বাড়বে। এ বিষয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। কীভাবে আমদানি করবে আর কতটুকু আমদানি করবে, তা সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের আমদানি করে দিলে আমরা তা বিক্রি করব।’ এ সংক্রান্ত একটি বৈঠকের কথা শোনা গেলেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা এখন পর্যন্ত হয়নি। বর্তমানে এলপিজির দাম কমেছে। আমরা কোথাও কারও কাছ থেকে বেশি নিচ্ছি না। সরকার মনিটরিং করলে কেউ বেশি দাম নিতে পারবে না।’ বর্তমানে বিপিসি বছরে ২৭ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি সরবরাহ করে, যা মোট বাজারের প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ। সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বিপিসি কিছু অবকাঠামোগত উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। চট্টগ্রামের সাগরিকা (উত্তর কাট্টলি) এলাকায় প্রায় ৪০ একর জমিতে এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি পেট্রোনাসের সঙ্গে যৌথভাবে বোতলজাতকরণ ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) বাস্তবায়িত হলে দেশের শোধন ক্ষমতা বাড়বে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংকট সামাল দিতে বিপিসি সৌদি আরব, আজারবাইজানসহ ১১টি দেশের ১২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে আমদানির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর না হলে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধার আশঙ্কা রয়েছে। বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরব, আজারবাইজান, আলজেরিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, ওমান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১২টি সরকারি কোম্পানির কাছে এলপিজি সরবরাহের আগ্রহ, শর্ত ও সক্ষমতা জানতে চাওয়া হয়েছে। গত ২১ ও ২৪ জানুয়ারি এসব কোম্পানির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সচিব শাহিনা সুলতানা কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা এলওএবির মাধ্যমে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আগামী তিন মাসের এলপিজি চাহিদা সংগ্রহ করেছি। ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের জন্য মোট ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি এলপিজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৯টি জি-টু-জি প্রতিষ্ঠানের কাছে আমদানির আগ্রহ জানতে চাওয়া হয়েছে এবং আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোটেশন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত সভা করছি। গত ১২ জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে অপারেটরদের পক্ষ থেকে এলসি খোলা সহজ করা, ডায়নামিক মূল্য নির্ধারণ এবং এলপিজিকে ‘গ্রিন ফুয়েল’ ঘোষণা করার দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের এলসি খোলার বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সরাসরি মনিটরিং করছে।’ এ ছাড়া সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আমদানি পর্যায়ে বর্তমানে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিপিসি এলপিজির ডায়নামিক মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং দ্রুততম সময়ে আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত দেশে এলপিজি সংকট দূর হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ফের স্থিতিশীল হবে। দেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা এখন প্রায় ১৭ লাখ টনে পৌঁছেছে। চাহিদা দ্রুত বাড়লেও বাজারটি এখনো প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশের এলপিজির বার্ষিক বাজারের আকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। আমদানির বাজারে প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠেছে মেঘনা গ্রুপের মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি, তাদের দখলে বাজারের ১৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে ইউনাইটেড আইগ্যাস এলপিজি ১৬ শতাংশ, যমুনা স্পেকটেক জয়েন্ট ভেঞ্চার ১৪ শতাংশ, ওমেরা পেট্রোলিয়াম ১২ শতাংশ এবং বিএম এনার্জি (বিডি) লিমিটেড ১০ শতাংশ।
বর্তমান দ্রুতগতির ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক পরিবেশে টিম ম্যানেজমেন্ট ও কর্মীদের কার্যকরভাবে মনিটর করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রিমোট ও হাইব্রিড ওয়ার্ক কালচারের বিস্তারের ফলে এই চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় অটোমেটেড টাইম ট্র্যাকিং ও প্রোডাকটিভিটি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ‘টিমোডেস্ক’ (TimoDesk) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে উঠে এসেছে। শুরু থেকেই গ্লোবাল টিমের প্রয়োজন মাথায় রেখে ডিজাইন করা ‘টিমোডেস্ক’ ম্যানুয়াল টাইম ইনপুটের ঝামেলা কমিয়ে প্রোডাকটিভিটি প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সহায়তা করে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। সহজ ব্যবহারযোগ্য ইন্টারফেস ও সিম্পল প্রাইসিং মডেলের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সফটওয়্যারটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ‘টিমোডেস্ক’-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর স্মার্ট টাইম ট্র্যাকিং সিস্টেম। এটি কম্পিউটারের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্মঘণ্টা ট্র্যাক করে। নির্দিষ্ট সময় পরপর স্ক্রিনশট ক্যাপচার, ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশন মনিটরিং এবং প্রতিটি টাস্কের বিস্তারিত লগ সংরক্ষণের মাধ্যমে এটি কর্মীদের কার্যক্রমের একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরে। ট্র্যাডিশনাল টাইমারের তুলনায় এর অ্যাকটিভিটি-ভিত্তিক ট্র্যাকিং পদ্ধতি ম্যানুয়াল ভুল কমিয়ে সময় ব্যবস্থাপনাকে আরও নির্ভুল করে তোলে। প্রোডাকটিভিটি রিপোর্টিং ফিচারটিও সফটওয়্যারটির একটি বড় শক্তি। ‘টিমোডেস্ক’ ভিজ্যুয়াল ও ডেটা-ড্রিভেন রিপোর্ট তৈরি করে, যেখানে অ্যাকটিভিটি লেভেল, অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য, টাইমলাইন ভিউ, প্রজেক্ট ব্রেকডাউন এবং ডেইলি, উইকলি ও মান্থলি সামারি অন্তর্ভুক্ত থাকে। এসব রিপোর্টের মাধ্যমে ম্যানেজাররা সহজেই টিমের দুর্বলতা ও সময় অপচয়ের জায়গাগুলো শনাক্ত করতে পারেন। ক্যাপটেরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৫১ শতাংশ এইচআর লিডার টাইম ট্র্যাকিংকে টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এছাড়া, ‘টিমোডেস্ক’-এর অ্যাক্টিভিটি অ্যানালাইসিস ফিচার কর্মীদের কাজের ধরণ বিশ্লেষণ করে অপটিমাইজেশনের সুযোগ তৈরি করে। কোনো টিম মেম্বার যদি নির্দিষ্ট কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন, তাহলে ম্যানেজাররা সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ বা অটোমেশন পরিকল্পনা নিতে পারেন। এই ডেটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া টিমের সামগ্রিক দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সফটওয়্যারটির স্ক্রিনশট মনিটরিং ফিচার নিরাপদ ও প্রাইভেসি-ফ্রেন্ডলি। শুধুমাত্র ওয়ার্কিং আওয়ারে স্ক্রিনশট নেওয়া হয় এবং সেগুলো এনক্রিপটেডভাবে সংরক্ষণ করা হয়। ‘টিমোডেস্ক’ এর তথ্যমতে, ইতিমধ্যে ৪০ মিলিয়নের বেশি স্ক্রিনশট ক্যাপচার করা হয়েছে, যা এর ব্যাপক ব্যবহারের প্রমাণ দেয়। প্রজেক্ট ও টাস্ক ম্যানেজমেন্ট সুবিধার মাধ্যমে কাজগুলোকে সহজে ভাগ করে নেওয়া যায়। অফলাইনে কাজের সময়ও সফটওয়্যারটি ডেটা সংগ্রহ করে এবং ইন্টারনেট সংযোগ পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিঙ্ক করে। এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি প্রজেক্ট মনিটর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘টিমোডেস্ক’। প্রাইসিংয়ের দিক থেকেও সফটওয়্যারটি বেশ সাশ্রয়ী। প্রতি ব্যবহারকারীর জন্য মাসিক মাত্র ১ ডলারে সব ফিচার ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি লিনাক্স সাপোর্ট যুক্ত হওয়ায় ওপেন-সোর্স ব্যবহারকারীদের কাছেও এটি সহজলভ্য হয়েছে। ডেটা প্রাইভেসি ও সিকিউরিটির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ‘টিমোডেস্ক’ ইউরোপীয় জিডিপিআর নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনক্রিপশন ও সিকিউর স্টোরেজ ব্যবহার করছে। এর ফলে রিমোট ওয়ার্কিং পরিবেশে ব্যবহারকারীদের আস্থা বাড়ছে। সব মিলিয়ে, কম খরচে কার্যকর ও অটোমেটেড সমাধান হিসেবে ‘টিমোডেস্ক’ রিমোট টিম ও আধুনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি শক্তিশালী প্রোডাকটিভিটি টুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে সফটওয়্যারটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে: https://timodesk.com/