সেন্ট্রাল এশিয়া ভলিবল অ্যাসোসিয়েশন (কাভা) কাপের ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দল। রাউন্ড রবিন লিগ পর্বের শেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৩-১ সেটে পরাজিত হয়ে শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে গেছে স্বাগতিকরা।
এই জয়ের ফলে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আফগানিস্তান, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে তুর্কমেনিস্তান।
মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল কার্যত অঘোষিত সেমিফাইনাল। প্রথম তিন ম্যাচে জয় পাওয়া বাংলাদেশ তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় এই ম্যাচটি হয়ে ওঠে বাঁচা-মরার লড়াই।
প্রথম সেটে ২৫-২৩ পয়েন্টে জয় পেয়ে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের উল্লাসে তখন মুখর ছিল স্টেডিয়াম। তবে দ্বিতীয় সেট থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আফগানিস্তান। ২৫-২০ পয়েন্টে জয় তুলে সমতায় ফেরার পর তৃতীয় সেটে ২৫-২৩ পয়েন্টে আবারও জেতে আফগানরা।
ম্যাচে টিকে থাকতে চতুর্থ সেটে বাংলাদেশের জয়ের বিকল্প ছিল না। কিন্তু সেই সেটেও ২৫-১৯ পয়েন্টে হেরে যায় স্বাগতিকরা। ফলাফল—৩-১ সেটে পরাজিত হয়ে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা তিনটি করে ম্যাচ জিতলেও গেম পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করে আফগানিস্তান।
আগামীকাল ফাইনালে আফগানিস্তান মুখোমুখি হবে তুর্কমেনিস্তানের। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশ লড়বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। চার বছর দায়িত্বে থাকার পর তার সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন করেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তারও আগে থেকেই তার বিদায়ের দাবি উঠেছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ অধ্যায় শেষ হওয়ার পর এবার ক্যাবরেরা আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ক্যাবরেরা বাংলাদেশের দায়িত্ব নেন। ৪১ বছর বয়সীর অধীনে ৩৯ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। জয় ও ড্র সমান ১০টি করে, হার ১৯টি। ১০ জয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি করে ভুটান ও মালদ্বীপের বিপক্ষে, কম্বোডিয়ার বিপক্ষ দুটি; সিশেলস ও ভারতের বিপক্ষে একটি করে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর এবার বিদায়ী পোস্টে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে থাকা প্রধান কোচ তিনি। তার অধীনে ১৪ বছরে প্রথমবার সাফের সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ভারতকে হারানোর মতো সাফল্যও আছে তাদের, যা গর্বিত করেছে স্প্যানিশ কোচকে। ক্যাবরেরা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে আমার পথচলা শেষ হলো। চার বছর ও চার মাস পর, জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম, আমি এমন অবিস্মরণীয় স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি, যার প্রতিটি মুহূর্ত সার্থক ছিল।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা মাঠে ও মাঠের বাইরে অনেক লম্বা পথ চলেছি। হাজারো ভক্তের সামনে খেলা থেকে শুরু করে দর্শকে ঠাসা স্টেডিয়ামগুলোতে অবিস্মরণীয় রাত, এমন সব মুহূর্ত তৈরি হয়েছে যেগুলো সবসময় বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।’ লম্বা পোস্টে তার আরও কথা, ‘একসঙ্গে আমরা দৃঢ় পরিচিতি ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে আমরা মহাদেশের শক্তিশালী জাতীয় দলগুলোর বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। ১৪ বছর পর সাফ সেমিফাইনালে ওঠা, ২২ বছরে প্রথমবার ভারতকে হারানো এবং ২০১৬ সালের পর ফিফার সর্বোচ্চ র্যাংকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাইলফলক আমরা ছুঁয়েছি।’ ক্যাবরেরার দাবি, তার অধীনেই বাংলাদেশের ফুটবলের শক্ত ভিত তৈরি হয়েছে। তিনি বললেন, ‘বিশেষ করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা যে পথ তৈরি করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত। এই সময়ে ২১ জন অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়ের অভিষেক হয়েছে, যারা এশিয়ার অন্যতম তরুণ জাতীয় দল প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করেছে।’
এভারটনের মাঠে সোমবার রাতে দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি ৩-৩ গোলে ড্র করেছে। এই ফলাফলের ফলে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নির্ধারণে এখন স্পষ্টভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছে আর্সেনাল। ম্যাচের শুরুতে জেরেমি ডকুর গোলে এগিয়ে যায় সিটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল হজম করে পেপ গার্দিওলার দল। থিয়ের্নো ব্যারি জোড়া গোল করেন, আর একটি গোলে অবদান রাখেন মার্ক গুয়েহি—যার ভুল থেকেই চাপের মুখে পড়ে সিটি। এরপর জেক ও’ব্রায়েনের হেডে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১। পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি সিটি। আর্লিং হ্যালান্ড ও ডকুর গোল ম্যাচে সমতা ফেরায় এবং দলকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট এনে দেয়। ম্যাচ শেষে গার্দিওলা বলেন, ‘হারার চেয়ে ড্র ভালো। আমাদের দল কী করতে পারে, সেটাই দেখিয়েছে।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘শিরোপা এখন আর আমাদের হাতে নেই। আগে ছিল, এখন নেই। সামনে কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়।’ বর্তমানে আর্সেনালের পয়েন্ট ৭৬। তাদের বাকি তিন ম্যাচে জয় পেলেই শিরোপা নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে সিটির সর্বোচ্চ সম্ভাব্য পয়েন্ট ৮৩, এবং গোল ব্যবধানেও তারা আর্সেনালের চেয়ে চার গোলে পিছিয়ে। আর্সেনালের সাবেক তারকা থিয়েরি অঁরি সতর্ক সুরে বলেন, ‘এই অবস্থায় কোনো পয়েন্ট নষ্ট করার সুযোগ নেই। তবে শিরোপার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে—এটাই বড় কথা। কিন্তু এখনই উদযাপন করার সময় নয়।’ বিবিসি স্পোর্ট বিশ্লেষক ওয়েইন রুনি মনে করেন, ‘চাপের মুখে আর্সেনাল ভেঙে পড়ে—এমন ধারণা ছিল। কিন্তু এবার তারা ভিন্ন কিছু প্রমাণ করতে পারে। আরতেতার জন্য এটি হতে পারে বিশেষ এক অর্জন।’ অন্যদিকে সাবেক লিভারপুল ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাঘার অতীতের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, ‘২০১৪ সালে সিটির একটি ড্র-ই শেষ পর্যন্ত শিরোপা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ডকুর গোলটিও তেমন গুরুত্ব পেতে পারে।’ এভারটনের কোচ ডেভিড মোয়েস বলেন, ‘আমরা আজকের সেরা দলকে প্রায় হারিয়েই ফেলেছিলাম—সেটাই হতাশার।’ আর্সেনালের সামনে এখন ওয়েস্ট হ্যাম, বার্নলি ও ক্রিস্টাল প্যালেস—এই তিন ম্যাচ। অন্যদিকে সিটির প্রতিপক্ষ ব্রেন্টফোর্ড, প্যালেস ও অ্যাস্টন ভিলা। এই ছয় ম্যাচই ঠিক করে দেবে কে জিতবে এবারের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাদের প্রেমিকাদেরও হরহামেশাই দেখা যায় স্টেডিয়াম কিংবা টিম হোটেলে। এবারের আইপিএলে যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হচ্ছে। একাধিক ম্যাচে ক্রিকেটারদের বান্ধবীকে মাঠ ও টিম হোটেলে দেখা গেছে। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই নড়েচড়ে বসছে বিসিসিআই। এবার ‘গার্লফ্রেন্ড কালচার’ নিয়ে কঠোর হচ্ছে ভারতীয় বোর্ড। চলতি আইপিএলে হার্দিক পাণ্ডিয়া, যশস্বী জয়সওয়াল, ঈশান কিশান, আর্শদীপ সিংসহ বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে তাদের বান্ধবীদের সঙ্গে ঘন ঘন দেখা গিয়েছে। যা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ, দলের শৃঙ্খলা ও ম্যাচ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছে বোর্ড। তাই ‘গার্লফ্রেন্ড সংস্কৃতি’ নিয়ে নতুন নিয়ম আনার পরিকল্পনা করছে বিসিসিআই। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রিকেটারদের এই প্রবণতাকে ঘিরে উদ্বিগ্ন বিসিসিআই। যা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঘিরে বিরোধ এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়েরের ঘটনাও বিসিসিআইয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করছে বোর্ড। একজন উচ্চপদস্থ বিসিসিআই কর্তা বলছেন, এখনই যদি এর রাশ টানা না হয় ভবিষ্যতে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। আমরা দেখছি টিম বাস পর্যন্ত অপেক্ষা করানো হচ্ছে, এমনকী অনেকেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে একই হোটেলে থাকছেন। তিনি আরও বলেন, আমি বুঝতে পারছি না এই নিয়ম কোথা থেকে এলো? বিসিসিআইয়ের নীতিমালায় তো এমন কোনও নিয়ম নেই। শুধু স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদেরই নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় অনুমতি দেওয়া হয়। সুতরাং কে এই অনুমোদন দিয়েছে, তা তদন্ত হওয়া উচিত। ওই প্রতিবেদন অনুসারে, অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের কিছু অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারাই কিছু ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাদের প্রেমিকাদের থাকার অনুমতি দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে বোর্ডের উদ্বেগ, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের উপস্থিতি ম্যাচ সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সূত্রের খবর, বোর্ডের আগামী বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। আইপিএলসহ ভারতীয় দলের বিদেশ সফরেও নতুন নিয়মাবলি জারি করার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় বোর্ডের। এ ছাড়া অ্যান্টি করাপশন ইউনিটকেও এই বিষয়ে নির্দেশিকা দেওয়া হতে পারে।