অন্যান্য

জামায়াত জোটে ‘জট’

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না। দফায় দফায় বৈঠক ও আলোচনার পরও সমঝোতার বদলে জোটের ভেতরে ‘জট’ তৈরি হয়েছে। টানাপোড়েন একপর্যায়ে চরমে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং এবি পার্টির আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। ‘সন্তোষজনক’ আসন না পাওয়ায় কয়েকটি দল জোটে থাকা না থাকার বিষয়েও অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু করেছে। তবে শীর্ষ নেতারা বলছেন, বৃহত্তর স্বার্থে জোট ভেঙে না গিয়ে ঐক্য অটুট রাখার পক্ষেই আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে একে অপরকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতাও রয়েছে।
গতকাল বুধবার ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও দুপুরে তা স্থগিতের ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের আসন সমঝোতা সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। জানা গেছে, একাধিক দলের অনুরোধেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়। পরে সন্ধ্যায় ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
সর্বশেষ আলোচনায় জামায়াতে ইসলামী নিজেদের প্রার্থীদের জন্য ১৮০টির বেশি আসন রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। জোট সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৪৫টি এবং এনসিপির জন্য ২৫–৩০টি আসন বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ১০টি, এলডিপিকে ৫টি, এবি পার্টিকে ৩টি, বিডিপিকে ২টি এবং খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাগপার জন্য একটি করে আসন রাখার কথা বলা হয়।
তবে এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুরু থেকেই দলটি শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিল। আলোচনার ধারাবাহিকতায় তাদের দাবি কমে শেষ পর্যন্ত ৫০টির বেশি আসনে দাঁড়ায়। জামায়াত ৪৫টি আসনে ছাড় দিতে চাইলেও তা মানতে নারাজ ইসলামী আন্দোলনের অনেক নেতা। দলটির ভেতরে একাধিক বৈঠক হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। শূরা কাউন্সিল ও মজলিসে আমেলার বৈঠকেও বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি।
জানা গেছে, জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অবস্থানও। যদিও জোটের দায়িত্বশীলরা বলছেন, ইসলামী আন্দোলনের আসন সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
ইসলামী আন্দোলনের এক শীর্ষ নেতা বলেন, জোট টিকিয়ে রাখতে তাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। তবে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টির সঙ্গে জামায়াত আলাদাভাবে বৈঠক করায় সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের আলোচনা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘৫–১০টি আসন বড় বিষয় নয়। আমরা চাই, যে কোনো মূল্যে এই সমঝোতা টিকে থাকুক।’
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি শিগগিরই আসন সমঝোতাসহ সব বিষয়ে জানাতে পারব।’
জোট সূত্র জানায়, আট থেকে ১০টি আসন নিয়ে জটিলতা সবচেয়ে বেশি। এসব আসনে একাধিক দলের প্রভাবশালী প্রার্থী আগ্রহী। ঐকমত্য না হলে কিছু আসনে ‘ওপেন ইলেকশন’ বা উন্মুক্ত নির্বাচন হতে পারে।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, কয়েকটি দলের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কিছু আসন উন্মুক্ত থাকতে পারে। তবে চলতি সপ্তাহেই চূড়ান্ত ঘোষণা আসার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা আসেনি। দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক স্মারক তৈরি হয়নি। এসব কারণেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জোটের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় মীমাংসা হলেই ঘোষণা আসবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এই সমঝোতায় থাকছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এদিকে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানান, ‘ওয়ান বক্স’ নীতির আওতায় ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে আলোচনা চলছে। দু-একদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে ধৈর্য ও প্রজ্ঞা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। নিজে

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
শনিবার দুপুরে তিনি যমুনা ছেড়ে গুলশানে নিজের বাসায় যান অধ্যাপক ইউনূস | ছবি : সংগৃহীত
যমুনা ছেড়ে গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরলেন ড. ইউনূস

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি যমুনা ত্যাগ করে গুলশানে নিজের বাসভবনে ওঠেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।   সূত্র আরও জানায়, যমুনা ছাড়ার পর ভবনটিতে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হবে। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে সরকারি বাসভবন হিসেবে উঠবেন বলে জানা গেছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরে বিদেশি কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানে তার ব্যক্তিগত বাসভবনে অবস্থান করছেন।   ড. ইউনূস ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে যমুনায় অবস্থান করছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি সেখানে ছিলেন। তবে নতুন সরকার গঠনের পর তিনি নিজ বাসভবনে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ড. ইউনূস এখন তার প্রতিষ্ঠিত ইউনূস সেন্টার ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অধিক মনোযোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির যাত্রা শুরু হয়।

এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দাওয়াতপত্র তুলে দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি : সংগৃহীত

আজ জামায়াতের ইফতারে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

শেখ তানভীর বারী হামিম। ছবি : সংগৃহীত

ছাত্রদলের শোকজে মুখ খুললেন হামিম

ছবি : সংগৃহীত
ড. ফাওজুল কবিরের বাসায় সাবেক উপদেষ্টারা

সরকারি বাসভবন ছাড়ার আগে সাবেক উপদেষ্টাদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করেছেন ড. ফাওজুল কবির খান।   শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইফতার আয়োজনের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শফিকুল আলম লেখেন, ড. ফাওজুল কবির খানের আয়োজনে একটি মনোরম ইফতার ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ও তার পরিবার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন ছেড়ে একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে চলে যাচ্ছেন। প্রকাশিত ছবিতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাকে দেখা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একটি ছবিতে তাকে কেক কাটতেও দেখা গেছে। পোস্টে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন ছাড়াকে কেন্দ্র করে ফাওজুল কবির খান একটি বিদায়ী সৌজন্য সভার আয়োজন করেন। উল্লেখ্য, ফাওজুল কবির খান অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মোহাম্মদপুরে বিএনপি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর

ছবি : সংগৃহীত

রমজানের শিক্ষা

ছবি : সংগৃহীত

নরসিংদীতে ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামি আহম্মদ আলীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

ছবি : সংগৃহীত
কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আ.লীগের সাবেক এমপি

কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা মো. জোয়াহেরুল ইসলাম (৭০)।   শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার দমদমে অবস্থিত ফিনিক্স মেডিকেল সেন্টার প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর এক সপ্তাহ আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার মাল্টি অর্গান ফেলিওর এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে লাশ হাসপাতালেই রাখা হবে। ভোরে তার লাশ সংরক্ষণের জন্য কলকাতার পিস হেভেনে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হলে বাংলাদেশে লাশ পাঠানো হতে পারে। জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পেশায় আইনজীবী মো. জোয়াহেরুল ইসলাম ভারতে আসেন এবং কলকাতার নিউটাউনে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তার স্ত্রী মেডিকেল ভিসায় ভারতে যান। পরিবার-পরিজনসহ নিউটাউনেই অবস্থান করছিলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। জোয়াহেরুল ইসলাম ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ঢাবি ছাত্রদল নেতা তানভীর বারী হামিমকে শোকজ

মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংকের টাকা জনগণের, বিএনপির নয়: মুফতি ফয়জুল করীম

জরিপে তথ্য না দেওয়ায় ১৫৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন স্থগিত

0 Comments