দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সপরিবারে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে বরণ করতে ওই দিন ঢাকায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি থাকতে পারে—এমন বাস্তবতা মাথায় রেখে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের আগমন ঘিরে একাধিক দফা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় বিমানবন্দর, ৩০০ ফুট সড়ক, গুলশান অ্যাভিনিউসহ সম্ভাব্য সব কর্মসূচি এলাকা ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি দলীয়ভাবেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর পর তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)। এ জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফ পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে।
এ বিষয়ে তিনি কালবেলাকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি সিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। তার আগমন ছাড়াও চলাফেরার সময় বিএনপির চাহিদা অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তারেক রহমানের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনি রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’ ওই বাড়ির পাশেই অবস্থিত।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো জানায়, বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ এস্কর্ট থাকবে। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখবেন। বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় দুই দিন আগেই অতিরিক্ত তল্লাশি চৌকি বসানো হচ্ছে।
এদিকে, ঢাকায় অবতরণের পর বিমানবন্দরের অদূরে ৩০০ ফুট সড়কে দলীয়ভাবে সংবর্ধনার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। এ ছাড়া তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখতে যেতে পারেন এবং শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে পারেন। এসব সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার প্রস্তুতি রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহরিয়ার আলী বলেন, ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন ঘিরে বিমানবন্দর এলাকায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গুলশান বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ওই দিন পুরো ঢাকাজুড়েই নিরাপত্তা জোরদার থাকবে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বাসভবন ঘিরেও থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন,
তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল মোতায়েন করা হবে।
বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর বিমানবন্দরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রানওয়ে থেকে শুরু করে ভিভিআইপি ও ভিআইপি টার্মিনালসহ পুরো এলাকায় কড়া নজরদারি থাকবে। নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, “২৫ ডিসেম্বর ঘিরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই বিমানবন্দরে আসার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা
বিএনপি সূত্র জানায়, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সারা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকায় আসতে পারেন। এতে রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাগম ও যানজটের আশঙ্কা করছে ট্রাফিক পুলিশ। ২৪ ডিসেম্বর রাত থেকেই ঢাকায় প্রবেশপথগুলোতে চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীর বেশ কিছু সড়কে ডাইভারশন ও সাময়িকভাবে সড়ক বন্ধ থাকতে পারে। দুই-এক দিনের মধ্যেই ট্রাফিক ব্
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয় এলাকায়। 📰 মরদেহ দেশে পৌঁছানো দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে লিমনের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। বিমানবন্দরে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রবাসে স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এক তরুণের নিথর দেহ ফেরত আসা—এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না কেউই। 🌍 ঘটনাপ্রবাহ জানা গেছে, পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় United States-এর ফ্লোরিডায় দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হন লিমন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানা গেছে। 👨👩👦 পরিবারে শোকের মাতম লিমনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর ঢল নামে। সন্তানের এমন মৃত্যুতে বাবা-মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। পরিবারের একমাত্র স্বপ্ন ছিল লিমনকে ঘিরে—সেই স্বপ্নই আজ চূর্ণ হয়ে গেছে। 🕌 দাফনের প্রস্তুতি পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে। স্থানীয় মসজিদে জানাজার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ⚖️ বিচার দাবি এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা। 📢 প্রবাসী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ইস্যু। বিশেষ করে একা বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকি কতটা, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা আবার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ক্যাটাগরির ভিসা পুনরায় চালু করার পর এবার ভারতও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দুই দেশের মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফরের সময় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উত্থাপন করা হয়। তিনি ভারতকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা চালুর আহ্বান জানান, কারণ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতীয়দের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রদান করছে। বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের নয়াদিল্লি হাইকমিশন এবং কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার অফিসগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। বাংলাদেশি হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সীমিত থাকা কিছু ভিসা সেবা ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় চালু হয় এবং ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ভারতীয় নাগরিককে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা তৈরি হলেও, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশ সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও নিরাপত্তা কারণে ভারত কিছু সময় ভিসা সেবা সীমিত রেখেছিল, তবুও জরুরি চিকিৎসা ও পারিবারিক ভিসা প্রদান পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে ভারতের পূর্ণ ভিসা কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। নতুন রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত এ সেবা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভিসা জটিলতা দূর হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে গতি আসবে। পাশাপাশি শিগগিরই উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
কৃষকরা যে পরিমাণ ধান সরকারি খাদ্যগুদামে দিতে পারবেন, সরকার সেই পরিমাণ ধানই সংগ্রহ করবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। রোববার সন্ধ্যায় নেত্রকোনা পাবলিক হল মিলনায়তনে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের উন্নয়ন ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্য ভাতা, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছে কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে আগামী জুলাই থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিন্ন পোশাক দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবার তার চেয়েও বেশি ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে। হাওড় অঞ্চলে বন্যার কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চাল সংগ্রহের সময়সূচি ১৫ তারিখের পরিবর্তে এগিয়ে আনা হয়েছে। তিনি জানান, কৃষকদের পাওনা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। এতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। তবে সংরক্ষণের সুবিধার্থে নির্ধারিত মাত্রার আর্দ্রতাসম্পন্ন শুকনো ধান কেন্দ্রে আনার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে নেত্রকোনায় ২০ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন ধান এবং ৫৫ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা এবং চালের দাম ৪৯ টাকা। জেলার ১৩টি খাদ্যগুদামে এ সংগ্রহ অভিযান চলবে।