সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। মঙ্গলবার অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় প্রধান সূচকগুলোর পাশাপাশি লেনদেনেও পতন হয়েছে। দিনভর লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৭টির, বিপরীতে কমেছে ২২৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৯টির দর। এই দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট হারিয়ে নেমে এসেছে ৫ হাজার ২৬৭ পয়েন্টে। একইভাবে, বড় মূলধনী ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে। তবে শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। লেনদেনেও দিনের শেষে কিছুটা মন্দাভাব দেখা যায়। মোট লেনদেন হয়েছে ৮৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৮৭৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার তুলনায় ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা কম। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। এখানে লেনদেন হওয়া ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৭০টির, কমেছে ১০২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির দর। তবে সামগ্রিক সূচক সিএএসপিআই ২১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮০৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এই বাজারে মোট ১৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার তুলনায় কম।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি বর্তমান সরকারের উদ্যোগে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে “উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া”—এমন মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে।” বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই বাণিজ্যচুক্তি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। “যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা থাকে। তাই এ চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই,” যোগ করেন তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান ইতোমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। দেশের স্বার্থ রক্ষাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।” এ কারণে এ বিষয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব কমাতে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
গ্যাসের চাপ কারসাজি করে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে। গ্যাস চুরির এই অভিনব জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে টিকে গ্রুপকে বকেয়া এরিয়ার গ্যাস বিল হিসেবে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপক আব্দুল বাতিনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের বাহির সিগন্যাল এলাকায় অবস্থিত টিকে গ্রুপের সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের গ্যাস ব্যবহারে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। প্রকৃত প্রেসার ২.৯৬৯ পিএসআইজি হওয়ার কথা থাকলেও ২.৬২৯ দেখিয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির বিক্রয় উত্তর-১ বিভাগ থেকে ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ২ বার (২৯ পিএসআইজি) চাপের ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। গ্যাস বিপণন নিয়মাবলী-২০১৪ অনুযায়ী ২৯ পিএসআইজি চাপের জন্য প্রেসার ফ্যাক্টর বা চাপ শুদ্ধিগুণকের মান হবে ২.৯৬৯। এই নিয়ম ২০১০ সাল থেকে বিল প্রক্রিয়ায় প্রয়োগ করা হচ্ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালের ২২ জুলাই ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করার সময় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রেসার ফ্যাক্টর ২.৬২৯ দেখিয়ে বিল ইস্যু করা হয়। এর ফলে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সরবরাহকৃত গ্যাসের সঠিক পরিমাণ অনুযায়ী বিল আদায় হয়নি এবং প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা কম জমা পড়েছে সামুদা কেমিক্যালের। কর্ণফূলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী গ্যাসের প্রেসার ফ্যাক্টর ২.৯৬৯-এর ভিত্তিতে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সঠিক পরিমাণের ভিত্তিতে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা আদায়যোগ্য। ওই টাকা পে-অর্ডার অথবা রাজস্ব শাখায় জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে বড় ধরনের জালিয়াতি করলেও ব্যবস্থাপক আব্দুল বাতিনকে শুধুমাত্র অন্যত্র বদলি করে দায় সারা হয়েছে। গ্যাস কম্পানির এত বড় ক্ষতি করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার অধীনে থাকা অন্যান্য কম্পানির চাপ যাচাই করে দেখার দাবি উঠেছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, এখনো তারা এরিয়ার বিল জমা দেয়নি। সম্ভবত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে এ সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিইআরসির নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ওই ঘটনায় কয়েকজন অফিসারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। টিকে গ্রুপের বিরুদ্ধে নানা ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী স্টিল মিলস লিমিটেডের ক্যাপটিভ বিদ্যুতে গ্যাস সংযোগে মহাজালিয়াতির ঘটনা ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। এনওসি না থাকায় টিকে এ সংযোগ পেতে অন্ধকার পথ অবলম্বন করেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে তারা এমন সব গোজামিল করেছে যা খালি চোখে সহজেই দৃশ্যমান। ফৌজদারহাট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের এখতিয়ার না থাকলেও ভূয়া চিঠির মাধ্যমে টিকে গ্যাস সংযোগ অনুমোদন পায়। ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কম্পানির ১৬৯তম বোর্ডসভায় টিকে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কর্নফুলী স্টিল মিলস লিমিটেডের ১৬.৮ মেগাওয়াট ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। কেজিডিসিএলের একজন সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তার সময়ে টিকে গ্রুপের অনেক ভুয়া কাগজ তিনি ধরেছিলেন। তাদের কাগজপত্র আরো যাচাই করলে আরো অনেক জালিয়াতি পাওয়া যাবে। তিনি জানান, আগের সরকারের সময়ে তারা জ্বালানি উপদেষ্টার (তৌফিক ই-ইলাহী চৌধুরী) দপ্তর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করত। টিকে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের গ্রুপ ডিরেক্টর মোহাম্মাদ মোস্তফা হায়দারকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ ছাড়া নিউজের বিষয়ে কথা বলার জন্য পাঠানো এসএমএস-এও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ভারতের ১৭তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা নির্বিঘ্ন করতে গতকাল রোববার সকাল ৬টা থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে মানুষ ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করেছে ভারতীয় প্রশাসন। এর প্রভাব পড়েছে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দরে। যেখানে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। কোচবিহার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী জিতিন যাদব এবং জলপাইগুড়ি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী সন্দীপ কুমার ঘোষ স্বাক্ষরিত পৃথক নির্দেশনায় জানানো হয়, ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাতায়াত বন্ধ থাকবে। চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এই তথ্য বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে অবহিত করে। তবে জরুরি চিকিৎসা, বৈধ ভ্রমণ এবং পচনশীল পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি রাখা হয়েছে। বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এ এস এম নিয়াজ নাহিদ জানান, ৩ ও ৪ মে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে এবং ৫ মে থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার মতলেবুর রহমান বলেন, আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।
তুরস্কে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে এপ্রিল মাসে ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মার্চ মাসে ছিল ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ। সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। মাসিক ভিত্তিতেও ভোক্তা মূল্য দ্রুত হয়েছে। মার্চের ১ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে এপ্রিলে ভোক্তা মূল্য বেড়েছে ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। মূলত বাসস্থান, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে, এই চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানায় তুর্কি পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট বা টিইউআইকে। এই পরিসংখ্যান নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন অর্থনীতিবিদদের সংগঠন ইনফ্লেশন রিসার্চ গ্রুপ (ইএনএজি)। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৫৫ দশমিক ৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ইএনএজি দীর্ঘদিন ধরেই তুরস্কের সরকারি মূল্যস্ফীতি পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। তুরস্ক ২০১৯ সাল থেকে দুই অঙ্কের মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করছে। বিগত চার বছর ধরে এর বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ৩০ শতাংশের ওপরে রয়েছে। গত ২০২৪ সালের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৭৫ শতাংশের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছিল। এরপর তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, দেশের শিল্পখাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। আজ সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ন মিলকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিসিরা নিজ নিজ জেলার বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু এবং ডিস্টিলারি স্থাপনের মাধ্যমে রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়ানোর মতো কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। বাজার ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে সরকার আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর (এআই-ভিত্তিক) সাপ্লাই চেইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি, মজুদ, পাইকারি ও খুচরা- প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এর মাধ্যমে টিসিবির বাজার হস্তক্ষেপ আরও কার্যকর, সময়োপযোগী ও লক্ষ্যভিত্তিক হবে। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি চামড়াও যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ-মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। এছাড়া, কোরবানির পরবর্তী সাতদিন চামড়া পরিবহন ও স্থানীয় সংরক্ষণ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার সম্মিলিতভাবে কাজ করে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করবে-এটাই আমাদের অঙ্গীকার। ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, শিল্প সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং বস্ত্র ও পাট সচিব উপস্থিত ছিলেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি থেকে শুরু করে খালাস পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার সকালে বেনাপোল চেকপোস্টের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় আমদানির প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয় যে, একটি পণ্যচালান বাংলাদেশে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয় এলসি (ঋণপত্র) খোলার মাধ্যমে। আমদানিকারক ব্যাংকে প্রোফরমা ইনভয়েস জমা দিয়ে এলসি খোলেন, যেখানে পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ থাকে। এরপর রপ্তানিকারক-দেশ থেকে আইজিএম (ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্ট) প্রক্রিয়ায় পণ্যের তথ্য পাঠানো হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা এসব নথি অনলাইনে এন্ট্রি করার পর কাস্টমস অনুমোদন দিলে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অনুমতি পায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রাকগুলো বন্দরে প্রবেশের পর পর্যায়ক্রমে বিজিবি, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয় এবং ওজন স্কেলে ওজন করার পর কার্গো ভেহিক্যাল টার্মিনালে রাখা হয়। এরপর নির্ধারিত শেড বা ইয়ার্ডে পণ্য খালাস করা হয়। পরবর্তী ধাপে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন সম্পন্ন করে। আমদানিকারক প্রয়োজনীয় শুল্ক পরিশোধ করলে কাস্টমস থেকে রিলিজ অর্ডার ইস্যু করা হয়। সবশেষে বন্দর কর্তৃপক্ষের মাশুল পরিশোধ ও গেটপাস সংগ্রহের মাধ্যমে পণ্য বাংলাদেশি ট্রাকে লোড করে নির্ধারিত গেট দিয়ে বন্দর ত্যাগ করে। সংবাদ সম্মেলনে বেনাপোল স্থলবন্দরের রাজস্ব আদায়ের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, গত পাঁচ বছরে বেনাপোল বন্দরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব ছিল ৪ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৯ কোটি টাকায়। সর্বশেষ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) ও উপ-সচিব মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে সবার মধ্যে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এতে কার্যক্রম গতিশীল হবে এবং রাজস্ব আহরণ আরও বাড়বে। তিনি বন্দরকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা জ্বালানি দামের চাপ মোকাবিলা ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে নতুন যৌথ উদ্যোগ ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান। ‘অ্যাকশন ফর ক্রিয়েটিং এনার্জি সিকিউরিটি ফর লং-টার্ম রেজিলিয়েন্স’ (অ্যাকসেল) নামের এ উদ্যোগটি আজ উজবেকিস্তানের সমরকন্দে এডিবি’র বার্ষিক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এডিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এডিবি’র প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বলেন, জ্বালানি বাজারের চাপে দেশগুলোকে তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ভিত্তি গড়তে হবে। জাপানের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বর্তমান সংকটে টিকে থাকতে ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তরে সহায়তা করবে। জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা জানান, অ্যাকসেলের মাধ্যমে জাপানের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অঞ্চলজুড়ে প্রবৃদ্ধি জোরদার করা হবে। বিশেষ করে সংঘাত ও জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদেরকে (এসএমই) সহায়তা দেওয়া হবে। এডিবি জানায়, জ্বালানি দামের অস্থিরতা ও সরবরাহ সীমাবদ্ধতায় উন্নয়নশীল দেশগুলো ও তাদের বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসএমই খাত। এ খাতের পরিচালন ব্যয় বাড়ছে ও তারল্য সংকট তীব্র হচ্ছে। দুই ধাপে বাস্তবায়িত হবে অ্যাকসেল। স্বল্পমেয়াদে এসএমইসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তারল্য সহায়তা জোরদার করা হবে আর মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে বৈচিত্র্যময় ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তরে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। এ উদ্যোগের আওতায় এডিবি ঋণ, ক্রেডিট লাইন, গ্যারান্টি ও নীতিভিত্তিক অর্থায়নসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে ব্যবসায় সহায়তা দেবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। এ ছাড়া জাপান এডিবি পরিচালিত ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে প্রকল্প প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নে সহায়তা দেবে এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থ জাইকা ও জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের (জেবিক) সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করবে। অ্যাকসেলের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে এডিবি।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার অব্যাহত প্রবাহের ফলে, চলতি বছরের মে মাসের তিন দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এই সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত ৮৮ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২৬০ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩রা মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৯ হাজার ৬৪৮ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে প্রাপ্ত ২৪ হাজার ৬২৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ও সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভারতের বস্ত্র শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গলে নির্মিত পিএম মিত্র কাকতীয় মেগা টেক্সটাইল পার্ক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ১০ মে, যা ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বড় আকার ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পার্কটিতে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং মোট বিনিয়োগ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই শিল্পপার্ককে কেন্দ্র করে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পুরোপুরি চালু হলে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার মানুষ কাজ করছেন। প্রায় ১ হাজার ৩২৭ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই পার্কে আধুনিক অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়ক, পানীয় জল, বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্ট্রিট লাইটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর কাজ প্রায় শেষ। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ‘জিরো লিকুইড ডিসচার্জ’ প্রযুক্তিসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি জানিয়েছেন, এই প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘৫-এফ’ ভিশন—খামার থেকে তন্তু, তন্তু থেকে কারখানা, কারখানা থেকে ফ্যাশন এবং ফ্যাশন থেকে বিদেশ—বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মেগা টেক্সটাইল পার্ক ভারতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াবে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম পদোন্নতি পেয়ে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। রোববার (৩ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। পদোন্নতির আগে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন পদে যোগ দিলেও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বর্তমান কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালন করবেন। নজরুল ইসলাম ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন’ কর্মসূচির আওতায় উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের মাধ্যমে পরিচালিত এই কর্মসূচি দেশে দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ক্রেডিট গ্যারান্টি বিভাগ, ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ইন্সপেকশন বিভাগ এবং ব্যাংকিং রেগুলেশনস অ্যান্ড পলিসি বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় কাজ করেছেন। শিক্ষাজীবনে নজরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এআইটি) থেকে ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্সে প্রফেশনাল মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এছাড়া জার্মানি থেকে সনদপ্রাপ্ত রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ (সিইআরএম) ডিগ্রিও অর্জন করেছেন তিনি। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের এই পদোন্নতিকে তার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ শনিবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত (রেশিও) অনেক কম, যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোতে তা তুলনামূলক বেশি। দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম হওয়ায় রাজস্ব আদায়ের বড় অংশই সরকারের নিয়মিত ব্যয় মেটাতে চলে যায়, ফলে উন্নয়ন খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অর্থমন্ত্রী ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর কথা বলেছেন, ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানোর নয়। মতবিনিময় সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অংশ নেন। সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজানে বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। রমজানের শুরুতে দু-একদিন লেবুসহ কয়েকটি পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তবে এখন তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি আরও জানান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ- পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে মুক্তবাণিজ্য (ফ্রি ট্রেড) চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আসন্ন ঈদের আগেই শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে। মতবিনিময় সভা শেষে বাণিজ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং পানিসম্পদ মন্ত্রীগণ নদীভাঙনকবলিত সুরমা ও চেঙ্গেরখাল নদী এলাকা পরিদর্শন করেন।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান বলেছেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের কার্যকর উদ্যোগের ফলে এ বছর রমজানে বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে লক্ষণীয় স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। আজ শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। এ এইচ এম আহসান বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় যোগান ও চাহিদার সঠিক সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই। তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবহার ও বণ্টন বিষয়ে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় কমে যায়, যা পণ্যের দামে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।’ বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং নবনির্বাচিত সরকার সকল স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও বাজার ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু থাকার কোনো বিকল্প নেই, যা গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে যা আরও সহজতর হবে। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলে, রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন সম্ভব হবে, যা আইন ও নীতি বহির্ভূত কার্যক্রম হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এ বিষয়ে দ্রুততার সাথে কিছু সংস্কার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে, যার মাধ্যমে দৃশ্যমান পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে এবং জনগণের মাঝে আশার সঞ্চার হবে বলে তিনি অভিমত দেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি অধিশাখা) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, সার্বিক উন্নয়নের জন্য উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইপিও নীতি ২০২৫-২৮ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ব্যবসা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমকে আরও সহজ করবে। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, গত কয়েক বছরে বেসরকারি খাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এর কারণ হিসেবে তিনি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, আইন-শৃঙ্খলার অপ্রত্যাশিত অবনতি, চাঁদাবাজি, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নব-নির্বাচিত সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজীকরণে উদ্যোগী হবে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও অনুমেয় পরিবেশ নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি খাত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নীতিনির্ধারক ও অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয় বা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, দেশে উৎপাদিত আলুতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে এর মান নষ্ট হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ বিদেশে আলু রপ্তানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি কৃষক, উদ্যোক্তা ও সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ যানজট হ্রাসে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে দোকান বসানো থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান এবং বিশেষ করে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ হতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন। মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ী হাজি আবুল হাশেম বলেন, যানজট ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ব্যবসায়ীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকারকে এসব সমস্যা সমাধানে শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। তিনি সহনীয় ভ্যাট ও করনীতির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন, যাতে ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কার্যক্রম চালাতে পারেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মো. গোলাম মওলা, বাংলাদেশ ক্রোকারিজ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনে সভাপতি হাজি মো. মনির হোসেন, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মোহাম্মদ আলী ভূট্টো, ঢাকা চেম্বারের সাবেক ঊর্ধ্বত সহ-সভাপতি এম এস সেকিল চৌধুরী এবং নাহার কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম খান বক্তব্য রাখেন।
ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। ঈদের আগে যেন কোনো শ্রমিক বকেয়া না থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় কম। ফলে রাজস্ব দিয়ে মূলত পরিচালন ব্যয়ই মেটানো সম্ভব হয়, উন্নয়ন ব্যয়ে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। এ কারণেই ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও ফ্রি ট্রেড চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। রমজানের বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। দু-একটি পণ্যের দাম সাময়িক বাড়লেও এখন তা স্বাভাবিক হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রীরা সুরমা ও চেঙ্গার নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোশাক শিল্পখাত থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সম্মানে আজ এক সংবর্ধনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবের গলফ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র অফিস বেয়ারারগণ, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যগণ, সাধারণ সদস্যবৃন্দ, দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সংসদ সদস্যদের উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পোশাক শিল্প পরিবারের সদস্যদের এই বিজয় সমগ্র খাতের বিজয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংসদ সদস্যরা যখন মহান সংসদে নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলবেন, তখন এর সাথে সাথে তারা শিল্প নিয়েও কথা বলবেন। পোশাকখাতের উদ্যোক্তাদের নিরন্তর সংগ্রামের কথা তুলে ধরবেন। নবনির্বাচিত সাংসদগণ জাতীয় সংসদে পোশাক শিল্পের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তিনি আরো আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সাংসদগণ রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, এবং ব্যবসা সহজীকরণ ও ব্যবসার পরিচালনা ব্যয় কমানো এবং সর্বোপরি অর্থনীতির স্বার্থে ন্যায়সঙ্গত সমাধান দেবেন। অনুষ্ঠানে সাংসদদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান, এমপি। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় পোশাক শিল্পের বিকাশ শুরু হয়। পোশাক শিল্প যেন আরো এগিয়ে যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি যেন আরো শক্তিশালী হয়। সেজন্য পোশাকখাত থেকে নির্বাচিত সাংসদগণ সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ’র ১ম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নবনির্বাচিত এমপিদের অভিজ্ঞতা জাতীয় সংসদে শিল্প ও বাণিজ্যবান্ধব নীতি প্রণয়নে সহায়ক হবে। উল্লেখ্য, পোশাক শিল্প পরিবার থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ১৬ জন সংসদ সদস্য হলেন— আহম্মদ সোহেল মনজুর (পিরোজপুর- ২), মো. লুৎফর রহমান (টাঙ্গাইল-৪), মোহাম্মদ জাকির হোসেন (ময়মনসিংহ-৫), মো, শরীফুল আলম (কিশোরগঞ্জ-৬), আফরোজা খানম (মানিকগঞ্জ-৩), মো. আব্দুল্লাহ (মুন্সীগঞ্জ-১), শামা ওবায়েদ ইসলাম (ফরিদপুর-২), খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর (সিলেট-১), এস. এম. ফয়সল (হবিগঞ্জ-৪), মো. খালেদ হোসেন মাহবুব (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩), জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা-৮), মো. আবুল কালাম (কুমিল্লা - ৯), মো. আবদুল হান্নান (চাঁদপুর-৪), জয়নুল আবদিন ফারুক (নোয়াখালী-২), মো. শাহাদাত হোসেন (লক্ষ্মীপুর-১), এবং এরশাদ উল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮)।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবি পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও বর্তমানে বাজারে জিনিসপত্রের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজারে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দোকান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, ভৈরব বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম এখন স্বাভাবিক রয়েছে। পুরো রমজানজুড়ে বাজার নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। অসাধু ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এ সময় ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ, ভৈরব পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাসিমা বেগম এবং ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। আর এজন্য রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান যোগদানের পর এমন তথ্য জানিয়েছেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদান করেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান ডেপুটি গভর্নর ও প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। সাংবাদিকরা তার বক্তব্য চাইলে গভর্নর বলেন, ‘আগে কাজ, পরে কথা।’ এরপর তিনি ওপরে গিয়ে প্রথমে ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে তিনি সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে যান। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র জানান, অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী করতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সুদহার কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পূর্ববর্তী গভর্নরের খাতের কিনারা থেকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি সেই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে কাজ করবেন বলে জানান। বিশেষ করে গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে নীতি সহায়তা, প্রয়োজনীয় প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং খাতে সমন্বয় জোরদার করার কথা বলেন। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আরিফ হোসেন খান বলেন, সভায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর। একই সঙ্গে বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এমন উচ্চ সুদের হারের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। মুখপাত্র বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিয়ম-ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন করা হবে বলে গভর্নর জানান। কাজের গতি বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো কথা বলেন তিনি।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। দুর্বল মার্কিন ডলার ও নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ঘিরে উদ্বেগ বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় ০৬টা ৩৯ পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৯৫ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার স্বর্ণ তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২১৩ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। ওসিবিসির কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওয়ং বলেন, নতুন শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ এবং দুর্বল ডলারের কারণে বাজারে দামের পুনর্মূল্যায়ন চলছে। তিনি জানান, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ডলারের ওঠানামা, শুল্ক সংক্রান্ত চমক এবং ফেডের নীতিগত অনিশ্চয়তা এসব কারণে আপাতত দুইমুখী প্রবণতা থাকতে পারে। চিপ নির্মাতা কোম্পানি এনভিডিয়ার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ালেও, আমদানি পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্কের বিস্তারিত ঘোষণার অপেক্ষায় বাজার সতর্ক রয়েছে। দুর্বল ডলার অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-নির্ধারিত স্বর্ণকে তুলনামূলক সস্তা করে তোলে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, নতুন আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্কের পরিবর্তে কিছু দেশের ক্ষেত্রে হার ১৫ শতাংশ বা তার বেশি হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, বাজারের ধারণা, চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভ তিন দফায় ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদহার কমাতে পারে। এদিন প্রকাশিত হতে যাওয়া সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদনসংক্রান্ত তথ্য থেকে বিনিয়োগকারীরা ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিপথ সম্পর্কে আরও ইঙ্গিত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এদিকে জেনেভায় বৃহস্পতিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিরসন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এড়াতে এ বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডয়েচে ব্যাংক জানিয়েছে, সোনার তুলনায় রুপা ও অন্যান্য ‘হোয়াইট মেটালের’ দরবৃদ্ধি আবারও গতি পেয়েছে। ব্যাংকটি বছরের শেষে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। যা গোল্ড-সিলভার অনুপাত ৬০-এর ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। স্পট সিলভারের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৯ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি আগের সেশনে তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। প্লাটিনাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩০৫ দশমিক ২০ ডলার হয়েছে। আর প্যালাডিয়াম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৯৩ দশমিক ৮৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে। আগের সেশনে এ দুটি ধাতুও তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল।
ব্যাংকিং খাতে ‘আস্থা বাড়ানোকে’ প্রধান কাজ ধরে নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরু দায়িত্ব শুরু করতে চান নবাগত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে সুদের হার কমিয়ে আনার চেষ্টাও তার অগ্রাধিকারে থাকবে বলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন দায়িত্ব পাওয়া এই উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মোস্তাকুরকে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নতুন গভর্নরের দায়িত্ব দিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গভর্নর হওয়া আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। গভর্নর হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, অর্থনীতির অবস্থা, ব্যাংকিং খাতের অবস্থা। তাই এই সময়টায় এই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করাতে ‘একটা চ্যালেঞ্জ আছে’। তিনি আরও বলেন, ইনশাল্লাহ, আগে ব্যাংকে বসি। সবার সাথে আলোচনা করি। আশা করি সবার সহযোগিতা নিয়ে প্রধান কাজটা হবে, আগে ‘ট্রাস্ট বিল্ডিং’ ব্যাংকিং খাতে। শৃঙ্খলা আরও ফিরিয়ে নিয়ে আসা। নিশ্চয়ই আগের গভর্নর (আহসান এইচ মনসুর) অনেকখানি নিয়ে আসছে, আরও নিয়ে আসা। তার ভাষ্য, আরেকটা হচ্ছে আমাদের যেটা প্রধান থাকবে যে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য করে আমাদের অর্থনীতিকে যতটুকু রান করা যায়। যে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে আসছে, তাই না? তো, এর জন্য চেষ্টা করা, সুদের হারকে কমিয়ে নিয়ে আসা। এই কাজগুলো করা। নতুন গভর্নর হিসেবে তার করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাকুর রহমান বলেন, আমাদের আগে কাজ করতে হবে। মানে আমরা কথা বলে ফেললাম, কাজ করতে পারলাম না–এ রকম যাতে না হয়। আগে কাজ করি, সবার সহযোগিতা চাই। বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম কোনো পোশাক খাতের ব্যবসায়ী গভর্নর মোস্তাকুর রহমান একসময় পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউস এবং আবাসন ব্যবসায়ও যুক্ত ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ ও আমলার বাইরে এই প্রথম একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নরের দায়িত্ব দেওয়া হলো, যা এ খাত-সংশ্লিষ্ট অনেককে বিস্মিত করেছে। চার বছর মেয়াদে তাকে গভর্নরের দায়িত্ব দিয়ে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৪ অগাস্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তার নেতৃত্বে শুরু হয় ব্যাংক খাতের সংস্কারের কাজ। দেড় বছরের মাথায় তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বুধবার আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সেখানে তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার গার্মেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে ১৯৯১ সালে ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) থেকে তিনি এফসিএমএ করেন মোস্তাকুর। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি করপোরেট ফিন্যান্স, রপ্তানি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকায় তার জন্ম; বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে। তার বড় ভাই মো. মোস্তাফিজুর রহমান মামুন ছিলেন থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি। সূত্র : বিডি নিউজ
কাঠামো সহজ করা ও ব্যয় কমাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় ২০২৫ সালে এইচএসবিসির নিট আয় কমেছে। ব্যাংকটির নিট আয় ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে বর্তমানে ২১.১ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। হংকং থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছর শেয়ারহোল্ডারদের অনুকূলে মুনাফা ছিল ২১.১ বিলিয়ন ডলার। যদিও আগের বছর তা ছিল ২২.৯ বিলিয়ন। হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া নথিতে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়া কর-পূর্ব মুনাফা ২.৪ বিলিয়ন ডলার কমে ২৯.৯ বিলিয়নে নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো এখনো বিকাশমান বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর জবাবে তিনি নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। এই শুল্ক এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে তা নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়টি আসলে এখনো বিকাশমান। যেটাকে আমরা ইংলিশে বলি ইভলভিং সিনারিও। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত আগের ধার্যকৃত ট্যারিফ মেইনটেবল না ঘোষণা করেছে। এরপর তারা সব দেশের জন্য প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুধু ঘোষণা শুনছি, কিন্তু সরকারি পর্যায়ে লিখিত কিছু পাইনি। আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের আইন অনুযায়ী ১২২ আইনি ব্যাখায় যা আছে, সেটা ১৫০ দিনের মধ্যে তাদের ইউএস কংগ্রেসে অনুমোদিত হতে হবে। আর বাদ বাঁকি যা, টিভিতে আমরা দেখছি। সরকারি কোন কাগজপত্র আসেনি। ফলে সিনারিওটা আবারো আমি বলবো ইভলভিং। মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সেটির ব্যাপারেও এখনো বলার মতো কোন অবস্থা তৈরী হয়নি। আমরা দেখছি, এর পক্ষে-বিপক্ষে কি আছে। একটি চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দিকই থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি। এরপর করণীয় ঠিক করবো। ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়গুলো গোপন ও সেটা তড়িঘড়ি করে করেছে কিনা’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট ছিল, সেটা চুক্তির আলোচনার সময়। তবে এ চুক্তিটা একটি সেনসিটিভ ইস্যু ছিল। যাদের সঙ্গে চুক্তি, দেশটাও আমাদের জন্য অনেক সেনসেটিভ। বিভিন্ন কারণেই এই বিকাশমান পরিস্থিতিতে কোন অনাকাঙ্খিত মন্তব্য করা ঠিক হবেনা।’ এদিকে শুল্ক ও চুক্তি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডেকেছি, চুক্তিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন সেক্টরের কি সমস্যা, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য আমদানি তদারকি করে, সেসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বাজারে। তবে কিছু পণ্য একসঙ্গে অনেকে কেনার কারণে দাম বেড়ে গেছে, সেগুলো সবজি জাতীয়। তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে অনেকে একসঙ্গে একমাসের বাজার করেন। বিক্রেতারাও পরিস্থিতির ও শূণ্যতার সুযোগ নেয়। ৪০ থেকে ৫০ টাকার লেবু ১২০ টাকা হয়ে গেছে। এরপর কিন্তু ঠিকই আবারও আগের দামে ফিরে এসেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।